পৃথিবীতে মায়ের ভালবাসা পেতেও টাকা লাগে!!

××মায়ের ভালবাসা পেতেও টাকা লাগে!!


ছোট বেলা থেকে জেনে আসছিল ছোটন পৃথিবীতে মা! মাই সন্তানকে নিঃস্বার্থ ভাবে ভালবাসে। কিন্তু বুঝ হওয়ার পর থেকে দেখে আসছে মায়ের ভালবাসাও যেন বাজারের পন্যের মত কিনে নিতে হয়। যারা ভুক্তভুগি তারা ছাড়া কেউ বুঝবেনা ছোটনের এই কথার মানে। খুব ছোট বেলায় যারা মাকে হারিয়েছেন তারাই বুঝবেন।

এই ব্যথা। মানে মা, না থাকার ব্যথা। যার মা নেই সেই বুঝবে মাকে মা বলে ডাকতে না পারার কি কষ্ট? ছোটনের মা নেই! সেই ছোটটি রেখে চলে গেছেন না ফেরার দেশে। আর বাবা তো তার আরেক সংসার নিয়ে ব্যস্ত, এতই ব্যস্ত যে, যুগের পরেও সময় পান না ছোট ছেলেটির খোজ নিতে। মায়ের কথা মনে করে মাঝে মাঝে

কাঁদে ছোটন, মামা বাড়ি থেকে মানুষ হয়েছে ছোটন। অথচ ছোটনের বাবার মুটামুটি অনেক সম্পদ। আর সেই সম্পদও যে সংসার আছে এই সংসারের ছেলে মেয়েদের নামে উইল করে দিয়েছে। ছোটন সেই ছোটটি আর নেই, সে খুবই মনোযোগ দিয়ে পড়ে, সবার চেয়ে আলাদা স্বভাবের মানুষ ছোটন। নিজের মেধার বিকাশ করতে সে লেখা পড়া শিখতে চায়। সমাজে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়, চায় বাবার থেকে পূর্ণ

সন্তানের সীকৃতি। বাবার পরিচয় ছাড়া ভাল স্কুলে পড়া লেখা করা যায়না। ভাল বন্ধু্ও পাওয়া যায়না, এমন কি ভাল পড়া লেখা ছাড়া, ভাল কাজও করা যায়না, মামার বাড়িতে থাকতে থাকতে ছোটনকে মামা ড্রাইভিং শিখায়। সেও শখ করে শেখে। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, শখে শেখা ড্রাইভিং একসময় জীবিকা নির্বাহের পথ

হয়েছে। মোট কথা ছোটন মাকে হারানোর সাথে সাথে যেন হারিয়ে ফেলেছে জীবনে সব মূল্যবানদিক গুলো। মামা কোন মতে এইট পাশ করিয়ে বলেছে যে, যা তোর আর পড়া লেখার দরকার নেই, আমি আর পড়াতে পারবোনা বাপু, আমার নিজের সংসারেই সব ঠিকমত চালাতে পারিনা। আর পড়ারও দরকার নেই, ড্রাইভিং শিখিয়ে

দিয়েছিসেটা করে কোনমতে পেট চালা, ছোটন মামার কাছে আবদার করে মামা আমাকে অন্তত মেট্রিকটা শেষ করার সুযোগ দেন। কিন্তু মামা আর পারবেনা বলে মাফ চায়। আর বলে দেয় যা, শহরে ওখানে তোর বাবা আছে তার কাছে গিয়ে বল তোকে পড়াতে, ছোটনের বাবার ঠিকানাটা হাতে দিয়ে বলে এই ঠিকানায় গেলে তোর

বাবাকে পাবি, তাকে বলিস তোকে কোন রাস্তা ধরিয়ে দিতে। এই বলে মামা সাথে করে ছোটনকে নিয়ে শহরে আসে। বাবার সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়, আর বলে দেয় আপনার ছেলেকে এতদিন ধরে দেখাশুনা করেছি এবার আপনি যা ভাল মনে করেন করুন। বাবার কাছে বুঝিয়ে দিয়ে মামা চলে যায় গ্রামে। আর ছোটনের শুরু হয়

জীবন পরীক্ষা। ছোটন এতদিন নানা, নানী, খালা, মামাদের আদর পেয়ে বুঝেইনি কষ্ট কি? কত প্রকার, এবং এর কি স্বাদ! বাবার কাছে আসার পর থেকে বাবা নিজের বাড়িতে উঠান নাই, একবাড়িতে খাওয়ার দাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন, এখানেই খাবি, থাকবি, আমি মাস শেস হলে এসে টাকা দিয়ে যাবো। দুই তিনমাস ঠিকমতই

টাকা দিয়ে গেছে খাওয়ার খরচের। কিন্তু ওর পড়ার জন্য স্কুলের বেতন, খাতা পত্র, কলম ইত্যাদি আনুসাঙ্গিক খরচের কিছুই দেয়না। ছোটন বাবার কাছে গেলেই এই সমস্যা ঐসমস্যা টাকা নেই, আমি অনেক ঋনে পড়ে আছি, এই নানান তাল-বাহানা করে করে ওর পড়াও হচ্ছেনা  ঠিকমত, আবার ছাড়তেও পারছেনা। ও আছে এমন

কষ্টে যে, মনে মনে ভাবে আমার মা যদি থাকতো তবে বাবা কি এমন করতে পারতো? পারতোনা কিছুতেই পারতোনা। কিন্তু এখন ও কি করবে? কার কাছে যাবে। কে ওকে আশ্রয় দেবে? কে পড়া-শুনার খরচ যোগাবে? তাহলে কি ছোটন এভাবে সমাজের আগাছা হয়ে মানুষের বোঝা হয়েই থাকবে? নাকি কখনো সুযোগ পাবে পড়াশুনা করার? ছোটনের হতাশা দিন দিন বাড়ছে..................।
চলবে........................।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)
লেখাটার শিরোনাম দেখে অন্যরকম কিছু ভেবেছিলাম। তবে বর্ণনা পড়ে জানলাম, ছোটনের মা-ই নেই, ভালবাসা আর পাবে কোত্থেকে! অবশ্য সমাজে বর্তমানের প্রেক্ষাপটে অনেকের ক্ষেত্রেই দেখা যায়, সৎ মা শুধু নয়, আপন মায়ের ভালবাসাও সবসময় পুরোপুরি নি:স্বার্থ ও নি:শর্ত নাও হতে পারে। একটা শিশুর জন্য মায়ের ভালবাসা পেতে যে জিনিসটা লাগে, তাহল পুঁথি মুখস্থ করে কোনমতে সোনার জিপিএ মার্কা একটা রেজাল্ট এনে দিতে হবে।
ছেলে যখন বড় হয়, তখন মায়ের ভালবাসা পেতে হয় টাকা লাগে, আর টাকা না থাকলে 'বউ' নামক একটা কাজের বুয়া লাগে, যে চাহিবা মাত্র সংসারের সকল প্রকার সার্ভিস প্রদানে বাধ্য থাকিবে।
অতএব, শৈশবে বলেন আর পরিণত বয়সে বলেন, সর্বদা সর্বক্ষেত্রে মায়ের ভালবাসার জন্য শর্ত প্রযোজ্য, ভ্যাট প্রযোজ্য।Smile

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)