'চিরন্তনের পথে' -এর ব্লগ

পৃথিবীর দিনগুলো: ১৬ এপ্রিল ২০১২

আলোর নিচে যেমন ছায়া থাকে, তেমনি আমরা প্রতিজন মানুষ ধারন করি ‍অন্ধকার। যত আলোকিত জনই হই না কেন, ছায়ার মত যে অন্ধকার, তাকে উপেক্ষা করতে পারি না। মূলতঃ যে জন্যই আমরা মানুষ; ফিরিশতা নই। মানুষে মানুষে বোঝাবুঝির ব্যবধানটাও অনেক দূরত্বের। কখনো তা পেরুতে দু'ফালি বাঁশের খণ্ডই যথেষ্ট হয়, আবার কখনো দরকার হয় সাঁকো, পুল, কালভার্ট কিংবা ব্রীজ। সম্পর্কের উপর ভিত্তি করে অনেক কিছু। সম্পর্ক যত অটুট ব্যাথাটাও তত প্রবল। তেমনি ভাললাগাটাও আনন্দম‍য় হয়। তবে ঐ যে বলা কথা, 'মানুষের অন্ধকার', সে কারণে প্রিয়জনকেও ভুলে যেতে পারি সামান্য কোন ভুল বোঝাবুঝির কারণে। তাই তো আমরা অসম্পন্ন, দুর্বল, স্রষ্টার অনুগ্রহে টিকে আছি অহর্নিশ।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

পৃথিবীর দিনগুলো: ১০ এপ্রিল ২০১২

দিনগুলো কেমন যেন বর্ণহীন মনে হয়। যদিও বর্ণিল হওয়ার মত পূর্ণতা ধারণ করি এখন। শুধু কিছু ব্যবধান, কিছু অনুমোদন, কিছু নিয়মতান্ত্রিকা যেন এক ধূসর ক্যানভাসে পেন্সিলে আঁকা চিত্রিত জীবন। সব আছে, কিছু দূরে, কিছু কাছে, শুধু রঙ নেই পূর্ণ পটভূমি জুড়ে। সমস্ত প্রশংসা সর্বশক্তিমানের তরে।

পৃথিবীতে মানুষের দৈহিক স্বাস্থ্য খারাপ হলে যেমন পরিবেশে বিপর্যয় দেখা দেয়; আমরা তাকে বলি মহামারী। তেমনি নৈতিক স্বাস্থ্য খারাপ হলেও তদ্রূপ মহামারী দেখা দেয়। মানুষের পরিবেশ যেহেতু বহুবিধ বিষয়ের সম্পর্কে সম্পর্কিত, সমন্বিত; তাই কোন একটি দিকে সমস্যা সৃষ্টি হলে তার প্রভাব পড়ে পরিপূর্ণ  কাঠামোর উপর। তদুপরি মানুষের মাঝে রয়েছে বিভিন্ন পদের বিন্যাস। যে সত্তাটি যত অধিক দায়িত্ব প্রাপ্ত, নৈতিক মহামারীতে আক্রান্ত হলে সে তত অধিক বিপর্যয়ের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। কর্মক্ষেত্রে এমন কিছু মহামারী অবলোকন করছি বহুদিন থেকে। কাকে রেখে কাকে সংশোধন করবো, উপরন্তু সংশোধনের যোগ্যতা থাকাও বিশাল এক বিষয়। মানুষ হিসেবে সবাই অনেক দৈন্যতা ধারন করি। তাই মাঝে মাঝে দিনকালগুলো আরো বিবর্ণ হয়ে উঠে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

পৃথিবীর দিনগুলো: ৬ এপ্রিল ২০১২

আজকের সকাল ছিল গতানুগতিকের চেয়ে একটু ভিন্ন। মমতার চেয়ে একটু বেশী কর্কষ স্বরে বেজে উঠা মুঠোফোনের চিৎকারে ঘুম ভাঙ্গে। নিয়মগুলো সেরে সেজেগুঁজে শামিল হই একটি বাৎসরিক অনুষ্ঠানে। কিছুটা মুগ্ধতা, কিছুটা বেখেয়াল আর কিছুটা ব্যস্ত সময় কাটে পুরো অনুষ্ঠান জুড়ে। পুরোনো দিনের অনেক চেনামুখ আজ আলিঙ্গনে উষ্ণতা দিল, উষ্ণতা নিল। এ এক স্বার্থহীন সম্পর্ক। যেখানে আদর্শ হয় ভিত্তি। সর্বোত্তম ব্যবহার হয় শাখা পত্র পল্লব। দিন যত গড়ায়, এ সম্পর্ক ধীরে ধীরে হয়ে উঠে মহীরূহ। দিনের মধ্যাহ্নে ছিল আজ পবিত্র জুম'আ। মসজিদুন্ নববীর ছাদে সিজদা করেছি আজ সর্বশক্তিমানকে। তারপর পাঁচতারার ধারে কাছেও না ঘেঁষে ভিড়ের মাঝে হেলতে দুলতে পৌঁছে গেলাম আমার জন্য বরাদ্দ এ বিশাল পৃথিবীর একটি খুব ছোট কামরায়। শাক আমার প্রিয় খাবার গুলোর অন্তর্ভুক্ত। আহার শেষে বিশ্রামে গেলাম।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

এবারের ঈদ-আনন্দে আমার সঙ্গী হবেন?

মুসলমানদের সামাজিক জীবনে সবচেয়ে বড় আনন্দ ঈদ-আনন্দ। আমাদের মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতর সমাগত। আর মাত্র ক'দিন বাকী। মনে মনে কি চলছে তা না হয় রেখেই দিলাম, ঘরে ঘরে যে ধুম লেগেছে সে কথা না বলে উপায় নেই। কর্তা ব্যক্তিরা পেরেশান-কার জন্য কি কিনতে কত লাগবে-সে হিসেব কষাতে। গৃহিনীরা ব্যস্ত এবারের ঈদের নিজের জন্য কি কি নিশ্চিত করা যাবে এবং খাবারের কি কি আইটেম তৈরী করা যায়; সেসব নিয়ে। শিশু-কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীদের দু'টো মাত্র দাবী- নুতন পোষাক চাই এবং চড়া সালামী চাই। ধুমধামের মাঝে সত্যিকার ঈদের অনুভূতি কোথায় আছে সেটা বোধ হয় পরেই বিবেচনার বিষয়।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

প্রার্থনা করি তাদের মঙ্গলের, পৃথিবীতে এরূপ মঙ্গলময় মানুষের প্রবৃদ্ধির...

কেউ যদি বাস টার্মিনাল, এয়ারপোর্ট কিংবা নৌবন্দরে কাজ করেন, তাহলে আসা-যাওয়া কতজনার সাথেই না পরিচিত হন; তার কোন ইয়াত্তা নাই। এদের মাঝে মাঝে এসে দাঁড়ান অনেক প্রিয়জনেরাও। আনন্দ, আবেগ, ছেড়ে যাওয়ার বেদনা, মেহমানদারী করতে পারার আনন্দ, না পারার গ্লানি ইত্যাদি অনেক মনোগত পরিবর্তনের সাথে পরিচিত হন প্রতিনিয়ত। kcতেমনি একটি পয়েন্টে আমার বর্তমান বসবাস।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

বিসর্গ ভাবনা: মন্তব্য দিন, নিজে মূল্যায়িত হোন, অপরকে মূল্যায়ন করুন

বিসর্গ ব্লগ। নামেই একটা স্বকীয়তার স্বর লক্ষণীয়। পথচলার শুরু থেকে এখন মোটামুটি একটা দূরত্ব পেরিয়েছে। সাথে পেয়েছে অনেক সাথী-সঙ্গী। কেউ কেউ ভালবেসে লেখে, কেউ কেউ আনন্দে, কেউবা সাথে চলার ভঙ্গিতে লেখেন। নিরব পাঠকদের ব্যাপারেও ধারনা করা যায় উৎসুক্যে পড়ে কিংবা আগ্রহে Enter চাপেন এড্রেসটা লিখেই। সব মিলিয়ে বিসর্গ চলছে তার গতিতে। মূলতঃ বিসর্গ চলতে পারেনা, যদি না ব্লগারগণ না চালিয়ে নেন। তাই একথা বলাই শ্রেয় যে, বিসর্গের সাথী ব্লগারগণ বিসর্গকে নিয়ে চলছে সে গতিতে, ঠিক যে গতি চান বিসর্গ ব্লগারগণ। কিন্তু মোটামুটি পেরুনো দিনগুলো শেষে প্রশ্ন জাগে, বিসর্গের জন্য যে গতি নির্ধারণ করেছে তার সাথী-সঙ্গী ব্লগারগণ, তা কি একটি ব্যতিক্রমী ব্লগের জন্য যথেষ্ট?

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (4টি রেটিং)

আমার কি অপরাধ?

চাকরীর সকালের পর্ব শেষ হতে হতে যোহরের আযান হয়ে যায়। প্রায়শই প্রিয় মসজিদে চলে যাই। আজো গেলাম। কত ভাষার মানুষ, কত চেহারা, কত বর্ণ, কত আকার; সব যেন একাকার এখানে। শুধুমাত্র এক সে মহানের সান্নিধ্যে নিজেদের সত্তাকে বিলীন করে দেয়ায় একাকার। তারপর যে যার মতই থেকে যায় এ যুগে। নির্বিশেষে সবাইকে ভালবাসতে চাই, বাসিও। তবে চিত্তের দুর্বলতার কারণে হোক কিংবা সত্তাগত কোন ব্যাপার; যাইহোক না কেন কিছু বিষয় মোটেও মানতে পারি না। আবার উটপাখি তো নই-ই, বকের মত লম্বা গলাও নেই যে, বলে বসবো যাচ্ছেতাই। বাধা পাই, খুব বাধা বিবেক থেকে। বলা হয়ে উঠে না।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

কষ্টের মোড়কে বাঁধা বিধাতার দেয়া সুখ

দু'দিন থেকে মাথায় পানি পড়ছে না, বেদুঈন হলে সমস্যা ছিল না। তা নই, মোটামুটি শহুরে একটা ভাব ধরে আছে শরীরটা অনেক আগে থেকেই। তেল সাবান না হলে চলবে, কিন্তু পানি বিনা মাথার কার্যক্রমই যেন থেকে যাচ্ছে। মাথাটা ঝিম ঝিম করছে দুপুরের পর থেকে। এমন অসুস্থ দিনে খুব ইচ্ছে করে মুখ গোমরা করে একটা ব্যথিত ভাব নিয়ে বসে থাকি, চুপচাপ। ধরেছিলামও, ব্যঙ্গলোরের বাচাল ছেলেটার গুতোগুতিতে পেরে উঠলাম না। দিলাম ফিক্ করে হেসে।

সাধারণত: হাসিখুশি থাকতে চাই, নিজে পারিনা হাসাতে, হাসতে পারি। মাঝে মাঝে হেসে হেসে ক্লান্ত হয়ে যাই, মাঝে মাঝে বোকা বনে যাই, মাঝে মাঝের হাসি গুলো নিছক অভিনয়। করতে হয়, জগতে অনেক ধরনের অভিনয় জায়েয; যার বিকল্প নেই। বিকল্প থাকলেও বোধ হয় সমস্যা নেই। কঠিন কঠিন কিছু দিন হঠাৎ হঠাৎ কোথা থেকে যেন মাথার উপর এসে পড়ে। খুব সতর্ক হয়ে উঠি তখন, প্রতিটি পদক্ষেপ দেই মেপে মেপে, অংকটা কোথায় ভুল হয়ে যায়, কোন পাতাটির নিচে লুকানো কাঁটা, কোথায় কতটা ভয়, কোথায় নির্বিঘ্নতা, এভাবেই অতিবাহিত হয়।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

ঢেঁকি দিয়ে ধানবানা যায়; সামিয়ানার খুঁটি বানানো যায় না

ছেলেটা একটু ছেলেমানুষে, কারো কারো কাছে বেয়াড়াও বটে, তবে দারুন রসিক। শুধু রসিক না, রীতিমত কাব্যরসিক। তাও আবার গলাতেই সীমাবদ্ধ নয়, নিয়মিত বাস্তবায়নেও তৎপর। রাতবিরাতে খোলা আকাশের নিচে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ফেরা, ঢের কবিতা পড়া আর ঐ যে ছেলেমানুষী, তার থেকে হঠাৎ হঠাৎ ভাবের জগতে পৌঁছে যাওয়া। এসব নানা কারণে ভাল লাগার তালিকায় যুক্ত হয়ে পড়ে সে। তবে বিশেষ যে গুণটি তার প্রতি ভাল লাগায় যোগ করে ভিন্ন মাত্রা, সেটি হল কোন বিষয়ে তার গভীর জ্ঞান।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

ভুল হোক শুদ্ধ হোক, কত্তা মশাই সই

বিসর্গ! নানা দিক থেকেই ভিন্নতা দৃশ্যমান। নামে, আয়োজনে, আদর্শ যদিও এখনো পরিচ্ছন্ন হয়নি পুরোপুরি, তবু পোষ্টের ধারাবাহিকতা অনেক কিছু জানান দিচ্ছে। চলি, চলতে থাকুক বিসর্গ, দেখি কতদূর, কোথায় গিয়ে দাঁড়াতে পারি।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)
Syndicate content