আমি অনুরোধ করব, এই বিতর্ক যেন আর না বাড়ে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন

১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতার বিরুদ্ধে সংঘটিত অপরাধ তদন্তে গঠিত সংস্থার অন্যতম তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল মতীন আজ বুধবার স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। ছাত্রজীবনে ইসলামি ছাত্রসংঘের কর্মী ছিলেন বলে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সব ধরনের সমালোচনা নিরসনের উদ্দেশে তিনি আজ বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান সিকদারের কাছে পদত্যাগপত্র পেশ করেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল মতীনের পদত্যাগের প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করার জন্য আজ বুধবার দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক বৈঠক হয়। সেই বৈঠকে যোগ দেন, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন, স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক, আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম এবং স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান সিকদার। আবদুল মতীন পরে ওই বৈঠকে যোগ দেন।
বৈঠক শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাহারা খাতুন সাংবাদিকদের জানান, ‘সব সমালোচনা নিরসনের জন্যই মুক্তিযুদ্ধকালে মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধ তদন্তে গঠিত সংস্থার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল মতীন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন।
তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে আবদুল মতীনের নিয়োগ সরকারের সঠিক সিদ্ধান্ত ছিল কি না এমন এক প্রশ্নের জবাবে সাহারা খাতুন বলেন, ‘তাঁর নিয়োগের সিদ্ধান্ত অবশ্যই সঠিক ছিল। কিন্তু আপনাদের আলোচনা-সমালোচনা ও এ নিয়ে আপনাদের ধূম্রজাল তৈরির কারণেই তিনি নিজ থেকেই পদত্যাগ করেছেন। তিনি আজ পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন।’ তিনি বলেন, আবদুল মতীন পদত্যাগ করলেও অন্যান্য তদন্তকারী কর্মকর্তারা তদন্ত চালিয়ে যাবেন।
প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা আলাউদ্দিন আহমেদ আবদুল মতীন ছাত্রজীবনে ইসলামি ছাত্রসংঘের সদস্য ছিলেন বলে যে অভিযোগ করেছেন, সে সম্পর্কে মন্তব্য করতে বলা হলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘কেবল তিনিই নন, অনেকেই আবদুল মতীনের নিয়োগ নিয়ে সমালোচনা করেছেন, সে কারণে তিনি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছেন। তবে আমি অনুরোধ করব, এই বিতর্ক যেন আর না বাড়ে। আমরা সবাই চাই, যুদ্ধাপরাধীদের বিচার যেন সুষ্ঠুভাবে সম্পন্ন হয়।’
আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, এতদিন বিভিন্ন মিডিয়ায় আবদুল মতীনকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের জন্য গঠিত সংস্থার প্রধান হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু আইনে তদন্ত প্রধান বলে কোনও পদ নেই। আবদুল মতীন ছিলেন অন্যতম তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ ব্যাপারটি নিয়ে আর কথা না বাড়ানোর জন্য আইন প্রতিমন্ত্রী অনুরোধ জানান।
পদত্যাগী তদন্তকারী কর্মকর্তা আবদুল মতীন সাংবাদিকদের জানান, ‘আমি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেছি। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে, তা আমাকে বিব্রত করার জন্যই করা হয়েছে। এসব সমালোচনা ও বিতর্ক আমাকে বিব্রত ও মর্মাহত করেছে। এত বিতর্কের পর এই পদ থেকে চলে যাওয়াই আমার কাছে ভালো মনে হয়েছে। আবদুল মতীন তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগকে বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে মন্তব্য করেন।

News Link

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (4টি রেটিং)

এই পদে আসার আগে যে কেউ একবার নিশ্চয়ই ভাববে...

-

বিনয় জ্ঞানীলোকের অনেকগুলো ভাল স্বভাবের একটি

এভাবেই হয়ত রাজাকার প্রধান(?)-এর বাণী সত্য প্রমাণিত হবে যে, "যুদ্ধাপরাধ ইস্যূ আওয়ামীলীগের জন্য বুমেরাং হবে ইনশাল্লাহ্।"

আইন প্রতিমন্ত্রী কামরুল ইসলাম বলেন, এতদিন বিভিন্ন মিডিয়ায় আবদুল মতীনকে মুক্তিযুদ্ধকালীন মানবতাবিরোধী অপরাধ তদন্তের জন্য গঠিত সংস্থার প্রধান হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। কিন্তু আইনে তদন্ত প্রধান বলে কোনও পদ নেই। আবদুল মতীন ছিলেন অন্যতম তদন্তকারী কর্মকর্তা। এ ব্যাপারটি নিয়ে আর কথা না বাড়ানোর জন্য আইন প্রতিমন্ত্রী অনুরোধ জানান।

Laughing

আইন প্রতিমন্ত্রীর কথাবার্তাগুলো বেশ মজার।

মাওলায় ছালা পিন্দাইবো........ Laughing out loud

-

বজ্রকণ্ঠ থেকে বজ্রপাত হয় না, চিৎকার-চেঁচামেচি হয়; অধিকাংশ সময় যা হয় উপেক্ষিত।

"ছাত্রজীবনে ইসলামি ছাত্রসংঘের কর্মী ছিলেন বলে সম্প্রতি তাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। সব ধরনের সমালোচনা নিরসনের উদ্দেশে তিনি আজ বুধবার সকালে স্বরাষ্ট্র সচিব আবদুস সোবহান সিকদারের কাছে পদত্যাগপত্র পেশ করেন।"

 

বিষয় বুঝলাম না। তিনি কি সত্য সত্যই ছাত্র সংঘের কর্মী ছিলেন সেসময়?

উনিতো অস্বীকার করেছেন।

একবার যেহেতু অভিযোগ উঠেছে, এখন ওনার তদন্তের রেজাল্ট ঘাদানিকদের মনমত না হলেও দেখা যাবে এটা নিয়ে কাঁদা ছোড়াছুড়ি হবে। তাই হয়তো উনি পদত্যাগ করেছেন। সরকার থেকেও চাপ থাকতে পারে। কারণ উনি আগে বলেছিলেন স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করবেন না।

প্রায় অর্ধশতাধিক বিডিআর জওয়ানকে নিরাপত্তা হেফাজতে যেভাবে আত্মহত্যা(!) করতে বাধ্য করা হয়েছে তেমনি মতিনকে স্বেচ্ছায়(!) পদত্যাগে বাধ্য করা হয়েছে।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (4টি রেটিং)