নতুন রূপে আল কোরানের অতি বিস্ময়কর অলৌকিক গাণিতিক সৌন্দর্য। পর্ব- ২

بسم الله الرحمن الرحيم
সর্বাবস্থায় সকল প্রশংসা আল্লাহর।আমাকে সুখে রাখলেও প্রশংসা আল্লাহর, আমাকে দুঃখে রাখলেও  প্রশংসা আল্লাহর । আর অসংখ্য দরূদ নাযিল হোক তাঁর নবীর উপর বারবার। উম্মতের কল্যাণ চিন্তায় যিনি ছিলেন বেকারার।
প্রথম পর্বে আমরা ১১৪ সূরার কোরানিক চার্টে অলৌকিক ১৯ ধাপের সিঁড়ির মন মাতানো, চোখ জুড়ানো কারুকার্য দেখেছি।

এবার আমরা ১১৪টি সূরাকে মোট ছয়টি ভাগে ভাগ করবো। প্রতিভাগে পরবে ১৯টি করে সূরা। এরপর দেখবো প্রতিভাগের ১৯ট সূরার মধ্যে জোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরা কয়টি আর বেজোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরা কয়টি এবং দেখবো ছয়টি ভাগের মোট ১২টি ঘরে জোড় বেজোড়ের মাঝে কি অপূর্ব সমন্বয় ও ছন্দ সৃষ্টি হয়েছে।
নীচের চার্টে
১ম সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার সিরিয়াল নাম্বার।
২য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার নাম।
৩য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার আয়াত সংখ্যা।
৪র্থ সারিতে দেয়া হয়েছে বেজোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরাসমূহের সংখ্যা।
৫ম সারিতে দেয়া হয়েছে জোড় আয়াত বিশীষ্ট সূরাসমূহের সংখ্যা।

 

সত্যিই অপূর্ব! ছয় ভাগের
১২টি ঘরের কোথাও ছন্দ পতন হয়নি। প্রত্যেক ঘরেই বেজোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরার মোট
সংখ্যা একটি জোড় সংখ্যা, আর
প্রত্যেক ঘরেই জোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরার মোট সংখ্যা একটি বেজোড় সংখ্যা। জানি আপনি
এখন বলবেন যে, যদিও
জোড় ও বেজোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরাগুলোর মাঝে সুন্দর গাণিতিক ছন্দ পাওয়া গেছে কিন্তু
এটাকে মিরাকেল বলা যায়না; কেননা
এরকম মানুষের পক্ষেও করা সম্ভব। আপনার একথার জবাবে, আমি বলবো যে,
হ্যাঁ,
এটা ঠিক যে,
এরকম মানুষের পক্ষে করা
সম্ভব। কিন্তু সম্ভব থাকলেও বাস্তবে কোন মানুষ আসলে এটা করেনি।ঐ সময়কার ইতিহাসের বিভিন্ন তথ্য থেকে এটাই পরিষ্কার বুঝে আসে। এই
ব্যাপারটা নিয়ে আমি অন্য জায়গায় আলোচনা করেছি। এখানে,
আমি এখন সামনে এই চার্টের
মধ্যে আরো গাণিতিক ছন্দ , জোড় বেজোড়ের আরো জটিল তাল বা সিমেট্রি বা ভারসাম্য প্রদর্শন করে এটা প্রমাণ করার চেষ্টা
করবো যে, এরকম
করা কোন মানুষের পক্ষে সম্ভব নয়, কমপক্ষে ঐ জামানায় যখন কোন ক্যালকুলেটর বা কম্পিউটার
ছিলোনা। চলুন সামনে অগ্রসর হই। 

আমরা জানি, জোড় আর বেজোড়কে চার রকমে
সাজানো যায়। জোড়-জোড়, জোড়-বেজোড়, বেজোড়-বেজোড়,
বেজোড়-জোড়। 

এবার আমরা আমাদের কোরানিক
চার্টের ছয় ভাগের প্রতিভাগের ১৯ টি সূরার মাঝে এমন সব সূরাগুলো চিহ্নিত করবো যাদের
সিরিয়াল নাম্বারও জোড় এবং আয়াত নাম্বারও জোড়। এরপর দেখবো প্রতিভাগে এই সূরাগুলোর মাঝে কোন গাণিতিক ছন্দ পাওয়া যায় কিনা। 

নীচের চার্টে

১ম সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
সিরিয়াল নাম্বার। 

২য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
নাম। 

৩য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
আয়াত সংখ্যা। 

৪র্থ সারিতে দেয়া হয়েছে
সিরিয়াল নাম্বার ও আয়াত নাম্বার দুটোই জোড় এমন সূরাসমূহের মোট সংখ্যা। 

৫ম সারিতে দেয়া হয়েছে ঐ
সূরাগুলোর আয়াতসমূহের মোট যোগফল। 

প্রিয় পাঠক! আমরা আবারো
দেখতে পেলাম জোড় বেজোরের অপূর্ব ছন্দায়ন। ৬টি ভাগের ১২টি ঘরের কোন একটি ঘরেও ছন্দ
পতন হয়নি। প্রতি ক্ষেত্রেই জোড় সিরিয়াল নাম্বার ও জোড় আয়াত নাম্বার বিশিষ্ট
সূরাগুলোর মোট সংখ্যা একটি বেজোড় সংখ্যা। পাঠক! এবার এটাকে আগেরটার সাথে মিলিয়ে
চিন্তা করুন। একই চার্টে দুই দিক থেকে ছয়টা বা বারোটা ঘরের মধ্যে সমন্বয় সাধন করা,
ছন্দ রক্ষা করা কিন্তু বেশ
কঠিন। যাইহোক এখনো আমি মিরাকেল বলে দাবী করছিনা। চলুন সামনে অগ্রসর হই। দেখা যাক
আমাদের জন্য আরো কি ছন্দ অপেক্ষা করছে। 

এবার আমরা এই একই চার্টে
এমন সব সূরাসমূহকে চিহ্নিত করবো, যেগুলোর সিরিয়াল নাম্বার জোড় কিন্তু আয়াত নাম্বার বেজোড়,
এরপর দেখবো প্রতিভাগে এরকম
সূরা মোট কয়টি আছে এবং এগুলোর মাঝে জোড় বেজোড়ের কোন ছন্দ পাওয়া যায় কিনা তাও
দেখবো। 

নীচের চার্টে

১ম সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
সিরিয়াল নাম্বার। 

২য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
নাম। 

৩য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
আয়াত সংখ্যা। 

৪র্থ সারিতে দেয়া হয়েছে এমন
সূরাসমূহের মোট সংখ্যা যেগুলোর সিরিয়াল নাম্বার জোড় আর আয়াত নাম্বার বেজোড়। 

৫ম সারিতে দেয়া হয়েছে ঐ
সূরাগুলোর আয়াতসমূহের মোট যোগফল। 

আবারো আমরা দেখতে পেলাম
দারুণ ছন্দের মিল। একবার জোড় আরেকবার বেজোড়। কোন একটি ঘরেও ছন্দ রক্ষা না হলে
কিন্তু ভেঙ্গে যেতো এই গাণিতিক সিস্টেম। তখন আগের দুইবার যেই গাণিতিক ছন্দ পাওয়া
গিয়েছিলো সেটারও কোন মূল্য থাকতো না। প্রিয় পাঠক এখন আপনি কি বলবেন?
একই চার্টে তিন দিক থেকে
ছয়টি বা বারোটি ঘরে জোড় বেজোড়ের গাণিতিক ছন্দ রক্ষা করা কিন্তু বিরাট কঠিন কাজ।
কোন মানুষ যদি তার বইয়ের মাঝে কোন গাণিতিক মিল রাখতে চায়,
তাহলে নিশ্চয়ই সে এত কঠিন
রাস্তা অবলম্বন করবেনা বরং আরো অনেক সহজ রাস্তা বেছে নিবে। কাজটি যে কত কঠিন ,
ঝামেলাপূর্ণ আর সময়সাপেক্ষ
এটা আপনার তখনই বুঝে আসবে যখন আপনি নিজে এমন ছন্দ রক্ষা করে কোন কিতাব বা বই লিখতে যাবেন।
কিতাব আর মনে হয় লেখা হবেনা, গাণিতিক ছন্দ রক্ষা করতে গিয়েই জীবন পার হয়ে যাবে। যাইহোক
আমি এখনো মিরাকেল দাবী করছিনা। চলুন সামনে চলুন। আপনিই বলবেন মিরাকেল হয়েছে কি
হয়নি। 

এবার আমরা এই একই চার্টে
এমন সব সূরাসমূহকে চিহ্নিত করবো, যেগুলোর সিরিয়াল নাম্বার ও আয়াত নাম্বার দুটোই বেজোড়,এরপর দেখবো প্রতিভাগে এরকম সূরা মোট কয়টি আছে এবং এগুলোর
মাঝে জোড় বেজোড়ের কোন ছন্দ পাওয়া যায় কিনা তাও দেখবো। 

নীচের চার্টে

১ম সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
সিরিয়াল নাম্বার। 

২য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
নাম। 

৩য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
আয়াত সংখ্যা। 

৪র্থ সারিতে দেয়া হয়েছে এমন
সূরাসমূহের মোট সংখ্যা যেগুলোর  সিরিয়াল নাম্বার ও আয়াত নাম্বার দুটোই বেজোড় । 

৫ম সারিতে দেয়া হয়েছে ঐ
সূরাগুলোর আয়াতসমূহের মোট যোগফল।  

এবার কিন্তু আমার মনে হয়
কোন নাস্তিকও আশ্চর্য না হয়ে পারবে না। আবারো সেই ছন্দের হিল্লোল বয়ে গেলো পুরো
ছয়টি ভাগ জুড়ে। এই নিয়ে আমরা চতুর্থবার জোড় বেজোড়ের ছন্দ রক্ষা পেতে দেখলাম। এবারও
কোন একটি ঘরেও ছন্দের ব্যাঘাত ঘটলো না। প্রিয় পাঠক আপনি কি চিন্তা করতে পারছেন যে,
শুরুর দিকের সহজ কাজটি এখন
কত জটিল আর কঠিন হয়ে গেলো। একই চার্টে চার দিক থেকে, সিরিয়াল ও আয়াত নাম্বারের
মাঝে, জোড় আর বেজোড়ের অটুট ভারসাম্য রক্ষা করা হয়েছে । খুবই আশ্চর্যজনক ব্যাপার!
তাই না? এর চেয়েও
আশ্চর্যজনক ব্যাপার হলো এখনো এমন কাউকে পাওয়া যাবে, যারা বলবে যে এটা এমনি এমনি হয়ে গেছে বা
কোন মানুষ করেছে। ঠিক আছে, দেখা
যাক আমরা তাদের জন্য সামনে আরো কিছু পাই কিনা? 

এবার আমরা এই একই চার্টে
এমন সব সূরাসমূহকে চিহ্নিত করবো, যেগুলোর সিরিয়াল নাম্বার বেজোড় কিন্তু আয়াত নাম্বার জোড়,এরপর দেখবো প্রতিভাগে এরকম সূরা মোট কয়টি
আছে এবং এগুলোর মাঝে জোড় বেজোড়ের কোন ছন্দ পাওয়া যায় কিনা তাও দেখবো। 

নীচের চার্টে

১ম সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
সিরিয়াল নাম্বার। 

২য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
নাম। 

৩য় সারিতে দেয়া হয়েছে সূরার
আয়াত সংখ্যা। 

৪র্থ সারিতে দেয়া হয়েছে এমন
সূরাসমূহের মোট সংখ্যা যেগুলোর   সিরিয়াল নাম্বার বেজোড় কিন্তু আয়াত নাম্বার জোড় । 

৫ম সারিতে দেয়া হয়েছে ঐ
সূরাগুলোর আয়াতসমূহের মোট যোগফল।  

সত্যিই বিস্ময়কর! কিভাবে
সম্ভব!! কমপক্ষে একটা ঘরে হলেও তো ছন্দ পতন হতে পারতো। কিন্তু না,
হয়নি। কেননা এই সিস্টেম কোন
মানুষ করেনি, করেছেন
সর্বজ্ঞানী আল্লাহ রাব্বুল আলামীন। এই নিয়ে পঞ্চমবার হলো। মোট পাঁচটি দিক থেকে একই
চার্টে জোড় বেজোড়ের অপূর্ব ছন্দায়ন আমরা দেখতে পেলাম।

উপরে এতক্ষণ যা হয়েছে এতটুকু
করাই নিঃসন্দেহে অতি কঠিন ও সময়সাপেক্ষ কাজ, এর উপর আমরা এখন নীচে এমন একটি চার্ট নিয়ে
আসবো যেটা চুড়ান্তভাবে প্রমাণ করবে যে, জোড় বেজোড়ের এই অপূর্ব গাণিতিক ছন্দ কোন
মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়। এটা শুধুমাত্র মহাজ্ঞানী,
মহা ক্ষমতাবান এক আল্লাহ
পাকের পক্ষেই সম্ভব। 

এবার আমরা উপরের চার্টটিকে
দুই ভাগ করবো। বাম দিকে থাকবে শুধু বেজোড় সিরিয়ালের ৫৭টি সূরা আর ডান দিকে থাকবে
শুধু জোড় সিরিয়ালের ৫৭টি সূরা। এরপর আবার আগের মত চার্টটিকে মোট ছয়টি ভাগে ভাগ
করবো , প্রতিভাগে
থাকবে ১৯টি করে সূরা। এরপর দেখবো প্রতিভাগে বেজোড় আয়াত বিশিষ্ট সূরা কয়টি আর জোড়
আয়াত বিশিষ্ট সূরা কয়টি। 

নীচের চার্টে দুইটি ভাগ
আছে। উভয় ভাগেই 

১ম কলামে আছে সূরার সিরিয়াল
নাম্বার

২য় কলামে আছে সূরার আয়াত
নাম্বার 

৩য় কলামে আছে বেজোড়
আয়াতবিশিষ্ট সূরাসমূহের মোট সংখ্যা 

৪র্থ কলামে আছে জোড়
আয়াতবিশিষ্ট সূরাসমূহের মোট সংখ্যা 

১১৪ সূরার কোরানিক চার্টের উপর দিয়ে
জোড় বেজোড়ের ঢেউ খেলিয়ে আবারো বয়ে গেলো মন জুড়ানো হিমেল মিরাকেল।প্রতিভাগেই বেজোড় আয়াতবিশিষ্ট সূরা সমুহের মোট সংখ্যা
একটি জোড় সংখ্যা আর জোড় আয়াতবিশিষ্ট সূরাসমূহের মোট সংখ্যা একটি বেজোড় সংখ্যা।
চাক্ষুষ গাণিতিক প্রমাণের আলোকে এখন এটা অকাট্যভাবে প্রমাণিত হলো যে,  কোরআনের
এই গাণিতিক সিস্টেম কোন
মানুষের পক্ষে করা সম্ভব নয়, এটা শুধুমাত্র গণিতের যিনি স্রষ্টা,সেই
মহাজ্ঞানী
আল্লাহ পাকের পক্ষেই সম্ভব। আরো প্রমাণ হলো যে, কোরআনের সূরা সমূহের
সিরিয়াল এবং
আয়াত নাম্বার সবই আল্লাহর পক্ষ থেকে নির্ধারিত। এবং আরো প্রমাণ হলো যে, এই
জটিল
গাণিতিক সিস্টেম যেহেতু অক্ষুন্ন আছে, অতএব কোরআনে ১৪০০ বছরেও কোন পরিবর্তন
হয়নি।
কেননা যিনি সিস্টেম করেছেন, তার পরে যদি অন্য কারো হাত এতে লাগতো তাহলে
ভেঙ্গে
যেতো এই অপূর্ব জটিল সিস্টেম। এসবই প্রমাণিত হলো চাক্ষুষ গাণিতিক ভিত্তির
আলোকে।
এখন যদি কেউ এসে অদেখা, অস্পষ্ট ইতিহাসের আলোকে প্রমাণ করতে চায় যে, কোরআনে
পরিবর্তন হয়েছে , তাহলে এটাই বুঝা যাবে যে, এই ইতিহাস মিথ্যা বা ভুল বা
অসম্পূর্ণ
বা ইতিহাস যদি কিছু ঠিক হয়েও থাকে, তাহলে ইতিহাস বিশ্লেষণ করতে গিয়ে ভুল
হয়েছে বা সঠিক ইতিহাস
থেকে ভুল সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। চাক্ষুষ প্রমাণের সামনে অদেখা প্রমাণ কোন
মূল্যই রাখেনা। যারা ১ম পর্ব পড়েননি তারা প্লিজ এখনি একটু ১ম পর্বে চোখ
বুলিয়ে নিন। আশা করি প্রাণ জুড়াবে, ঈমান পোক্ত হবে।
http://www.bishorgo.com/user/685/post/2313

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)