কুসংস্কার

কাইল গেছিলাম আমার মামাগো বাড়ী। যাইয়া তো মাথা ঘুইরা যাওনের কাম। আমার মামত ভাই জুম্মন দেহি বিলাইর ঠ্যাং ধাইরা বইয়া রইছে। আমি তো পুরা বেক্কল অইয়া গেলাম, হালার এত জিনিছ থাকতে বিলাইর ঠ্যাং ধইরা বইয়া রইছে ক্যালা? পাছেই দেহি মামানি খারাইয়া রইছে। জিগাইলাম,
- “ঘডনা তো কিছু বুঝবার পারতাছিনা? ওর এই অবস্থা ক্যালা?” মামানি কইল
- “আরে বুঝলানা? ওর গলায় মাছের কাঁঠা বিনছে। হের লাইগাই বিলাইয়ের ঠ্যাং ধইরা বইয়া রইছে।” আমি মামানিরে কইলাম,
- “এই যুগের মানুছ হইয়া আপনে অহনও এই কুসংস্কার বিচ্ছাছ করেন?” মামানি কয়
- “মুরুব্বীরা কয়, হে-গ কতা অবিচ্ছাছ করি ক্যামথে?”
জুম্মনের অবস্থা বহুত খারাপ অইয়া গেছে। গলায় কাঁঠা বাঁদাইয়া কোঁ কোঁ করবার লইছে। গলা ভি ফুইলা গেছে। আমি মামানিরে কইলাম
-“ওর অবস্থা তো বহুত খারাব, ওরে এহনও ডাক্তারের কাছে লইয়া যান নাই ক্যালা?” মামানি কয়
- “আমি কইছিলাম ডাক্তারের কাছে নেওনের কথা কিন্তু তোমার নানায় কইল বিলাইয়ের ঠ্যাং ধইরা মাপ চাইলেই কাঁঠা নাইমা যাইব, হের লাইগাই তো বিলাইর ঠ্যাং ধইরা পইড়া রইছে।” আমি কইলাম
- “ওই নানা হালায়ই যত নষ্টের মূল, হালায় বুইড়া অইছে এক ঠ্যাং কব্বরে গেছেগা অহনও মাথা-ত্তে শয়তান নামে নাইক্কা। বহুত অইছে এবার ক্ষ্যামা দেন ওরে আমি ডাক্তারের কাছে লইয়া যাই, কি অইব পরে দেহন যাইব।” মামানি কইল,
- “মুরুব্বীগো লইয়া এমথে কথা কয় কেউ?” আমি কইলাম
- “অইছে অইছে হেইডা পরে দেহন যাইব অহন ওরে লইয়া ডাক্তারের কাছে যাইতে দেন।”
জুম্মনরে লইয়া যহন বাইর অমু তহন অইল আরেক কাহিনী। হালার যেদিগে যাই হেদিগেই ভেজাল লাইগা থাকে। বাইর হওনের সময় জুম্মনের ছোড বইন জরিনা দিল হাঁচি। হাঁচি দেওন তো কোন ছমছ্যা না, ছমছ্যা অইল অন্যডা, মামানি কইল
- “একটু বইয়া যাও।”
- “ক্যালা?”
- “জরিনা বাইর অওনের সময় হাঁচি দিছে না? অহন বাইর অইলে অমঙ্গল অইতে পারে।”
আমার তো আছমানথে পড়নের কাম। মামানিরে কইলাম
-“আমনেরে এইঠা কেঠায় ছিখাইছে? ওই নানা হালায় না?” মামানি কয়
- “তুমি অমন কইরা কথা কইবার লইছ ক্যালা?
- “কি করুম কন কুসংস্কার দেখলেই আমার চান্দি গরম অইয়া যায়।”
- “তোমার চান্দির মধ্যে কদুর তেল মাখ। আর মুখটা বালা কর। মুরুব্বীগো লইয়া যহন তহন যা খুশি তা না কইয়া বালা অও, বালা অইতে পয়ছা লাগে না”
- “মামানি যে কি কন!!”
বহুত টাইম পাস কইরা জুম্মনরে লইয়া হান্দাইলাম ডাক্তারের চেম্বারে। ডাক্তার জুম্মনেরে দেইখা কয়,
- আরো আগে আইলেন না ক্যালা?
ডাক্তারেরে পুরা ঘডনা কইতেই ডাক্তার পুরা ফায়ার অইয়া গেল। পারে না গুল্লি করে। ডাক্তার কয় “এই যুগের মানুছ অইয়া আপনেরা অহনও কুসংস্কার লইয়া পইরা রইছেন। কামডা ঠিক করবার লইছেন না। গলার কাঁঠা এমতে বাইর অইব না। গলা কাডন লাগব।” ডাক্তারের এই কতা হুইন্না তো জুম্মন ভ্যঁ কইরা কাইন্দা দিল। ওরে কোন রকম বুঝাইয়া থামাইলাম। ডাক্তার ছাবেরে কোন রকম বুঝাইয়া হুনাইয়া কইলাম আর কোন দিন এমন অইব না। আমনে নিশ্চিত থাহেন। এরপরডাক্তার জুম্মনরে হা করাইয়া কাঁঠা বাইর কইরা দিল। আর লগে ওছুদ ও দিয়া দিল।

বাংলাদেশে আমগো সবচেয়ে বড় ছমছ্যা অইল গিয়া ছিক্কিত মানুছ ও মুরুক্কের মতন চলে। ঘর থেইকা বাইর অইতে গিয়া পিছা (ঝাড়ু) দেখলে পুরা বাড়ী মাথায় তুইল্লা ফালায়।  আমি মাঝে মাঝে চিন্তা করি পিছা দেখলে যদি এই দছা হয়, তাইলে পিছা দিয়া দুই চাইরডা মারলে কি অবস্থা অইব? কেউ কেউ কয় পরীক্ষার দিন আন্ডা খাইছ না, তাইলে আন্ডা পাবি। আমি চিন্তা করি আন্ডা তো আমি খাই মুখ দিয়া এইডা যায় পেডের মধ্যে পেডে ত্থেইকা কেমনে পরীক্ষার খাতায় যায়? বাংলাদেশের হগল জায়গায় কুসংস্কার ভইরা রইছে। যে দিগে তাকাইবেন হে দিগেই কিছু না কিছু দেখবেন। কেডা যে এডি বানায় আল্লায়ই বাল জানে। বাংলাদেশের কুসংস্কার বাইর করলে মনে হয় কয়েকটা বই লেহন যাইবো। তয় হগলরে কইতাছি কুসংস্কার থেইক্কা বাইর হইয়া আহেন। জীবনডা সুন্দর অইব। ইছলামে তো কোন কুসংস্কার নাই। তাইলে আমরা কুসংস্কার লইয়া এত মাতা গামাই কিল্লাইগা। একটু বাইবা দেহন দরকার।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (5টি রেটিং)

বাংলাদেশের হগল জায়গায় কুসংস্কার ভইরা রইছে।Cool

thik koichen vai.

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (5টি রেটিং)