নাস্তিক দর্শন পর্ব-২

 

নাস্তিক শব্দের আভিধানিক অর্থ হল স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাস নেই এমন ব্যক্তি, যিনি অবিশ্বাসী, আচার বিরোধী; যিনি শাস্ত্র গ্রন্থ বিশ্বাস করেন না এমন ব্যক্তি। নাস্তিক শব্দের এক কথায় তথা অল্প কথায় আভিধানিক যে অর্থ তা নাস্তিক শব্দের প্রকৃত অর্থ হিসেবে যথেষ্ট নয়। নাস্তিক শব্দের ব্যাপক অর্থ রয়েছে তা হল প্রাথমিক পর্যায়ে তারা স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাস নেই এমন ব্যক্তি, তারা যেহেতু স্রষ্টাকে বিশ্বাস করে না সেহেতু স্রষ্টা কর্তৃক সৃষ্টির শুরু থেকে মহাপ্রলয় দিবস পর্যন্ত স্রষ্টা তাঁর সৃষ্টির সেরা মানবকুলের হেদায়েতের তথা সৎপথ প্রদর্শনের জন্য যুগে যুগে যে অসংখ্য নবী রাসূল পাঠিয়েছেন তা তারা বিশ্বাস করে না। বিশেষ করে স্রষ্টা তিনি তাঁর সর্বশেষ নবী ও রাসূল এবং তাঁর উপরে অবতীর্ণ সর্বশেষ কিতাব তাও তারা বিশ্বাস করে না।

নাস্তিকের বিপরীত শব্দ হল আস্তিক যার আভিধানিক অর্থ হল স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাসী এমন ব্যক্তি। আসলে নাস্তিক ও আস্তিক শব্দের আভিধানিক অর্থ যথেষ্ট নয়। যে কেউ যে কোন ভাবে স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাস আছে এমন ব্যক্তিকে অভিধান আস্তিক বলছে এটা ঠিক নয় কারণ বাংলা ভাষার অভিধান বহু ধর্মের কথা বলছে, যে কোন ধর্ম অনুযায়ী যে কেউ স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাসী এমন ব্যক্তিকেই বাংলা অভিধান আস্তিক বলছে। এটা ঠিক নয় কারণ প্রকৃত আস্তিক বিশ্বাসী তথা মুমিন ব্যক্তি মাত্র তিনি যিনি শুধু কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী আস্তিক বিশ্বাসী মুমিন। কুরআন ও হাদীস অনুযায়ী যারা আস্তিক বিশ্বাসী তথা মুমিন নয় তারা সব নাস্তিক অবিশ্বাসী কাফের। কুরআন হাদীস অনুযায়ী সকল কাফিরই নাস্তিক।

বাংলা অভিধান অথবা অন্য যে কোন অভিধান অনুযায়ী যে কেউ যে কোন ধর্মে বিশ্বাসী হলেও তাকে কখনও আস্তিক, বিশ্বাসী তথা মুমিন বলা যাবে না। প্রকৃতপক্ষে আস্তিক হতে হলে তথা বিশ্বাসী মুমিন হতে হলে তাকে শুধুমাত্র কুরআন হাদীসের যাবতীয় শর্ত পূরণ করতে হবে। স্রষ্টার দিক থেকে শুধুমাত্র এক স্রষ্টায় বিশ্বাসী হতে হবে, একাধিক স্রষ্টা তথা তিন স্রষ্টা অথবা তেত্রিশ কোটি স্রষ্টায় বিশ্বাসী হলে হবে না। একমাত্র এক স্রষ্টার সর্বশেষ গ্রন্থ কুরআন ও সর্বশেষ নবী রাসূল পয়গম্বরে বিশ্বাসী হতে হবে। যারা তা হবে না তারা আরবী ভাষায় কুরআনের ভাষায় সব কাফির অবিশ্বাসী এবং সাথে সাথে নাস্তিকও বটে।

যদিও বাংলা ভাষা বা অন্য ভাষার অভিধান অনুযায়ী স্রষ্টা এবং পরকালে এমন ব্যক্তি আস্তিক বিশ্বাসী তথাপি এটা কুরআন হাদীসে গ্রহণযোগ্য নয়। কুরআন হাদীসে একমাত্র ইসলাম বাদে অন্য কোন ধর্ম অনুযায়ী কেউ যদি স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাসী হয় তাহলে তার এ বিশ্বাস গ্রহণযোগ্য নয়। শুধু কুরআন হাদীস অনুযায়ী যে ব্যক্তি স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাসী তাকে আরবী ভাষায় মুমিন বলা হয় আর যারা কুরআন হাদীস অনুযায়ী স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাসী নয় তাদেরকে আরবী ভাষায় কাফির বা অবিশ্বাসী বলা হয়। ফলে যদিও কেউ অন্য ধর্ম অনুসারে স্রষ্টা ও পরকালে বিশ্বাস করে সে বিশ্বাস গ্রহণযোগ্য নয় এবং সে বিশ্বাসের কারণে তাকে কখনও বিশ্বাসী বলে ধরা হবে না, যেহেতু সে মূল কুরআন হাদীসকে বিশ্বাস করে না, কুরআন হাদীসকে মানে না ফলে সেও কাফির সেও অবিশ্বাসী সেও নাস্তিক।

মোটকথা কেউ নিজেকে আস্তিক তথা বিশ্বাসী হিসেবে নিজেকে দাবী করতে হলে তার জন্য একটাই মাত্র শর্ত তা হল তাকে কুরআন হাদীস অনুযায়ী সবকিছু বিশ্বাস করতে হবে। কুরআন হাদীসের খিলাফ কুরআন হাদীসের উল্টা কোনকিছুই গ্রহণযোগ্য নয়। ফলে কুরআন হাদীস অনুযায়ী যারা শুধুমাত্র এক স্রষ্টায় এবং পরকালে বিশ্বাসী নয় তারা প্রথম ধাপে আরবী ভাষায় সব কাফির তথা অবিশ্বাসী। যেহেতু কুরআন হাদীস অনুযায়ী যে কেউ অবিশ্বাসী কাফির সেহেতু সে স্রষ্টা এবং পরকালেও অবিশ্বাসী হওয়ার কারণে সাথে সাথে সে নাস্তিকও বটে। কখনও সে আস্তিক বা বিশ্বাসীদের দলভূক্ত হতে পারবে না। ফলে আমাদের আলোচ্য বিষয় হল সকল কাফিররাই নাস্তিক।

 

 

        তথ্যসূত্রঃ নাস্তিক দর্শন ( মুহাম্মদ আবু ইইউসুফ )

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None