শমসের নগরে মেলা ও সার্কাসের নামে চলছে রমরমা জুয়া।।এলাকাবাসীর প্রতিবাদ

আব্দুল হাকিম রাজ,মৌলভীবাজার থেকেঃ পবিত্র শবেমেরাজ ও শবেবরাতের প্রাক্কালে মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলার শমশেরনগরে গ্রীষ্মকালীন মেলা ও সার্কাসের নামে জুয়া, অবৈধ র‌্যাফেল ড্র ও হাউজি বাম্পার অনুষ্ঠান আয়োজন নিয়ে স্থানীয়ভাবে দু’পক্ষের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।যেকোন সময় ঘটে যেতে পারে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ। মেলা ও সার্কাসের অনুমতি প্রত্যাহারের দাবীতে প্রতিদিন সন্ধ্যায় সর্ব সাধারনের বিক্ষোভ মিছিল ও প্রতিবাদ সভায় সরগরম হয়ে উঠেছে শমশেরনগর বাজার। অনুমতি প্রত্যাহারের দাবী জানিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয় থেকে মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কাছে পুলিশি প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।কিন্তু এককিছুর পর ও আয়োজক পক্ষ তাদের মেলা পরিচালনার মাইকিং বন্ধ না করায় ক্ষোভে উত্তেজিত হয়ে উঠছেন ধর্মপ্রান মুসল্লিরা। জানা যায় বিগত এসএসসি পরীক্ষার সময় শমশেরনগর এ এ টি এম উচ্চ বিদ্যালয় কথিত ইলেভেন ষ্টার মাঠে সুজা মেমোরিয়াল কলেজের নামে ৮ মার্চ থেকে ২৩ মার্চ ১৫ দিনের জন্য শীতকালীন মেলা ও সার্কাসের অনুমতি প্রদান করা হয়েছিল মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে। তখন মেলা ও সার্কাস আয়োজন না করে অবৈধভাবে র‌্যাফেল ড্র পরিচালনা করায় এলাকায় চুরিসহ নানা অপরাধ বৃদ্ধি পায়। তখন ইসলাম বিরোধী অনৈতিক কার্যকলাপ প্রতিরোধ কমিটির ব্যানারে স্থানীয়ভাবে জোর প্রতিবাদ হলে ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন করা হলে প্রশাসন ২৩ মার্চের পর আর শমশেরনগরে শীতকালীন মেলা ও সার্কাসের অনুমতি বৃদ্ধি করেনি। কিন্তু গত ৭ জুন মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত জেলা হাকিম (এডিএম) স্বাক্ষরিত একটি পত্রে ১১ জুন থেকে ২৫ জুন পর্যন্ত শিংরাউলী ইলেভেন ষ্টার ক্লাবের নামে গ্রীষ্মকালীন মেলা ও সার্কাসের অনুমতি প্রদান করা হয়।মেলার আয়োজকরা বাড়তি টাকা ইনকামের লক্ষ্যে ১৩ জুন থেকে সেখানে মেলা ও সার্কাস আয়োজন না করে আয়োজকরা অনুমতির আড়ালে মাঠে জুয়া, অবৈধ র‌্যাফেল ড্র, হাউজি বাম্পার আয়োজনের সকল প্রকার প্রস্তুতি সম্পন্ন করে। এ নিয়ে আয়োজক ও প্রতিবাদীদের মাঝে চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।নিয়ম মোতাবেক মেলার বাহিরের কোন স্থানে মেলার মাইকিং বা প্রচারাভিযানের নিয়ম না থাকলেও আয়োজক পক্ষ নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে অধিক লোক সমাগম ঘটানোর লক্ষ্যে প্রতিদিন বাহিরের উপজেলা গুলোতে ও জোরে-সোরে মাইকিং করে বেড়াচ্ছে।প্রশাসনের কিছু অসৎ সদস্যকে ম্যানেজের মাধ্যমে আয়োজকরা মেলার আড়ালে মুলত রমরমা জুয়ার আসর বসিয়েছে।অনেক সময় পুলিশ পাহারায় চলে ওয়ানটেন নামক লাখ-লাখ টাকা বাজিমাতের জুয়া।দেখে মনে হয় এসব অবৈধ জুয়াকে পুলিশ পাহারা দিয়ে বৈধ করে রেখেছে।এলাকাবাসীর অভিযোগ মেলার নামে এসব জুয়া বন্ধের জন্য কেউ স্থানীয় পুলিশের উর্দ্ধতন অফিসারদের ফোন দিলে পুলিশ থেকে বলা হয় ডিসি সাহেব কে বলেন বন্ধ করে দিতে।পুলিশ বলে ডিসি সাহেব মেলার অনুমতি দেন,তিনি চাইলে বন্ধ ও করে দিতে পারেন। সামনে পবিত্র শবেমেরাজ। তারপর শবেবরাত এরপর শুরু হবে পবিত্র মাহে রমজান। এর প্রাক্কালে এ ধরনের আয়োজন জনমনে ও ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাতের সামিল।

স্টেটনিউজবিডি

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

এসব মেলা ও সার্কাসে সব সময়ই জুয়ার আড্ডার মত বড় বড় অপরাধ সংঘটিত হয়। একদার হিন্দুদের পূজোকে উপলক্ষ্য করে আয়োজিত মেলাকেও আজকাল বাঙ্গালীর ঐতিহ্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছে বামপন্থী সংস্কৃতিযোদ্ধারা।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)