♥ভালোবাসা দিবস♥

প্রতিবছর ১৪ই ফ্রেব্রুয়ারী বাংলাদেশ সহ গোটা বিশ্বে পালিত হয় ওয়ার্ল্ড ভ্যালেন্টাইন'স ডে বা বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। এ দিবসকে কেন্দ্র করে যেসব আপত্তিকর ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড হয়,তা কেবল লজ্জাজনকই নয়,বরং আমাদের জাতীয় সংস্কৃতির প্রতি উপহাসের নামান্তর। এভাবে দিন দিন উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা ভালোবাসার নামে বিজাতীয় সংস্কৃতির গড্ডালিকা প্রবাহে যেভাবে গা ভাসিয়ে দিচ্ছে,তাতে রীতিমতো শিউরে ওঠার মতো অবস্হা।
সভ্যতার চরম বিকাশ ঘটেছে আজকের পৃথিবীতে। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও সেখানে এমন কিছু ঘটনা ঘটে চলেছে যা কখনোই সভ্যতার বহিঃপ্রকাশ হতে পারে না। আজ জগতময় যৌনদস্যুতা যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে,তা আইয়ামে জাহেলিয়াকেও হার মানায়।
১৪ ফেব্রুয়ারী তথাকথিত ভালোবাসা দিবস উদযাপন করা হয় কয়েক বছর থেকে। এ বিজাতীয় নোংরা ও অশ্লীল অপসংস্কৃকে বাংলাদেশে স্হায়ীভাবে রূপ দেয়ার চেষ্টা চলছে। আর এ অপচেষ্টার গোলকধাঁধার আবর্তে হুমড়ি খেয়ে পড়ছে দেশের পাশ্চাত্যমনা তরুণ-তরুণীরা।
তরুণ সমাজ হলো দেশের প্রাণ। আর এ প্রাণকে যদি অকালেই শেষ করা যায়,তাহলে সমাজের ধ্বংস ত্বরান্বিত হবে। এজন্য এ দেশের তরুণ সমাজের চরিত্রকে কলুষিত করার জন্য ভালোবাসার নামে নোংরামী আমদানী করা হয়েছে। অথচ প্রকৃত ভালোবাসা এমন নয়। ভালোবাসা নয় বেহায়াপনা কিংবা যুবক-যুবতীর অবাধ মেলামেশা। ভালোবাসা খুবই পবিত্র জিনিস। সৃষ্টি জগতের প্রতিটি বস্তুতেই ভালোবাসার উপাদান রয়েছে এবং এ ভালোবাসার টানেই পৃথিবী এগিয়ে চলছে সামনের দিকে। এ ভালোবাসা হলো স্বামী-স্ত্রীর একান্ত ভালোবাসা,মাবাবা ও সন্তানদের পারস্পরিক ভালোবাসা প্রভৃতি। অপরদিকে ভালোবাসার নামে উঠতি বয়সের ছেলেমেয়েরা যা করছে,তা কোনো ভালোবাসা নয়। সেটা হচ্ছে নোংরামী ও লুচ্চামী। যা ইভটিজিং নামক ধ্বংসাত্মক ব্যাধির হোতা।
বাবা-মা ভালোবাসে তার সন্তানকে। সন্তান ভালোবাসে তার বাবা-মাকে। ভাই ভালোবাসে তার বোনকে,বোন ভালোবাসে তার ভাইকে। স্বামী ভালোবাসে তার স্ত্রীকে,স্ত্রী ভালোবাসে তার স্বামীকে।
এসব ভালোবাসা কি কোনো দিন বা তারিখের মধ্যে সীমাবদ্ধ করা যায়? না যায় না এবং এটা কোনো আনুষ্ঠানিকতারও ধার ধারেনা। জীবন যতোদিন,ভালোবাসাও ততদিন।
কিন্তু পরিতাপের বিষয় হলো বর্তমানে সর্বত্র ভালোবাসার নামে লজ্জাহীনতা ও অশ্লীলতার পাগলা ঘোড়া ছুটে চলছে। অসত্‍ সাহিত্য,সিনেমা,নাটক প্রভৃতিতে বয়ে চলছে ভালোবাসা নামের নোংরা খেলা। আর ১৪ ফেব্রুয়ারী ঘোষিত ভালোবাসা দিবসের সুবাদে লাগামহীন যৌন উন্মাদনায় মেতে উঠে তরুণ সমাজ। অনেক যুবতী নষ্ট করে তার অমূল্য সম্পদ সতিত্ব, যুবকারা হয় বিপথগামী। এর নামই কী ভালোবাসা?
যুবসমাজকে নিশ্চিত ধ্বংসের দিকে ঠেলে দিতে এ দেশে সর্বপ্রথম একটি সাপ্তাহিক ম্যাগাজিন ভ্যালেন্টাইন'স ডে-এর সূচনা করে। যদিও এর পূর্বে পাশ্চাত্যের দেশগুলোতে এর অনুপ্রবেশ ছিলো।
চলমান দুনিয়ায় যে সকল সমাজে ওপেন সেক্স প্রচলিত,যেখানে কুমারী মায়েদের জন্য হাসপাতাল খোলা আছে,যেখানে কুমারিত্ব হরণকে কৃতিত্ব বলে মনে করা হয়,তারাই বিশ্ব ভালোবাসা দিবসের গোড়াপত্তন করছে।
সুতরাং আমাদের উচিত-এরূপ সর্বনাশী অপসংস্কৃতির খপ্পর হতে নিজেকে,নিজের পরিবার কে এবং সমাজ ও জাতিকে মুক্ত ও পবিত্র রাখা। এজন্য প্রত্যেকের কর্তব্য ভালোবাসার নামে লজ্জাহীনতা,উলঙ্গপনা ও অপসংস্কৃতির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো।

আপনার রেটিং: None

সভ্যতার চরম বিকাশ ঘটেছে আজকের পৃথিবীতে। কিন্তু এতসব সত্ত্বেও সেখানে এমন কিছু ঘটনা ঘটে চলেছে যা কখনোই সভ্যতার বহিঃপ্রকাশ হতে পারেনা। আজ জগতময় যৌনদস্যুতা যে ভয়াবহ রূপ ধারণ করেছে,তা আইয়ামে জাহেলিয়াকেও হার মানায়।
[ রাইট ]
সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ ।

আপনাকেও ধন্যবাদ ভাই,ভালো থাকবেন।

-

^
"দ্রুত চলে রাস্তায় থেমে যাওয়ার চেয়ে ধীরে চলে গন্তব্যে পৌঁছা শ্রেয়।" -শেখ সাদী

Rate This

আপনার রেটিং: None