ওরা কোথায়? (শেষ পর্ব)।

এই বিংশ শতাব্দিতে এই রকম অদ্ভুত যান পৃথিবীর বিভিন্ন স্হানে দেখা গিয়েছে
এবং তাদের ছবিও তোলা হয়েছে।যেমন 24/4/06 এ ক্যালির্ফোনিয়া এই যানের ছবি
তোলা হয়েছে, 9/6/06 টেক্সাসে এই যানের ছবি তোলা হয়েছে, 2006 গুয়েতেমালায় এই
যানের ছবি তোলা হয়েছে।রোমান লেখক জুলিয়াস অবস্কুইন্স চতুর্থ শতাব্দীতে তার
বই Prodigorium liber এ এই অদ্ভুত যান সম্পর্কে কিছু দর্শন বর্ননা
করেছেন।এই দর্শনগুলো ব্যাখ্যা করলে UFO অবলোকনের কথা পাওয়া যায়।1493 সালে
বিরল ধরনের বই থেকে ইউরোপে UFO অবলোকনের কথা পাওয়া যায়।বর্তমানে বইটি
ফ্রান্সে ভারডানের যাদুঘরে সংরক্ষিত আছে।

এই UFO অবলোকনের প্রথম লিখিত দলিল পাওয়া যায় মিশরের রাজা তৃতীয় থার্ট এর
শাসনকালে (1504 থেকে 1450 খ্রীস্টপূর্ব)।এই UFO অবলোকনের দৃশ্য মিশরিয়ান
পেপিরাসে উদ্ধৃতি আছে।

UFO অবলোকনের কথা বাইবেলে নবী Ezekiel (আঃ) এর ভাষ্যতে ও পাওয়া যায়।তার
বর্ননানুযায়ী আকাশ থেকে একটি অদ্ভুত যান নেমে এসেছিল চালডিয়ার (বর্তমান
ইরাক) চেবার নদীর কাছে (592 খ্রীস্টপূর্বে ব্যাবিলনের রাজা নিবুচর্ডনিজার
এর শাসনামলে)।আকাশ থেকে এই অদ্ভুত যানটি নামার পূর্বে দক্ষিন দিক থেকে খুব
ঝড়ো বাতাস বইছিলো,চারিদিকে উজ্জল মেঘ ঘুরপাক খাচ্ছিল অনবরত বিদুৎ চমকাচ্ছিল
এবং আকাশ থেকে চারটি জীবের প্রতিমূর্তি নেমে এসেছিল।এই চারটি জীবের চারটি
করে মাথা আর চারটি করে পাখা ছিল,তাদের পা'গুলি ছিল সোজা,পায়ের পাতাগুলো ছিল
বাছুরের খুরের মত। এরা তামার মত জ্বলজ্বল করছিল,তাদের পাখাগুলো দেখতে
মানুষের হাতের মত,তাদের চেহারা সামনের দিক থেকে মানুষের মত,ডানদিক থেকে
সিংহের মত,বামদিক থেকে ষাড়েঁর মত,পিছনের দিক থেকে ঈগলের মত।প্রত্যেক জীবের
দুটি করে পাখা আছে,এই পাখাগুলো তাদের শরীরকে ঢেকে ফেলে।একটি জীবের পাখা
অন্য জীবের পাখার সাথে ছুঁয়ে আছে....।আমি দেখেছিলাম এই জীবের সাথে চারটি
চাকাও নেমেছিল।এই চাকাগুলোতে অজস্র চোখ ছিল যখন জীবগুলো যাচ্ছিল চাকাগুলোও
সাথে যাচ্ছিল।যখন জীবগুলো পৃথিবী থেকে উঠে গেল তখন চাকাগুলোও উঠে গেল।

UFO সম্পর্কে এইসব বর্ননা বইতে বা লোকমুখে সীমাবদ্ধ ছিলনা।সারা পৃথিবীতে
বর্তমানে হাজার হাজার নিদর্শন ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে।যার সাথে আকাশের এই যানটির
আগমনের ঘনিস্ঠ যোগাযোগ আছে।এসব নিদর্শন,সত্যি আধুনিক যুগের মানুষকে ভাবিয়ে
তুলছে।আমি এরকম কিছু নিদর্শনের কথা উল্লেখ্য করছি।মিশরের রাজধানী কায়রোর
পশ্চিমে অবস্হিত শি অপসের পিরামিড,এটি সবদিক থেকে গুরত্বপূর্ন একটি
নিদর্শন।

এই পিরামিড শত শত অদ্ভুত সিদ্ধান্তের জম্ন দিয়েছে। শার্ল পিয়াত সি স্মিথ
তাঁর "আওয়ার ইনহেরিটেনস্‌ ইন দি গ্রেট পিরামিড" নামের বইতে এই পিরামিডের
সন্গে পৃথিবীর অনেক যোগাযোগের বর্ননা করেছেন,যা সত্যিই ভাবনার বিষয়।এই
পিরামিডের উচ্চতা 490 ফুট,এই উচ্চতাকে 100 কোটি দিয়ে গুন করলে পৃথিবী থেকে
সূর্যের দুরত্ব পাওয়া যাবে,9,30,00,000 মাইল।পিরামিডটির মাঝখান দিয়ে একটি
মধ্য রেখা কল্পনা করলে দেখা যাবে মহাদেশ এবং মহাসাগরগুলো সমান দুভাগে ভাগ
হবে।এর ভূমির ক্ষেএফলকে এর উচ্চতার দ্বিগুন দিয়ে ভাগ করলে সেই বিখ্যাত
সংখ্যা,বৃ্ত্তের পরিধি এবং ব্যাসের অনুপাত 3,14159 পাওয়া যাবে।যে জমির উপর
এই পিরামিড তৈরী করা হয়েছিল,সেই জমিকে নিখুঁত আনুভূমিক করা হয়েছিল।এছাড়াও
পিরামিডটিকে মহাদেশেগুলোর ভারকেন্দ্রে স্হাপিত করা হয়েছে।ছাব্বিশ লক্ষ পাথর
নিখুতঁ ভাবে ছেচে কোন রকমের ঢালাই ছারা শুধু পাথঁরের উপর পাথর দিয়ে তৈরী
করা হয়েছে এই পিরামিড।যদি পৃথিবীর কোন মানুষ এটি তৈরী করতো তাহলে অবশ্যই
অনেক মানুষ ও যন্ত্রপাতি ব্যাবহার করা হয়েছিল।কিন্ত আশ্চর্যের বিষয় হলো এই
পিড়ামিড এর আশেপাশে মাটির উপরে বা নীচে তার কোন রকম নিদর্শন পাওয়া
যায়নি।তাছাড়া আশেপাশে এমন কোন পাহাড় নেই যেখান থেকে এই পাথরগুলো আনা
হয়েছিল।বর্তমানে কোটি কোটি বছর আগের ফসিল মাটির নিচ থেকে উদ্ধার করা হচ্ছে।

পীরি রাইসের (তূর্কি নৌবাহিনীর অফিসার) ওয়ার্ল্ড ম্যাপ,যে যুগে এ্যারোপ্লেন
আবিস্কার হয়নি,সেখানে কিভাবে তিনি উপর থেকে না দেখে এইরকম নিখূত ম্যাপ
আকঁলেন।

প্রশান্ত মহাসাগরের দক্ষিনের ক্ষুদ্র দ্বীপ ইস্টার।এখানে আছে বিশাল বিশাল
সব পাথরের মনুষ্য মূর্তি।সমাপ্ত অসমাপ্ত শোয়ানো মূর্তিতে পুরো দ্বীপটি
বোঝাই।স্হানীয় লোকেরা মূর্তিগুলোর নাম দিয়েছে "মোআয়ী",মূর্তিগুলোর মাথায় 25
ফুট বেড়,7 ফুট 2" খাড়া টুপি পরানো, কঠিন আগ্নেয়শিলা কেটে কেটে কারা এই
মূর্তিগুলো বানিয়েছে?নিশ্চয়ই অকারনে নিছক কৌতুহলের বশবর্তী হয়ে যে,এই
মূর্তিগুলো তৈরী করা হয়নি তা কারোই বুঝতে কস্ট হবার কথা নয়।শুধু মূর্তিই নয়
ব্যাখ্যার অসাধ্য সব লিপি ও প্রতিক সমন্বিত শিলাখন্ড ও পাওয়া গেছে যা আজো
অপঠিত।

কোহিস্হানের পার্বত্য এলাকার গুহাচিএ আকাঁ আছে হাজার বছর আগেকার
নক্ষএপুন্জের নিখুঁত অবস্হিতি।এতো গেল বিভন্ন নিদর্শনের কথা,এরপরে আছে
বিভিন্ন উন্নত সভ্যতা যেমন- মায়া,নাজাকা ইত্যাদি।কিভাবে হাজার কোটি বছর আগে
এরকম উন্নত শহর সভ্যতা গড়ে উঠেছিল তা আজো অজানা।এর থেকে এটাই প্রতিয়মান হয়
যে হয়তো অতীতে ভীনগ্রহ থেকে বুদ্ধিমান প্রানীরা এসে তখনকার মানুষকে
কারিগরি জ্ঞান শিখিয়ে গেছে,এবং তারা নিজেরাও নিজেদের প্রয়োজনে অনেক জিনিস
তৈরী করেছে।এবং মানুষকে সবকিছু শিখিয়ে দিয়ে একসময় তারা নিজেদের গ্রহে
প্রত্যাবর্তন করেছে।সারা পৃথিবীতে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা অজস্র শিলালিপি পাওয়া
গেছে যার বেশিরভাগ পাঠ উদ্ধার করা আজো সম্ভব হয়নি।তবে যেটুকু হয়েছে সেখানে
ভীনগ্রহের প্রানীদের আগমন বার্তার ইন্গিত পাওয়া যায়।যদি তখনকার মানুষের
কারিগরি জ্ঞান ও প্রযুক্তি এতো উন্নত থাকতো এবং সেই প্রযুক্তি যদি আজকের
বিন্গান প্রযুক্তির সাথে মিলানো যেত তাহলে বিজ্ঞান আজ কোথায় থাকতো।কিন্তু
তা হয়নি এর মাঝখানে সৃস্টি হয়েছে বিশাল ব্যাবধান,এর কারন কি?তবে কি এর
পিছনে ভীনগ্রহের প্রানীরা জড়িত? এর সঠিক উওর পাওয়া একান্ত জরুরী।

এর প্রয়োজনীয়তা বিজ্ঞানীরাও বুঝতে পেরেছেন।যার কারনে পৃথিবীর বিভিন্ন
মানমন্দিরে ET (Extra terrestrial) বা ভীন গ্রহের বুদ্ধিমান প্রানীদের
অনুসন্ধান চলছে।
এ সম্পর্কে কিছু আলোচনা করা যাক।

25,000 হাজার বছর আগে প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক মেট্রোড্রোরাস লিখেছিলেন,"এটা
চিন্তা করা বোকামি যে,মহাবিশ্বে একমাএ পৃথিবীতে জীবের বাস আছে,যেমন-চিন্তা
করা বোকামি যে,একটি শস্যক্ষেত্রে বীজ বপন করলে কেবল মাএ একটি বীজ থেকেই
চারা জন্মাবে।

জ্যেতির্বিদরা মহাবিশ্বের সর্বএ জীব অন্গের অনুর অস্তিত্বের প্রমান
পেয়েছেন।এছাড়াও বিভিন্ন তারার পাশে অনেকগুলি নতুন গ্রহের সেই সাথে অন্য
ছায়াপথে নতুন সৌরজগতেরও সন্ধান পেয়েছেন বিন্গানীরা।যেমন আমাদের ছায়াপথের
কথাই ধরি এখানে 20 হাজার কোটি নক্ষএ রয়েছে।বর্তমানে অনেক নক্ষএ রের কাছেই
গ্রহের অস্তিত আবিস্কার হয়েছে।এর মধ্যে যদি 1000 নক্ষত্রের প্লানেটরী
সিস্টেম থাকে এবং এই প্লানেটরি সিস্টেমগুলির মধ্যে শুধু 1% প্লানেটরি
সিস্টেম বসবাসের যোগ্য হয় তাহলে প্রায় 20 লাখ বসবাস যোগ্য স্হান আমাদের
ছায়াপথেই রয়েছে।আর মহাবিশ্বে 10 কোটি ছায়াপথের সন্ধান পাওয়া গেছে এ
পর্যন্ত।কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের বিখ্যাত জ্যেতির্বিদ প্রয়াত কার্ল স্যাগন
(1934-1996) বলেছিলেন,আমাদের ছায়াপথের তারকা মন্ডলীর চারপাশে এক লাখ গ্রহে
উন্নত সভ্যতার সম্ভাবনা রয়েছে।

সম্প্রতি জ্যেতির্বিদরা অত্যন্ত শক্তিশালী বেতার দুরবীনের সাহায্যে 1240
কোটি আলোকবর্ষ দুরের একটি ছায়াপথের সন্ধান পেয়েছেন।এই ছায়াপথ থেকে আলোর
যাত্রা শুরু হয়েছিল আমাদের সৌরজগত সৃস্টির আগে।আলোক দুরবীনের নাগালের বাইরে
মহাবিশ্বের বিরাট একটি অংশ রয়ে গেছে।বিন্গানীরা এ সমস্যার
সমাধান করছেন।আকাশের বহু নক্ষএ আলোর ঢেউয়ের সাথে ছড়ায় বেতার তরন্গ।এ
তরন্গকে ধরার জন্য তারা তৈরী করলেন রেডিও দুরবীন এবং এর মাধ্যামেই গড়ে উঠে
জ্যোতির্বিদ্যার গুরত্বপূর্ন শাখা বেতার জ্যোতির্বিদ্যা।

ভীনগ্রহের প্রানীদের সাথে যোগাযোগের জন্য বেতার তরন্গকে বেছে নেয়া হলো কেন?
প্রশ্ন হচ্ছে গামা রশ্নি,লেসার রশ্নি যোগাযোগের এই মাধ্যামগুলো থাকতেও কেন
বেতার তরন্গকে বেছে নিল? এর কারন হল গামা ও লেসার রশ্নি তৈরী করে পাঠানো
এবং গ্রহন করা দুটোই কঠিন কাজ তাছাড়া এ রশ্নির বিকিরন ও উৎসের সংখ্যাও
মহাকাশে খুব বেশী নেই।তার চেয়ে সংকেত পাঠানো কাজে বেতার তরন্গই সহজ
মাধ্যম।এর দ্বারা আলোর বেগে (সেঃ 330,000 কিঃমিঃ) একটি সংকেতকে পাঠানো
যাবে।এই তরন্গ মহাকাশ ও পৃথিবীর মত গ্রহের বায়ুমন্ডলের মধ্যে দিয়ে সহজে
যাতায়াত করতে পারে এবং এ তরন্গকে গোছাবব্ধভাবে একটি মাএ দিকে ছুড়ে মারা
যাবে।সর্বোপরি এটি একটি নির্দিস্ট কম্পন সংখ্যার তরন্গ যা সমগ্র মহাবিশ্বে
সমস্ত সভ্যতার কাছেই পরিচিত। এ তরন্গের দৈর্ঘ্য হলো 21 সেঃমিঃ এবং কম্পন
সংখ্যা হলো সেকেন্ডে 1420.4 মেগাসাইকেল (1 মেগাসাইকেল=10 লক্ষ সাইকেল)।

ভীনগ্রহের প্রানীদের সদ্ধান বা যোগাযোগের সংক্ষিপ্ত নাম SETI (Search for
Extra Terrestrial Intelligence)।পৃথিবীতে সর্বপ্রথম এই গবেষনা পরিকল্পনার
প্রধান ছিলেন বিন্গানী ফ্রান্ক ড্রেক।
1960 সালের "প্রজেক্ট ওজমা" হলো এই গবেষনার প্রথম পদক্ষেপ।"ওজ" হল রুপকথার জগত।
আর এই জগতের রাজকুমারী যার নাম ওজমা, তার নামেই এর নামকরন করা হয়েছিল।এই
অনুসন্ধানের কাজ শুরু হয়েছিল পশ্চিম ভার্জিনিয়ার গ্রীনব্যাংকের ন্যাশনাল
রেডিও আ্যস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরিতে।

বিন্গানীরা সূর্যের 10 থেকে 22 আলোকবর্ষ দূরত্বের মধ্যে বেশ কিছু তারার
চারপাশে গ্রহের অস্তিত্ব আছে বলে অনুমান করছেন।যেমন- "এপসাইলিন এরিদানি"
"টাউসেটি" "অপহিউস" প্রভৃতি।এদের দুরত্ব হল যথাক্রমে 10,8,11, আলোকবর্ষ।এই
মানমন্দিরের দুরবীনের সাহায্যে এর মধ্যে দুটি নক্ষএ টাউসেটি ও এপসাইলন
এরিদানিকে 1960 সালের মে জুন জুলাই এই তিন মাসে 150 ঘন্টা অনুসন্ধান করেও
কোন অর্থবহ সংকেত ধরতে পারেনি।অবশ্য এই পরিকল্পনার সাথে যারা যুক্ত ছিলেন
তারা কেউই সাফল্যের আশা করেননি।তবে এটি নিঃসন্দেহে মানব সভ্যাতার ইতিহাসে
একটি নতুন ধরনের অনুসন্ধান কাজের সূচনা করেছিল।

এই প্রজেক্ট ওজমার পরে চালু করা হয়েছে প্রজেক্ট সাইক্লোপ,ও প্রজেক্ট
ফিনিক্স।এরই ধারাবাহিকতায় আজ নাসা ও এই কাজে নেমে পড়েছে।তারা ভীনগ্রহের
প্রানীদের অনুসন্ধানের জন্য তৈরী করেছে অত্যাধূনিক বেতার গ্রাহক এর নাম
"মালটি চ্যানেল সিগন্যাল আ্যনালাইজার" এর মাধ্যমে বেতার সংকেতকে 80 লক্ষ
চ্যানেলে ভাগ করা যাবে।যার ফলে প্রতিটি চ্যানেলে সূক্ষ কম্পান্ক ও একই
সন্গে অনুসন্ধান করা যাবে।

ভীনগ্রহের প্রানীদের খোঁজে পৃথিবীব্যাপী যেসব রেডিও দুরবীন আছে,সেগুলোকে
একটি নির্দিস্ট ফ্রিকোয়েন্সিতে সেট করা আছে একে বলে মাইক্রোওয়েভ
ফ্রিকোয়েন্সিতে।কারন এই ফ্রিকোয়েন্সিতে অন্য কোন শব্দের ঝামেলা নেই।যদি কোন
সংকেত কখনো ভীনগ্রহের কোন সভ্যতা থেকে আসে তবে সেটি আসবে অনেক দূরবর্তী
কোন গ্রহ থেকে,সেহেতু সংকেতটি হবে অত্যন্ত দূর্বল মাপের।এর পরিবর্ধনের জন্য
দুরবীনের সাথে যোগ করা হয়েছে "প্যারামেট্রিক আ্যমপ্লিফায়ার" নামের সূক্ষ
একটি ব্যাবস্হা।এছাড়া ও পৃথিবীর বিভিন্ন মানমন্দির থেকে আকাশের কিছু নক্ষএ
পুন্জের দিকে ছুড়ে দেয়া হয়েছে বেতার তরন্গ যা এখনো আলোর গতিতে সেসব
নক্ষএপুন্জের পানে ছুটে চলছে।

অস্ট্রেলিয়া,ফ্রান্স,কানাডা,ইংল্যান্ড সহ পৃথিবীর বহু দেশ বেতার দুরবীনের
বিশাল এক নেটওয়ার্ক তৈরী করেছে এদের খোজ করার জন্য। চীন এদের খোঁজার জন্য
তৈরী করেছে পৃথিবীর সবচেয়ে বড় বেতার দুরবীন। এখন পর্যন্ত এসব গবেষনা
ব্যার্থ,কিন্ত আবার ব্যার্থ ও বলা যাবে না।কারন এখানে দূরত্ব একটি বিশাল
প্রতিবন্দক।আমাদের ছায়াপথে যদি 10 লক্ষ ভীনগ্রহ সভ্যতা থাকে তাহলে এদের
পরস্পর দূরত্ব হবে প্রায় 300 আলোকবর্ষ।অতএব এত কম সময়ের মধ্যে এই গবেষনার
ফলাফল আশা করা ঠিক নয়।তাছাড়া মহাবিশ্বে আলোর গতির চেয়ে বেশী গতি আছে এমন
কিছু বিন্গানীরা আবিস্কার করতে পারেননি।কাজেই অপেক্ষা করা ছাড়া আপাতত অন্য
কোন কাজ নেই।

সবশেষে বলবো..... হে ভীনগ্রহের বুদ্ধিমান বাসিন্দারা সত্যি যদি আপনারা থেকে
থাকেন,তবে অনুগ্রহ করে আমাদের প্রশ্নের উওর দেবেন কি? যদি আমাদের প্রতি
আপনাদের আগ্রহ না থাকে তাও বলে দিন।কারন আপনাদের পিছনে কোটি কোটি অর্থ
ব্যায় হচ্ছে,যা আমাদের পৃথিবীর অনেক গরীব দেশের জনগনের ভাগ্য পরিবর্তনে
সহায়ক ভূমিকা পালন করবে।আর আদৌ যদি তাদের অস্তিত্ব না থাকে তবে এই ভীন
গ্রহের প্রানীরা কল্পবিন্গানের পাতাতেই বন্দি হয়ে থাকবে।

সহায়ক বই :মিস্টিরিয়াস অফ দি আনএক্সপ্লেইনড।
রির্ডাস ডাইজেস্ট।
টাইম।
নিউজ উইক ম্যাগাজিন।

ছবি সৌজ্যন্যে : গুগল।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)