নাস্তিক দর্শন পর্ব-

 

কখন এবং কেন মানুষ নাস্তিক হয়ঃ

এ কথার উত্তর হল স্রষ্টা তিনি তার সৃষ্টির সেরা মানব জাতিকে তাদের ইহলৌকিক এবং পারলৌকিক জীবনকে সুখময় করার জন্য যুগে যুগে নবী রাসূল এবং পয়গম্বরদের মাধ্যমে জীবন বিধান পাঠিয়েছেন যাকে আরবী ভাষায় দ্বীন বলে। যদিও দ্বীন ধর্ম বলে বাংলায় তথা বাংলা অভিধানে একটি বা দুইটি শব্দ রয়েছে তথাপি কুরআন হাদীস অনুযায়ী দ্বীন মানে শুধু দ্বীন, ধর্ম নয়। কারণ দ্বীন ব্যতীত পৃথিবীতে বর্তমানে যত প্রকার ধর্ম রয়েছে যত প্রকার ধর্ম চালু আছে তার একটাও আল্লাহ তা’আলার প্রদত্ত কোন জীবন বিধান নয়। সবগুলিই ধর্মের নামে মানুষের মনগড়া নিয়ম নীতি যার বিস্তারিত আলোচনা সামনে রয়েছে। ফলে অতীতে যখনই কোন নবী রাসূলের উপর স্রষ্টার পক্ষ থেকে কোন কিতাব বা জীবন বিধান অবতীর্ণ হয়েছে তার সব কিতাবে এবং সব জীবন বিধানে সবসময়ে একটি মৌলিক বিষয় রয়েছে যা কখনও কোন কালে পরিবর্তিত হয়নি। তাহলো শুধুমাত্র এক স্রষ্টার বিশ্বাস করা এবং সাথে সাথে

পরকালে বিশ্বাস কথাটা খুবই ব্যাপক ও গুরুত্বপূর্ণ। পরকালে বিশ্বাস মানে হল অল্প কথায় যারা স্রষ্টা কর্তৃক প্রেরিত কিতাব ও জীবন বিধান অনুযায়ী তাদের পার্থিব জীবন পরিচালিত করবে তাদেরকে পরাকালে যথাযথ পুরষ্কার দান করা হবে তা হল জান্নাত বা বেহেশত যেখানে আরাম আয়েশ ভোগ বিলাস শান্তি সুখ সফলতার উপকরণ রয়েছে যেখানে তারা অনন্ত অসীম কাল অবস্থান করবে বসবাস করবে। পক্ষান্তরে যারা স্রষ্টা কর্তৃক প্রেরিত কিতাব ও জীবন বিধান অনুযায়ী তাদের পার্থিব জীবন পরিচালিত করবে না তাদেরকে পরকালে শাস্তি ভোগ করতে হবে আর শাস্তি ভোগের জায়গার নাম হল জাহান্নাম দোযখ যেখানে সব রকমের দুঃখ কষ্ট পেরেশানি মুসিবত এবং সব রকমের কঠিন আযাব তথা শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।

যেহেতু শয়তান সে শুরু থেকেই গোটা মানবজাতির চরম শত্রু সে সর্বকালে সর্বযুগে কখনও মানুষকে বিশ্বাসী হতে দিবে না। তার একমাত্র কাজ হল কখনও কোন মানুষকে এক স্রষ্টাতে এবং পরকালে দৃঢ় বিশ্বাসী হতে দিবে না। কারণ সে খুব ভাল করেই জানে যে যদি কেউ এক স্রষ্টাতে এবং পরকালে দৃঢ় বিশ্বাসী হয়ে স্রষ্টার দেয়া জীবন বিধান অনুযায়ী তার পার্থিব জীবন চালায় তা হলে তো সে পরকালে বিরাট পুরষ্কারের অধিকারী তথা জান্নাত বা বেহেশতের অধিকারী হয়ে অনন্ত অসীম কাল সে এক চরম শান্তি সুখ সফলতার জীবন অতিবাহিত করতে থাকবে। পক্ষান্তরে সে শয়তান আদিকাল থেকে স্রষ্টার আদেশ অমান্য করার কারণে তাকে তো স্থায়ীভাবে অনন্ত অসীমকাল জাহান্নামে তথা দোযখে কঠিন শাস্তি ভোগ করতে হবে। যে আদমকে সিজদা না করার কারণে তার স্থায়ীভাবে এত বড় কঠিন শাস্তি হয়ে গেল সে আদম সন্তান যাতে কোন অবস্থাতেই জান্নাতে তথা বেহেশতে যেতে না পারে এবং চিরস্থায়ী ভাবে তার সাথে জাহান্নামে প্রবেশ করে এটাই হল শয়তানের একমাত্র কামনা বাসনা।

ফলে যে কোন সময় যে কোন কালে যে কোন নবী রাসূলের উপর যে কোন কিতাব বা জীবন বুধান নাযিল হয়েছে, অবতীর্ণ হয়েছে তা যেন কেউ বিশ্বাস করতে না পারে এবং সেই মত জীবন যাপন কেউ না করতে পারে তার জন্য শয়তান উঠে পড়ে লেগে যায়। সকল যুগে সকল নবী রাসূলগণের একই কথা একই দাওয়াত যে স্রষ্টা শুধুমাত্র একজন, পরকাল সত্য, বেহেশত সত্য, দোযখ সত্য, এই সত্য দাওয়াতের মোকাবেলায়, এই হক দাওয়াতের মোকাবেলায় শয়তানের কাজ হল চরম বিরোধিতা করা মিথ্যা দাওয়াত দেয়া আর সেটা হল শয়তান সর্বযুগে সর্বকালে এ কথা ঘোষণা করেছে যে, স্রষ্টা বলে কেউ নেই, পরকাল বলে কিছু নেই, বেহেশত দোযখ বলে কিছু নেই। আর যারাই শয়তানের মিথ্যা দাওয়াত, মিথ্যা দাবী কবুল করেছে মেনে নিয়েছে তারাই হল নাস্তিক, তারাই হল আস্বীকারকারী, অস্বীকারকারী কাফের। শয়তানের চরম সফলতা হল কাউকে নাস্তিক বানানো। কারণ কাউকে নাস্তিক বানাতে পারলেই তাকে সে জাহান্নামে দোযখে তার স্থায়ী সাথী হিসেবে পাবে। শয়তান যখন কোন মানুষকে সত্যের বিরোধিতা করে, মিথ্যার দাওয়াত দিয়ে নাস্তিক বানাতে পারে তখন ঐ নাস্তিক মানুষটি সাথে সাথে অন্য মানুষকে দাওয়াত দিয়ে নাস্তিক বানাতে শুরু করে, এভাবে নাস্তিকের দল ক্রমাগত ভারী হতে থাকে।

যেহেতু সকল কাফিরই নাস্তিক তারা যখন নবীর হকের দাওয়াতের বিরুদ্ধে তাদের চরম বিরোধিতা করেছে তখন তাদের দু’আতে আল্লাহ তা’আলা যুগে যুগে নাস্তিক কাফেরদেরকে বিভিন্নভাবে আযাব দিয়ে স্বমূলে ধ্বংস করে দিয়েছেন। এইজন্য হযরত নূহ ( আলাইহিস সালাম )-কে দ্বিতীয় আদম বলা হয়। হযরত নূহ ( আলাইহিস সালাম )-এর মহাপ্লাবনের পর প্ররথিবীর জমীন পাক সাফ হয়ে গেছে, একটা কাফের একটা নাস্তিকও আর কোথাও নেই, কোথাও ছিল না। সবই আস্তিক সবই বিশ্বাসী সবই মু্মিন। তাহলে আধুনিক নাস্তিকগুলো এলো কোত্থেকে? এসব শয়তানের পরবর্তীকালের ফসল। শয়তান আবার বাতিলের দাওয়াত দিয়ে মিথ্যার দাওয়াত দিয়ে মানুষকে গোমরাহ করেছে নাস্তিক বানিয়েছে।   ( চলবে...)

 

              ( তথ্যসূত্রঃ নাস্তিক দর্শন-মুহাম্মদ আবু ইউসুফ )

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None