উদারতা ও আখলাক দিয়ে ইসলামের বিজয় সাধন করতে হবে

কয়েক বছর আগে আমার তরুণ এক আত্মীয়ের সাথে তার এক চাইনিজ বন্ধু আমাদের মাদ্রাসায় এসেছিল। বাংলাদেশে তার আগমন হয়েছিল ব্যবসায়িক কারণে। লোকটি আবার নাস্তিক ছিল। আমি স্বাভাবিক নিয়মে তাদেরকে আমার রুমে আপ্যায়ন করি এবং আমার ঘরে নিয়ে গিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করি।

এতে আমার তরুণ আত্মীয়টি খুবই আশ্চর্যান্বিত হয়েছে এবং প্রশ্ন করেছে যে, সে তো নাস্তিক! তাকে আপনার ঘরে নিবেন? আমি বললাম, তাতে কি আছে, সে মানুষ তো বটে, সেও তো আল্লাহর বান্দা।

আমার আত্মীয়টি তার বন্ধুকে আমার পরিচয় দিয়েছে ইসলামের একজন গুরু হিসেবে। তাই তার নাস্তিক বন্ধুটিও বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথেই নিয়েছে। তারা আমার এই সাধারণ আপ্যায়নকে এত বেশী গুরুত্ব দিয়েছে যে, তারা এতে ইসলামের মহানুভবতার পরিচয় খুঁজে পেয়েছে।

তখন আমি তাদের সাথে ইসলামের এ বিষয়ে ইসলামের নবীর পক্ষ থেকে বহু কাফেরকে পর্যন্ত মেহমানদারী করার কথা তুলে ধরলাম। এতে তারা আরও বিগলিত হয়ে পড়লো।

যাওয়ার সময় ঐ চাইনিজ ভদ্রলোককে সাবেক মন্ত্রী ও সচিব জনাব কেরামত আলী লিখিত ইংরেজী ভাষার ‘দ্যা মেসেজ’ বইটি উপহার দিলাম। এতে রয়েছে বহু কুর’আনের আয়াতের ইংরেজী ব্যাখ্যা বিশ্লেষণ।

পরে জানতে পেরেছি যে, আমাদের দেশের দুর্নীতির কারণে সে আর এখানে ব্যবসা করেনি বা করতে পারেনি। তবে আমাদের কথা প্রায়ই স্মরণ করে।

এই ক্ষুদ্র ঘটনা থেকে আমি বুঝতে পারলাম যে, আমাদের তরুণ সমাজ ভিন্ন পরিবেশে ভিন্ন শিক্ষা সপ্ত করার কারণে ইসলামের অনেক উদারতার কথাই জানে না। ভিন্ন জাতি বা অমুসলিমরা তো এ বিষয়ে একেবারেই অন্ধকারে। আমাদের এই সামান্য উদারতায় যদি তারা এতো বেশী অভিভূত হতে পারে, তাহলে ইসলামের সোনালী যুগের আখলাক ও উদারতার হাজার হাজার ঘটনা তারা জানতে পারলে এবং আমাদের আখলাক থেকে তার দৃষ্টান্ত পেলে, ব্তমান অশান্ত পৃথিবীর অবস্থা কতটা বদলে যেতে পারে- তা সহজেই অনুমেয়।

মহান দাঈ হযরত মাওলানা উমর পালনপুরী ( রহমতুল্লাহি আলাইহি ) বিশ্ব ইজতিমার মাঠে অনেকবারই বলেছেন- আকায়িদ, ইবাদাত, মু’আমালাত, মু’আশারাত ও আখলাকের মধ্যে ঈমানের ফল হচ্ছে আখলাক। একজন মুসলমান যখন সকল কাজে আখলাক নিয়ে উঠবে, তখন ভিন্ন জাতির মাঝে ইসলাম প্রচার-প্রসার লাভ করবে। দলে দলে তারা ইসলামে প্রবেশ করতে বাধ্য হবে।

তিনি আরও বলতেন- ইসলামের দুয়ারে যেন আমরা দাঁড়িয়ে না থাকি, দুয়ার যেন অন্যের জয উন্মুক্ত কে দিই। অশান্ত পৃথিবীর শান্তিকামী লক্ষ্য লক্ষ্য মানুষ শান্তি অন্বেষায় হন্যে হয়ে ঘুরছে, কোথাও এরা শান্তি খুঁজে পাচ্ছে না। ইসলামের দিকে তারা দৌঁড়ে আসতে চায়, কিন্তু দুয়ার আগলে দাঁড়িয়ে থাকা মুসলমানদেরকে দেখে তারা ইসলামের ঘরে প্রবেশ করতে পারছে না। এমতাবস্থায় আমাদের পরামর্শ হচ্ছে- পূর্ণাঙ্গভাবে ইসলামে প্রবেশ করা উচিত, দুয়ারে দাঁড়িয়ে না থাকা উচিত। অমুসলিমরা যেন সজেই ইসলামের ঘরে প্রবেশ করতে পারে।

অথচ আজ আমাকে দেখে, আমার ইসলামকে দেখে অমুসলিমরা ইসলামের সৌন্দর্য বুঝতে পারছে না। তারা আমার কাজ ও তাদের কাজে কোন পার্থক্য খুঁজে পায় না বলেই ইসলামে প্রবেশ করতে পারছে না। তারা যদি জানতো, ইসলামের নবী কাফির মেহমানকেও মসজিদে থাকতে দিয়েছেন এবং খেতে দিয়েছেন, তারা যদি আমাদের মুসলমানদের কাছে নবীর সেই সব সুন্নত বা আখলাককে স্বচক্ষে দেখ পেত, তাহলে পৃথিবীর অবস্থা কি দাঁড়াতো? আমাদের সামান্য আখলাক দেখে যদি তারা এতখানি অভিভূত হতে পারে, তাহলে আমাদের পূর্বপুরুষদের হাজার হাজার আখলাকের কথা শুনলে এবং তার অনুশীলন আমাদের মধ্যে দেখতে পেলে, সত্যিই তারা ইসলামের প্রতি অনুরক্ত হয়ে যেত।

আমরা জানি ইসলাম বিজয় লাভ করেছে তলোয়ারে নয়, উদারতায়। ইসলামের সোনালী যুগে ইসলামের আখলাক দেখে অমুসলিমরা দলে দলে ইসলামে প্রবেশ করেছিল। তেমনি এখনও যদি আমরা তাদেরকে সেই মহান আখলাক দেখাতে পারি, ইসলামের সেই মহান উদারতা ও মহানুভবতার সৌন্দর্য প্রদর্শন করতে পারি, তাহলে দলে দলেই তারা ইসলামে প্রবেশ করবে। ইসলামের সৌন্দর্যে অবগাহন করে তারা নিজেরাও সেই সৌন্দর্যের প্রচার ও প্রসারে লিপ্ত হয়ে যাবে।

তাই আমাদের উচিত- আমাদের দেশের ভিন্ন শিক্ষায় শিক্ষিত লোকদের কাছে প্রথমে ইসলামের ঐ সকল উদারতাকে তুলে ধরা, যা তারা তাদের শিক্ষা ব্যবস্থা থেকে মোটেও জানার সুযোগ পায় নি। আমার পাশেই আমার ঘরেই এমননন অনেক লোক রয়েছে, যারা ভুল শিক্ষা ব্যবস্থার কারণে এসব বিষয়ে মোটেও জ্ঞান রাখে না। তাদেরকে যদি আমার আখলাক দ্বারা এবং আমার উদারতার দ্বারা প্রভাবান্বিত করতে না পারি, তাহলে তারা আমার ঘরে ও আমার পাশে থাকা সত্ত্বেও আমার সাথে বৈরী সম্পর্ক রাখতেই বাধ্য হবে। আর এজন্য তো তারা দায়ী নয়, দায়ী হচ্ছে আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থা ও আমাদের আখলাক।

শিক্ষাব্যবস্থার পরিবর্তন যেহেতু আমাদের হাতে নেই, রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার হাতে তা নিয়ন্ত্রিত, তাই ব্যক্তিগতভাবে ইসলামের আখলাক ও উদারতার মাধ্যমে আমরা বিধর্মীদের হৃদয়ে জায়গা করে নেয়ার চেষ্টা করতে পারি।

                                              ( লিখেছেন- মাওলানা ইসহাক ওবায়দী )

আল্লাহ তা’আলা আমাদের আমল করার তোফিল্ক দান করুন। আমীন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

মহান প্রতিপালক আমাদের আখলাক (চরিত্রে) এই গুণটি সংযোগ করে দিন। আমিন!!

খুব সুন্দর লেখা, পড়ে যেন সবার আখলাকে পরিবর্তন আনতে পারে। (ফি আমানিল্লাহ)

আপনার জন্য মোবারকবাদ আর সুন্দর লেখার জন্য যাযাকাল্লাহু খাইরান ফিদ্দারইন।  

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)