আকুতি অনুভূতি

পরীক্ষিত মহারাজ শমীক ঋষীর দ্বারা অভিশপ্ত হয়েছিলেন যে, সপ্তম দিবসে রাজ তক্ষকের দংশনে নিহত হবেন। তখন পরীক্ষিত মহারাজ বিশাল সাম্রাজ্য পরিত্যাগ করে গঙ্গার তীরে উপনীতদ হয়েছিলেন প্রায়োপবেশনে দেহত্যাগ করার মানসে। তখন হাজার হাজার মুনি ঋষিরা তাকে দেখার জন্য সেোনে এসেছিলেন। তখন মহারাজ পরীক্ষিত তার জীবনের অন্তি সময়ে কি করণীয় সেই সম্বন্ধে মুনি ঋষিদের প্রশ্ন করেছিলেন। তখন নানা মুনি নানা মত প্রদর্শন করে বিভিন্ন ধর্মের কথা বলেছিলেন। কিন্ত শুকদেব গোস্বামী সেখানে আগমন করলে, সমস্ত ঋষিরা তাকে শ্রদ্ধা প্রদর্শন করেছিলেন। তখন পরীক্ষিৎ মহারাজ মহাভাগবত শুকদেব গোস্বামীকে দন্ডবৎ প্রণাম করে জীবনের অন্তিম সময়ে তার একমাত্র কর্তব্য কি, সেই সম্বন্ধে প্রশ্ন করেছিলেন। তখন শুকদেব গোস্বামী বলেছিলেন যে, জীবনের অন্তিম মুহূর্তে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের লীলাকথা সবন্বিত শ্রীমদ্ভাগবত শবণ করা একমাত্র কর্তব্য। পরীক্ষিৎ মহারাজ শুদ্ধ ভক্ত শ্রীল শুকদেব গোস্বামীর শ্যীমুখ থেকে সাতদিন অনবরত ‍শ্রীমদ্ভাগবত শবণ করেছিলেন। এই সাতদিন ভাগবতের রসামৃত আস্বাদন করার ফলে তার ক্ষুধা তৃষ্ণার অনুভব ছিল না। এবং তক্ষকের দংশনে দেহত্যাগ করার সময় তিনি একমাত্র শ্রীকৃষ্ণের লীলাকথা শ্রবণ করেছিলেন। এর ফলে তিনি সঙ্গে সঙ্গে ভগবৎ ধামে চলে গিয়েছিলেন। সুতরাং, সমগ্র শাস্ত্রের সারমর্ম হচ্ছে লীলা পুরুষোত্তম ভগবান শ্রীকেৃষ্ণের লীলাকথা শ্রবণ করে তাকে হৃদয়ঙ্গম করা।

অর্জুন এবং ভগবান শ্রীকৃষ্ণের মধ্যে এক গভীর সম্পর্ক। পঞ্চপান্ডব কপট পাষা খেলায় হেরে বার বছরের জন্য বনবাসে ও এক বছরের জন্য অজ্ঞাতবাসে গেল দূর্যোধন ও শুকনীর কপটতায় ও ষড়যন্ত্রে। বনবাস ও অজ্ঞাতবাস থেকে ফিরে এসে তারা তাদের রাজ্য ফিরে চাইল। কিন্তু দূর্যোধন বলল যুদ্ধ না করলে কোন মেদিনীই দিবে না। তখন উভয়পক্ষের মধ্যে যুদ্ধ নিম্চিত হয়ে গেল। অর্জুণ যুদ্ধক্ষেতে তার আত্মীয় স্বজনদের দেখে যুদ্ধক্ষেত্রে তার ধনুর্বান ত্যাগ করল। অর্জুন সঙ্কিত হয়ে পড়ল। সে যুদ্ধ করবে কিনা তার নিয়ে আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে পরল। সে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে গেল। তখন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুণকে সেই ‍অবস্থায় যে জ্ঞান দান করেছিলেন তাই হচ্ছে গীতা। তাই বলা যায় গীতা হচ্ছে ভগবানের বানী। আমাদের বৈদিক শাস্ত্রের সারমর্ম গীতায় বর্ণিত আছে। আমাদের শাস্ত্রের একশত কোটি শ্লোকের সারমর্ম তত্ত্ব হচ্ছে গীতার জ্ঞান।

গীতা এবং ভাগবতের মূল পার্থক্য হচ্ছে গীতায় ভগবান স্বয়ং উপদেশ প্রদান করেছেন এবং ভাগবতে ভগবানের লীলাকথা বিশদভাবে আলোচিত হয়েছে। গীতা হচ্ছে ভাগবতে প্রবেশের প্রাথমিক স্তর। গীতা ও ভাগবতের কথা অর্থাৎ আমাদের অনুমোদিন শাস্ত্র গ্রন্থের কথা হৃদয়ঙ্গম করলে জীবনের আসল উদ্দেশ্যে সম্পর্কে জানা যায়। এমন সব অদ্ভুত প্রশ্নের উত্তার পাওয়া যায় যা আমাদের কল্পনার সীমাকে অতিক্রম করে। ভগবান সম্পর্কে জানার পন্থা হচ্ছে বৈষ্ণব সঙ্গ ও শাস্ত্র অধ্যয়ণ। আমারা যতই গ্রন্থ অধ্যয়ণ, বৈষ্ণব সঙ্গ ও যুগধর্ম হরিণাম সংকীর্তন করব ততই আমাদের জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জানা সহজ হবে। কৃষ্ণকথা শুনতে হয় শুদ্ধ ভাগবতের কাছ থেকে এবং গ্রন্থ অধ্যয়ণ করতে হয় যথাযথ শাস্ত্র গ্রন্থ থেকে। আমরা যদি সঠিক শাস্ত্র গ্রন্থের সন্ধান না পাই তবে আমরা জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে বিভ্রান্ত হব। আমাদের লক্ষ্য জানা থাকবে না। আমারা যদি এসি ট্রেইনে চড়ে বসি এবং আমাদের গন্তব্যের অবস্থান যদি ঠিক না থাকে তবে আমাদের এসি কামরায় বসার যেমন কোন সুফল হবে না তেমন আমরা যথাযথ শাস্ত্র ব্যতিত অন্যান্য পারমার্থিক গ্রন্থ থেকে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের শ্রীকেষ্ণের লীলাকাহিনী শ্রবল করলে এবং কীর্তন করলে আমাদের লক্ষ্য বিভ্রান্ত হবে। যথাযথ আনন্দের স্বাদ আমরা কখনই লাভ করতে পারব না। তাই যথাযথ শাস্ত্র গ্রন্থ থেকে শ্রীকৃষ্ণ মহিমা উপলব্ধি করার চেষ্টা করলে এবং সাধু সঙ্গের ফলে আমারা আমাদের জীবনের লক্ষ্য সম্পর্কে জানতে পারব এবং যখন তা জানা হবে তখন সে অনুযায়ী আমরা কাজ করতে পারব। হরিনাম সংকীর্তন ও জপ এই যুগের প্রধান কর্তব্য কর্ম। অন্য কোন মন্ত্রকে এই যুগে অনুমোদন করা হয়নি। কেননা হরিণাম সংকীর্তনের প্রভাব এতই জুড়ালো যে আমরা আমাদের মনকে অভ্যাসের দ্বারা হরিণাম সংকীর্তনের মাধ্যমে একাগ্রীভূত করতে পারি।
হরে কৃষ্ণ।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)