সত্য বলা, চলা ও প্রচারই হোক বিসর্গের ভাষা...

একটি প্রশ্ন

আল্লাহ নাকি রিযিকদাতা, তাহলে মানুষ না খেয়ে মরে কেন? কেনইবা ক্ষুধা নিবৃত্তির জন্য এতো যুদ্ধ?

প্রশ্নগুলো আমার এক ছাত্রের। প্রশ্ন একজনে উপস্থাপন করলেও একই জিজ্ঞাসা আরও ছয়জনের। আমি অবাক হইনি। কারন বাচ্চাদেরকে মায়ের উদরে শিক্ষাদানের কোনো ব্যবস্থা আল্লাহ করেননি। এ দায়ীত্ব আল্লাহ অর্পণ করেছেন পিতা/মাতা/অভিভাবক বা শিক্ষালয়ের উপর। তারা যদি এ দায়ীত্ব যথাযথ পালন না করেন তাহলে প্রশ্ন এমনটাই আসার কথা।

যাহোক, প্রশ্ন যেহেতু আমাকে করা হয়েছে, উত্তর আমাকে দিতে হবে এবং তা কুরআন থেকে। আল্লাহর কৃপায় জওয়াবের সুত্র আমি পেয়েও গেলাম।

সুরা হুদ এর ৬নং আয়াতে আল্লাহ দাবী করেছেন যে, ভূ-পৃষ্ঠে বিচরণকারী এমন কোন প্রাণী নেই, যার রিযকের দায়ীত্ব আল্লাহর উপর নেই।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

বিবর্ণ পৃথিবীতে সুবর্ণ সুযোগ

পৃথিবী আজ করোনা মহামারীতে বিবর্ণ। প্রতিদিন অসুস্থতার গুণতি বেড়েই চলেছে। সেই সাথে পাল্লা দিয়ে হারিয়ে যাচ্ছে ওপারের যাত্রীরা, দীর্ঘ হতে দীর্ঘতর হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল।

এ ঘন দুর্যোগে আমাদের সম্মুখে এসে দাঁড়িয়েছিল রমাদ্বানের মত কল্যাণময় মাস। দুইটি দশক পার করে ফেলেছি আমরা। জানিনা কি অর্জন পেয়েছি ওপারের সঞ্চয়ে। তবে আজ থেকে এমন এক সঞ্চয়ের দুয়ার উন্মুক্ত হলো যা পৃথিবীর ইতিহাসে বিরল হয়ে আছে বিগত প্রায় পনরশ' বছর ধরে। তা হলো "লাইলাতুল কদর" বা "মহিমান্বিত রাত"।

আকাংখা, সাধনা ও সাফল্য হোক আগামী দশ দিনে আমাদের নিত্য সঙ্গী। ইন শা আল্লাহ।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

যাকাতের কিছু অপ্রকাশ্য উৎসমুখ

যাকাতের বিধান, খাত ও এসম্পর্কিত যাবতীয় মাসায়েল একটি ব্যাপক ও জটিল বিষয়। এ ক্ষুদ্র পরিসরে তা তুলে ধরা সম্ভব নয়। তবে অধুনা অর্থ বিনিয়োগ বা লগ্নিকরণের নতুন নতুন খাত সৃষ্টি হওয়ায় যাকাত দাতাদের মধ্যে যে জিজ্ঞাসা ও দ্বিধা-দ্বন্ধের সৃষ্টি হচ্ছে তা নিয়ে মত বিনিময় করা পূণ্যের কাজ বলে আমি মনে করি।  

যেমন উদাহরণস্বরুপ নাবালেগের নামে বিভিন্ন ফিক্সড ডিপোজিট।

বেশ কয়েকজনের সাথে আমি এ নিয়ে আলোচনা/অনুসন্ধান করেছি। কেউ বলেছেন: “টাকাটিতো নাবালেগের নামে, নাবালেগের কি যাকাত আছে”?

কেউ বলেছেন: “এ টাকার যে যাকাত দিতে হবে তা আমি জানতামনা”।

কেউ প্রশ্ন করেছেন: “শেয়ারেরও যাকাত আছে”?

ইত্যাদি ইত্যাদি।

যাহোক, সম্মানীত পাঠক/পাঠিকাদের সমীপে আলোচিত সে খাতসমুহ (ফকীহদের রায়সহ) আমি তুলে ধরছি:

ইয়াতীমের সম্পদ/নাবালেগ সন্তানের নামে ব্যাংকে এফ ডি আর:

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

যাকাত না দিলে নামায কবুল হয়না

যাকাত বান্দার মধ্যে ইসলামের আলামত সমুহের একটি। কেউ যাকাত দিতে অস্বীকৃত হলে তখন সে আর মুসলিম থাকেনা। কুরআন যাকাত না দেয়াকে আখিরাত অস্বীকারকারীদের নিদর্শন বলে অভিহিত করে।

আবদুল্লাহ ইবনু আব্বাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বলতেন: কুরআনের তিনটি আয়াত তিনটি জিনিসের সাথে সম্পৃক্ত করে নাযিল হয়েছে। প্রতি জোড়ার একটি বাদ দিয়ে অন্যটি করা হলে তা কবুল হবেনা। 

এর প্রথমটি হলো: কুরআনের এ আয়াত: “তোমরা আল্লাহর আনুগত্য কর এবং রাসুলের আনুগত্য কর”।

অতএব যে ব্যক্তি রাসুলের আনুগত্য না করে শুধু আল্লাহর আনুগত্য করবে তার এ আনুগত্য কবুল করা হবেনা।

দ্বীতিয়টি হলো: কুরআনের এ আয়াত: “তোমরা নামায কায়েম কর এবং যাকাত আদায় কর”।

সুতরাং যে  যাকাত দিলোনা অথচ নামায কায়েম করলো তার এ নামায কবুল হবেনা।

তৃতীয়টি হলো: কুরআনের এ আয়াত: “তোমরা আমার ও তোমাদের পিতামাতার প্রতি কৃতজ্ঞ থাক”।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

হতভাগ্য রোজাদার

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “যে ব্যক্তি মিথ্যা কথা ও কাজ পরিত্যাগ করতে পারলোনা, সে ব্যক্তির পানাহার বর্জনে (অর্থাৎ রোজা রাখায়) আল্লাহর কোনই প্রয়োজন নেই” (বুখারী ৪/৯৯। বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহু)

অন্য এক হাদিসে বলা হয়েছে: “এমন কত রোজাদার আছে যারা রোজা রেখে ক্ষুৎপিপাসার কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পায়না। এমন কত নামাযে দন্ডায়মান রাত জাগরণকারী আছে যারা রাত্রি জাগরণের কষ্ট ছাড়া আর কিছুই পায়না”।(বুখারী। বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরা রা) 

অথচ ভুলবশত খেয়ে ফেললেও রোজা ভাঙেনা। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “যদি রোজা অবস্থায় কেউ ভুলক্রমে খায় বা পান করে তাহলে সে যেন তার রোজাকে পুর্ণ করে, কারন আল্লাহই তাকে খাইয়েছেন বা পান করিয়েছেন” (বুখারী ৪/১৩৫, মুসলিম ১১৫৫। বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরা রা)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

মৃত্যু কামনা সম্পর্কে

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: দু:খকষ্টে পতিত হয়ে তোমাদের কেউ যেন মৃত্যু কামনা না করে। একান্তই যদি তা করতে হয় তাহলে যেন সে বলে: হে আল্লাহ, জীবন আমার জন্য যতক্ষণ কল্যাণকর ততক্ষণ আমাকে জীবিত রেখো। আর, মৃত্যু আমার জন্য যখন কল্যাণকর তখন আমাকে মৃত্যু দান করো। কারন, যদি সে নেককার হয় তাহলে হয়তোবা আরও নেকী অর্জনের সময়কাল সে লাভ করবে। আর যদি গুনাহগার হয় তাহলে হয়তোবা তাওবা করার কোনো সুযোগ সে অর্জন করবে। (বুখারী ১০৯/১০, মুসলিম ২৬৮২ আরবী। বর্ণনাকারী: আবু হুরাইরা রাদিয়াল্লাহু আনহ)

ব্যাখ্যা: আয়ুস্কাল তথা সময় আদম সন্তানের এক বড়ো নিয়ামাত। মৃত্যু মানেই তার সময়ের সমাপ্তি। আর জীবন মানে, তার হাতে এখনো কিছু সময় বাকী আছে। চাইলে সে সময় নামক এ হীরক টুকরোকে ভালো কাজে লাগিয়ে সফল হয়ে যেতে পারে। 

বলাবাহুল্য, একারনেই ইসলাম আত্নহত্যাকে হারাম ঘোষণা করেছে। 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

আল্লাহ বোঝার তাওফীক দিন

“যে বিশ্ব একেবারে বিশৃংখল, বিধিবিহিন। তেমন একটি বিশ্বকে কোন মুর্খের সৃষ্ট বলে ধরে নেয়া যেতে পারে” – উক্তিটি নোবেল বিজয়ী পদার্থবিদ ষ্টিফেন ওয়াইনবার্গ-এর।

দুবলের উপর শক্তিমানের যুলুম অবিচার, ধনী দরিদ্রের বেদনাদায়ক ব্যবধান, কল্যাণ ও ন্যায়ের প্রতিষ্ঠাকামীদের অসহায়ত্ব – ইত্যাদি দেখে বোধকরি ওয়ানইনবার্গ উক্তিটি করেছিলেন। শুধু ওয়াইনবার্গ নয়, মনুষ্যজগতের এহেন অরাজগকতা দেখে এ জাতীয় ধারণা লালন করেন এ পৃথিবীর বহু মানুষ। 

তাদের বক্তব্য: এ Universe – এ কোনও গড বা অতি শক্তিধর কেউ থাকলে পৃথিবীব্যাপী এমন হানাহানি ও যুলুম অবিচার চলতে পারতোনা। কোথাও কোন অন্যায় অবিচার হওয়ামাত্রই সেই অতি শক্তিধর গড মাটিতে নেমে এসে অন্যায়কারীকে সাথে সাথে পাথর বানিয়ে ফেলতেন কিংবা নিদেনপক্ষে তার হাত পা অবশ হয়ে যেতো কিংবা এমন ধরণের কিছু। আর সেই গড (যদি সত্যই তিনি অস্তিত্বে থাকেন) এর যিনি দূত হবেন তিনিও হবেন অতি মানব, অতি প্রাকৃত ক্ষমতার অধিকারী। ইত্যাদি ইত্যাদি।   

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

সাত যুবকের গল্প (পর্ব-৩)

এ হলো আসহাবে কাহাফের ঘটনা। ১৯৭৩ ইং সালের কথা। লেখক এ বছর পূর্ব উরদুনে সফরে গেলে ঐতিহাসিক সেই গুহাটি দেখার সুযোগ পাই। যে গুহায় সেই ভাগ্যবান ঈমানদার যুবকগণ ঘুমিয়ে আছেন। উরদুনে প্রত্নতত্ত্বের গবেষক আমার আন্তরিক সফরসঙ্গী ড। রফীক অফা আদ-দাজ্জানী আমাকে গুহাটি দেখান। একাডেমিক বৈজ্ঞানিক নানা তত্ত্ব-তথ্যে তিনি প্রমাণ করলেন এটাই আসহাবে কাহাফের গুহা। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানার জন্য তার বিখ্যাত গ্রন্থ ‘ইকতিশাফুল কাহফ ও আশাবুল কাহফ’ দেখা যেতে পারে। ইতিহাস প্রমাণ করে, শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এই ঘটনা ছিল এ অঞ্চলের কবিতার প্রাণ। আমি আমার ‘মা’রাকায়ে ঈমান ওয়া মাদ্দিয়্যাত’ গ্রন্থে এ বিষয়ে বিস্তারিত তুলনামূলক আলোচনা করেছি।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

সাত যুবকের গল্প (পর্ব-২)

এই যুবকরা গিয়ে সেই ময়দানে দাঁড়াল যেখানে রোমান শাসনের পতাকা উড়ছিল। এই রোমান শাসনই ছিল তৎকালীন পৃথিবীর সবচেয়ে সুশৃঙ্খল সভ্য উন্নত ও আইন প্রণেতা দেশ। এই শাসন ব্যবস্থাও পৃথিবীর এক বিশাল অঞ্চলব্যাপী দর্পের সাথে রাজত্ব করছিল। সমকালীন এই মহাশক্তিধর পাওয়ারের একেবারে নাকের নীচে, চোখের বারান্দায় দাঁড়িয়ে কয়েকজন তরুণ একত্ববাদের এই নতুন দাওয়াতকে গ্রহণ করছে এবং তার দাওয়াত দিচ্ছে। আর এটাই ছিল তখনকার সত্য দ্বীন, যথার্থ ইসলাম। কারণ, তখনও খৃষ্টধর্ম বিকৃত হয়নি। হযরত ঈসা ( আলাইহিস সালাম)-এর পয়গাম ও দাওয়াতের যথার্থ পতাকাবাহীগণ সেখানে পৌঁছেছিলেন। তাঁরা সেখানে গিয়ে জানালেনঃ এই শাসকেরা আমাদের রিযিকদাতা নয়। আমাদের লালন-পালন করার ক্ষমতাও তাদের নেই। আমাদের প্রতিপালক আল্লাহ। তিনিই আমাদের রিযিকদাতা, তিনিই পালনকর্তা।

 

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3 (টি রেটিং)

সাত যুবকের গল্প ( পর্ব-১ )

“তারা ছিল কয়েকজন যুবক। তারা তাদের প্রতিপালকের প্রতি ঈমান এনেছিল এবং আমি তাদের সৎপথে চলার শক্তি বৃদ্ধি করেছিলাম, আমি তাদের চিত্ত দৃঢ় করে দিলাম; তারা যখন উঠে দাঁড়াল, তখন বলল, আমাদের প্রতিপালক! আকাশ্মন্ডলী ও পৃথিবীর প্রতিপালক! আমরা কখনই তাঁর পরিবর্তে অন্য কোন মাবুদকে ডাকব না; যদি করে বসি তবে সেটা খুবই গর্হিত হবে।“

                                                                                              ( সূরা কাহাফঃ ১৩-১৪)

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)
Syndicate content