কিভাবে হবেন মুক্তমনা???? কেন হবেন???

প্রথমেই আপনাকে চিন্তা করতে হবে আপনি কি ধরনের মুক্তমনা হবেন। মুক্তমনা আসলে তিন ভাগে বিভক্ত॥
(১) সাধারণ মুক্তমনা
(২) কট্টর মুক্তমনা
(৩) উগ্রবাদী মুক্তমনা
এখন আমি আপনাদের ধারাবাহিক ভাবে শেখাবো, মুক্তমনা হতে হলে কি কি করতে হবে।
সাধারণ মুক্তমনা - সাধারণ মুক্তমনা হয়ে আসলে কোনো লাভ নেই - খুব একটা সুবিধা করতে পারবেন না। শুধু বিশ্বাস করবেন এই পৃথিবীতে স্রষ্টা বলে কিছুই নাই॥ খুব খিয়াল কইরা, লেখালেখি করবেন যাতে মানুষ বুঝতে না পারে আপনি ইসলাম বিদ্বেষী।
<><><>
কট্টর মুক্তমনা - আপনাকে অবশ্যই ইসলাম ধর্ম আর মুসলমানদের সমালোচনা করতে হবে। খুব খিয়াল কইরা কিন্তু - দেশে কোনো বৌদ্ধ হিন্দু বা অন্য কোনো সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপর কোনো নির্যাতন হোক আর না হোক একটু ইসু পেলেই ঝাপিয়ে পড়বেন। চোখের জল আর নাকের পানি এক করে সভা, সেমিনার, টকশো, মানববন্ধন করবেন। চোখে পানি না আসলে গ্লিসারিন ব্যবহার করতে পারেন কিংবা পেয়াজের রস। সবসময় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ফেরি করে বেড়াবেন। আকাশে বাতাসে শয়নে স্বপনে শুধু চেতনা আর চেতনা। তবে বেশী চেতনা ফেরি করলে কিন্তু ধরা খাইয়া যাইতে পারেন॥ উদাহরণ হিসেবে, "ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির সাবেক আহ্বায়ক বেগম মোস্তারী শফি লিখিত ‘জাহানারা ইমামের স্মৃতির উদ্দেশে লেখা চিঠি’ নামের বইটিতে আছে, শাহারিয়ার কবির, মুক্তিযুদ্ধ কালে দখলদার পাক আর্মিদের ক্যাস্পে মুরগি সরবরাহ করতেন।" তবে বাইচান্স ধরা খাইলে পুরো পুরি অস্বীকার করবেন। খুব খেয়াল কইরা, অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের চিন্তা করে সাম্প্রদায়িক বক্তব্য দেবেন। উদাহরণ হিসেবে - "শাহরিয়ার কবির বলেছিলেন (জুন ১৯, ২০১৪ ;বাংলা ট্রিবিউন),"উর্দু আর ফারসির মিশেলে খোদা হাফেজ সংস্করণে আল্লাহ হাফেজ শব্দটি জিয়াউর রহমানের আমল থেকে চালু হয়েছে। আমাদের মনোজগতে সাম্প্রদায়িকতা ঢুকে গেছে।" যখন যে সরকার ক্ষমতায় থাকবে তার গুনগান করতে পারলে খুব ভালো হয়॥
<><><>
(৩) উগ্রবাদী মুক্তমনা - জিরো থেকে হিরো হবার সবচেয়ে সহজ উপায়।
যদিও বলা হয় মুর্খদের প্রধান অস্ত্র গালি, কিন্তু এই কথা ভুলেও বিশ্বাস করবেন না।
নিয়মিত ব্লগ আর ফেসবুকে ইসলাম ধর্মের বদনাম করবেন আর গালাগালি করবেন। মাঝে মাঝে ভুংভাং মার্কা পোস্ট দিবেন। যেমন লিখতে পারেন - "আজ আমি কুত্তার গোস্ত খেয়েছি" - এই জাতীয় আরকি। অবশ্যই যুক্তি দিয়ে বুঝিয়ে দিবেন কুত্তার গোস্ত বৈজ্ঞানিক ভাবে বিরাট উপকারী।
কুত্তার গোস্ত খেলে ডান্ডা গরম থাকে॥
তবে খুব খিয়াল কইরা, আপনার পোস্টে দুই একটা মুমিন মুসলমান এসে কমেন্ট করলে আপনিও পাল্টা মন্তব্য হিসেবে লেখবেন - "আমি কুত্তা কেন পারলে কাচা গু খামু তাতে তোর বাপের কি।" আপনার যুক্তির ঠেলায় প্রতিপক্ষ ব্লগার ব্লগ ছেড়ে পালাবে। মনে রাখবেন, উগ্রবাদী মুক্তমনা হতে হলে কিন্তু আপনাকে অবশ্যই সমকামি হতে হবে। গুরু অভিজিত রায়ের “সমকামিতা : একটি বৈজ্ঞানিক এবং সমাজ-মনস্তাত্ত্বিক অনুসন্ধান” বইটা পড়ে দেখবেন সেখানে উনি কত সুন্দর ভাবে সমকামিতার বিষয়ে তুলে ধরেছেন।
ইহাতেই বোঝা যায় পুটু মারামারির বিরাট উপকারী জিনিস। নিজে পুটু মারবেন অন্যকে পুটু মারতে উৎসাহিত করবেন। আরে ভাই ইসলাম ধর্ম পুটু মারামারি সমর্থন করেনা আর আপনি যদি পুটু মারামারি না করেন তাইলে আপনি কিসের মুক্তমনা হলেন!!
চিন্তা করেন ইসলাম কোনো ধর্ম হলো! যুক্তি দেখাবেন - আমাদের যে দুইটা হাত আছে তা দিয়ে কিন্ত আমরা শুধু ভাত খাইনা,আরো অনেক কাজও করি। তাহলে পুটু কি শুধু হাগার জন্য - পুটু মারামারি করলে দোষ কোথায়??? অথচ ব্যাগডেডেড ইসলাম ধর্ম পুটু মারা সমর্থন করেনা। তবে খুব খিয়াল কইরা, অবশ্যই ভেসলিন বা সুরেশ খাটি সরিষার তেল ব্যবহার করবেন,অন্যথায় পুটু ফাটিয়া যেতে পারে॥ সব সময় মনে রাখবেন মুসলমান মানেই জংগি মৌলবাদী বিশেষ করে দাড়িওয়ালা মুসলমান তো খুবই খারাপ॥ দেখেননা মুসলমানরা সারা পৃথিবীতে কত হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে।
যদিও J. Rummel এর বিখ্যাত Death by Government বইয়ের তথ্যমতে কমিউনিস্ট নাস্তিক শাসকরা সারা পৃথিবীতে কয়েক কোটি মানুষ হত্যা করেছে - খুব খিয়াল কইরা এগুলো চেপে যাবেন, ভুলেও কাউকে বলবেন না। বললে কিন্তু আপনি আর মুক্তমনা থাকবেন না। আর সবসময় বোরখা আর পর্দা প্রথার বিরোধীতা করবেন। মনে নাই, মিতা হক, একাত্তর টেলিভিশনের টকশোতে বলেছিলেন, যারা মাথায় ঘোমটা দেয় তারা বাঙালি না। আসলে আধুনিক বাঙালি নারীর আদর্শ হওয়া উচিত সানি লিওন। যিনি মাথা তো দুরে থাক, পাছার উপর কাপড় রাখতেও অস্বস্তি বোধ করেন।
খুব খিয়াল কইরা, এইসব মতবাদ প্রচার করবেন। লেখালেখির মাধ্যমে মানুষকে বোঝাবেন, এই দেশটায় ফ্রি সেক্স হলে আমরা রাস্তা ঘাটে কুত্তার মতো ওপেনে সেক্স করতে পারবো এবং তাতে ধর্ষণের হার কমে যাবে। মনে রাখবেন মুক্তমনা হতে হলে সমাজে মুসলমানদের মতো কোনো বিশৃঙ্খলা করা যাবেনা। মুসলিম কোনো সংগঠন ভালো কাজ করলেও খুব খিয়াল কইরা সেটা চেপে যাবেন। মনে নাই রানা প্লাজায় উদ্ধার কাজের সময় মুন্নি সাহা বলেছিলেন,"হেফাজতে ইসলামের লোকেরা সাদা কাপড় মাথায় দিয়ে কাউকে জীবিত ও মৃত উদ্ধার করা গেলে লা- ইলাহা-ইল্লাল্লাহ বলে শ্লোগান দিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।"
দেখছেন মুসলিম সংগঠন গুলো কেমন খারাপ! শুধু কি তাই কত মুসলিম মেয়েরা রাস্তাঘাটে বোরখা পরে চলাফেরা করে॥ আরে বাবা এই আধুনিক যুগে কেউ বোরখা পরে, এই বয়সটা হলো কুতকুত খেলার বয়স॥ মনে নাই আমাদের দেবী মা তসলিমা নাসরীন বলেছিলেন বোরখা হলো "চোর-ডাকাতের পোষাক।" লেখালেখির মাধ্যমে বোঝাবেন মেয়েরা সব বোরখা পরে ঘুরলে তাদের সুন্দর যৌবন দেখে রাতের বেলায় শ্যাম্পু মারবেন কিভাবে?? তবে মুমিন মুসলিম যদি যুক্তি না বোঝে তাইলে খুব খিয়াল কইরা বলবেন, "আমার মেশিন আমি আকাশ দিয়ে উড়াবো তাতে তোর বাবার কি, তোর মাথায় না লাগলেই হলো।"
পৃথিবীর অনেক বিখ্যাত নাস্তিক নিজের মেয়ে, বোনের সাথে সেক্স করেছেন সেই হিসেবে আপনিও অজাচার করতে পারেন॥ মনে রাখবেন, পৃথিবীতে পাপ বলে কিছুই নাই॥
গুরু কাল মার্কস বলেছেন, ধর্ম হলো আফিমের মতো। তাই ধর্মহিন এই পৃথিবী গড়তে মুক্তমনের প্রয়জন। মুক্তমনের অধিকারি হন আর ইউরোপ আমেরিকায় ফ্রি থাকা খাওয়ার ব্যবস্থা করেন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)

আমার লেখা "নাস্তিকতা প্রচারের ত্রিমুখী হাতিয়ার" পড়ে দেখতে পারেন এই পোস্টে: http://bishorgo.com/user/12533/post/3212

একদম ফাটাফাটি

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)