'আতাউর রহমান সিকদার' -এর ব্লগ

একশো গ্রাম আড়াইশত টাকা!

খাইরুল কুরুণের মুসলিমগন কুরবানীর গোশত নি:স্ব/অভাবীদের মাঝে বিলি করে আল্লাহর নৈকট্য অর্জনের চেষ্ঠা করতেন। তারা বিশ্রাম নিতেননা যতক্ষণনা তারা তাদের চার পাশের নি:স্ব / অভাবীদের মধ্যে সে গোশত পৌছিয়েছেন। তারা শোনাতেন: “মনে রেখো, আল্লাহর কাছে কিন্তু কুরবানীর গোশত ও রক্ত পৌছায়না বরং তার নিকট পৌছায় তোমাদের তাকওয়াটুকু”।

কুরবানীর তাৎপয তারা বোঝাতেন ত্যাগ দিয়ে আর এ যুগের মুসলিমগন (বিশেষ ভাবে এ উপমহাদেশের) কুরবানীর অর্থ খোজেন ভোগ ও প্রদর্শনেচ্ছার হাটে।

তাদের কাছে এখন এটি একটি প্রথা বা উৎসব। অর্থাৎ কুরবানীর পশুটি হবে দেখার মতো। শত শত মানুষ দেখবে - অমুক কত্তো বড় গরুটি কুরবানী করলো। দাম যা-ই হোক। দাম দিয়ে কাজ কি? কুরবানী ইজ কুরবানী। কিন্তু কুরবানীর এ টাকাটা কিভাবে, কোন্ পথে এলো, তা হালাল কিনা এসব ভাববার কোন প্রয়োজন নেই। জনগনের পকেট এতে কাটা হলো কিনা, ফাইল ছাড়াতে ঘুষের রেট বাড়লো কিনা সে সৎ চিন্তার এখানে কোন আবশ্যকতা নেই।

আপনার রেটিং: None

রাষ্ট্রীয় কোষাগারের অর্থ আত্বসাত

কোন ব্যক্তি বিশেষের অধিকার হরণ বা সম্পদ আত্বসাত করা হয়ে থাকলে হয়তোবা ঐ ব্যক্তিকে খুজে বের করে তার নিকট থেকে মাফ চেয়ে নেয়া কিংবা পাওনা পরিশোধ করে দেয়া সম্ভব। কিন্তু অর্থ আত্বসাত যদি রাষ্ট্রীয় কোষাগারের হয় তাহলে তা কিভাবে সম্ভব?

বলা আবশ্যক যে, রাষ্ট্রীয় কোষাগার বলতে আমি কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের সমুদয় আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও শাখাকে বোঝাচ্ছি।

তর্কের খাতিরে যদি ধরেও নেয়া হয় যে, সে পাচ কোটি মানুষকে খুজে বের করে মাফ চাইল। কিন্তু যারা ইতিমধ্যে ইনতেকাল হয়ে গিয়েছে তাদেরকে সে কিভাবে পাবে? ধরলাম সে ঐসকল মৃত লোকের উত্তরাধীকারীদের কাছে গেল কিন্তু তারা যদি মাফ না করে?

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

বাংলাদেশে ইবাদাত

আরবী عبادة ইবাদাহ শব্দটির অর্থ দাসত্ব, আনুগত্য ও মেনে চলা। ’আবদ’ শব্দের অর্থ দাস বা কেনা চাকর। বহুবচনে ’ইবাদ’। আর এ অর্থেই প্রতিটি মানুষকে বান্দা বা দাস নামে আখ্যায়িত করা হয়। কুরআন কারিমে যেখানেই ’আবদ’ عبد তা’বুদুন’ تعبدون’ আবিদুন’ عابدون 'ইবাদ’ عباد ইত্যাদি এসেছে আল্লাহর প্রতি আনুগত্য, দাসত্ব ও তার আদেশ নিষেধের আজ্ঞাবহ হওয়া অর্থে এসেছে। সুরা আয যারিয়াতের ৫৬ নং আয়াতে আল্লাহ বলেন: "আমি জিন ও ইনসানকে আমার ইবাদাত ছাড়া অন্য কোন উদ্দেশ্যে সৃষ্টি করিনি"। অর্থাৎ আমি জিন ও মানুষ জাতিকে একমাত্র এ উদ্দেশ্য নিয়ে সৃষ্টি করেছি যে, তারা তাদের দুনিয়ার জীবনকে আমারই আনুগত্যের অধীনে পরিচালিত করবে, আমি যা করতে বলেছি তা করবে আর যা নিষেধ করেছি তা থেকে বিরত থাকবে।

আপনার রেটিং: None

ড. মুর যা বলেছিলেন..

কুরআন কারিমে উল্লেখিত মানবভ্রণ (Human Embryology) এবং এর ক্রমবিকাশ সম্পর্কিত আয়াতগুলো ড. কিথ মুরকে (ভ্রুনত্বত্তের অধ্যাপক, টরন্টো ইউনিভার্সিটি, কানাডা) এত বেশি আশ্চযান্বিত ও মুগ্ধ করে যে, তিনি তাঁর পাঠ্যপুস্তকগুলোকে পরিবর্তন করেন। একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জন্য ড. কিথ মুরের সাক্ষাৎকার নেয়ার সৌভাগ্য আমার হয়েছিল, এগুলো বিভিন্ন স্লাইডশো এবং অন্যান্য মাধ্যমে দেখানো হয়। কানাডা জুড়ে একটি আলোড়ন সৃষ্টিকারী বিষয় ছিল সেটি। কয়েকটি পত্রিকার প্রথম পৃষ্ঠায় তা ছাপা হয়। কিছু পত্রিকার শিরোণাম ছিল মজার। একটি পত্রিকা লিখে: ‘প্রাচীন গ্রন্থে আশ্চযজনক বিষয় প্রাপ্তি’। অর্থাৎ মানুষ পরিষ্কারভাবে বুঝতে পারেনি যে, বিষয়টি কী।

একটি পত্রিকার রিপোর্টার প্রফেসর মুরকে প্রশ্ন করেন: ‘আপনার কি মনে হয়না, ভ্রুণ এর অবস্থা এবং এটি কীভাবে পরিবর্তিত হয় ও বেড়ে ওঠে হয়তো আরবরা এসব বিষয় সম্পর্কে জানতো? হতে পারে, সেখানে কোন বিজ্ঞানী ছিলেন না, কিন্তু তারা কোনভাবে মানুষকে ব্যবচ্ছেদ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালায়।’

আপনার রেটিং: None

পরীক্ষার নাম্বার, সনদ এবং ভোট

“ . . . . . পরীক্ষার নাম্বার, সনদ-সার্টিফিকেট ও নিবাচনের ভোট দান সবই সাক্ষ্যের অন্তর্ভুক্ত:

পরিশেষে এখানে আরও একটি বিষয় জানা জরুরী। তা এই যে, আজকাল শাহাদাত তথা সাক্ষ্যদানের যে অর্থ সবসাধারণের মধ্যে প্রসিদ্ধি লাভ করেছে, তা শুধু মামলা-মোকদ্দামায় কোন বিচারকের সামনে সাক্ষ্য দেয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ। কিন্তু কুরআন ও সুন্নাহর পরিভাষায় ‘শাহাদাত’ শব্দটি আরও ব্যপকতর অর্থে ব্যবহৃত হয়। উদাহরণত: যদি ডাক্তার কোন রোগীকে সার্টিফিকেট দেয় যে, সে কর্তব্য পালনের যোগ্য নয় কিংবা চাকুরী করার যোগ্য নয় তবে এটিও একটি শাহাদাত। এতে বাস্তব অবস্থার খেলাফ যদি কিছু লেখা হয় তবে তা মিথ্যা সাক্ষ্য হয়ে কবিরা গুনাহ হবে।

এমনিভাবে পরীক্ষার্থীদের লিখিত খাতায় নাম্বার দেয়াও একটি শাহাদাত। যদি ইচ্ছাপুবক কিংবা শৈথিল্যভরে কম বা বেশী নাম্বার দেয়া হয়, তবে তা-ও মিথ্যা সাক্ষ্যের অন্তভুক্ত হারাম ও কঠোর পাপ বলে গন্য হবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4.5 (2টি রেটিং)

লেখাটি শুধুমাত্র জ্ঞানবান চিন্তাশীলদের জন্য

আল্লাহ তায়ালার পরিকল্পনা ছিল যে, তিনি তার সবশেষ নাবী ও রাসুল মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর মাধ্যমে ইসলামকে অন্যসব বাতিল দ্বীনের উপর বিজয়ী করে মানুষকে মানুষের প্রভুত্ব থেকে মুক্তি দিয়ে আল্লাহর প্রভুত্বে ফিরিয়ে আনবেন। তিনি তা করেছেন।

তিনি চাইলে সেসময় আকাশ থেকে ঘোষণা দিতে পারতেন: হে মানবমন্ডলী, এ ব্যক্তি হচ্ছে আমার প্রেরিত সবশেষ রাসুল। তোমাদেরকে ৩ দিন সময় দেয়া হলো – এ নাবীর আহবান তোমরা মেনে নাও, তার আনুগত্য করো। ৩ দিন পর যেখানে যত অবাধ্য আদম সন্তান পাওয়া যাবে তাদের সকলেরই রুহ কবজ করে জাহান্নামে পাঠানো হবে ......।
অথবা তিনি তার রাসুলের সাথে অলৌকিক ক্ষমতাসম্পন্ন কতক মালাইকা দিতে পারতেন, যারা অবাধ্য লোকদের দফারফা করতো ।
কিংবা অন্য কোন পন্থা আল্লাহ অবলম্বন করতে পারতেন যেখানে ত্যাগ-তিতিক্ষা, দু:খ বেদনা আর যুদ্ধের কোন প্রয়োজন বা প্রশ্নই উঠতোনা।
এভাবে, আপন কুদরত মোতাবেক তিন চার দিনের ব্যবধানেই মাদিনাতে একটি ইসলামী রাষ্ট্র আল্লাহ প্রতিষ্ঠিত করতে পারতেন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

এ ফিতনার বিরুদ্ধে সকলেরই সোচ্চার হওয়া কর্তব্য

সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর সঙ্গে মিল রেখে চাঁদপুরের ৪০টির মতো গ্রামে বৃহস্পতিবার রোজা শুরু হচ্ছে। ওই অঞ্চলে বৃহস্পতিবার থেকে রমজান মাস শুরু হবে।
 গ্রামগুলো হলো- হাজীগঞ্জ উপজেলার সাদ্রা, সমেশপুর, অলীপুর, বলাখাল, মনিহার, জাক্নি, প্রতাপপুর, বাসারা, ফরিদগঞ্জ উপজেলার লক্ষ্মীপুর, কামতা, গল্লাক, ভূলাচোঁ, সোনাচোঁ, উভারামপুর, উটতলী, মুন্সীরহাট, মূলপাড়া, বদরপর, আইটপাড়া, সুরঙ্গচাইল, বালিথুবা, কাইতপাড়া, নূরপুর, সাচনমেঘ, শোল্লা, হাঁসা, গোবিন্দপুর; মতলবের দশানী, মোহনপুর, পাঁচানী। এছাড়া শাহরাস্তি ও কচুয়া উপজেলার কয়েকটি গ্রাম।
 সাদ্রা গ্রামের সাদ্রা সিনিয়র মাদ্রাসার অধ্যক্ষ মাওলানা মো. আবু বকর ছিদ্দিক জানান, মধ্যপ্রাচ্য তথা সৌদি আরবের সঙ্গে মিল রেখে বৃহস্পতিবার থেকে চাঁদপুরের ৪০টি গ্রামের লোকজন রোজা রাখা শুরু করবে। সেই অনুযায়ী ঈদুল ফিতর উদযাপন করবেন তারা।
সুত্র: দৈনিক ইত্তেফাক ১৭ই মে ২০১৮
--------------------------------------------------
যে কারনে সৌদী আরবের সাথে মিল রেখে রোজা/ইদ পালন অসম্ভব

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

যে কারনে সৌদী আরবের সাথে মিল রেখে রোজা/ইদ পালন অসম্ভব

অধুনা বাংলাদেশের কতক লোক সৌদী আরবের সাথে মিল রেখে একই দিনে রোজা, ইদ ইত্যাদি পালন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কিন্তু এটি কিভাবে সম্ভব? সৌদী আরবের সাথে বাংলাদেশের সময়ের পার্থক্য, বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা, খবর আদান প্রদানের জটিলতা – এ বিষয়গুলোকে সামনে রাখলে এব্যবস্থা আদৌ বাস্তবায়নযোগ্য মনে হয় কি?

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.5 (2টি রেটিং)

কুরআন ও হাদিসে কেনো নামাজকে এতো গুরুত্ববহ করা হলো

ইসলামের দ্বিতীয় স্তম্ভ নামাজ। নামাজ ইমানের এক অনিবায অভিব্যক্তি, ইমানের প্রথম প্রকাশ। এটি কখনো কল্পনা করা যায় না যে, কারোর মধ্যে ইমান আছে অথচ আল্লাহর সমীপে রুকু সাজদা করার জন্য ছটফটানি নেই। ইমান অন্তরের এক রুপান্তরের নাম। নামাজের মাধ্যমে এ রুপান্তরের প্রকাশ ঘটে। অতএব যেখানে ইমান থাকবে সেখানে নামাজ অবশ্যই হবে। কুরআন কারিমে ইমানের কথা বলার পর অত:পর সাথে সাথেই নামাজের কথা বলা হয়েছে।

নামাজ খারাপ ও মুনকার কাজের প্রতিবন্ধক। আল্লাহ বলেন:
“নিশ্চিতভাবেই নামাজ সবধরণের অশ্লীলতা, খারাবী ও ইমানবিরোধী কাজ থেকে মানুষকে ফিরিয়ে রাখে” (সুরা আল আনকাবুত ৪৫)
নামাযের হাজারো উপকারী ফলাফলের মধ্যে এটি একটি। অর্থাৎ নামাজ কেবল আখিরাতের পাথেয় নয়, দুনিয়ার জীবনেও এটি একটি ঔষধ বিশেষ। আর তা হলো: সবধরনের অশ্লীলতা ও নোংরামী এবং ইমানবিরোধী কথা, কাজ ও সমর্থন থেকে এটি মানুষকে ফিরিয়ে রাখে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (2টি রেটিং)

এতো নাফরমানীর পরও আবার আবেদন নামঞ্জুরীর অভিযোগ:

আগেকার যুগের মুসলিমগন তাদের ব্যবসাপণ্য বা বিক্রিতব্য বিষয়ে কোন দোষক্রটি থাকলে তা ক্রেতাকে না জানিয়ে বিক্রি করতেননা। ত্রুটিযুক্ত জিনিস যদি ভুলবশত বিক্রি হয়েও যেতো তাহলে ক্রেতার বাড়ী গিয়ে এ ভুলের জন্য ক্ষমা চাওয়া কিংবা এর প্রতিবিধান বা কাফফারা আদায় ব্যতিরেকে তাদের ইমানদার দিল স্বস্তি পেতোনা।
একবার প্রখ্যাত ফিকাহবিদ ইবনু সিরীন একটি ছাগী বিক্রয় করলেন। ক্রেতাকে তিনি বললেন: ছাগীটির দোষ আছে, তা তোমাকে বলে আমি দায়িত্বমুক্ত হতে চাই। তাহলো: এটি খাবার সময় তার পা দিয়ে ঘাস এদিক ওদিক ছড়িয়ে দেয়।
আর একবার হাসান ইবনু সালিহ একটি ক্রীতদাসী বিক্রয় করলেন। ক্রেতাকে বললেন: মেয়েটি একদিন থুতুর সাথে রক্ত ফেলেছিল। তবে তা হয়েছিল মাত্র একদিন। আর এক তাবেঈ ভুলক্রমে এক ক্রেতার নিকট কমদামের কাপড় বেশীদামে বিক্রয় করেন। ভুলটি সংঘটিত হয় ঐ তাবেঈর কর্মচারীর মাধ্যমে। কিন্তু তথাপিও তিনি তিন দিন দু’রাতের পথ অতিক্রম করে ঐ ক্রেতার বাড়ীতে গিয়ে হাজির হন। ক্রেতাকে বললেন: হয় আপনি আপনার আদায়কৃত মুল্য অনুসারে বেশীদামী এ কাপড়টি গ্রহন করুন অথবা আপনার অতিরিক্তি অর্থ ফেরত নিন।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (3টি রেটিং)
Syndicate content