'মোহভঙ্গ' -এর ব্লগ

নামাযের পূর্বে দেখা আজব দুটি দৃশ্য!

নামাযের পূর্বে দুটি আজব দৃশ্য দেখা যায়। এর একটি দৃশ্য আমাদের উপমহাদেশের, আরেকটি দৃশ্য দেখা যায় স্বয়ং মদীনাতে।
# প্রথম দৃশ্যটি হলো এস্তেঞ্জার পরে ওজুর পূর্বে সকলের সামনে লুঙ্গি উঁচিয়ে ভিতরে হাত ঢুকিয়ে পায়চারি করা।
# আর দ্বিতীয় দৃশ্যটি হলো নামাজের একামত দাঁড়ানোর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত মসজিদে দাঁড়িয়ে মেসওয়াক দিয়ে দাঁত ঘষতে থাকা।
আক্কেল জ্ঞান বা কমন সেন্স তথা স্বাভাবিক বুদ্ধি না খাটিয়ে হবহু আক্ষরিক অর্থ গ্রহণ যে কতটা হাস্যকর দৃশ্যের অবতারণা করতে পারে, দ্বীনের সৌন্দর্য ও ভাবমর্যাদাকে ক্ষুন্ন করতে পারে, দ্বীনের শত্রুদের কাছে দ্বীনকে উপহাসের খোরাকে পরিণত করতে পারে, তারই এক করুণ চিত্র হচ্ছে এ দুটি দৃশ্য। আক্ষরিক অনুসরণের নমুনা হলো:- "রান্নার বইতে তো আর চুলা ধরানোর কথা লেখা নেই!"
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

খলের ছল

গ্রামের প্রভাবশালী সন্ত্রাসী চুন্নু মিয়া। জোর-জুলুম করে মানুষের জায়গা-জমি দখল করাই তার পেশা। বাধা পেলে মানুষকে রাতের অন্ধকারে গুম করে দেয়। এভাবে সে বহু গ্রামবাসীর জমি হাতিয়ে নিতে পারলেও নিজের ঘরের কোল ঘেষা প্রতিবেশী রজব মাস্টারকে নতি স্বীকার করাতে পারেনি। রজব মাস্টার তার বসতবাড়ি ও জমি ছেড়ে দিতে আদৌ রাজি নয়।
সুযোগ খুঁজতে থাকে সন্ত্রাসী চুন্নু মিয়া। এক শীতের মওসুমে রজম মাস্টারের স্ত্রী ও সন্তানেরা যখন রজবের শ্বশুর বাড়িতে (অর্থাৎ, তার সন্তানদের নানাবাড়িতে) গেল এবং সে নিজে কিছু কাজ সম্পন্ন করার জন্য নিজের বাড়িতে একা থেকে গেল, তখন সন্ত্রাসী চুন্নু মিয়া সেই সুযোগ গ্রহণ করে। রাতের অন্ধকারে একদল সন্ত্রাসী সাঙ্গোপাঙ্গোকে সাথে নিয়ে রজব মাস্টারের বাড়িতে হানা দেয় এবং তাকে ঘর থেকে তুলে নিয়ে যায়। এক রাস্তার পাশে নদী বা বিলের ধারে নিয়ে রজব মাস্টারকে হত্যা করে লাশ পানিতে ফেলে দেয়া হয়। ঘটনাক্রমে উক্ত নদীর/বিলের পাড়ে ৬ জন গ্রামবাসী মাছ ধরছিলো। তারা হলো রহিম, করিম, সাদেক, আমর, কাদের ও নছিমন বিবি।
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

আজব মুফতী

জুরাননগরের বাসিন্দা আবুল হাকাম। কায়রোতে লেখাপড়া করে দেশে ফিরে এসে পরিচিত হলেন মুফতী আবুল হাকাম জেলাফী হিসেবে। তাকে পেয়ে জুরাননগরবাসীদের যেন প্রাণটা জুড়ালো। নগরবাসীদের তো গর্বের শেষ নেই। "আমাদের ছাওয়াল কায়রো থেকে মুফতী হয়ে এসেছে!"
মুফতী আবুল হাকাম জেলাফীর প্রত্যাবর্তনের পর থেকে নগরবাসী কোন কাজ আর তাকে জিজ্ঞেস না করে করে না। কোন্ বাড়িতে খাওয়া যাবে, কোন্ বাড়িতে খাওয়া যাবে না; কাকে টাকা দেয়া যাবে, কাকে দেয়া যাবে না; কি খাওয়া হালাল, কি খাওয়া হারাম ইত্যাদি সকল কাজেই আগে মুফতী সাহেবের অনুমতি নিতে হয়। এমনকি কারো পেটে গ্যাস জমে থাকলেও তা ছাড়ার আগে অনুমতি নেবার জন্য মুফতী সাহেবের বাড়ির সামনে ভিড় করে মানুষ। আর বিপত্তি শুরু হলো এখান থেকেই।
আপনার রেটিং: None

আমাদের সমাজে মানতের ব্যাপারে কিছু প্রচলিত ভুল

আমরা অনেকেই মানত করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের মানত করে থাকি, যা যুক্তিসঙ্গত মনে হয় না। যেমন- "মসজিদে দান করা", "পুত্রসন্তান হলে হাফেজ বানানো" ইত্যাদি। কিন্তু ইসলামের দৃষ্টিতে মানতের প্রকৃত হকদার হলো গরীব ও অভাবীরা। কোরআনে কাফফারা বিষয়ক যত আয়াত আছে, তা সে রোযার কাফফারা হোক, কসমের কাফফারা হোক বা অনিচ্ছাকৃত হত্যার কাফফারা হোক, সবখানেই বলা হয়েছে মিসকিন খাওয়ানো বা দাসমুক্তির কথা। এতে বোঝা যায়, দরিদ্র বা needy ব্যক্তি- যারা খেতে পাচ্ছে না বা টাকার অভাবে চিকিৎসা করাতে পারছে না, কিংবা বন্দীদশা বা দাসত্ব থেকে মুক্ত হতে পারছে না, তাদেরকেই দান করা উচিত। যাকাত ও সদকার ক্ষেত্রে অবশ্য বর্ণিত ৮টি খাতের মধ্যে "আল্লাহর রাস্তায়" বলে একটি খাত উল্লেখ আছে, যার মধ্যে মসজিদও অন্তর্ভুক্ত। সুতরাং মসজিদে দান করার মানত করাটাও শরীয়তে সমর্থিত ও গ্রহণযোগ্য। কিন্তু অধিকাংশ মসজিদে ধনী-গরীব সকলেই নামাজ আদায় করে, ফলে এখানে দান করার দ্বারা শুধু গরীবেরা উপকৃত হয় না। তবে যেখানে টাকা দান না করলে মসজিদ নির্মাণ বা সংস্কার করা অসম্ভব, টাকার অভাবে মানুষ ঠিকভাবে নামাজ আদায় করত
আপনার রেটিং: None

ফেরকা-মাযহাব বিভেদের আসল রহস্য

ফেরকা ও মাযহাব নিয়ে কোন্দল ও দলাদলির রহস্য বলতে যা আবিষ্কার করেছি তা হলো, এগুলো যতটা না ধর্মীয় ও মতাদর্শগত মতভেদপ্রসূত, তার চাইতে অধিক হচ্ছে (১) অর্থনৈতিক ও ব্যবসায়িক দ্বন্দ্ব, (২) অহংকার ও ব্যক্তিত্বের সংঘাত এবং (৩) রাজনৈতিক ও আধিপত্য বিস্তারের লড়াই থেকে উদ্ভূত। প্রথম দুটির সাথে সম্পৃক্ত আছেন বিভিন্ন ফেরকা ও ঘরানার আলেমগণ, আর শেষোক্তটির সাথে জড়িত আছেন দরবারি আলেম, ইমাম, রাজা-বাদশাহ ও রাজনীতিবিদগণ।
হুজুরদের অর্থবিত্ত ও সম্মান-প্রতিপত্তির মূল যে দুটো মাধ্যম ও উৎস দেখতে পেয়েছি তা হলো- (ক) ওয়াজ, লেকচার বা বক্তৃতা এবং (খ) রুকিয়া বা ঝাড়ফুঁক তথা যাদু ও জিনের চিকিৎসা। প্রথমটিতে সালাফী আলেমরা তুলনামূলকভাবে বেশি এগিয়ে আছেন বিধায় সুফী ও দেওবন্দী আলেমদের রিযিক নষ্ট হচ্ছে, তাই তারা ক্ষুব্ধ। আবার দ্বিতীয়টিতে সফলতা ও কার্যকারিতার দিক থেকে সুফী ও তাবলীগী আলেমরা অপ্রতিদ্বন্দ্বী ও অগ্রগামী থাকায় সালাফী ও কোন কোন দেওবন্দীরা অর্থ ও সুনামের দিক থেকে লোকসানের শিকার হচ্ছেন, তাই তারা হতাশ, উদ্বিগ্ন ও পেরেশান।
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

কৃতজ্ঞতা কোন্ ক্ষেত্রে প্রযোজ্য?

যারা কোনো ব্যক্তি, দল, গোষ্ঠী, সম্প্রদায় বা বিশেষ কোন রাষ্ট্রের প্রতি অন্ধ আনুগত্য পোষণ করেন, তারা নিজ সমর্থিক গোষ্ঠীকে ভালো প্রমাণ করা ও সমালোচনার ঊর্ধ্বে রাখবার জন্য হাস্যকর সব যুক্তি পেশ করে থাকেন। নিজের প্রিয় ও আরাধ্য গোষ্ঠীর বিরোধী ও সমালোচকদের কথা স্মরণ করতে গিয়ে তাদের প্রতি বিদ্রূপের স্বরে বলে থাকেন, "দেশের মানুষ অমুক দেশের পিঁয়াজ খায়, আবার তাদেরকেই গালি দেয়।" অর্থাৎ, তারা বোঝাতে চান, ওরা যেহেতু আমাদের পিঁয়াজ খাওয়াচ্ছে, কাজেই আমাদের উচিত সর্বাবস্থায় তাদের শুকরিয়া আদায় করা, তাদের ন্যায়-অন্যায় সকল কাজ, আচরণ ও আবদার হাসিমুখে মেনে নেয়া এবং তাদের দ্বারা ঘটিত উপকার-অপকার সবই স্বাগত জানানো। এমন ভাব জনগণের মাঝে না পেয়ে এ জাতিকে তারা অকৃতজ্ঞ জাতি মনে করে হা-হুতাশ ও মাতম করতে থাকেন এবং জনগণের উদ্দেশ্যে খোঁটা শোনাতে থাকেন।
আপনার রেটিং: None

আজব এক সম্প্রদায়!

আল্লাহর দুনিয়ায় এমন এক সম্প্রদায় আছে, যারা ভালো কিছু করতে জানে না, যাদের দ্বারা কারো কোনদিন কোন উপকার হয়নি, কিন্তু কেউ ভালো কিছু করতে গেলে তাকে শেরেক-বেদাত আখ্যা দিয়ে বিরোধিতা করে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

এজিদপ্রেমের পোস্টমর্টেম

মহররম আসলে কেউ কাঁদে হোসাইনের (রা.) জন্য, কেউ কাঁদে এজিদের জন্য। হোসাইনের জন্য কান্নাটা যৌক্তিক কারণেই সঙ্গত ও বোধগম্য, যেহেতু তিনি মজলুম অবস্থায় শাহাদাতবরণ করেছেন। অপরদিকে এজিদের জন্য তার ভক্তরা কাঁদে নিজ গুরুকে দুনিয়াবাসীর কাছে ধিকৃত ও অভিশপ্ত হতে দেখে। আজ থেকে আনুমানিক দুই যুগ আগে একটি সংবাদপত্রের মুক্তমতের পাতায় ব্লাসফেমী আইন নিয়ে বিতর্কে ব্লাসফেমীর বিপক্ষে একজনের "ব্লাসফেমী আইন শিল্প-সাহিত্যকে ধ্বংস করবে" শীর্ষক লেখায় এই মর্মে যুক্তি প্রদর্শন করা হয়েছিল যে, "মধূসুদন যেমন রামের বিপক্ষে রাবণের পক্ষে মহাকাব্য লিখেছেন, তেমনিভাবে কেউ যদি কারবালার ঘটনায় হোসাইনের বিপক্ষে ও এজিদের পক্ষে কোন কাব্য বা সাহিত্য রচনা করে, তাহলে সেটা মুসলমানরা মেনে নেবে কিনা।" কিন্তু স্বয়ং মুসলিম নামধারী কোন সম্প্রদায় খোদ ইসলামের নামেই যে এ কাজটি করতে পারে, এজিদ বন্দনা গাইতে পারে, তা কি তখন কেউ কল্পনা করেছিলাম? কোন মুসলমান যে এজিদের সমর্থক হতে পারে, তা কি আমরা কেউ কোনকালে স্বপ্নেও ভেবেছি?
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

ফেসবুকে হিন্দুত্ববাদীদের ইসলামবিরোধী অপপ্রচার ও তার জবাব

ভূমিকা: ফেসবুকে দেশী-বিদেশী বিভিন্ন উগ্র হিন্দুত্ববাদী ব্যক্তি ও সংগঠন তাদের মতলবি বিদ্বেষ চরিতার্থ করা এবং মুসলিমদেরকে হিন্দু হতে উদ্বুদ্ধ করবার জন্য জেনেশুনে ঠাণ্ডা মাথায় অনেক ভয়ানক মিথ্যা, বিকৃত ও মনগড়া প্রচারণা চালাচ্ছে। ইসলাম ও কোরআন সম্পর্কে, মানব জাতির ধর্মের ইতিহাস সম্পর্কে, মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের তুলনামূলক আচরণ সম্পর্কে তারা মিথ্যাচার অবলম্বন করছে। এরা একদিকে হিন্দুত্ববাদী নেতাদের বরাত দিয়ে হিন্দুদেরকে কথিত লাভ জিহাদ সম্পর্কে সতর্ক করছে, অপরদিকে মুসলিম মেয়েদেরকে হিন্দু ছেলে বিয়ে করার আহবান জানাচ্ছে।
ইসলাম ও মুসলিমদেরকে বর্বর এবং হিন্দুধর্ম ও হিন্দুদেরকে মহান উদার প্রমাণের জন্য যেসব মিথ্যার আশ্রয় নেয়া হচ্ছে, তা নিম্নে আলোচিত হলো:-
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

তবে কেন এত দুশ্চিন্তা? [মানব জীবনে দুর্ভোগের আসল কারণ উন্মোচন]

ইতবান (রা) থেকে বর্ণিত হাদীসে বলা হয়েছে, "যে ব্যক্তি আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের লক্ষ্যে বলবে, লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ আল্লাহ তার উপর জাহান্নামের আগুনকে হারাম করে দেবেন।" (বুখারী, মুসলিম) এ হাদীসের সমর্থন পাওয়া যায় কোরআনের এ আয়াতে—
إِنَّ الَّذِينَ قَالُوا رَبُّنَا اللَّهُ ثُمَّ اسْتَقَامُوا تَتَنَزَّلُ عَلَيْهِمُ الْمَلَائِكَةُ أَلَّا تَخَافُوا وَلَا تَحْزَنُوا وَأَبْشِرُوا بِالْجَنَّةِ الَّتِي كُنتُمْ تُوعَدُونَ- نَحْنُ أَوْلِيَاؤُكُمْ فِي الْحَيَاةِ الدُّنْيَا وَفِي الْآخِرَةِ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَشْتَهِي أَنفُسُكُمْ وَلَكُمْ فِيهَا مَا تَدَّعُونَ- نُزُلًا مِّنْ غَفُورٍ رَّحِيمٍ-
"নিশ্চয় যারা বলে, আমাদের আল্লাহ আমাদের প্রভু, অতঃপর এর উপর কায়েম (অনড় ও অবিচল) থাকে, তাদের কাছে ফেরেশতা অবতীর্ণ হয় এবং বলে, তোমরা ভয় করো না, চিন্তা করো না এবং তোমাদের প্রতিশ্রুত জান্নাতের সুসংবাদ শোন। ইহকালে ও পরকালে আমরা তোমাদের বন্ধু। সেখানে তোমাদের জন্য আছে যা তোমাদের
আপনার রেটিং: None
Syndicate content