১৫শ সংশোধনীর ফলে দালাল আইন পুনরুজ্জীবিত হওয়ায় আইসিটি আইনে সহযোগীদের বিচারের সুযোগ নেই-এডভোকেট আহসানুল হক হেনা ও ব্যারিস্টার ফখ

সংবিধানের সর্বশেষ ১৫শ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৩ সালের দালাল আইন পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাক হানাদার বাহিনীর সহযোগী কাউকে বিচার করার সুযোগ নেই। বিচার করতে হলে দালাল আইনেই করতে হবে। পাক বাহিনীর হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সহযোগিতার অভিযোগে যাদেরকে ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি করা হয়েছে তা চলতে পারে না।

বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেয়ার আবেদনের উপর শুনানিতে গতকাল এসব কথা বলেন তার আইনজীবী এডভোকেট আহসানুল হক হেনা ও ব্যারিস্টার ফখরুল ইসলাম। গাজীপুরের কাশিমপুর-২ কারাগারে আটক সালাহ উদ্দিনকে গতকাল সেখান থেকে নিয়ে আসা হয় ট্রাইব্যুনালে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়ার নির্ধারিত দিন ছিলো গতকাল বুধবার। তবে খারিজ আবেদনের জন্য গতকাল অভিযোগ গঠনের আদেশ দেয়া হয়নি। খারিজ আবেদনের উপর গতকাল আংশিক শুনানি হয়েছে। আগামী রোববার আরো শুনানি হবে। তারপর আদেশ দেয়া হবে।

শুনানিকালে ব্যারিস্টা ফখরুল ইসলাম বলেন, পাক বাহিনীর সহযোগিতা যারা করেছিল তাদের বিচারের জন্য ১৯৭৩ সালে দালাল আইন করা হয়েছিল। আর মূল যুদ্ধাপরাধী পাকিস্তানী সামরিক অফিসারদের বিচারের জন্য ঐ সময় করা হয়েছিল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান এই ৩ দেশের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তির মাধ্যমে পাকিস্তানী সামরিক বাহিনীর ১৯৫ জন যুদ্ধাপরাধীকে বিচার না করেই ছেড়ে দেয়া হয়। দালাল আইনে লক্ষাধিক লোককে গ্রেফতার করা হয়। তাদের অনেককেই বিচারের মুখোমুখি করা হয়। পরে বঙ্গবন্ধুই সাধারণ ক্ষমা ঘোষণা করেন। তারপরেও দালাল আইন ছিলো। সংবিধানের ৫ম সংশোধনীর মাধ্যমে দালাল আইন বিলুপ্ত করা হয়। কিন্তু সংবিধানের সর্বশেষ পঞ্চদশ সংশোধনীর মাধ্যমে দালাল আইন পুনরুজ্জীবিত হয়েছে। সুতরাং পাকিস্তান সশস্ত্র বাহিনীর সদস্য যুদ্ধাপরাধীদের বিচারের জন্য তৈরি করা আইনে সহযোগীদের বিচার চলতে পারে না। সহযোগীদের বিচার করতে হলে দালাল আইনে করতে হবে। ব্যারিস্টার ফখরুল বলেন, ১৯৭৩ সালে সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর বিরুদ্ধে দালাল আইনে ৬টি মামলা হয়েছিল। ঐসব মামলা এখনও উচ্চ আদালতে পেন্ডিং আছে। যেহেতু দালাল আইন পুনরুজ্জীবিত হয়েছে সেহেতু ঐসব মামলা ঐ আইনেই হতে হবে। আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে দালাল আইনে পেন্ডিং মামলার বিচার করার কোনো সুযোগ নেই।

ব্যারিস্টার ফখরুল সংসদের প্রসিডিংস প্রদর্শন করে বলেন, তৎকালীন আইনমন্ত্রী মনোরঞ্জন ধর বঙ্গবন্ধুর উপস্থিতিতেই সংসদে দালাল আইন এনেছিলেন এবং তার উপর তার নাতিদীর্ঘ বক্তব্যের রেকর্ড রয়েছে। তিনি আরো বলেন, মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তান শাসকগোষ্ঠী তৎকালীন জাতীয় পরিষদের অনেক সদস্যের সদস্যপদ বাতিল করেছিল। সালাহ উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পিতা ফজলুল কাদের চৌধুরীর সদস্যপদও বাতিল হয়েছিল। প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খানের সাথে যদি তার সখ্যতার সম্পর্ক থাকতো তাহলে তার জাতীয় পরিষদ সদস্যপদ বাতিল হতো না। উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সদস্যপদও প্রেসিডেন্ট ইয়াহিয়া খান বাতিল করেনি। কিন্তু ফজলুল কাদের চৌধুরীর সদস্যপদ বাতিল হয়েছিল।
সংবাদ করেছেন: শহীদুল ইসলাম। লিংক

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

বর্তমান সরকার আইনের তোয়াক্কা করে বলে আমি একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে মনে করি না।

-

সূর আসে না তবু বাজে চিরন্তন এ বাঁশী!

"সংবিধানের সর্বশেষ ১৫শ সংশোধনীর মাধ্যমে ১৯৭৩ সালের দালাল আইন পুনরুজ্জীবিত
হয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধে পাক
হানাদার বাহিনীর সহযোগী কাউকে বিচার করার সুযোগ নেই। বিচার করতে হলে দালাল
আইনেই করতে হবে। পাক বাহিনীর হত্যা, গণহত্যা, লুণ্ঠন, ধর্ষণ, অগ্নিসংযোগসহ
মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের সহযোগিতার অভিযোগে যাদেরকে ট্রাইব্যুনালে বিচারের
মুখোমুখি করা হয়েছে তা চলতে পারে না।"

এ পয়েন্টে বাদবাকী পত্রিকাগুলো অন্ধ কেন?

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)