রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্মেসী বিভাগের (১৮ তম ব্যাচ ) মেধাবী ছাত্রী সামশাদ পারভিন অনুর চতুর্থ মৃত্যু বার্ষিকী নীরবে চলে গেল ..

২০১০
সালের ২৩ জানুয়ারী দুপুর ২.৩০ টার দিকে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বুধপাড়া
এলাকায় মর্মান্তিক ট্রেন দুর্ঘটনায় ফার্মেসী বিভাগের (১৮ তম ব্যাচ ) মেধাবী
ছাত্রী সামশাদ পারভিন অনু দুনিয়া থেকে বিদায় নেয় । সেদিনের স্মৃতি অনেক
কষ্টদায়ক , সকাল থেকে এক সাথেই ক্লাস করছিলাম ; খুব সম্ভবত
ওর সর্বশেষ ক্লাসটা ছিল মারুফ আহমেদ স্যার এর । সেদিন স্যার সেকেন্ড
ইয়ারের ক্লাস নিচ্ছিলেন ; পড়াচ্ছিলেন TCA cycle । স্যার ক্লাসের মাঝে
জিজ্ঞেস করলেন , ক্লাসের ফার্স্ট কে ? ভয়ে ভয়ে দাঁড়িয়ে গেল কলি আক্তার ।
উত্তর পেরেছে কিনা ঠিক মনে নেই । তারপর স্যার ক্লাস শেষ করে চলে গেলেন ।
স্যার যাওয়ার সাথে সাথে অনু হাসতে হাসতে বলতে লাগল ''বুঝলি... একেই বলে
খ্যাতির বিড়ম্ভনা '' ।

সেদিন আমরা মোটেও বুঝতে পারিনি তার কয়েক ঘণ্টা পরে সে মারা যাবে । সদা প্রাণোচ্ছল মেয়েটি হারিয়ে গেল আমাদের মাঝ থেকে ।

ট্রেন দুর্ঘটনার পর সেখানে হাজির হলেন আমাদের সম্মানিত শিক্ষকমণ্ডলী । সে
দিন দেখলাম শিক্ষকরা তার স্টুডেন্টকে কত্ত ভালবাসে ; সে দিন খুব কাছ থেকে
দেখলাম স্টুডেন্টের জন্য স্যারদের ছলছল চোখের পানি । ফার্মেসী বিভাগের
তৎকালীন চেয়ারম্যান ছিলেন মারুফ আহমেদ স্যার । স্যার এর বিষণ্ণ কষ্ট আজো
মনে পড়ে ; মনে হচ্ছে সন্তান হারা বাবার অসহায়ত্বতা ।
আমরা যারা
সহপাঠী ছিলাম তারা কেউই মানতে পারছিলাম না অনুর মৃত্যু । বোন হারা ভাইয়ের
মতো আমরাও ছিলাম নির্বাক । স্তুপ স্তুপ মগজ , চুল ,শরীরের মাংস আর রক্ত
একাকার হয়ে গিয়েছিল ট্রেন লাইন । আজো স্তম্ভিত হই মনে পড়লে ।

কি
তার কারণ , আমরা কেউই জানি না । জানতে চাইও না । তবে এতটুকু বলতে চাই এসব
মৃত্যুর দায় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন এড়াতে পারে না । নিরাপদ করা হোক রেল
ক্রসিং , যা আজো হয়নি ।

বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রতি মাসে অন্তত একটা করে হলেও মনোস্বাস্থ্য বিষয়ক সভা বা সেমিনার চাই ।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)