হিম জগতের প্রানী ( দ্বিতীয় পর্ব)।

বিসর্গ ব্লগের সকল ব্লগার এবং পাঠক সবাইকে নববর্ষের শুভেচ্ছা।
তিমিঃ ক্যাপ্টেন কুক দক্ষিন সমুদ্র ভ্রমন শেষে ফিরে এসে সীল এবং তিমির প্রাচুর্যের কথা বলেছিলেন,এর পর থেকে তিমি শিকারীরা দক্ষিন সমুদ্রে ব্যাপকহারে তিমি শিকার শুরু করে,এটা শুরু হয় ঊনবিংশ ও বিংশ শতাব্দীর প্রথম দিকে।
এবং 1935 সালে আন্টার্কটিক কনভারজেন্সের নীচে রেকর্ড 50,000 তিমি শিকার করা হয়েছিল,এইভাবে ক্রমাগত শিকারের ফলে তিমি আজ বিলুপ্ত হবার পথে।এটা বন্ধ করার জন্য আন্তর্জাতিক হোয়েলিং কমিশন নির্দিস্ট কয়েকটি প্রজাতির তিমি মারার অনুমতি দিয়েছে,এবং তার সংখ্যাও নির্ধারন করে দিয়েছে।
এর মধ্যে ব্লু,ব্রাইড,ফিন,হাম্পব্যাক,ও রাইট এই পাঁচ প্রজাতির তিমি মারা সম্পূর্ন নিষেধ,কিন্ত এর পরেও বেআইনীভাবে তিমি শিকার করা হয়।রাশিয়া জাপান সবচেয়ে বেশি তিমি শিকার করে এর পরে করে অস্ট্রেলিয়া,পর্তুগাল, পেরু, ও চিলি।

পৃথিবীর অধিকাংশ তিমি বিচরন করে দক্ষিন সমুদ্র এলাকায়,গরমকালে এরা আন্টার্কটিকাকে ঘিরে প্রায় 500 কিঃমিঃ এর মধ্যে থাকে, আর শীতকালে আরও উওরে চলে আসে।

সাধারনত দু’ধরনের তিমি দেখা যায় প্রথম ব্লু হোয়েল,হাম্পব্যাক, গ্রে, আর বোহেড তিমি, দিতয় দলে স্পার্ম,বেলিন, এবং রাক্ষুসে তিমি যাকে বলা হয় অরকা (Grampus orca)।
এর মধ্যে কিছু তিমির চোয়ালে হোয়েলবোন (Whalebone) নামের নরম হাড়ের তৈরী ছাঁকনি জাতীয় একটি জিনিস থাকে এর সাহায্যে ছোট মাছ ও ক্রিল ছেঁকে খেতে পারে।
 অন্য তিমিদের হোয়েলবোনের পরিবর্তে দাঁত থাকে।
এর মধ্যে অরকা বা রাক্ষুসে তিমি উল্লেখযোগ্য এরা আকারে ছোট কিন্তু প্রচন্ড হিংস্র এরা ধারালো দাত দিয়ে শিকার করে,এরা সবসময় দল বেঁধে থাকে।সীল এবং পেঙ্গুইন এদের প্রধান খাদ্য এরা শিকার করার সময় নানা রকমের শব্দ করে নিজেদের সাথে যোগাযোগ করে,অন্য সব তিমিদের মত এরাও তীক্ষ বুদ্ধি সম্পন্ন।

ব্লু হোয়েল (Balaenoptera musculus): এরা শুধু সব প্রানিদের থেকেই বড় নয়,এরা বর্তমান পৃথিবীতে জীবিত প্রানিদের মধ্যে সবচেয়ে বড়।এদের গড় ওজন 84 টন কিন্ত 180 টন ওজনের নীল তিমি ও পাওয়া গেছে এটা একটা রের্কড,এরা লম্বায় 24 মিটার।এদেরকে পৃথিবীর সব বড় সমুদ্রে কম বেশী দেখা যায়,কিন্ত গরমকালে এরা আন্টার্কটিকার বরফের কাছাকাছি চলে যায় এবং  গরমকাল তারা সেখানে কাটায় এবং এখানে তারা প্রজনন করে।


এদের প্রধান খাদ্য ক্রিল এরা খুব লাজুক এদের দেখা পাওয়া বেশ কঠিন,এরা বিপন্ন প্রজাতি মানুষ এদেরকে শিকার করে আজ এদের হুমকির মুখে ফেলে দিয়েছে।50 এর দশকে এই শিকারিদের হাতে 2,00,000 তিমি মারা পড়েছে।বর্তমানে এরা আইনের দ্বারা সূরক্ষিত তারপরেও গোপনে কিছু তিমি মারা হয়।

ফিন হোয়েল (Balaenoptera physalus): এরা পৃথিবীর দ্বিতীয় বহওম প্রানী,এরা লম্বায় 20 মিটার,ওজন 40 থেকে 50 টন, মহিলা তিমি আকারে একটু ছোট হয়।এরা খোলা মহাসাগরেই বংশ বৃদ্ধি করে এরা নীল তিমির মত বেশী দূর ভ্রমন করে না।

এদের প্রধান খাদ্য ক্রিল এই খাবারের জন্য তারা আন্টার্কটিকার সমুদ্রসীমায় যায়।এদের সংখ্যা মাএ 80,000 হাজার এবং এদেরকে 1976 সালে আইন দ্বারা সুরক্ষিত করা হয়েছে।

রাইট হোয়েল (সাউর্দান)(Balaena glacialis): এরা 18 মিটার লম্বা হয়,এবং ওজন প্রায় 96 টন এদের মাথাটা বিশাল যা শরীরের অর্ধেক অশং জুড়ে আছে,এদের চামড়া খসখসে এদের শরীরে পরজীবিরা বাস করে।

এরা উপকুলীয় এলাকায় প্রজনন করে এদের প্রধান খাদ্য ক্রিল। এদের তেল এবং হাড়ের জন্য 1850 সাল পর্যন্ত প্রচুর পরিমান এই তিমি মারা হয়েছে।বর্তমানে এদের সংখ্যা কত তা নির্ধারন করা যায়নি।

হাম্পব্যাক (Megaptera novaeangliae): এদের গড় দৈঘ্য 13 মিটার,ওজন 31 টন।এদের পাখনা অনেক লম্বা হয় যা শরীরের মোট দৈঘ্যের এক তৃতিয়াংশ,এদের উওরসূরি হলো কূঁজো তিমি।

এরা দ্বীপের মধ্যে উপহ্রদের অগভীর পানিতে বাচ্চা জম্ন দেয়। এদের ডাঁক প্রানী জগতের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ এবং বৈচিত্রময়।

মিঙ্ক (Balaenoptera acutorostrata): এরা লম্বায় 8 মিটার ওজন 6 থেকে 8 টন,এরা।এই তিমি উওর-দক্ষিন এই দুই দিকেই যাতায়াত করে,এদের প্রধান খাদ্য ক্রিল এরা 70 এর দশক পর্যন্ত উপেক্ষিত ছিল এই কারনে এদের সর্ম্পকে তেমন কিছু জানা যায়নি।

ওরকা (Grampus orca): এদেরকে রাক্ষুসে তিমি বলা হয়,এদের দৈঘ্য 9 মিটার কিন্ত নারী তিমি দৈঘ্যে 8 মিটার,এদের গড় ওজন 7 থেকে 8 টন।এরা প্রচন্ড হিংস্র মেরু অঞ্চল থেকে শুরু করে পৃথিবীর সব মহাসাগরে এদের দেখা মেলে।

এদের প্রধান খাদ্য সীল ও মাছ এরা অনেক সময় একসাথে সীল শিকার করে।1978 সালে 900 রাশিয়ান তিমি শিকারী জাহাজ এই তিমিদের মেরে প্রায় র্নিবংশ করে দিয়েছিল,পরর্বতীতে আইন দারা এদের সুরক্ষিত করা হয়েছে,বর্তমানে এদের সংখ্যা প্রচুর।

স্প্যাম (Physeter macrocephalus): পুরুষ তিমি 18 মিটার লম্বা হয় এবং ওজন 70 টন,নারী লম্বা হয় 11.5 মিটার আর ওজন হয় 17 টন পর্যন্ত।এই তিমির মাথা ভোঁতা হয় যা দৈর্ঘ্যে শরিরের এক তৃতীয়াংশ।
এদের মাথার মধ্যে এমন ধরনের রাসায়নিক দ্রব্য আছে যা পানির গভীরে যখন এই তিমি ডুব দেয় তখন এর দেহের ভিতরকার তরল অংশের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্যে করে।
এরা ক্রিল ছাড়াও বড় বড় স্কুইড খায়,এবং এই স্কুইড ধরার জন্য এরা ঘন্টায় 7 থেকে 8 কিঃমিঃ গতিতে পানির 1000 মিটার নীচে যেতে পারে এবং একটানা 45 মিনিট পর্যন্ত ডুঁব দিয়ে থাকতে পারে।

গ্রীস্মে এদের প্রজনন সময় এই সময় একটি পুরষের অধীনে 20 থেকে 30 জন নারী থাকে যা অনেকটা হারেমের মত,এদের গর্ভকাল 15 মাস।18 শতকের শেষে এবং 19 শতকের প্রথম দিকে এদেরকে তৈল এবং চর্বির জন্য প্রচুর পরিমানে হত্যা করা হয়েছে,পরর্বতীতে এই তৈলের চাহিদা কমে যাওয়াতে 1979 সালে এদের হত্যা করা বন্ধ হয়।

‘সেই’ sei (Balaenoptera borealis) তিমি: এই তিমি 18.5 মিটার লম্বা হয়,ওজন 29 টন এরা নীল,এবং ফিন তিমির সাথে ঘনিস্ট।কিন্ত এরা বেশ সরু এবং এদের পাখনা ও ছোট,কিন্ত এরা ফিন তিমিদের মত দীর্ঘ উওর-দক্ষিনে যাত্রা করে না।

ধারনা করা হয় এরা একজন সংগির সাথে জীবনের দীর্ঘ সময় কাটায়।অন্য তিমিদের মত এদেরকেও নির্বিচারে হত্যা করা হত,কিন্ত 1978 সালে আইন করে সুরক্ষা করা হয়।

চলবে.................

ছবি সৌজ্যন্যেঃ গুগল।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

শিকার করার সময় নানা রকমের শব্দ করে নিজেদের সাথে যোগাযোগ করে, ............ মজাদার ব্যাপার...............

ন্যাশনাল জিওগ্রাফি চ্যানেলে প্রায়ই তিমিদের উপর প্রামান্যচিত্র। দেখায় যদি দেখে থাকেন তবে ওরা যে নানারকম শব্দ করে তা অবশ্যই শুনে থাকবেন। 

-

They can not on this level understand a grain of salt much less than the
universe।

নেবুলা মোর্শেদ।

বেয়ার গ্রিল, ডেভ আর কোডির অনুষ্ঠানই শুধু দেখি ডিসকভারিতে। দেখতে হবে..........

দেখুন ওদের সর্ম্পকে অনেক কিছু জানতে পারবেন।

-

They can not on this level understand a grain of salt much less than the
universe।

নেবুলা মোর্শেদ।

খুব ভালো লাগলো পোস্ট। চালিয়ে যান, সাথে আছি।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

ধন্যবাদ ফজলে ভাই সাথে থাকার জন্য।ভাই আমি অনেক দিন আগে আপনার কাছে জানতে চেয়েছলাম।আপনাদের নির্মান ম্যাগাজিনে লেখার কোন সুযোগ আছে কিনা?

-

They can not on this level understand a grain of salt much less than the
universe।

নেবুলা মোর্শেদ।

নেবুলা মোরশেদ এগিয়ে চলুন আমরা আছি আপনার পিছে . . . !!

ভাই এই ভাবে বললে লজ্জা পাই আমি বস ভোটে দাড়াবো না।

-

They can not on this level understand a grain of salt much less than the
universe।

নেবুলা মোর্শেদ।

হা হা হা..... একবার ভেবে দেখেন.... গম! চাউল!! আরো কত কী!!!
আপনার লেখা বিজ্ঞানী টাইপের। আমারও লিখতে ইচ্ছে করে এসব। বিশেষত ভূ-ত্বকের নিম্নভাগ, পর্বত এবং মালভূমি নিয়ে আগ্রহ। পৃথিবীর অভ্যন্তরভাগ নিয়ে লিখবেন ইনশা আল্লাহ। বিসর্গের ব্লগার হিসেবে এটুকু দাবী তো রাখতে পারি। কি বলেন?
আরেকটি প্রশ্ন- আপনি কী ভূগোলের ছাত্র?

মেহেদী ভাই ব্লগে বিভিন্ন ব্লগার
বিভিন্ন ধরনের লেখা পোস্ট করে
।আমি

জ্যোতির্বিদ্যার উপর
অল্প কিছু লেখার চেস্টা করি,কারন আমার দৌড় এই পর্যন্ত

এটা আমার অক্ষমতা।

অবশ্যই দাবী করতে
পারেন।ঠিক আছে পৃথিবী নিয়ে বিস্তারিত একটি লেখা অবশ্যই লিখবো।

না ভাই আমি ভূগোলের
ছাত্র নই।

-

They can not on this level understand a grain of salt much less than the
universe।

নেবুলা মোর্শেদ।

তথ্যপূর্ণ লেখা ভাল লাগলো।

ধন্যবাদ।

-

They can not on this level understand a grain of salt much less than the
universe।

নেবুলা মোর্শেদ।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)