মাঝে মাঝে তোমাকে বুঝি না!!

মাঝে মাঝে মনের ভীতর কোথা থেকে হতাশার আগমণ ঘটে, কখনো বা কাঁদিয়ে যায় নিরবে। কখনো বা শূন্যতা এসে ঘিরে ধরে, চোখের কোনে এসে জমা হয় বেদনাশ্রু, কে বুঝবে? যিনি সৃষ্টি করেছেন তিনি বিনে। সব ব্যথা, সব কান্না সব হতাশা, সব না পাওয়া, সব অশ্রু একজনের কাছেই রাখা।

আজকের এই দিনে মনটা খুবই খারাপ, কারন হিসেবে তোমাকে অন্য রকম লাগল সেদিন রাতে, তোমাকে সকালে একরকম দেখি, আবার বিকেলে দেখি অন্যরকম, অন্যরুপে। তোমার এই পরিবর্তন আমাকে খুবই কষ্ট দেয় রাতের আঁধারের মত, আমার পৃথিবীকে বদলে দেয়, বুঝলাম না কেন এমন হয় মাঝে মাঝে তোমার?

ভাল ভাল কথার মাঝে কেন তোমার মন এমন হয়ে যায়? আমি যেন তখন তোমাকে আর চিনতে পারিনা। তখন চেনা প্রকৃতিকেও যেন অচেনা মনে হয়, সব ভাল লাগা যেন হারিয়ে যায়, সব আনন্দ যেন মুছে যায়, আর আমিও যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলি বেদনার বালুচরে, আমার সুখের পৃথিবী থেকে, সুন্দর অনুভব থেকে, অন্য জগতে, অন্য ভাবনাতে, তোমার আনন্দ ঝরা কথা, তোমার ভাল ভাল চিন্তা যেমন আমাকে আনন্দ দেয় সারাবেলা।

আর তোমার হাস্যোজ্জল মুখ আমার পৃথিবীকে রাঙিয়ে তোলে। আমাকে যেন সাজিয়ে দেয় নতুন রঙে, নতুন রুপে। তেমনী তোমার মলিন মুখ, কঠোর কথা, তোমার অন্য রকম ব্যবহারে যেন আমি তোমাকে আমার মনের মাঝে কোথাও খুজে পাইনা। মিলাতে পারিনা আগের তুমি আর সেই তুমি কি একজন?

তুমি কত আপন থেকেও হয়ে যাও অচেনা। মনের কষ্ট বেড়ে যায় নিয়মের চেয়ে অতিরিক্ত। এই তো জীবন, ভালবাসা আর কষ্ট নিয়ে। মনটাকে কখনো কখনো বুঝাতে পারিনা। পারিনা তখন কষ্ট গুলো অন্য কারো কাছে শেয়ার করতে। তখন ভাললাগা গুলো হারিয়ে আমি হয়ে যাই একা।

তখন পারিনা বুঝাতে নিজেকে, পারিনা আত্মীয় স্বজনকে, আর পারিনা ভাল থাকতে, তোমার মন রাগ তাই আমি ও যেন তলিয়ে যাই বেদনার অতলে। ইদানিং তোমার পরিবর্তনে যেন আমার সচ্ছ আকাশেও ধরেছে মেঘ, উঠেছে তুফান। জানতে ইচ্ছে হয় সবাই কি এমন? সবাই কি রাগের বশবর্তী হয়ে প্রিয়তমকে দুরে ঠেলে দেয় কিনা।

জানতে ইচ্ছে হয় তুমি সবার চাওয়া, পাওয়া খেয়াল কর, আমারটা বাদে কেন? আমার মনে যেমন নানান প্রশ্ন জাগে আমি জানতে চাই আর তাতে তুমি রাগ করে বসো এটা ঠিক নয়। তুমি আমার প্রানের প্রিয়তম, তোমার কাছে কোন আবদার, আমার যে কোন চাহিদা, আমি রাখতে পারি, আর সে চাওয়াকে তুমি যখন অন্য সামগ্রিক জিনিসের সাথে তুলনা করো, তখন মনটাতে কি যে, কি পরিমাণ কষ্ট হয় তা একমাত্র যিনি সৃজন করেছেন তিনি ছাড়া অন্য আর কেউ বুঝে না।

আমি তোমার কাছে কোন কিছু প্রত্যাশা করা অপরাধ নয়, আমি সারাদিন তোমার চোখে তাকিয়ে থাকলেও আমার একটি পাপও লেখা হবেনা। আমি যখন তখন তোমার হাতে হাত রাখার অধিকার আমার সৃষ্টিকর্তা থেকে প্রাপ্ত। আমার সে ব্যপারে কোন ভয় নেই, নেই কোন লজ্জা।

কিন্তু আমি যখনই তোমার সাথে একটু বেশি কথা বলতে চাই, বা বলি বা কিছু আশা করি আর তাতেই তুমি রেগে যাও এবং শুদ্ধ ভাষায় ব্যক্ত করো কঠিন কঠিন কথা। হাস্যোজ্জল মুখে বর্ণনা কর এমন কথা, যা আমার মনের উপর যেন কড়াত চালাতে থাকে। রক্তাক্ত করতে থাকে বুকের তৃসিমানা।

তুমি তোমার অফিসের ডিউটির সাথে তুলনা করে আমাকে সময় দিতে চাও, তুমি পারও বটে। একবারও ভাবলে না ডিউটি তুমি কার জন্য কর? কেন করো? যাক যা হয়েছে ভালই হয়েছে। আবার যখন আমি এ বিষয় নিয়ে মন খারাপ করে থাকি তাতেও তোমার মনে কষ্ট আসে। আমি যে কি করবো?

নিজেই মাঝে মাঝে বুঝে উঠতে পারিনা। এই সব সামান্য বিষয় নিয়ে যে আমার দু-চোখের কত পানি ঝড়েছে তা যদি আমার সৃষ্টিকর্তার জন্য ঝড়াতাম তবে তিনি খুশি হয়ে যেতেন এবং আমাকে তাঁর প্রিয় বান্দীগণের তালিকায় নিয়ে নিতেন। তাই ভেবেছি এখন থেকে আর বেশি কথা নয়।

যে বেশি সময় তোমাকে নিয়ে আড্ডা দিতাম, সে সময়টুকু এখন থেকে আমার প্রতিপালককে দেবো, তাতে তোমার সাথে অভিমানের ভাগটাও কমবে, আর আমার রবের সাথে আমার সম্পর্ক আরও গভীর হবে। যতটুকু প্রয়োজন ততটুকুই বলবো। কারন আমি বুঝেছি আসলেই প্রকৃত ভাবে শুধু আল্লাহর কাছেই প্রার্থনা করা যায়।

আল্লাহকেই ভালবাসা যায়, যেখানে কোন লজ্জা থাকেনা, ভয় থাকেনা, থাকেনা নিরাস হওয়ার আশংকা। শুধু সময়ের ব্যবধানে পাওয়া হয় এই যা। তাই আমার সকল চাওয়া শুধু আল্লাহর কাছেই রাখলাম। আমার একান্ত মনের বিশ্বাস তিনি ঠকাবেন না, তাঁর কাছ থেকে কিছু হারানোর ভয় নেই।

আছে চির আপন করে পাওয়ার পূর্ণতার স্বাদ। মাঝে মাঝে তোমাকে বুঝিনা, আর সামনেও পারবো কিনা জানিনা। তবে দেখি আমার প্রতিপালককে বোঝাতে পারি কিনা আমার প্রত্যাশাগুলো। মনের চাহিদা গুলো। তবে আর চোখের পানি ফেলে বালিশ ভিজাতে হবেনা। সব কষ্ট গুলো তাঁকে দিতে পারলে আমি নিশ্চিন্তে থাকতে পারবো।

আর আমার ভয় নেই হারাবার, ভয় নেই লুকোবার, ভয় নেই কষ্টো পাবার, শুধু সৃষ্টিকর্তাকে দিতে পারলেই হয় মনের সব আরজু গুলো ক্রমে ক্রমে। তবে আর কষ্ট কিসের? আর সবের সাথে এই প্রার্থনা তিনি যেন তোমার মন-মানষিকতা বোঝার জন্য আমাকে স্বপ্নের মাধ্যমে জানিয়ে দেন তোমার মনের বাসনাগুলো, যাতে আমি চেষ্টা করতে পারি তোমাকে খুশি করতে।

আর নয়তো এই তোমার কাছে চাওয়া, আমাকে অপারগ ভেবে, মাফ করে দিও আমার সব ভূলগুলো। আর প্রার্থনা করো সৃজনকারীও যেন আমাকে মাফ করে দেন। তোমার ভাল কামনাই আমার ভবিষ্যৎ, আমার উচ্চে উঠার সিড়ি, চিরকালের শান্তির ঠিকানা। যেখানে তোমাকে কাছে পাওয়াতে কোন বাঁধা-বিপত্তি, কোন কষ্ট চোখের অশ্রু কিছুই ঝড়াতে হবেনা।

সেখানে থাকবে শুধু প্রত্যাশা পূরনের স্বাদ। আমি থাকবো সে সময়ের প্রত্যাশা বুকে নিয়ে। হয়তো সেদিন খুব দুরে নেই, আরও সামান্য সন্ন্যিকটে যেতে হবে সয়ে সয়ে।
মুরুব্বীগণকে বলতে শুনেছি।
নাও দিলাম, বৈঠা দিলাম
বয়ে বয়ে খা!
না পারলে, তুই হতচ্ছারি
ছাড়ে খাড়ে যা!


তাই নাও বৈঠা নিয়ে, আর প্রতিপালকে ভরসা করে দেখি কতদুর বয়ে যাওয়া যায়। কামনা তো শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত। তিনি যদি দয়া করে নেন তবেই তো সম্ভব। আমার এই ছোট জীবনে একমাত্র তাঁরই অনুগ্রহের প্রত্যাশা নিয়ে চলছি সম্মুখে..................।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

সালাম

ভাল লাগলো লেখাগুলো। আপনাকে যাযা-কিল্লাহ!!

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

ওয়া.............ম!

আপনাকেও অনেক অনেক ধন্যবাদ

''সাদামেঘ''

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)