democracy নাকি demo crazy ?

২০০৮ সালে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠটার মাধ্যমে ক্ষমতায় আসে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ লিডিং মহাজোট সরকার । মানুষ অনেক আসায় বুক বেঁধেছিল দেশ এগিয়ে যাবে । কিন্তু "বেশি আশা ভালো না " গ্রাম্য মানুষের সেই কথাটিকে সত্যিতে পরিণত করল মহাজোট সরকার । সরকারের নেতিবাচক দিকগুলোর কথা না বলে মূল কথায় আসি ; সরকার সংখ্যাগরিষ্ঠতার বলে গায়ের জোরে বাতিল করল তত্তাবধায়ক  সরকার ব্যবস্থা ; যা এদেশের সাধারণ মানুষ মেনে নেয় নি , এমনকি আওয়ামীলীগের অনেক প্রবীণ নেতাও এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছিল । কিন্তু পদ হারানোর ভয়ে প্রকাশ্য প্রতিবাদ করে নি । গণভোটের ব্যবস্থা এদেশে নেই যদি থাকতো তাহলে সরকার বুঝত দেশের মানুষ তত্তাবধায়ক  সরকার ব্যবস্থা বাতিলের সিদ্ধান্তের কতোটা বিরোধী ।

সংসদের বিরোধী দল এই সিদ্ধান্তের বিরোধী অবস্থান নিয়ে লাগাতার মিছিল , মিটিং ও সমাবেশ করে আসছে । কিন্তু বিরোধী জোটের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার সকল আয়োজনে সরকার কর্ণপাত করেনি । সরকার শুনেও না শুনার ভান করে শেষ করল তাদের নবম জাতীয় সংসদের সেশন । সর্বশেষ দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে সেই মহাজোট সরকার নেমেছিল কঠিন এক তামাশায় । জাতিসঙ্গের বিশেষ দূত তারানকো এসেও সরকারের নীতিতে কোন পরিবর্তন আনতে পারে নি বরং কলা দেখিয়ে সময় ক্ষেপণ করেছে মাত্র । সরকারের পদলেহী নির্বাচন কমিশনারকে দিয়ে চালিয়ে নিল নির্বাচনের কাজ ; হয়ে গেল ইতিহাসের নির্লজ্জতম বিরোধীদলহীন একতরফা নির্বাচন ।

"যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে , তবে একলা চলো" । ----- অনেকটা রবি ঠাকুরের কবিতার এই নীতিতে চলছে বর্তমান আওয়ামীলীগ সরকার ; মুখোমুখি অবস্থানে আওয়ামীলীগ সরকার ও বিরোধীজোট । কেউ ছাড় দিতে নারাজ , সরকারের অজুহাত একটাই --- এই নির্বাচন সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা । কিন্তু ভোটার আসুক আর নাই আসুক নির্বাচন হয়ে সংবিধান রক্ষা করতে পারলেই সব ঠিক ।

সরকারকে বুঝতে হবে ডেমোক্রেসির অজুহাত এটা নয় । গণতন্ত্র কাদের জন্য ? বিশেষ দলের সুবিধার জন্য গণতন্ত্র নয় । গণতন্ত্র হচ্ছে জনগনের বিবেকের সুবিচারের জন্য ।

আজ দেশে democracy এর স্থলে চলছে  demo crazy এর বৃথা আস্ফালন । প্রাণ হারাচ্ছে সাধারণ জনতা । ব্যর্থতার চাকায় পিষ্ট হচ্ছে দেশের অর্থনীতি । দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গুলো প্রায় দু মাসের অধিক সময় ধরে অচল । ক্লাস , পরীক্ষা না হওয়ায় স্থবির হয়ে গেছে শিক্ষা কাযক্রম ।

ভোগান্তির শিকার হয়েছিল পিএসসি পরীক্ষার প্রায় ত্রিশ লক্ষ শিক্ষার্থী ও জেএসসি পরীক্ষার প্রায় বিশ লক্ষ শিক্ষার্থী ।
নতুন বছরে নিয়মিত শিক্ষা কাযক্রম থেকে বঞ্চিত হচ্ছে স্কুল লেভেলের প্রায় ১ কোটি  শিক্ষার্থী । প্রায় থমকে গেছে ৫০০০০ শিক্ষার্থীর পাবলিক ভার্সিটিতে ভর্তি পরীক্ষা ও ভর্তি প্রক্রিয়া ।

দেশ রসাতলে যাচ্ছে যাক , তাতে কি ; তাও গণতন্ত্র উদ্ধার হোক -----অনেকটা এই রকম ভাব সরকারের ।
গণতন্ত্রের নামে এই একতরফা উন্মাদনা আর কত দিন ?
কিন্তু সরকারের বোধোদয়ের জন্য কে পদক্ষেপ নেবে ?
কে জেগে জেগে ঘুমিয়ে থাকা সরকারের ঘুম ভাঙাবে  ?

এই প্রশ্ন আজ দেশের প্রায় ১৬ কোটি মানুষের ।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)