সোমবার সৌদি আরবের জাতীয় দিবস

২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার সৌদি আরব উদযাপন করতে যাচ্ছে ৮৩তম জাতীয় দিবস। পৃথিবীর অন্যান্য দেশের জাতীয় দিবসের মত সৌদি আরবও অত্যন্ত আনন্দঘন পরিবেশের মাধ্যমে এই দিবস উদযাপন করে থাকে। এই দিবসটি মূলত সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠা দিবস।

১৯০২ সালের ১৫ জানুয়ারি সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠাতা বাদশাহ আব্দুল আজীজ আব্দুর রহমান আল সৌদ এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের মাধ্যমে তার পৈত্রিক শহর রিয়াদ দখল করেন। দীর্ঘ প্রায় ৩২ বছর সংগ্রামের পর ১৯৩২ সালের ২১ মে এক রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে আরবের বিভিন্ন অংশের একত্রিকরণের ঘোষণা দেয়া হয়। পরবর্তীতে একই বছর ২৩ সেপ্টেম্বর আধুনিক সৌদি আরব গঠিত হয়। 

সেই থেকে ২৩ সেপ্টেম্বর দিনটিকে সৌদি আরবের জাতীয় দিবস হিসেবে গণ্য করা হয়। এবার জাতীয় দিবসে ২ দিন ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি বাদশা আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল আজীজ এ ঘোষণা দেন।

সৌদি আরবে অল্প কিছুদিন আগে সাপ্তাহিক ছুটির নতুন নিয়ম চালু করা হয়। নতুন নিয়ম অনুযায়ী পূর্বের বৃহস্পতি ও শুক্রবার ছুটির বদলে শুক্র ও শনিবার ছুটির নিয়ম চালু করা হয়। সে অনুযায়ী এবারের জাতীয় দিবস ২৩ সেপ্টেম্বর সোমবার হওয়ায় রাজকীয় ফরমানের মাধ্যমে মাঝখানে একদিন রোববারও ছুটির আওতায় আনা হয়।

সৌদি ও বিদেশী নাগরিকদের শুক্র, শনি, রোব ও সোম এই পূর্ণ চারদিন আনন্দ উপভোগ করার আহ্বান জানানো হয়।

এবারের জাতীয় দিবসে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে সবুজ পণ্য সামগ্রীর সমাহারে। বিভিন্ন মক্তবা (লাইব্রেরি), খেলনা ও বইয়ের দোকানগুলোতে বাচ্চাদের পছন্দসই সবুজ রংয়ের পতাকা, ব্যানার, ফেস্টুন, ক্যাপ, টিশার্ট, ব্যাজ, কাপ-প্লেট, ব্রেসলেটস, বড় আকারের চশমা এবং বেলুনসহ বিভিন্ন আইটেম বিক্রি হচ্ছে। ৫ রিয়াল থেকে ১৫০ রিয়ালের মধ্যে এসব আইটেমের ক্রেতা শিশু ও তরুণরা। দোকানগুলো শিশু ও তরুণদের পসন্দসই রং ও সরবরাহ করছে। যার ফলে জাতীয় দিবসের আনন্দ ঈদের আনন্দে পরিণত হচ্ছে।

সৌদি আরবের প্রতিটি নগরীতে আলাদা আলাদাভাবে জাতীয় দিবস পালনের উদ্যোগ নেয়া হয়। সে অনুযায়ী জেদ্দা সমূদ্র সৈকতে উৎসবের নানা আয়োজন করা হয়েছে। সবচেয়ে ব্যতীক্রমধর্মী উদ্যোগ নিয়েছে জেদ্দা চেম্বার অব কমার্স। তারা ৪০ হাজার ছাত্র ও চিত্রকর দিয়ে ১০ হাজার স্কায়ার মিটারের সৌদি মানচিত্র আঁকার পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। তারা এর মাধ্যমে বিশ্বরেকর্ড গড়তে চাচ্ছে।

দাম্মাম এবং আল খোবার নগরীর সমূদ্র সৈকতে আতশবাজি পোড়ানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। রিয়াদের মিউনিসিপল কর্পোরেশন ৭টি স্পটে জাতীয় দিবস উদযাপনের জন্য অনুষ্ঠানের আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে।

স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে আয়োজন করা হচ্ছে স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় থেকে বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে এ মর্মে বার্তা পাঠানো হয়েছে। প্রতিটি বড় নগরীর সরকারি হাসপাতালগুলোতে এ স্বেচ্ছা রক্তদান কর্মসূচি পালিত হবে।

সৌদি জাতীয় দিবস উপলক্ষে পুরো সৌদি জাতি পরিপূর্ণ উজ্জীবিত।সবচেয়ে বেশি আনন্দিত শিশু কিশোর আর তরুণরা। অধিকাংশ তরুণ বন্ধু-বান্ধবসহ বিভিন্ন স্পটে ভ্রমনের পরিকল্পনা করেছে। তারা এই সময়টার পরিপূর্ণ সদ্যবহার করতে আগ্রহী। বিভিন্ন পার্টির আয়োজন এবং পরিচিত জনের সাথে গেট টুগেদারের মাধ্যমে আনন্দটা পরস্পর ভাগাভাগি করে নিতে চায়।

অনেকে পারিবারিকভাবে বিভিন্ন নতুন আইটেমের রান্না-বান্নার মাধ্যমে সেলিব্রেট করতে চায় এই দিবস। কেউ কেউ আবার দরিদ্রদের কথাও ভোলেনি। তারা চায় তাদের আনন্দের মাঝে দরিদ্রদেরও অংশ থাকুক। দরিদ্রদের মাঝে অর্থ ও খাবার সামগ্রী বিতরণের মাধ্যমে তারা এই দিবস উদাযপন করবে। সব মিলিয়ে বলা যায় এবারের সৌদি জাতীয় দিবস একটি অনন্য ও ভিন্নমাত্রা যোগ করতে যাচ্ছে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)

দুই বছর হয়ে গেল। দু দু'টি জাতীয় দিবসও পেরিয়ে গেল। আপনি কোথায়?

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

জাতিয় দিবস ছুটি নাই তাই দিবসের গুরুত্বও নাই

-

kamrul

ওটা জাতীয় দিবস নয়, পারিবারিক দিবস। একটি পরিবার কর্তৃক একটি ভূখণ্ডের ক্ষমতা ও রাজত্ব দখল করবার জন্য এটা সেই পরিবারের জন্যই এক উৎসব বটে। এছাড়া ঐ পরিবারটির ক্ষমতা দখলের কল্যাণে দেশ-বিদেশের যারা উপকৃত ও বেনিফিসিয়ারী হয়েছে, তাদের জন্যও এটা আনন্দের বিষয় বৈকি। আরব ভূখণ্ডের ক্ষমতা দখলকারী পরিবারটির দ্বারা ইসলাম ও মুসলমানদের অ্যাকাউন্টে লাভের অংক কতটুকু আর লোকসানের অংক কতটুকু জমা হয়েছে, তা হিসাব করে দেখার পরই জানা যাবে, এ ঘটনা মুসলমানদের জন্য আনন্দের নাকি দু:খের।

বর্তমান দুনিয়ার মুসলিম জনগণ এতটাই হুজুগে আর রামছাগল যে, ব্যক্তি, পরিবার বা দলের উৎসবকে জাতীয় উৎসব হিসেবে পালন করে। আগামীকাল যদি ইয়েমেনের হুতিরা সৌদি বাদশাহর রাজপ্রাসাদ দখল করে নেয় এবং সৌদি আরবকে 'হুতি আরব' নামকরণ করে, তাহলে আগামীকালই হবে হুতি আরবের জাতীয় দিবস। হা-হা-হা।Laughing

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)