সত্য বলা, চলা ও প্রচারই হোক বিসর্গের ভাষা...

মৃত ব্যক্তির প্রশংসা সম্পর্কে

আনাস (রাদিয়াল্লাহু আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন যে, একবার আমাদের সামনে দিয়ে  একটি লাশ নিয়ে যাওয়া হলো , লোকেরা মৃত ব্যক্তিটির প্রশংসা করলে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ওয়াজিব হয়ে গেছে। কিছুক্ষণ পর আরেকটি লাশ এল। লোকেরা তার দুর্ণাম করলো। রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: ওয়াজিব হয়ে গেছে। উমার ইবনুল খাত্তাব (রাদিয়াল্লাহু আনহু) জিজ্ঞেস করলেন: হে আল্লাহর রাসুল, কি ওয়াজিব হয়ে গেছে? রাসুল সা: বললেন: যে মৃতের তোমরা প্রশংসা করলে তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে গেছে। আর যার তোমরা দুর্ণাম গাইলে তাতে তার জন্য জাহান্নাম ওয়াজিব হয়ে গেছে। তোমরা হচ্ছো দুনিয়াতে আল্লাহর সাক্ষী। (হাদিস নং বুখারী ১৮১/৪, মুসলিম ৯৪৯। মুল আরবী) 

টীকা: এখানে ঐ প্রশংসার কথা বলা হয়েছে যা স্বতস্ফুর্তভাবে সাধারণ মানুষ অন্তর থেকে করে থাকে। ঐ প্রশংসা বা জানাযা নয়, যা কর্তৃত্বশীলদের চাপ, রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতা বা সামাজিক স্ট্যাটাস কিংবা পার্থিব স্বার্থের জন্য করা হয়। আর, এটাতো জানা কথা যে, একজন পাপী বা যালিম ব্যক্তির জন্য মানুষ কখনোই অন্তর থেকে প্রশংসা বা দোয়া করেনা।

আপনার রেটিং: None

মুমিনদের পারস্পরিক সম্পর্ক

রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন: “একে অপরের প্রতি ভালবাসা ও মমত্ববোধ, দয়া, সহযোগিতা ও সহমর্মিতার ক্ষেত্রে মুমিনরা হচ্ছে একটি দেহের মতো। যার কোন একটি অংগ পীড়িত হয়ে পড়লে তার সমস্ত অংগ জ্বর ও নিদ্রাহীনতায় আক্রান্ত হয়ে পড়ে”। (বুখারী ৩৬৭/১০ মুসলিম ২৫৮৬। বর্ণনাকারী: নুমান ইবনু বাশির রা:)

টীকা: রাসুলুল্লাহর (সা) আসহাবগন, তাবেঈ ও তাবে-তাবেঈগন ছিলেন এ হাদিসের বাস্তব নমুনা। মুহাজিরদের জন্য মাদিনার আনসারদের ভ্রাতৃত্ব ও ত্যাগের ইতিহাস, ইয়ারমুকের যুদ্ধের ঘটনা কোনো বানানো কাহিনী নয়। বলাবাহুল্য, মুমিনদের এ বৈশিষ্টের কারনেই ইসলাম তখন এক বিশ্বজয়ী সভ্যতা ও শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়। 

ফিকহী মাসআলায় মতের অনৈক্য থাকলেও তারা সকলে ছিলেন এক প্রাণ, এক দেহের মতো। অথচ বাংলাদেশে এর বিপরীত চিত্র। এখানে ঐক্য ও সহমর্মিতার বদলে কিভাবে একে অপরের বিরুদ্ধে বিদ্ধেষ আর কুফরীর ফাতওয়া দিতে হয় তার প্রাকটিস চলে (অবশ্য সবাই এরকম নয়)। আর, এসব দেখে একজন ইংরেজী শিক্ষিত লোক ভাবেন – এই যদি হয় ইসলাম, তাহলেতো কম্যুনিজম এর চেয়ে ঢের ভালো।

আপনার রেটিং: None

আহবায়কের গুনাবলী

আল্লাহর পথে আহবায়কের গুনাবলী: 

ইসলামের দিকে যিনি মানুষকে আহবান করবেন তার জন্য যে গুনগুলো সবচেয়ে বেশী প্রয়োজনীয় সেগুলো হচ্ছে – তাকে কোমল স্বভাব ও উদার হ্রদয়বত্তার অধিকারী হতে হবে। চরম উত্তেজনাকর অবস্থার মধ্যেও নিজের আচরণে তিনি ভারসাম্য বজায় রাখবেন। অত্যন্ত বিরক্তিকর ও অপছন্দনীয় কথাগুলো তিনি উদার মনে এড়িয়ে চলবেন। বিরোধীদের পক্ষ থেকে তাকে যতই কড়া ভাষায় কথা বলা হোক, যতই দোষারোপ ও মনে ব্যথা দেয়া হোক, যতই ববরোচিত প্রতিরোধ গড়ে তোলা হোক – তিনি তাতে সহনশীল থাকবেন। কঠোর প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করা, তিক্ত ও কড়া কথা বলা এবং প্রতিশোধমুলক মানসিক উত্তেজনায় ভোগা এ কাজের জন্য বিষতুল্য। 

আপনার রেটিং: None

যদি কাগজে লিখেও পাঠানো হতো..

যদি কাগজে লিখেও পাঠানো হতো..

“হে নাবী, যদি তোমার নিকট কাগজে লিখা কোনো কিতাবও নাযিল করতাম এবং মানুষ নিজেদের হাত দিয়ে স্পর্শ করেও দেখে নিতো, তাহলেও আজ যারা সত্যকে অস্বীকার করছে তারা বলতো: এটা সুস্পষ্ট যাদু ছাড়া আর কিছুই নয়। 

তারা বলে, এ নাবীর কাছে কোন মালাইকা পাঠানো হয়না কেনো?০ যদি মালাইকাই পাঠাতাম, তাহলে এতোদিনে কবেই ফায়সালা হয়ে যেতো, তখন তাদেরকে আর কোন অবকাশই দেয়া হতোনা ০০” (আল কুরআন, সুরা আল আনআম, আয়াত ৭-৮)

টীকা ০ : অর্থাৎ কাফিররা বলতো: যখন এ ব্যক্তিকে আল্লাহর পক্ষ থেকে নাবী হিসেবে পাঠানো হয়েছে তখন আকাশ থেকে একজন মালাকও (ফেরেশতা) পাঠানো উচিত ছিলো। এ মালাক লোকদের ডেকে ডেকে বলবে, ইনি আল্লাহর নাবী, এর কথা মেনে চলো, অন্যথায় তোমাদের শাস্তি দেয়া হবে।

আপনার রেটিং: None

লিখা হতে থাকে..

যে ব্যক্তি বা দল কোন পথভ্রষ্টকারী চিন্তা বা কর্মনীতির ভিত রচনা করে সে কেবল নিজের পথভ্রষ্টতার জন্য দায়ী হয়না বরং দুনিয়ায় যতগুলো মানুষ তার দ্বারা প্রভাবিত হয় তাদের সকলের গুনাহের একটি অংশও তার আমলনামায় লিখিত হতে থাকে। যতদিন তার এ গুনাহের প্রভাব বিস্তৃত হয় ততদিন তার আমলনামায় গুনাহ লিখিত হতে থাকে। অর্থাৎ প্রত্যেক ব্যক্তির নেকী বা গুনাহের দায় দায়িত্ব কেবল তার নিজের উপরই বর্তায়না বরং অন্যান্য লোকদের জীবনে তার নেকী ও গুনাহের কি প্রভাব পড়ে সেজন্যও তাকে জওয়াবদিহী করতে হবে।

এ বিষয়টিই একটি হাদিসে বিবৃত হয়েছে এভাবে:  

আপনার রেটিং: None

সুন্নাত নামায কার জন্য?

সুন্নাত নামায কার জন্য?

এক ব্যক্তি প্রশ্ন করেছেন – “সুন্নাত নামায ছেড়ে দিলে কি রাসুলের (সা) শাফায়াত পাওয়া যাবে”? 

উত্তর: প্রশ্নটি মুর্খতাপ্রসুত। আমাদের জানা উচিত যে, সব নামাযই একমাত্র আল্লাহর জন্যে। কোনটাই রাসুলের (সা) নয়। আমরা সুন্নাত, নফল ইত্যাদি আদায় করি কারন “কিয়ামাতের দিন ফরয নামাযের ঘাটতি/ত্রুটি বিচ্যুতি সুন্নাত, নফল দিয়ে পুরণ করা হবে”। তাছাড়া ফরয নামাযে যে সমস্ত ছোট খাট ভুল ত্রুটি ঘটে তা সুন্নাত/নফলের মাধ্যমে কাফফারা হয়। 

এ নামাযকে আমরা সুন্নাত নামে অভিহিত করি একারনে যে, রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এটি নিয়মিত আদায় করতেন এবং উম্মাতকে তাকিদ করেছেন।

আপনার রেটিং: None

Story of Dark

আধারের গল্প

আমি কাগজ টির দিকে একবার চোখ বুলালাম। এর পর আরো একবার। এরপর আবার। আমার মনে এখনো ক্ষীন এক চিলতে আশা রয়েছে। আমি হয়ত ভুল দেখছি অথবা এখানেই ভুল লেখা রয়েছে। 

আমি রিপোর্টের ওপরে থাকা নাম্বারে ফোন দিলাম। অপর প্রান্ত থেকে ও বলল। ঐখানে কিচ্ছু ভুল নেই। 

হতাশ ভাবে ফোন রেখে আমি বেডে শুয়ে পড়লাম। কাগজ টা এখনো আমার হাতে ধরা। সিগারেট খেতে ইচ্ছে করছে। কিন্ত উঠে জালাবার শক্তি টুকু ও পাচ্ছি না৷ 

সিলিংয়ের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে কখন ঘুমিয়ে পড়েছি জানি না। 

ঘুম যখন ভাঙল তখন বিকাল।  আমি তখন ও সকালের ঐ ড্রেস পরে শুয়ে আছি।  একবার মনে হল রিপোর্টের কথা। পরক্ষণেই ভাবলাম। ঐটা হয়ত স্বপ্ন ছিল। ধুর, ঘুমের জন্য ক্লাস হুদাই মিস দিলাম!!  নিজেকে শাপ শাপান্ত করতে করতে ওয়াশরুম থেকে ফ্রেশ হয়ে এলাম। 

আপনার রেটিং: None

কি ছিল সেসব চিঠিতে..

কি ছিল সেসব চিঠিতে..

ষষ্ঠ হিজরীর শেষ দিকে রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হোদাইবিয়া থেকে ফিরে আসার পর বিভিন্ন বাদশাহ ও আমীরের নামে চিঠি প্রেরণ করে তাদেরকে ইসলামের দাওয়াত দেন। চিঠিগুলো অধ্যয়ন করলে দেখা যায় যে, সকল চিঠি একই ধরণের ছিলনা। যেমন হাবাশার বাদশাহ নাজ্জাশীর প্রতি লিখা চিঠির ভাষা আর পারস্য সম্রাট খসরু পারভেজ (কিসরা), মিসর সম্রাট জুরাইজ ইবনু মাত্তা (মুকাওকিস) প্রমুখকে লিখা চিঠি এক নয়। 

পারস্য সম্রাট কিসরাকে রাসুলুল্লাহ সা: লিখেন:

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

মিসর সম্রাট মুকাওকিসকে

তখন (৬ষ্ট হিজরীতে) মিসর শাসন করতো জুরাইজ ইবনু মাত্তা। তার উপাধী ছিলো মুকাওকিস। রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানে তার চিঠি পৌছানোর জন্য সাহাবী হাতিব ইবনু আবী বালতায়া (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে মনোনীত করেন। 

হাতিব রা: চিঠি পৌছালেন এবং কথাও বললেন। যেসব কথা তিনি মিসর সম্রাটকে বলেছিলেন তা অবাক করার মত। তিনি বলেছিলেন:

“ আপনার পুবে এখানে এমন একজন শাসক অতীত হয়েছেন যিনি নিজেকে খোদা মনে করতেন। আল্লাহ তায়ালা তাকে দুনিয়া ও আখিরাতের আযাবে নিমজ্জিত করে দৃষ্টান্তমুলক প্রতিশোধ গ্রহণ করেছেন। অন্যদের থেকে আপনারও উপদেশ হাসিল করা উচিত। আপনি নিজেই উপদেশ লাভের স্থলে পরিণত হন, এমনটি কাম্য নয়।

শুনে মুকাওকিস বললো: আমরা একটি ধর্মের অনুসারী। যতদিন অন্য কোন ধর্ম সে ধর্ম থেকে উন্নততর প্রমাণিত না হয় ততদিন আমরা তা পরিত্যাগ করতে পারিনে। (উল্লেখ্য যে, মুকাওকিস খৃষ্টধর্মের অনুসারী ছিলেন)।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

হেরাক্লিয়াসের ঘটনা

হেরাক্লিয়াস কিসরার মতো ছিলেননা

আল্লাহর নাবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের চিঠি যখন পারস্য সম্রাট কিসরার কাছে পৌছে তখন সে রাগে ও অহংকারে চিঠিটি টুকরো টুকরো করে ছিড়ে ফেলে, আর বলে “কে এই ব্যক্তি যে কিনা নিজের নাম আমার নামের আগে লিখার দু:সাহস দেখাল। বাযানকে (তৎকালীন ইয়েমেনের গভর্ণর) লিখো, এ লোকটিকে যেন গ্রেফতার করে আমার কাছে পাঠিয়ে দেয়”।

কিন্তু রোম সম্রাট হেরাক্লিয়াস কিসরার মতো ছিলেননা। রাসুলুল্লাহর চিঠি যখন তার নিকট পৌছে (পারস্যের সাথে যুদ্ধে জয়লাভের পর হেরাক্লিয়াস তখন বাইতুল মাকদিসে অবস্থান করছিলেন) অত্যন্ত তাজিমের সাথে তা তিনি গ্রহন করেন। শুধু তা-ই নয় মাদীনার দুতের সম্মানে বিরাট জাকজমকপুর্ন অনুষ্ঠানেরও আয়োজন করেন এবং আদেশ জারী করেন: “এ অঞ্চলে মাক্কার আর কোন ব্যক্তি থাকলে তাকে আমার কাছে আনা হোক”। ঘটনাক্রমে কুরাইশ নেতা আবু সুফিয়ান বাণিজ্যিক সফরে ওখানে ছিল।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)
Syndicate content