মহাকাশে পৃথিবীর চোখ (প্রথম পর্ব)।

হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এর নাম শুনেনি এমন লোকের সংখ্যা খুবই কম।
আসুন জেনে নেই হাবল সর্ম্পকে কিছু তথ্য।

প্রথমেই একটু পিছনে ফিরে যাই,আজ থেকে 66 বছর আগে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের
সময়।তখন 33 বছরের যুবক লেমন স্পিজার,কাজ করছিলন সাবমেরিন যুদ্ধে কিভাবে এবং
কত দ্রুত প্রতিপক্ষের জাহাজ ধংস করা যায়,তার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন
তিনি।সেই তখন থেকেই সে স্বপ্ন দেখতো বিশাল একটি দুরবীন পৃথিবীর বাইরে
মহাকাশে ভেসে ভেসে অসীম মহাকাশের গভীরে উকি মেরে বের করে আনবে,মানুষের
অজানা তথ্য এবং ছবি।বিশ্বযুদ্ধের শেষে আমেরিকা যখন মহাকাশে যান পাঠানোর
পরিকল্পনা গ্রহন করে।কিন্ত তার আগেই রাশিয়া মহাকাশে উপগ্রহ পাঠায়,পৃথিবীর
কক্ষপথে মানুষ পাঠায়,চাদের কক্ষপথে নভোযান পাঠায়।এতে করে আমেরিকার মাথা
খারাপ হবার দশা।তখন তারা সরাসরি 1969 সালে চাদের পৃস্ঠে নভোচারী নামায় এবং
আবার সফল ভাবে তাদেরকে পৃথিবী পৃস্ঠে ফিরিয়ে আনে।এর পর আমেরিকা চাদের বুকে
অনেকগুলি সফল অভিযান চালায়।এরপর থেকে বিন্জানীদের চাঁদ নিয়ে আগ্রহ ধীরে
ধীরে কমতে থাকে।

আর অন্যদিকে স্পিজার তার পরিকল্পনার পক্ষে বিভিন্ন মাধ্যমে জনমত গঠন করতে থাকে।এর এক পর্যায়ে তার 30 বছরের সপ্নের সফল বাস্তবায়ন ঘটে।

যখন নাসা (ন্যাশনাল এ্যারোনটিক্যাল এন্ড স্পেস এডমিনিস্ট্রশন) তার
পরিকল্পনা গ্রহন করে,এবং মহাকাশে এই রকম একটি দুরবীন স্হাপনের সিন্ধান্ত
নেয়।
অবশেষে 1990 সালের 24 শে এপ্রিল সকল জল্পনা কল্পনার অবসান ঘটিয়ে নভোখেয়াযানের মাধ্যমে এই রকম একটি দুরবীন মহাকাশে স্হাপন করে।

কিন্ত মহাকাশে দুরবীনটি স্হাপনের পর এতে ব্যাপক গোলমাল ধরা পরে।যেমন
দুরবীনটিকে একটি নির্দিস্ট বিন্দুতে তাক করে রাখা যায় না,দুরবীনের ক্যামেরা
ঠিকমত ছবি তুলতে পারে না, 96 মিনিটে কক্ষপথ প্রদক্ষিনের সময় দুরবীনের তাপ
উঠানামা করে 200 ডিগ্রী ফারেনহাইট থেকে -150 ডিগ্রী ফারেনহাইটে।এই
পরিবর্তনে দুরবীনের কাঠামো বৃদ্ধি ও সংকোচন হয়, এর ফলে দুরবীনে প্রচন্ড
ঝাকুনীর সৃস্টি হয়।এই রকমের নানা সম্যসায় ভেস্তে যেতে বসে 160 কোটি ডলালের
দুরবীন। অবশেষে 1993 সালের 2রা ডিসেম্বর 20 কোটি ডলার ব্যায় করে হাবলকে ঠিক
করার মিশন পরিচালনা করে নাসা।এটি ছিল চাদে প্রথম মানুষ পাঠানোর মতই জটিল
কঠিন এবং ঝূকিপূর্ন মিশন।

বিখ্যাত জ্যেতির্বিদ এডউইন পাওয়েল হাবলের (1889-1953) নামে এই দুরবীনের নামকরন করা হয়।

হাবল কি ভাবে কাজ করে: দুরবীনটির আকৃতি বিশাল।এটি লম্বায় 426 ফুট, চওড়ায় 14
ফুট মহাজাগতিক ক্ষতিকর রশ্নির প্রভাব থেকে একে রক্ষা করার জন্য এর বাইরের
দিকটা রুপা দিয়ে ঢেকে দেয়া হয়েছে। দুরবীনটি পৃথিবী পৃস্ঠ থেকে 320 মাইল
উপরে মহাশূন্যে একটি নির্দিস্ট কক্ষপথে ঘূর্নায়মান। দুরবীনটির সামনে পিছনে
দুটি আয়না আছে,একটি প্রাইমারী মিরর অন্যটি সেকেন্ডারী মিরর,এর ব্যাস প্রায় 8
ফুট।দুরবীনের ভিতরে দুটি উচ্চক্ষমতা সম্পন্ন ক্যামেরা আছে, একটি ওয়াইড
ফিল্ড ক্যামেরা (WFPC) অন্যটি ফেইন্ট অবজেক্ট (FOC) ক্যামেরা।এছাড়াও
দুরবীনের ভিতরে রয়েছে ফটোমিটার,স্পেকটোগ্রাফ,জাইরোস্কোপ ইত্যাদি নানা
জিনিস।

মহাকাশের বিভিন্ন বস্তু থেকে আলো এসে দুরবীনের প্রাইমারী মিররে এসে এক
বিন্দুতে মিলিত হয়,এরপরে সেকেন্ডারী মিরর হয়ে দুরবীনের প্রধান ক্যামেরায়
সেই আলো সংগৃহিত হয়।দ্বিতীয় ক্যামেরায় তারার রাসায়নিক উপাদানের স্বরুপ
নির্নয় করা হয়।এভাবে সংগৃহিত তথ্য দুরবীনের সাথে লাগানো একটি প্রেরক
এন্টেনার সাহায্যে ভূ-পৃস্ঠ থেকে 22,000 মাইল উপরে অবস্হিত ট্র্যাকিং এন্ড
ডাটা রিলে স্যাটেলাইটের (TDRSS) মাধ্যমে আমেরিকার নিউ মেস্কিকোতে অবস্হিত
ভূ-উপগ্রহ কেন্দ্রে।সব তথ্য প্রক্রিয়া ও বিশ্লেষনের জন্য পাঠানো হয়
মেরিল্যান্ডের বাল্টিমোরে অবস্হিত স্পেস টেলিস্কোপ সাইন্স
ইনিস্টিউটে,ওয়াশিংটনের গর্ডাড স্পেস ফ্লাইট (STOCC) সেন্টারের
মাধ্যমে।এরপরে সংগৃহিত তথ্য ও উপাপ্ত সমুহ কম্পিউটারের মাধ্যমে
প্রক্রিয়াজাত করে ছবি তৈরী করা হয়। এখানে উল্লেখ্য যে হাবল দুরবীনে
ফটোগ্রাফিক প্লেটের পরির্বতে সংগৃহিত তথ্য সমুহ ডিজিটাল সংকেতে রুপান্তরিত
করে ম্যাগনেটিক টেপে ধারন করা হয়।এবং সংগৃহিত তথ্যসমুহ দিনে দুইবার
উল্লেখিত ব্যাবস্হার মাধ্যমে বিন্গানীদের হাতে এসে পৌছায়।
চলবে...............

ছবি পরিচিতি।
1.হাবল উৎক্ষেপন।
2.হাবলের কক্ষপথ।
3.হাবলের ডায়াগ্রাম।
4.কক্ষপথ প্রদক্ষিনরত হাবল।
5.TDRSS স্যাটেলাইট।
6.TDRSS এর ডাটা প্রেরন।
7.ভূ-উপগহ কেন্দ্র।
8.স্পেস টেলিস্কোপ সাইন্স ইনিস্টিটিউট।
9.গর্ডাড স্পেস ফ্লাইট সেন্টার।
10.হাবল দুরবীনের কন্ট্রোলরুম।

ছবি সৌজ্যন্যে: নাসা এবং হাবল হেরিটিজ টিম।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

তথ্য সম্বলিত গুরুত্বপূর্ণ পোষ্ট। খুব সহজে অনেক কিছু জানার রয়েছে পোষ্টে।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

ধন্যবাদ।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)