নদী ভাঙ্গনের কাজ কইরা ঠিকাদারগো ভাগ্যের পরিবর্তন হইলেও আমাগো ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হইতাছেনা!!

অচিন্ত্য মজুমদার॥প্রতিবারই সাংবাদিক ছবি তুইল্লা নিতাছে। টিভিতে দেখাইতাছে, পেপারে লেখতাছে, নদী ভাংতাছে তো ভাংতাছেই সরকার এগুলা পরে কিনা ,দেহে কিনা আমরা কিছুই বুঝিনা। নদী ভাঙ্গনের কাজ কইরা ঠিকাদারগো ভাগ্যের পরিবর্তন হইলেও আমাগো ভাগ্যের কোন পরিবর্তন হইতাছেনা। এমনই ক্ষোভের কথা জানান। বহুবার মেঘনার ভাঙনের শীকার হওয়া ধনিয়া ইউনয়িনের বাসিন্দা বেচু হাওলাদার। শুধু বেচু হাওলাদার নয় এমন সব ক্ষোভের কথা বলেছেন ভাঙনের শীকার আরো অনেকে।ভোলা শহর থেকে এখন আর মাত্র ৩ কিলোমিটার দূরে মেঘনার অবস্থান। মেঘনা ধেয়ে আসছে শহর অভিমুখে। প্রতিদিন ভাংছে ১০ থেকে ১৫ হাত করে ।ভাঙনের তীব্রতায় আতংকিত হয়ে পরেছে ধনিয়া, তুলাতলি, সাহামাদার, কাচিয়াসহ ভাঙন কবলিত এলাকার সাধারন মানুষ। ইতিমধ্যে ভাঙ্গতে শুরু করেছে বেড়ী বাঁধ। ফলে বেড়ীর কাছাকাছি বসবাসকারী পরিবারগুলো তাদের ঘর-বাড়ি ভেঙ্গে সরিয়ে নিতে শুরু করেছে অনত্র। পুকুরের ছোট-বড় মাছ, বাগানের গাছ বিক্রি করে দিচ্ছে পানির দামে বহু বছর ধরেই মেঘনার এমন খামখেয়ালী পনা নিরবে সয়ে যাচ্ছে এই জনপদের মানুষ। গত পাঁচ বছরে মেঘনার নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে হাজারো একর ধানি জমি, সুপারি বাগান, পুকুর এবং ৫ হাজার বসত বাড়ি। অথচ এত কিছুর পরেও সরকারের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়নি বাস্তবসম্মত কোন উদ্যোগ। উপরন্ত ওই সব এলাকায় ব্লক বাঁধ নির্মাণের লক্ষ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্লানিং কমিশনের প্যারিট লিস্টে ঝুলে রয়েছে।

সরজমিনে ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নে গিয়ে দেখা গেছে, নদী নির্ভর জীবিকাধারি লোকজনের বার বার ভাঙনের শীকার হওয়ার চিত্র। এদেরই পরিবারের একজন ছমিরন নেছার সাথে কথা হলে তিনি জানান, এই লইয়া ১২ বার ভাঙ্গনের লাইগা বাড়িঘর সরাইছি। এহনেত যে কোন হানে নিয়া রাহুম এমন তৌফিক নাই। যেমনে নদী ভাঙ্গতাছে মনে হয় বেড়ী নগদেই ছুইট্টা যাইব।

ভাঙনের শীকার কাজল গোলদার বলেন, আমাদের জাগা-জমি, ক্ষেত-খোলা সব ভেঙ্গে চুড়ে যাইতাছে।নদী একদম কাছে চইলে আসছে এহন যে আমরা কই যামু, এমন জাগা-বাসা নাই।

স্থানীয় দরবেশ আলী মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা আবুল কাশেম জানান, দৈনিক ১০ থেকে ১৫ হাত যেই ভাবে ভাংতাছে তাতে কিছুদিনের মধ্যেই বেড়ী বাধ আক্রমন করবে। আর আক্রমন করলে বেড়ী ছুইট্টা গেলে অবশ্যই পানি প্রবেশ করবে এবং ভোলা প্লাবিত হবে।

ভোলা সদর উপজেলার ধনিয়া ইউনিয়নের বালিয়াকান্দি এলাকার বাসিন্দা মোঃ ইখতিয়ার গোলদারের সাথে কথা হলে তিনি জানান, তার বাড়ি মেঘনা নদীর পাড় থেকে মাত্র ২০গজ দূরে। আর বেড়ী বাধ খেকে ১০/১২ হাত দুরত্ব তার বাড়ি। বর্তমানে যে বেড়ী বাঁধ রয়েছে সেখান থেকে নদী ৫ কিলোমিটার দূরে ছিল। এর মধ্যে খড়কি স্কুল দুইবার ভেঙ্গেছে।বিলিন হয়েছে কাঠির মাথার বাজার, ৩টি সাইক্লোন সেল্টার। এছাড়াও গত পাঁচ বছরে মেঘনার নদী গর্ভে বিলিন হয়েছে হাজারো একর ধানি জমি, সুপারি বাগান, পুকুর এবং ৫হাজার বসত বাড়ি।বর্তমানে বেড়ী বাঁধের কাছেই নদী। তাই ঘুমহীন রাত কাটে স্থানীয় বাসিন্দাদের। কতৃপক্ষ দ্রত পদক্ষেপ না নিলে অচিরেই ভোলা শহর পানিতে প্লাবিত হবে।

ধনিয়া ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সদস্য শরীফুল ইসলাম গোলদার বলেন, তাদের বাড়ির বয়স ৩০০ বছর। ওই এলাকার পুরোনো এরকম আরো বহু বাড়ির অস্তিত্ব বিলিন হওয়ার পথে। এলাকার শতাধিক স্কুল-মাদ্রাসা-মসজিদ ভাঙনের মুখে রয়েছ।ব্লক ফেলে ভাঙন প্রতিরোধ হয়। কিন্তু পাউবো ব্লক না ফেলে কখনো মাটির বস্তা, কখনো জিও টেক্সটাইলের বস্তা ফেলেছে। এতে ঠিকাদার আর পাউবোর লাভ ছাড়া জনগণের কোনো উপকার হচ্ছে না। এ অবস্থায় এলাকাবাসীর একটাই প্রানের দাবী যে করেই হোক বেড়ী বাঁধ রক্ষা করতে হবে।অথচ বেড়ী প্রতিনিয়ত ভাংছে, এর পরও সরকার চুপ করে আছে।

এব্যাপারে ভোলা পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী আবদুল হান্নান বলেন, বছর দুই আগে ‘ভোলা শহররক্ষা প্রকল্প’ নামে সাড়ে ছয় কিলোমিটার এলাকায় ব্লক বাঁধ নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রস্তাব পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্লানিং কমিশনে পাঠানো হয়েছে।বর্তমানে এটি প্লানিংকমিশনের প্যারিট লিস্টে রয়েছে।এ প্রকল্পটি মূলত বতমান অর্থবছরে আর পাস হবেনা। আগামী র্অথবছরে হওয়ার সম্ভবনা রয়েছে।

সুএ: স্টেটনিউজবিডি.কম

http://www.statenewsbd.com/?p=17246

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None