“জুম্মার দিনে করণীয়”

আগামীকাল শুক্রবার,মুসলিম সম্প্রদায়ের কাছে এই দিনটি জুম্মার দিন হিসেবে পরিচিত। সপ্তাহের অন্যান্য দিন থেকে জুম্মার দিনটা একটু ভিন্ন। এদিন যোহরের নামাজের পরিবর্তে মুসলমানদের জুম্মার দু'রাকাত ফরজ নামাজ আদায় করতে হয়। হাদিস শরীফে জুম্মার দিন এবং জুম্মার নামাজের অনেক ফজিলত বর্ণিত হয়েছে। এমনকি জুম্মার নামাজকে গরীবের হজ্ব বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে। চলুন জুম্মার দিনে করণীয় কিছু কাজ সম্পর্কে জেনে নেই।
¤বৃহস্পতিবার থেকেই জুম্মার দিনের জন্য প্রস্তুতি গ্রহণ করা প্রত্যেক মুসলমানের কর্তব্য। বৃহস্পতিবার দিন আসরের নামাজের পর হতেই বেশী পরিমাণ দোয়া, দরূদ এস্তেগফার প্রভৃতি পাঠ করা উচিত্। আলেমগণ বলেছেন,যে ব্যক্তি জুম্মার দিনের অপেক্ষায় থাকবে,সে ব্যক্তিই এই দিনের ফজিলত বেশী পরিমানে লাভ করবে।
¤জুম্মার দিন গোসল করা,মাথার চুল ও সর্বশরীর উত্তমরূপে পরিকাষ্কার করা এবং মেসওয়াক করা খুব সওয়াবের কাজ। জুম্মার দিনে গোসলের পর যথাসম্ভব উত্তম পোশাক পরিধান করা ও সম্ভব হলে সুগন্ধি ব্যবহার করার কথাও হাদিসে বলা হয়েছে। (এহইয়াউল উলূম খণ্ডঃ ১)
¤রাসূল সা. কোন এক জুম্মায় ইরশাদ করেন,হে মুসলমানগণ! এ দিনটিকে আল্লাহ তা'য়ালা ঈদ হিসেবে গণ্য করেছেন। সুতরাং এ দিনে গোছল কর এবং যার নিকটা সুগন্ধি আছে সুগন্ধি ব্যবহার কর। আর এ দিনে মেসওয়াক করাকে অবশ্যক করে নিও। (ইবনে মাজাহ)
¤খুব সকাল সকাল মসজিদে যাওয়া। যে যত তারাতারি মসজিদে যাবে সে তত বেশী সওয়াবের অধিকারী হবে। রাসূল সা. বলেছেন-জুম্মার দিন ফেরেশতাগণ মসজিদের দরজায় দাঁড়িয়ে থাকে এবং সর্বপ্রথম যে ব্যক্তি আসে তার নাম এবং তারপরে যে আসে তার নাম এমন ভাবে সকলের নাম লিখতে থাকে। সর্বপ্রথম যে আসে তাকে ১টি উট কোরবানী করার,এরপর যে আসে তাকে ১টি গরু কোরবানী করার,অতঃপর যে আসে তাকে আল্লাহর নামে ১টি মোরগ জবাই করার এবং তারপরে যে আসে তাকে ১টি ডিম সদকা করার সওয়াব প্রদান কর হয়। (সহীহ মুসলিম,খণ্ডঃ ১)
আগের যামানায় জুম্মার দিনে সকাল বেলা মসজিদে যাতায়াতরত লোকের দ্বারা রাস্তা ও অলিগলি পূর্ণ হয়ে যেতো,সবাই অতি সকালে মসজিদে গমন করতো এবং মসজিদে ঈদের দিনের মতো ভির হতো। এই রীতি প্রথা মুসলমানদের মধ্য থেকে লোপ পেতে থাকলে লোকেরা বললো,ইসলামে এটাই প্রথম বেদআত। (এহইয়াউল উলূম,খণ্ডঃ১)
¤জুম্মার নামাজের জন্য পায়ে হেঁটে মসজিদে গেলে প্রতি কদমে এক বছরের নফল রোযার সওয়াব হয়। রাসূল সা. জুম্মার দিন ফজরের নামাযে আলিফ-লাম-মিম সাজদা ও সূরা দাহর পাঠ করতেন। আর জুম্মার নামাজে সূরা জুমুআ,মোনাফিকুন অথবা সূরা আ'লা এবং গাশিয়াহ পাঠ করতেন। মাঝে মাঝে এর ব্যতিক্রমও করতেন। (তিরমিযী এবং মুসলীম শরীফ)
¤জুম্মার নামাজের পূর্বে বা পরে সূরা কাহাফ পাঠ করায় বহু সওয়াব রয়েছে। রাসূল সা. বলেন-জুম্মার দিন যে সূরা কাহাফ পাঠ করবে,তার জন্য আরশের নীচ হতে আকাশ পর্যন্ত একটি নূর প্রকাশ পাবে,কেয়ামতের অন্ধকারে সেই নূর তার কাজে আসবে। বিগত জুম্মা হতে এই জুম্মা পর্যন্ত তার সকল গোনাহ মাফ করা হবে। (শরহে সাফরুস সায়াদা)
তবে এই গুনাহের অর্থ আলেমগণ সগীরা বলে লিখেছেন। কেননা কবীরা গোনাহ তওবা ব্যতিত মাফ হয়না।
¤জুম্মার দিন দরূদ শরীফ পাঠ করার সওয়াবো অন্যান্য দিন হতে বেশী। এজন্য হাদিসে জুম্মার দিন অধিক পরিমাণে দরূদ পাঠের প্রতি উত্সাহ দেয়া হয়েছে। (আবু-দাউদ,খণ্ডঃ১)
¤জুম্মার নামাজ ফরযে আইন,পবিত্র কোরানের বহু আয়াত এবং বহু হদিস ও এজমায়ে উম্মত দ্বারা এটা প্রমানিত। জুম্মা ইসলামের একটি মর্যাদাবান এবং গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন। জুম্মা অস্বীকারকারী এবং বিনা ওজরে তরককারী ফাসেক হিসেবে গণ্য। (দুররুল মুখতার ১ম খণ্ড)
সুতরাং আসুন আমরা যথাসম্ভব পবিত্র জুম্মার নামাজ আদায় করি এবং জুম্মার দিনের করণীয় কাজ গুলো পালণ করার জন্য সচেষ্ট হই।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 1 (টি রেটিং)