হিউম্যান রাইটস ওয়াচের আহ্বান : গণহত্যা তদন্তে স্বাধীন কমিশন গঠন করুন : সরকার আমার দেশ বন্ধ করে মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করেছে

গত ৫ ও ৬ মে ঢাকা ও দেশের অন্যত্র হেফাজতে ইসলামের বিপুলসংখ্যক মানুষকে হত্যার জন্য অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়কর্-ভিত্তিক খ্যাতনামা মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। স্বাধীন তদন্ত কমিশন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত না হলে বাংলাদেশে একের পর এক রক্তপাতের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
গতকাল এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, ‘৫ ও ৬ মে ঢাকাসহ অন্যত্র হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু এবং আহতের বিষয়টি তদন্তের জন্য অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের উচিত একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা।’ ওই কমিশনের উচিত হবে ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল মাসে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের ঘটনাগুলোও তদন্ত করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ ও ৬ মে ঠিক কত লোক নিহত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। সরকার দাবি করছে, নিহতের সংখ্যা ১১ জন। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম বলছে, কয়েক হাজার নিহত হয়েছে। নিরপেক্ষ সংবাদ সূত্র বলছে, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫০। আহত হয়েছে আরও অনেকে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৬ মে ভোরে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে নিরস্ত্র, ঘুমন্ত, জিকিররত হেফাজতকর্মীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে অন্তত ৩ হাজার মুসল্লি নিহত হয়েছে বলে দাবি হেফাজতে ইসলামের। বিএনপি বলছে, অন্তত সহস্রাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার বলছে, ওই রাতে শত শত হেফাজতকর্মীকে হত্যা করে ট্রাক ও কভার্ডভ্যানে করে লাশ গুম করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত আরটি (রাশিয়া টুডে) টিভি চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, অন্তত ৪০০ হেফাজতকর্মীকে হত্যা করেছে সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী।
বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আরও রায়কে কেন্দ্র করে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে রক্তাক্ত বিক্ষোভ হবে। স্বাধীন তদন্ত, জবাবদিহিতা এবং উন্নত পুলিশি নীতি ছাড়া আমরা হয়তো একের পর এক রক্তপাত (সিরিয়াল ব্লাড বাথস) দেখব।’
নিরাপত্তা বাহিনী যাতে শক্তি ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মৌলনীতি মেনে চলে, সেজন্য সরকারকে প্রকাশ্যে নির্দেশ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। জাতিসংঘের ওই নীতিতে বলা হয়েছে, শক্তি প্রয়োগের আগে অহিংস উপায় অবলম্বন করতে হবে। শক্তি ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার অপরিহার্য হলে সংযমের সঙ্গে তা ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে হবে এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
জাতিসংঘের নীতিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটলে প্রশাসনিক ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে হবে। এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বিচারিক প্রক্রিয়ার পূর্ণ অধিকার পাবেন।
এ ব্যাপারে ব্রাড অ্যাডামস বলেন, বিক্ষোভকারী, পাথচারী অথবা পুলিশ যে-ই নিহত হোক না কেন, প্রতিটি মৃত্যুর কার্যকর তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার দায়বদ্ধ।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যদি স্বচ্ছভাবে ৫ ও ৬ মে’র ঘটনার তদন্ত না করে, তবে এ নিয়ে গুজব ও প্রচারণা আরও বাড়বে।
ওই বিক্ষোভের ঘটনার ওপর গণমাধ্যম যাতে স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে, তা নিশ্চিতির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
বিবৃতিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামকে সরকারের বেআইনি আক্রমণ পরিচালনার নিন্দা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধী দল সমর্থক দুটি টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ৬ মে’র ঘটনার ওপর সরাসরি রিপোর্ট প্রচার করছিল এ চ্যানেল দুটো। এর আগে সরকার বিরোধী মতের আমার দেশ বন্ধ করে দেয় এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে।
ব্রাড অ্যাডামস বলেন, বর্তমান সরকার দাবি করছে তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সরকার। কিন্তু ভিন্নমতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এ দাবির বিপরীত। সহিংসতা রোধের জন্য সরকার যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা নিতে পারে। এজন্য টিভি স্টেশন বন্ধ করা জরুরি নয়।
খবরের সূত্র।গত ৫ ও ৬ মে ঢাকা ও দেশের অন্যত্র হেফাজতে ইসলামের বিপুলসংখ্যক মানুষকে হত্যার জন্য অবিলম্বে একটি স্বাধীন তদন্ত কমিশন গঠন করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে নিউইয়কর্-ভিত্তিক খ্যাতনামা মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ। স্বাধীন তদন্ত কমিশন ও জবাবদিহিতা প্রতিষ্ঠিত না হলে বাংলাদেশে একের পর এক রক্তপাতের ঘটনা ঘটতে পারে বলেও আশঙ্কা করছে সংস্থাটি।
গতকাল এক বিবৃতিতে সংস্থাটি বলছে, ‘৫ ও ৬ মে ঢাকাসহ অন্যত্র হেফাজতে ইসলামের বিক্ষোভে বিপুলসংখ্যক মানুষের মৃত্যু এবং আহতের বিষয়টি তদন্তের জন্য অবিলম্বে বাংলাদেশ সরকারের উচিত একটি স্বাধীন কমিশন গঠন করা।’ ওই কমিশনের উচিত হবে ফেব্রুয়ারি, মার্চ এবং এপ্রিল মাসে যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের রায়ের পরিপ্রেক্ষিতে নিহতের ঘটনাগুলোও তদন্ত করা। বিবৃতিতে বলা হয়, ৫ ও ৬ মে ঠিক কত লোক নিহত হয়েছে, তা স্পষ্ট নয়। সরকার দাবি করছে, নিহতের সংখ্যা ১১ জন। কিন্তু হেফাজতে ইসলাম বলছে, কয়েক হাজার নিহত হয়েছে। নিরপেক্ষ সংবাদ সূত্র বলছে, নিহতের সংখ্যা প্রায় ৫০। আহত হয়েছে আরও অনেকে। নিহতদের মধ্যে নিরাপত্তা বাহিনীর কয়েকজন সদস্যও রয়েছে।
উল্লেখ্য, ৬ মে ভোরে মতিঝিলের শাপলা চত্বরে নিরস্ত্র, ঘুমন্ত, জিকিররত হেফাজতকর্মীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনীর নির্বিচার গুলিতে অন্তত ৩ হাজার মুসল্লি নিহত হয়েছে বলে দাবি হেফাজতে ইসলামের। বিএনপি বলছে, অন্তত সহস্রাধিক লোককে হত্যা করা হয়েছে। দেশের শীর্ষস্থানীয় মানবাধিকার সংগঠন অধিকার বলছে, ওই রাতে শত শত হেফাজতকর্মীকে হত্যা করে ট্রাক ও কভার্ডভ্যানে করে লাশ গুম করা হয়েছে। রাশিয়ার রাষ্ট্রনিয়ন্ত্রিত আরটি (রাশিয়া টুডে) টিভি চ্যানেলের খবরে বলা হয়েছে, অন্তত ৪০০ হেফাজতকর্মীকে হত্যা করেছে সরকারের নিরাপত্তা বাহিনী।
বিবৃতিতে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের এশিয়া বিভাগের পরিচালক ব্রাড অ্যাডামস বলেন, ‘যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের আরও রায়কে কেন্দ্র করে এবং নির্বাচনকে সামনে রেখে বাংলাদেশে রক্তাক্ত বিক্ষোভ হবে। স্বাধীন তদন্ত, জবাবদিহিতা এবং উন্নত পুলিশি নীতি ছাড়া আমরা হয়তো একের পর এক রক্তপাত (সিরিয়াল ব্লাড বাথস) দেখব।’
নিরাপত্তা বাহিনী যাতে শক্তি ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহারের ক্ষেত্রে জাতিসংঘের মৌলনীতি মেনে চলে, সেজন্য সরকারকে প্রকাশ্যে নির্দেশ দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ। জাতিসংঘের ওই নীতিতে বলা হয়েছে, শক্তি প্রয়োগের আগে অহিংস উপায় অবলম্বন করতে হবে। শক্তি ও আগ্নেয়াস্ত্রের ব্যবহার অপরিহার্য হলে সংযমের সঙ্গে তা ব্যবহার করতে হবে। এক্ষেত্রে ক্ষয়ক্ষতি ন্যূনতম পর্যায়ে রাখতে হবে এবং মানবাধিকারের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করতে হবে।
জাতিসংঘের নীতিতে আরও বলা হয়েছে, কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটলে প্রশাসনিক ও বিচারিক কর্তৃপক্ষের কাছে সে সম্পর্কে বিস্তারিত প্রতিবেদন দিতে হবে। এক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বিচারিক প্রক্রিয়ার পূর্ণ অধিকার পাবেন।
এ ব্যাপারে ব্রাড অ্যাডামস বলেন, বিক্ষোভকারী, পাথচারী অথবা পুলিশ যে-ই নিহত হোক না কেন, প্রতিটি মৃত্যুর কার্যকর তদন্ত করার জন্য বাংলাদেশ সরকার দায়বদ্ধ।
বিবৃতিতে বলা হয়, সরকার যদি স্বচ্ছভাবে ৫ ও ৬ মে’র ঘটনার তদন্ত না করে, তবে এ নিয়ে গুজব ও প্রচারণা আরও বাড়বে।
ওই বিক্ষোভের ঘটনার ওপর গণমাধ্যম যাতে স্বাধীনভাবে প্রতিবেদন প্রকাশ করতে পারে, তা নিশ্চিতির জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
বিবৃতিতে প্রধান বিরোধী দল বিএনপি, জামায়াতে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলামকে সরকারের বেআইনি আক্রমণ পরিচালনার নিন্দা জানাতে আহ্বান জানিয়েছে এইচআরডব্লিউ।
বিবৃতিতে বলা হয়, বিরোধী দল সমর্থক দুটি টিভি চ্যানেল দিগন্ত টিভি ও ইসলামিক টিভির সম্প্রচার বন্ধ করে দিয়েছে সরকার। ৬ মে’র ঘটনার ওপর সরাসরি রিপোর্ট প্রচার করছিল এ চ্যানেল দুটো। এর আগে সরকার বিরোধী মতের আমার দেশ বন্ধ করে দেয় এবং সম্পাদক মাহমুদুর রহমানকে গ্রেফতার করে।
ব্রাড অ্যাডামস বলেন, বর্তমান সরকার দাবি করছে তারা বাংলাদেশের সবচেয়ে মুক্ত ও গণতান্ত্রিক সরকার। কিন্তু ভিন্নমতের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ এ দাবির বিপরীত। সহিংসতা রোধের জন্য সরকার যুক্তিসঙ্গত ব্যবস্থা নিতে পারে। এজন্য টিভি স্টেশন বন্ধ করা জরুরি নয়।
খবরের সূত্র।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 2 (টি রেটিং)