মহাকাশের ভবঘুরে (শেষ পর্ব)।


ধূমকেতুর আকৃতি ও দেহ গঠনঃ বিভিন্ন ধূমকেতুর চেহারা,আকৃতি এবং বিস্তৃতির
মধ্যে অনেক পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়।কোন কোন ধূমকেতুর মাথা সূচালো ফলার মতো
দেখায়,কারোর বা গোলাকৃতি।

লেজের আকৃতিতে পার্থক্য আরও অনেক বেশী-কোনটির লেজ অনেক লম্বা, কোনটির
ছো্‌ট,কোনটির লেজ একটু বাঁকা,কোনটির লেজ বহুদূর পর্যন্ত প্রায়
সমান্তরাল।আবার কোন কোন ধূমকেতুর একের বেশি লেজ দেখা গেছে।তবে সব ধূমকেতুরই
লেজের একটি সাধারন বৈশিস্ট্য হল,এই যে ধূমকেতুর লেজ সবসময়ই সূর্য যেদিকে
থাকে তার বিপরীত দিকে প্রলম্বিত হয়।
ধূমকেতুর দেহ-গঠন প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়-মাথা এবং লেজ।এই মাথার
আবার দুটি অশং একটি এর কেন্দ্রীয় অশং (Nucleus) এবং অন্য অশংটিকে বলা হয়
কোমা (Coma) বাংলায় একে ধূম বলা হয়।ধূমকেতুর কেন্দ্রের চারিদিকে মেঘের মত
যে অশংটি দেখা যায় সেই অংশটিকে কোমা বলা হয়।

রাসায়নিক বিচারে বিঞ্জানীরা অনূমান করেন যে ধূমকেতুর কেন্দ্রীয় অংশে মূলত
পানি,অ্যামোনিয়া,মিথেন,কার্বন-ডাই-অক্সাইড,কার্বন-মনোক্সাইড প্রভৃতির
সাহায্যে গঠিত এর সাথে আছে সামান্য পরিমান খুবই বিষাক্ত সায়ানোজেন
।ধূমকেতুর আলোর বর্নালী বিশ্লেষন করে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।


ধূমকেতু আবিস্কার এবং নামকরন:যারা রাঁতের আকাশে ধূমকেতু খোঁজ করেন তাদেরকে
কমেট হান্টার (Comet hunter) বলে।এদের দুটি উদ্দেশ্য থাকে – নতুন কোন
ধূমকেতু আবিস্কার অথবা প্রত্যাবর্তনশীল কোন ধূমকেতুর পুনরাগমন হচ্ছে কিনা
তা স্হির করা।

ধূমকেতু খুজে বের করা খুব কঠিন কাজ এর জন্য প্রয়োজন অসীম ধৈর্য্য।আকাশে
ধূমকেতু খোজ করার ভাল সময় হল সূর্যাস্তের পরে সন্ধ্যাবেলায় এক ঘন্টা তখন
পশ্চিম অথবা উওর-পশ্চিম আকাশে লক্ষ রাখতে হবে।আর সূর্যদয়ের আগে ভোররাত দুই
ঘন্টা পূর্ব অথবা উওর-পূর্ব আকাশের দিকে লক্ষ্য রাখতেহবে।
এই কাজে আপনি 7×50,40×150,11×80 বাইনোকুলার ব্যাবহার করতে পারেন,
বাইনোকুলারের ফিল্ড অফ ভিউ অনেক বড় এতে করে আপনি অনেকখানি জায়গা জুড়ে
পর্যবেক্ষন করতে পারবেন।ধূমকেতু খোজার সময় আপনার বাইনোকুলারটিকে দিগন্তের
কিছুটা উপরে যেকোন একটি তারাকে (মার্কার) লক্ষ্য করে বাইনোকুলারটিকে
জিগজ্যাগ পদ্ধতিতে সামনে পিছনে নিয়ে খোজ করতে হবে।

ধূনরাশির এলাকা এড়িয়ে চলতে হবে কারন আমাদের ছায়াপথের কেন্দ্র ওই দিকে,ওখানে
প্রচুর তারামেঘ আছে যা পর্যবেক্ষনে বাধার সৃস্টি করবে।সেই জন্য এই স্হানটি
এড়িয়ে যেতে হবে।

বর্তমানে দূরবীন দিয়ে ধূমকেতু খোজ করার সাথে সাথে, দুরবীনের সন্গে ক্যামেরা
সংযুক্ত করে আকাশের ছবি তুলে সেই ছবি পরীক্ষা করে দেখা হয় যে, পরিচিত গ্রহ
নক্ষত্রের মধ্যে নতুন কোন ধূমকেতুর অস্তিত আছে কিনা।

এই পদ্ধতিটা বেশ জনপ্রিয় এবং কাজের,কারন ছবি তুললে একসাথে আকাশের বড় একটি
এলাকা পর্যবেক্ষন করা যায়,তাছাড়া দৃস্টিকে অনেক সময় ফাকি দেয়া যায় কিন্ত
ক্যামেরার চোখকে সম্ভব নয়।বলতে পারেন ধূমকেতু খুজে বের করে লাভ কি? লাভ হল
এই যে আপনি যদি নতুন কোন ধূমকেতু আবিস্কার করেন তবে ধূমকেতুটির নাম তার
নামে হবে। প্রতি বছরই নতুন নতুন ধূমকেতু আবিস্কার হয়, আর আজ পর্যন্ত প্রায়
700টির উপরে ধূমকেতু আবিস্কার হয়েছে যার বেশিরভাগ আবিস্কার করেছে সৌখীন
জ্যেতির্বিদরা।

তাই আন্তর্জাতিক আ্যস্ট্রনমিক্যাল ইউনিয়ন (IAU) ধূমকেতুর নাম রাখার জন্য
একটি পদ্ধতি প্রবর্তন করেছে।যে ব্যাক্তি নতুন ধূমকেতু আবিস্কার করবেন তার
নামে ধূমকেতুটির নামকরন করা হবে,তবে সর্বোচ্চ দুইজনের নামে (একটি নতুন
ধূমকেতু যদি একইসাথে দুজন ব্যাক্তি আবিস্কার করে তা পৃথিবীর যে প্রান্তে
বসেই করুক না কেন) নামকরন করা হয়।

এর অধিক হলে তখন তার নামকরন করা হয় যেই বছরে ধূমকেতুটি আবিস্কার হয়েছে সেই
বছর এবং তার সাথে এক একটি ইংরেজী অক্ষর যোগ করে যেমন-1976a,1976b মানে হল
1976 সালে আবিস্কৃত প্রথম ও দ্বিতীয় ধূমকেতু।
এর পরে ধূমকেতুটির পরিক্রমনপথ ও অনূসর (Perihelion passage) অবস্হান যখন
সঠিকভাবে নির্নয় করা হয়,তখন এদের নামকরন করা হয় সালের সাথে রোমান হরফ জুড়ে।
আবার যে সব ধূমকেতু নির্দিস্ট সময় পরপর সূর্যের নিকটতম অবসহানে আসে,সেইসব
প্রত্যাবর্তনশীল (Periodic) ধূমকেতুকে বোঝাবার জন্য ধূমকেতুটির নামের আগে P
অক্ষরটি (Periodic) যুক্ত করা হয় যেমন-P/Halley।
তবে নামকরনের বেলায় এর ব্যাতিক্রম ও হয়েছে হ্যালীর ধূমকেতুর বেলায়,ঘটনাটি
একটু খুলে বলি।1682 সালে জার্মান জ্যেতির্বিদ জর্জ ডর্ফেল রাতের আকাশে একটি
ধূমকেতু পর্যবেক্ষন করেন।এই ধূমকেতুটি ছিল অনেক বড় এবং উজ্জল সারা পৃথিবীর
মানুষের সাথে বিখ্যাত জ্যেতির্বিদ এডমন্ড হ্যালিও একে লক্ষ করলেন তখন তার
বয়স 26 বছর,তখন তিনি চিন্তা করলেন ধূমকেতুর চলাফেরার কি কোন নিয়ম আছে।
যেমন আছে গ্রহদের বেলায় এই ভেবে তিনি সেই ধূমকেতুটির সমস্ত তথ্য সংগ্রহ
করলেন,এবং এইসব তথ্য নিয়ে বিখ্যাত বিন্গানী আইজ্যাক নিউটনের কাছে
গেলেন,নিউটন ইতিমধ্যে মহাকর্ষের বিধি আবিস্কার করে ফেলেছেন।এবং নিউটনের
সাহায্যে নিয়ে হ্যালি সেই ধূমকেতুটির পরিক্রমন পথ পরিক্রমনকাল ইত্যাদি
সঠিকভাবে নির্নয় করতে সর্মথ হলেন।
এবং তিনি গননায় দেখতে পেলেন এই ধূমকেতুটির সূর্যকে একবার পরিক্রমন করতে
75-76 বছর সময় লাগতে পারে।এরপর শুরু হলো অন্যরকম গবেষনা তিনি সেইসময় দেশ
বিদেশের ইতিহাস খুজতে লাগলেন যে অতীতে এই রকম কোন বড় এবং উজ্জ্বল ধূমকেতু
দেখা গিয়েছিল কিনা।
এবং তিনি খুজে পেলেন যে অতীতে 1531 ও 1607 সালে এমন দুটি উজ্জ্বল ধূমকেতুর
আর্ভিবাবের বিবরন,যাদের সাথে 1682 সালের ধূমকেতুটির মিল আছে।
এরপরেই হ্যালি ঘোষনা করলেন তার গবেষনার চূরান্ত ফল।তিনি বললেন 1531 এবং
1607 সালে যে দুটি ধূমকেতু দেখা গিয়েছিল, তারা আলাদা কোন ধূমকেতু নয়,1682
সালে যে ধূমকেতু টি পৃথিবীর আকাশে দেখা গিয়েছিল তা নতুন কোন ধূমকেতু নয়,
এটি 1531 এবং 1607 সালে দেখা যাওয়া ধূমকেতুটির পূর্নাআর্বিভাব।
এবং হ্যালী তখন বলেলেন এই ধূমকেতুটিকে আবার 1758 সালে দেখা যাবে।
এবং 1758 সালে বড়দিনের রাতে সেই ধূমকেতুটি আবার পৃথিবীর আকাশে দেখা দেয়,এবং হ্যালির গননা র্নিভূল প্রমান হয়।
কিন্ত হ্যালি এটা দেখে যেতে পারেনি তার আগেই 1742 সালে তিনি পরলোকগমন
করেন।আর হ্যালির এই র্নিভূল গননার জন্য এই ধূমকেতুটির নামকরন করা হয়েছে তার
নামে।ধূমকেতু যিনি আবিস্কার করেন তার নামেই ধূমকেতুর নাম রাখার প্রথা
প্রচলিত।
শুধুমাএ হ্যালির ধূমকেতুর বেলায় এর ব্যাতিক্রম হয়েছে। প্রত্যাবর্তনশীল
ধূমকেতুর মধ্যে হ্যালি ব্যাতিক্রম এটি আবিস্কারের পর থেকে ঠিক নির্দিস্ট
সময়ের পর পর পৃথিবীর আকাশে আসে।এটি শেষ এসেছিল 1986 সালে,এবং আবার আসবে
2061।
আর এপর্যন্ত যত ধূমকেতু আবিস্কার করা হয়েছে তার বেশিরভাগই আবিস্কার করেছে
সৌখিন জ্যেতির্বিদরা।অতএব ধূমকেতু খোজার কাজে নেমে পড়ুন যদি ভাগ্য সহায়
হয়,এবং নতুন একটি ধূমকেতু যদি আবিস্কার করে ফেলেন তবে ইতিহাসের পাতায় অমর
হয়ে যাবেন।

নতুন একটি ধূমকেতু আবিস্কারের পড়ে প্রথম যে কাজ গুলো করতে হবে তা হলো-আপনি
যদি একটি ধূমকেতু দেখতে পান তহলে প্রথমেই যে মন্ডল বা আকাশের যে স্হানে
এটাকে দেখতে পেয়েছেন তার স্হানাংন্ক বিষুবাংশ ও বিষুবলম্ব (RA) (DEC)
র্নিভূলভাবে নোট করুন। এরপর চার রাত বস্তুটিকে পর্যবেক্ষন করুন যদি এটি
ধূমকেতু হয় তাহলে দেখতে পাবেন এটি তারার পটভূমিতে অবস্হান পরিবর্তন করছে।
তবে সবচেয়ে ভাল হয় অন্তত পরপর চার রাত ধূমকেতুটির ছবি তুলতে পারলে,কারন ছবি তুললে এটির গতি পরিবর্তন এবং
এর সর্ম্পকে আরো বিস্তারিত বুঝতে পারবেন।(যদি নতুন কোন ধূমকেতু আপনি আবিস্কার করেন সেক্ষেত্রে আপনাকে ছবি তুলতেই হবে)।

এরপরে যা যা করতে হবে-

1.আপনার নাম এবং ঠিকানা (ই-মেইল) এবং পর্যবক্ষনের স্হান।

2.পর্যবেক্ষনের তারিখ এবং সময়,(UT ইউনির্ভাসেল টাইম),এবং কোথা থেকে ছবি তুলেছেন সেই স্হানের নাম।

3.দূরবীনের সাইজ,সাথে ছবি তোলার বর্ননা যেমন- exposure length, time of exposure।

4. ধূমকেতুটির আকার, কোন প্রকার লেজ দেখা গিয়েছে কিনা,উজ্জলতা, এবং
ধূমকেতুটি তারার পটভূমিতে গতি পরিবর্তন করছে কিনা সেই ছবি (আপনি পরপর চার
রাত ধূমকেতুটির ছবি তুলেন এবং যদি এটি ধূমকেতু হয় তাহলে আপনি এর পরিবর্তন
লক্ষ্য করতে পারবেন)।
এবং এই গতি কোন দিকে তার দিন এবং ঘন্টা প্রতি হিসাব।মনে রাখবেন ধূমকেতু যখন সূর্য থেকে অনেক দুরে থাকে এর কোন লেজ থাকে না।

এই সব তথ্য আপনাকে ই-মেইল করে পাঠাতে হবে আন্তর্জাতিক জ্যেতির্বিদ্যায়
সংস্হায় (IAU)।আপনি এইসব তথ্য পাঠানোর আগে ভালভাবে যাচাই করে নিবেন এটি কি
আসলেই নতুন কোন ধূমকেতু,না কোন গ্রহানু না অন্য কিছু আপনি এই ব্যাপারে
জানতে পারবেন IAU থেকে প্রকাশিত ইয়ারলি কমেট হ্যান্ডবুক থেকে।

আপনার পাঠানো তথ্যর উপর নির্ভর করে IAU তিন থেকে চারটি মানমন্দির থেকে
আপনার উল্লেখিত দিকে বড় বড় দূরবীন দিয়ে নতুন বস্তুটিকে পর্যবেক্ষন করবে,
এবং তাদের চার্টের সাথে মিলিয়ে দেখবে এটি আবার সৌরজগতে ফিরে আসা কোন
ধূমকেতু কিনা বা নতুন বা পুরাতন কোন গ্রহানু কিনা।

এবং এইসব পরিক্ষার পর যদি দেখা যায় যে এটি নতুন একটি ধূমকেতু তখন তারা
আনুস্ঠানিকভাবে ঘোষনা দিবে,এবং সাথে আপনার নাম যদি আপনি এটি আবিস্কার করেন।

ছবি তোলা: ছবি তুলতে হলে প্রথমেই আপনাকে একদম অন্ধকার স্হান খুজে নিতে
হবে,যেখানে শহরের লাইটের আলো নেই।সাথে নিতে হবে একটি ট্রিপড ক্যামেরা
আটকানোর জন্য,এবং কেবল রিলিজ দীর্ঘ সময় এক্সপোজ দেবার জন্য।আর ক্যামেরা হল
ডিজিটাল এস এল আর ক্যামেরা (DSLR),বর্তমানে ফ্লিম SLR ক্যামেরার ব্যাবহার
নেই বললেই

চলে,আপনি Canon এর EOS সিরিজের 550D,450D,60D,10D,5D Mrk II Mark
III, মডেলের ক্যামেরা ব্যাবহার করতে পারেন,এবং ফোক্যাল লেন্থ 28 মিঃমিঃ
থেকে 200 মিঃমিঃ হলে ভাল হয়।

ক্যামেরার আ্যপারচার নিম্নতম f নাম্বারে রাখতে হবে।দীর্ঘ সময় এক্সপোজ দেবার
জন্য ক্যামেরাটিকে B সেটিং এ রাখতে হবে।ছবি তোলার আগে ক্যামেরার লেন্সটিকে
“ইনফেনিটি” দূরত্বে ফোকাস করে নিতে হবে।আর এক্সপোজার যদি 10 সেকেন্ড থেকে
10 মিনিট সময়ের মধ্যে হয় তাহলে মোটামুটি ভাল ছবি আসতে পারে।আর এক্সপোজ এক
মিনিটের বেশী 2 মিনিট হলে তখন এ্যাপারচার f/2.8 রাখা উচিৎ।

আর এক্সপোজ যদি এর চেয়ে বেশী সময় হয় তখন আপনার প্রয়োজন হবে অটো ট্রাকার
ট্রিপড,কারন পৃথিবীর আন্হিক গতির কারনে আকাশের খ-বস্তুর স্হান পরিবর্তন
হয়,এর হার হলো ঘন্টায় 15 ডিগ্রী,এই কারনে অটোট্রাকার ছাড়া বেশী সময় এক্সপোজ
দিলে ছবি অস্পস্ট এবং ঝাপসা হবে।

ট্রাকার থাকলে পৃথবীর এই গতির সাথে তাল মিলিয়ে ক্যামেরাও ঘুরবে যার ফলে
আপনি ইচ্ছে মত এক্সপোজ দিতে পারবেন।এছাড়াও আপনি দূরবীনের সাথে ক্যামেরা
সংযুক্ত করে ছবি তুলতে পারেন।

এছাড়াও দূরবীনের সাথে ক্যামেরা সেট করে ও ছবি তুলতে পারেন।

 

ধমকেতুর উৎপত্তি ও বির্পযয় :ধূমকেতুরা মহাকাশের কোথা থেকে আসে,এই তর্কের
সঠিক উওর আজো পাওয়া যায়নি।তবে পৃথিবীতে যতগুলি তত্ত্ব চালু আছে তার মধ্যে
জ্যেতির্বিদ জন ঊর্টের ত্বত্তটি মোটামুটি গ্রহনযোগ্য,তার মতে সৌরজগতের
সীমানার বাইরে বস্তুর এক বিশাল এলাকা আছে যাকে ঊর্ট ক্লাউড (Ort cloud)
বলে।

দূরত্ব বেশী হবার কারনে এখানে সূর্যের আর্কষন খুবই কম এর পাশ দিয়ে অন্য কোন
গ্রহ বা নক্ষএ যাবার সময় তাদের মাধ্যার্কষন শক্তির টানে এখান থেকে বস্তু
ছিটকে সৌরজগতের মধ্যে ঢুকে পড়ে এবং সূর্যের আর্কষনে আটকা পড়ে ধূমকেতু
হিসাবে আর্বিভূত হয়।

ধূমকেতুকি পৃথিবীর জন্য কোন বিপদের কারন হতে?পারে ইতিহাস তাই বলে 1908 সালে
30শেজুন রাশিয়ার সাইবেরিয়া অন্চলের টুন্গুনাশা জন্গলে প্রচন্ড শব্দ ও আলোর
ঝলকানি দিয়ে একটি বস্তু মাটিতে আছড়ে পরে এতে প্রায়, 32 কিঃমিঃ এলাকা জুড়ে
সব বন জন্গল পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এরপরে বিন্গনীরা পরীক্ষা নিরীক্ষা করে বলেন যে ঐ স্হানের ছয় কিঃমিঃ ওপরে
একটি ছোট ধূমকেতুর সাথে পৃথিবীর সংর্ঘষ হয়েছিল।কাজেই বড় আকারের কোন ধূমকেতু
পৃথিবীর বিপদের কারন হতে পারে যদি তা জনবহুল কোন এলাকায় পড়ে,তবে চিন্তার
কারন নেই মানুষের হাতে যে প্রযুক্তি আছে তাই দিয়ে যে কোন ধূমকেতুকে পৃথিবীর
কক্ষপত থেকে হটিয়ে দিতে পারবে।

ধমকেতুদের নিয়ে বিন্গানীদের আগ্রহ অনেক তাদের মতে এই ধূমকেতুতে চড়ে মহাকাশ
থেকে পথিবীতে প্রানের বীজ এসেছিল, এবং এছাড়া ও ধূমকেতুতে এমন কিছু মৌলের
সন্ধান পাওয়া
গেছে যা পৃথিবীতে নেই।

এই জন্য ধূমকেতুর গঠন এবং এইসব সম্পর্কে ভালভাবে জানার জন্য 10/2/2006 সালে
টেম্পল নামক ধূমকেতুতে ডিপ ইম্পপ্যাকট নামক একটি যানের সাহায্যে একটি বড়
গোলাকার ধাতব বস্তু ছুড়ে মারা হয়েছিল।

 

 

 

এবং এতে যে বিস্ফোরনের ফলে পদার্থ ছিটকে উঠেছিল তার থেকে বিন্গানীরা অনেক কিছু জানতে পেরেছে।
কাজেই ধূমকেতু পৃথিবীর জন্য যতই বিপদের কারন হোক না কেন এদেরকে অস্বীকার কোন উপায়,নেই কারন এরাও সৌরজগতের আদি বাসিন্দা।

বিঃদ্রঃ:লেখাটি অনেক বড় হয়ে গেল,ছোট করে লিখতে পারতাম তাতে অনেক কিছু
বাদ পড়ে যেত এখন ধূমকেতু সর্ম্পকে মোটামুটি একটা ধারনা পাওয়া গেল

ছবি গুগল।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

আপনার এস্ট্রোনমি নিয়ে লেখাগুলো তথ্যবহুল।
ভালো লাগা জানিয়ে গেলাম Smile

আপনাকে ধন্যবাদ।

-

They can not on this level understand a grain of salt much less than the
universe।

নেবুলা মোর্শেদ।

খুবই ভালো লেগেছে‍। নিয়মিত লেখা দিবেন বিসর্গে, এটা আশা।

আপনাকে ধন্যবাদ।চেস্টা করবো।

-

They can not on this level understand a grain of salt much less than the
universe।

নেবুলা মোর্শেদ।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)