পুষ্প কথনঃ প্রিয় গোলাপ

ফুলকে বলা হয় সৌন্দর্যের প্রতীক। পৃথিবীতে হয়তো এমন কোন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবেনা যে ফুল ভালোবাসেনা। আমাদের প্রিয় নবী সা. ও ফুল ভালোবাসতেন। তাঁর জীবনী পড়লে জানা যায়,তিনি যখন বাজার থেকে ফিরে আসতেন তখন যদি তাঁর হাতে অবশিষ্ট কিছু টাকা থাকতো তবে তা দিয়ে তিনি সুগন্ধি অথবা ফুল কিনতেন। আমি নিজেও অসম্ভব ফুল-প্রেমী মানুষ। বাড়ির এক চিলতে জায়গায় ছোট্ট একটা ফুলের বাগান করেছি। দিনের অধিকাংশ সময় আমি বাগানের ফুল পরিচর্যা করে কাটাই। এটা করতে আমার ভীষণ ভালোলাগে। ফুলের সংস্পর্শে এলে মন পবিত্রতায় ছেয়ে যায়। যাক সে কথা,ফুলের আবেদন মানুষের কাছে চিরকালীন। বহু দিন ধরেই আমার ইচ্ছে বিভিন্ন প্রকার ফুল নিয়ে ব্লগে ধারাবাহিক একটা লেখা প্রকাশ করবো। সেই ইচ্ছা থেকেই আজকের এই ফিচার। আজ যে ফুলটির কথা বলবো,সেই ফুলটি আমাদের সবার প্রিয় গোলাপ ফুল। গোলাপ ভালোবাসেনা এমন মানুষও পৃথিবীতে বিরল। গোলাপকে বলা হয় ফুলের রাণী,যে কোন অনুষ্ঠানে ঘর সাজাতে অথবা এমনিতেই কাউকে উপহার দেয়ার ক্ষেত্রে গোলাপ-ই শ্রেষ্ঠ ফুল।
আমাদের দেশে সাধারণত দু'ধরণের গোলাপ পাওয়া যায়,দেশী এবং বিদেশী।
কয়েক প্রকার দেশী গোলাপের নামঃ ১. ফাতেমা ছাত্তার ২. শিবলী ৩. রাহেলা হামিদ ৪. পিয়ারী ৫. ভাসানী ৬. শের-এ-বাংলা ৭. ১৯৫২ ৮. জয়ন্তি, উল্লেখযোগ্য।
কয়েক প্রকার বিদেশী গোলাপের নামঃ ১. পাপা মিলাঁ ২. আইসবার্গ৩. রোজ গুজার্ড৪. বেংগলি৫. কুইন এলিজাবেথ৬. জুলিয়াস রোজ৭. ডাচ গোল্ড৮. সানসিল্ক৯. কিংস রেনসন, উল্লেখযোগ্য।
গোলাপ সম্পর্কে নানা দেশে নানা ধরণের উপকথা প্রচলিত আছে। যেমন গ্রিক উপকথায় আছে,প্রেমের দেবী ভেনাসের পায়ের রক্ত থেকে গোলাপ এর জন্ম। আবার আরব দেশীয় কাহিনীতে আছে সাদা গোলাপকে বুলবুলি পাখি আলিঙ্গন করায় বুলবুলি পাখি গোলাপ এর কাটায় আহত হয়। এবং সেই বুলবুলি পাখির রক্তথেকে সাদা গোলাপ থেকে লাল গোলাপ এর জন্ম। হিন্দু পৌরাণিক কাহিনীতে আছে বিষ্ণু ব্রক্ষ্রাকে পদ্ম-ই শ্রেষ্ঠ ফুল বললে বক্ষ্রা বিষ্ণুকে স্বর্গে নিয়ে সেখানে হালকা রঙের একটি সুগন্ধি গোলাপ দেখান এবং বিষ্ণু গোলাপকে শ্রেষ্ঠ ফুল হিসেবে মেনে নেয়। গোলাপ সমন্ধে এইরকম আর অনেক গল্প আছে।
টবে গোলাপ চাষঃ শহরে যারা বসবাস করে তাদের ফুলগাছ লাগানোর মত জমি নাই তাই বিল্ডিংয়ের ছাদ, বারান্দা, না হয় সিঁড়িঘরটাই ভরসা। আমরা যারা ফুল প্রিয় মানুষ,তার খুব সহজেই টবে গোলাপ চাষ করতে পারি।
টবে গোলাপ গাছ লাগানোর সহজ উপায়ঃ
আমাদের দেশে অক্টোবর-নভেম্বর মাস গোলাপের চারা লাগানোর উপযুক্ত। প্রথমেই গাছের সঙ্গে মানানসই সাইজের টব সংগ্রহ করতে হবে। প্রতি টবের জন্য দোআঁশ মাটির সঙ্গে তিন ভাগের এক ভাগ পরিমাণ জৈব সার বা পচা গোবর মিশিয়ে মাটি তৈরি করতে হবে। এর সঙ্গে একমুঠো হাড়ের গুঁড়ো, দুই চা-চামচ চুন, দু মুঠো ছাই মেশাতে পারলে ভালো হয়। এতে টবের মাটি দীর্ঘদিন উর্বর থাকবে
অল্পবয়সী ভালো ও তরতাজা, দেখে চারা বা কলম লাগানো ভালো। চারা লাগানোর পর আস্তে আস্তে চাপ দিয়ে গোড়ার মাটি শক্ত করে দিতে হবে। লাগানোর পর গোড়ায় পানি দিতে হবে।
গাছ খাড়া রাখার জন্য অবলম্বনের প্রয়োজন হয়। এ কাজে বাঁশের কঞ্চি বা স্টিক ব্যবহার করা যেতে পারে।
সদ্য লাগানো ফুলের চারা কয়েক দিন ছায়ায় রেখে সহনশীল করে নিতে হয়। এ অবস্থায় সকালে ও বিকেলে রোদে রাখতে হবে।
টবে গাছের গোড়ার মাটি একেবারে গুঁড়ো না করে চাকা চাকা করে খুঁচিয়ে দেওয়া ভালো। এ ক্ষেত্রে মাটি খোঁচানোর গভীরতা হবে ৩-১০ সেন্টিমিটার বা ১ থেকে ৪ ইঞ্চি। এ কাজটি প্রতি ১০ দিনে একবার করে করতে হবে
কুঁড়ি আসার লক্ষণ প্রকাশ পেলে ৫০ গ্রাম টিএসপি (কালো সার), ১০০ গ্রাম ইউরিয়া (সাদা সার) ও ২৫ গ্রাম এমওপি (লাল সার) একসঙ্গে মিশিয়ে প্রতি গাছে এক চা-চামচ করে ১০ দিন অন্তর দিতে হবে। তবে এক মৌসুমে এই রাসায়নিক সার তিনবারের বেশি দেয়ার দরকার নেই। আর রাসায়নিক সার ব্যবহারের সময় খেয়াল রাখতে হবে যেন সার কোনোক্রমেই শিকড়ের ওপর না পড়ে। ট্যাবলেট সার দিলে এসব সার দেয়ার আর দরকার নেই।
পরিশেষে আজ যাদের বিয়ে,বিয়ে-বার্ষিকী,জন্মদিন অথবা অন্য কোন অনুষ্ঠান। তাদের সবাইকে জানাই আমার পক্ষ থেকে একগুচ্ছ লাল গোলাপের শুভেচ্ছা।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

গোলাপ আমারো প্রিয় ফুল। সুন্দর পোস্ট,ধন্যবাদ।।।

-

==<>== ==<>== ==<>==

"আমার বিশ্বাসই আমার শক্তি।"

==<>== ==<>==

ধন্যবাদ আপনাকেও।

-

^
"দ্রুত চলে রাস্তায় থেমে যাওয়ার চেয়ে ধীরে চলে গন্তব্যে পৌঁছা শ্রেয়।" -শেখ সাদী

ইস্, সাথে গোলাপের বেশ কিছু ছবি যোগ করে দিতে পারলে অসাধারণ হতো।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

হাতে ভালো ছবি না থাকায় ছবি দিতে পারিনি। ধন্যবাদ...

-

^
"দ্রুত চলে রাস্তায় থেমে যাওয়ার চেয়ে ধীরে চলে গন্তব্যে পৌঁছা শ্রেয়।" -শেখ সাদী

-

^
"দ্রুত চলে রাস্তায় থেমে যাওয়ার চেয়ে ধীরে চলে গন্তব্যে পৌঁছা শ্রেয়।" -শেখ সাদী

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)