নক্ষত্রের শ্রেনী বিভাগ।

আকাশের সব নক্ষএ দেখতে একই রকম দেখা যায়। কিন্ত ভালো কর লক্ষ্য করলে দেখা
যায় সব নক্ষএই এক রকম নয়,ছোট বড় মাঝারী এবং বিভিন্ন রংয়ের নক্ষএ দেখা যায়।
উজ্জলতা অনুসারে নক্ষএ গুলিকে বিভিন্ন শ্রেনীতে ভাগ করা হয়। অতি উজ্জল
নক্ষএ কে প্রথম শ্রেনীর নক্ষএ বলা হয়।আর মাঝামাঝি উজ্জলতার নক্ষএ গুলিকে
দ্বিতীয়,তৃতীয়,ইত্যাদি শ্রেনীতে শ্রেনীবদ্ধ করা হয়।উনবিংশ শতাব্দীতে কয়েকজন
জ্যের্তিবিদ নক্ষত্রের শ্রেনী বিভত্তিতে শৃংন্খলা আনার চেস্টা করেন এদের
মধ্যে পিকারিং ও পগসন এর নাম বিশেষ ভাবে উল্লেখ যোগ্য। বর্তমানে হাভার্ডের
শ্রেনী বিভাগ সারা পৃথিবীতে স্বীকৃত।
উজ্জলতা ও শ্রেনী: নক্ষত্রের শ্রেনী ও উজ্জলতা সামন্তরিক ধারা অনুসারে গঠিত
না হয়ে সমানুপাতিক ধারা অনুসারে গঠিত হয়।কাজেই দেখা যায়,যে প্রত্যেক
পর্যবেক্ষক এর শ্রেনী বিভাগ অনুযায়ী প্রত্যেকের অনুপাতই 2.5 এর
নিকটবর্তী।তখন পগসন প্রস্তাব করেন এই অনুপাত 2.512 নেয়া হোক,তাহলে প্রথম
শ্রেনীর নক্ষএ ষস্ঠ শ্রেনীর নক্ষএ অপেক্ষা (2.512) 6=100 গুন বেশী উজ্জল
হবে। বর্তমানে এই অনুসারেই নক্ষত্রের শ্রেনী বিভাগ করা হয়।একটি নক্ষএ
অন্যটির চেয়ে 1 শ্রেনীর বেশী উজ্জল বলতে আমরা বুঝি প্রথমটি দ্বিতীয়টি
অপেক্ষা 2.512 গুন বেশী উজ্জল।
এর ফলে পূর্নসংখ্যা দ্বারা শ্রেনী সংখ্যা প্রকাশ করা যায় না দশমিকে প্রকাশ করতে হয়।

নক্ষত্রের দুরত্ব: অনুজ্জল নক্ষত্রের সাহায্যে লম্বন প্রক্রিয়ায় দ্বারা
নক্ষত্রের দুরত্ব নির্নয় করা হয়। কোন নক্ষত্রের লম্বন 1 সেকেন্ড হলে তার
দুরত্ব সূর্যের দুরত্বের 206265 গুন।একে পারসেক বলে ।

নক্ষএ আয়তন: খালি চোখে বা দুরবীনের সাহায্যে নক্ষএর ব্যাস নির্নয় করা
অসম্ভব। (তবে অন্যভাবে ব্যাস নির্নয়ের চেস্টা চলছে)। তবে যুক্ত নক্ষত্রের
ব্যাস নির্নয় করা সম্ভব,এবং এই ব্যাস সূর্যের ব্যাস অপেক্ষা 8 থেকে 10 গুন
পর্যন্ত পাওয়া গেছে।

যুক্ত নক্ষএ: যুক্ত নক্ষএদের ভিতর অধিকাংশই দুটি নক্ষএ এর সমন্বয়ে
গঠিত,এদেরকে বাইনারী স্টার বলে।এদের মধ্যে কিছু আছে তিন চারটির অধিক নক্ষএ
যুক্ত এদেরকে বলে মাল্টিপল বাইনারি।এই যুক্ত নক্ষএ কোন কোনটি একই রকম
দেখতে,কিছু আবার ভিন্ন বৈশিস্ঠের।যেমন নক্ষএ দুটির আয়তন, ভিতরের দুরত্ব,
অবস্হান, কোন,পরিক্রমন কাল এমনকি রং পর্যন্ত ভিন্ন হয়।কিছু কিছু জোড়া নক্ষএ
আছে যারা একে অন্যকে আবর্তন করতে সময় নেয় মাএ কয়েক ঘন্টা।এই রকমের কিছু
নক্ষএ দুরবীনের সাহায্যে বিভক্ত করা যায়।আবার কিছু বিভক্ত করতে বর্নালী
বিশ্লেষনের প্রয়োজন হয়।এদের গতিবেগ থেকে কক্ষপথ নির্নয় করা যায়।কিছু
নক্ষএকে খালি চোখেই বিভক্ত দেখা যায়।জোড়া নক্ষএ ব্যাতিত অনান্য যুক্ত নক্ষএ
বিভিন্ন প্রকার জোড়া নক্ষত্রের সমাবেশে গঠিত হতে পারে।হয়তো এদের কোন অংশ
দৃশ্যযুক্ত ও অনান্য অংশ প্রকৃত যুক্ত।আবার সমস্ত অংশই দৃশ্যযুক্ত বা
প্রকৃতযুক্ত হতে পারে।কোন জোড়া নক্ষত্রের এর একটি হয়তো বর্নালীযুক্ত হতে
পারে,এ ক্ষেত্রে ঐ নক্ষএটি তিনটি নক্ষত্রের সমম্বয়ে গঠিত।আবার কোনটার দুটিই
বর্নালী যুক্ত এক্ষেত্রে ঐ নক্ষএটি চারটি নক্ষত্রের সমম্বয়ে গঠিত। আকাশে
যত নক্ষএ আছে তার বেশীর ভাগই জোড়া নক্ষএ।জ্যের্তিবিদদের কাছে এই নক্ষএদের
গুরত্ব অনেক।এই রকম কিছু জোড়া নক্ষএ হলো লুদ্বক, (Sirius), বিষ্ঞু
(Castor),সুনীতি ইত্যাদি।
বিষম তারা (নক্ষত্র) : আকাশে অনেক তারা আছে যেগুলোর উজ্জলতা সবসময় এক থাকে
না,কোন সময় বাড়ে কোন সময় কমে যায়।এর সাথে পৃথিবীর কোন সর্ম্পক নেই।উজ্জলতার
এই তারতম্যের জন্য একে বিষম তারা বলা হয়।এই বিষম তারাকে পাঁচ ভাগে বিভক্ত
করা হয়েছে।
1. অস্হায়ী তারা বা নব তারা (Temporary star or nova)।
2. দীর্ঘমেয়াদী বিষম তারা (Long period variables),
3. শেফালী জাতীয় বিষম তারা (Cepheid variables).
4. আবরনী বিষম তারা (Eclipsing variables).
5 .অনিয়মিত বিষম তারা (Irregular variables)।

নব তারা: যে সমস্ত তারার ভর অত্যন্ত বেশী সেই সব তারা মাধ্যাকর্ষন চাপে
সংকুচিত হতে থাকে,এতে করে তারাটির তাপ এতটাই বেড়ে যায় যে তারাটিতে একটি
বিস্ফোরন ঘটে আর তার ফলেই সৃস্টি হয় অত্যুজ্জল নব তারার।1572 এবং 1604
খ্রীস্টাব্দ আমাদের ছায়াপথে নব তারা দেখা যায়।এই রকম কয়েকটি নব তারা হলো
কাঁকড়া নীহারিকা, ট্যারানটুলা নীহারিকা, ভেইল নীহারিকা।
দীর্ঘমেয়াদী বিষম তারা:
1: এই ধরনের তারার বিষমতার কাল দীর্ঘ এই বিষমতার কাল কোন ক্ষেত্রে কয়েক মাস থেকে কয়েক বছর হতে পারে।
2. এই সব তারা সাধারনত লল রংয়ের হয়।
3. বিষমতার কাল নিয়মিত নয়।সর্বনিম্ন থেকে সব্বোর্চ উজ্জলতায় পৌছাতে একই তারার সর্বদা একই সময় দরকার হয় না।
4. বিষমতার পরিমান ও সব সময় এক থাকেনা।
5. দীর্ঘমেয়াদী বিষম তারা গুলো দানব তারা কিনা সে সর্ম্পকে তেমন কিছু জানা
যায়নি।তবে সূর্যের তুলনায় এরা বিশাল।যেমন মীরা তারাটির ব্যাস 220,000,000
বিলিয়ন কিঃমিঃ।
শেফালী জাতীয় বিষম তারা:
1. এই তারার সর্বোচ্চ ও সর্বনিন্ম উজ্জলতার পার্থক্যের পরিমান প্রায় এক শ্রেনী।
2. উজ্জলতা বৃদ্বির কাল হ্রাসকাল অপেক্ষা কম।
3. এই জাতীয় বিষম তারার প্রত্যেকটি অতি দানব (Super giant) তারা।বিভিন্ন
শেফালী জাতীয় বিষম তারার বিষমতার কাল বিভিন্ন,কিন্তু এদের বিষমতার কালে এক
সেকেন্ডের বেশী পার্থক্য হয় না।এদের প্রভা খুব বেশী, এদের বর্নালী G.F অথবা
K শ্রেনীর।

আবরনী বিষম তারা: পারসিয়াস মন্ডলের মায়াবতি (Algol) তারাটি হলো এই ধরনের
তারার সবচেয়ে সুন্দর উদাহরন।মায়াবতীর স্বাভাবিক উজ্জলতা 2.1 কিন্ত প্রতি
সাড়ে দুইদিনে এর উজ্জলতা কমতে থাকে এবং 4 ঘন্টার মধ্যে এর উজ্জলতা কমে 3.4 এ
নেমে আসে।এবং 4 ঘন্টা পর তার স্বাভাবিক উজ্জলতায় ফিরে আসে।নির্দিস্ট
বিরতির সময় হলো 2 দিন 20 ঘন্টা 48 মিনিট 56 সেকেন্ড।এখন পর্যন্ত এর কোন
ব্যাতিক্রম হয়নি।এই ধরনের তারার একমাএ ব্যাখা হলো এটি একটি মাএ তারা নয়
এখানে দুইটি তারা। মায়াবতির বর্নালী B শ্রেনীর এবং সূর্যের চেয়ে 100 গুন
বেশী উজ্জল,এবং ব্যাস 3.9 মিলিয়ন কিঃমিঃ।এবং এর অন্য তারাটি বর্নালী G
শ্রেনীর এবং সূর্যের চেয়ে 3 গুন বেশী উজ্জল,ব্যাস 5 মিলিয়ন কিঃমিঃ এর থেকে
বোঝা যায় এর এক অংশ অন্য অংশ থেকে অনুজ্জল।অংশদুটি ভরকেন্দ্রের চারদিকে
পরিভ্রমন করে,এদের ভিতরকার দুরত্ব 10 মিলিয়ন কিঃমিঃ।এই পথ আমাদের দৃস্টি
রেখার সাথে এমনভাবে অবস্হিত যখনি অনুজ্জল অংশটি আমাদের দিকে আসে তখন অন্য
অংশটি ডাকা পরে (অনেকটা গ্রহনের মত) যায়।এই ঢাকা পড়ার মাত্রা হলো 76 % এই
জন্য তারাটি অনুজ্জল দেখায়।আবার তারা দুটি যখন পাশাপাশি থাকে তখন এর
উজ্জলতা অন্য সময়ের চেয়ে বেশী দেখায়।এর ফলে এদের অনেক সময় বিষমতারা বলে মনে
হয়।মায়াবতীর এই হ্রাস বৃদ্ধি খালি চোখে পর্যবেক্ষন করা যায়। পৃথিবীর সৌখিন
এবং পেশাদার জ্যের্তিবিদরা এই মায়াবতী তারাটিকে একবারের জন্য হলেও একে
পর্যবেক্ষন করেন।
অনিয়মিত বিষমতারা: এই তারার উজ্জলতার হ্রাস বৃদ্ধির কোন নিয়ম দেখা যায়
না।বর্নালী বিশ্লেষনে এর কত গুলো কে নবতারা বলে জানা যায়।এদের উজ্জলতা
স্হির নয় বিষমতার মাত্রা কখন কত হবে ঠিক বলা যায় না। নাম বিষম তারা কিন্তু
এদের বিষমতার কোন নিয়ম কানুন নেই।ক্যারিনা (Carina) মন্ডলের n-Carina এমনই
একটি তারা, এর উজ্জলতা -0.8-7.9 খালি চোখে সব তারাকেই এক রকম মনে হয়।আসলে
এর মধ্যেও আছে অনেক রকমের বিভিন্নতা।

ছবি সৌজ্যন্যে: গুগল।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

ভালো লাগে আপনার পোষ্টগুলো। নিয়মিত দেবেন, যদিও মন্তব্য না আসে খুব বেশী। তবুও...

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

ভাল লাগার জন্য ধন্যবাদ আপনাকে।আমি আসলে মন্তব্য পাওয়ার জন্য লিখি না।শুধু মাত্র আমি যে টুকু জানি তা অন্য সবার সাথে শেয়ার করি।
আমি কি নির্মান পত্রিকায় লেখা পাঠাতে পাড়বো? উওর হ্যা হলে কি ভাবে পাঠাবো।একটু জানাবেন।
ধন্যবাদ ভালো থাকবেন।

-

They can not on this level understand a grain of salt much less than the
universe।

নেবুলা মোর্শেদ।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)