Light Upon Light -ইসলামিক টিভির একটি সময়োপযোগী আয়োজন

'ইসলাম' সর্বযুগের সর্বাধুনিক একটি জীবন পদ্ধতির নাম। ইসলাম সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান রাখেন এমন প্রতিজন মুসলিম একথা বিশ্বাস করে। এখানে বিশ্বাস শব্দটি যথার্থ নয়; বরং প্রমাণিত সত্য বলাই যথার্থ হবে।

'বিশ্বাস' কেন বলা হলো? তা এজন্য যে, সকল মুসলমান পড়াশোনা করে ইসলামকে মেনে চলছে না; বরং বর্তমানে অধিকাংশই আলেম তথা জ্ঞানীদের মুখ থেকে শুনে শুনে ইসলাম মানতে অভ্যস্ত হয়ে গেছে। তাই আলেম বা জ্ঞানীগণ যা বলেন তাতে তাদের বিশ্বাস করতে হয়। অথচ 'আলকুরআন আল্লাহর বাণী'-এটুকুই বিশ্বাস করতে বলা হয়েছে। বাকী সত্যতা, যথার্থতা প্রমাণ তো আল-কুরআনেই বিদ্যমান রয়েছে।

আধুনিক নাস্তিক্যবাদে প্রভাবিত 'অতি শিক্ষিত' কিছু মূর্খ(ইসলামী পরিভাষায় জাহেল) মানুষের শরীরে ধর্মের নামে এলার্জি দেখা দেয়। মানবতার চিরশত্রু শয়তানের এক অত্যাধুনিক আবিস্কার এই নাস্তিক্যবাদ। অতিরিক্ত ঠান্ডায় যেমন দু'চোখে এলার্জি দেখা দেয় আর তখন রোগীর স্বাভাবিক দেখার শক্তি লোপ পায় কেননা দু'চোখের পাতাই তো ঠিকমত মেলতে পারছে না। শুধু মাঝে মাঝে দু'চোখের পাতা খুলে ঝলক ঝলক দেখে নেয়। ঠিক তেমনি নাস্তিক্য রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরাও ইসলামের পরিপূর্ণ আলো দেখতে পায় না; বরং আক্রান্ত এলার্জির কারণে মহাসত্যের মাঝে ত্রুটি খোঁজার জন্য ঝলক ঝলক দৃষ্টি দিতে পারে মাত্র। মহাসত্য তাই তাদের কাছে কখনোই উদ্ভাসিত হয় না।

অযাচিতের ন্যায় বলে বেড়ায়; বিজ্ঞানই সব। ইসলাম বিজ্ঞানের কাছে হেরে গেছে। মহাবিশ্বের বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে ইসলামের ব্যাখ্যা ভুল। ইসলাম সাড়ে চৌদ্দশ' বছরের পুরোনো...। ইত্যাদি।

কিন্তু ইসলামের আলো যার অন্তরে প্রবেশ করতে পেরেছে, সে তার অন্তরদৃষ্টি দিয়ে দেখেছে- ইসলামই সবচেয়ে বড় বিজ্ঞান, যে কথা সাড়ে চৌদ্দশ' বছর আগে একজন নিরক্ষর নবী বলে গিয়েছেন আজকের আধুনিক বিজ্ঞান কোটি কোটি ডলার ব্যয় করে হাজারো মানুষের অক্লান্ত পরিশ্রমের পর তা একটু একটু করে প্রমাণ করছে মাত্র; এর বেশী কিছু নয়। মুসলমানগণকে নানা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে শিক্ষা-দীক্ষার উন্নত শিখরে পৌঁছুতে দেয়নি শত্রুরা। ষড়যন্ত্র এঁটেছে অর্থ দিয়ে, অশ্লীল সংস্কৃতি পাচার করে, ভোগ-বিলাসে মত্ত রাখার যাবতীয় ব্যবস্থা করে। অন্যদিকে ইসলাম-বিদ্বেষী মনোভাবাপন্ন মুসলিম সন্তানদেরকে অঢেল সুযোগ সুবিধা দিয়ে, উচ্চ শিক্ষার সুযোগ দিয়ে সর্বোপরি তাদের দ্বারাই ইসলামের বিরুদ্ধে কথা বলিয়ে।

ইসলামের অধিকাংশ আলেম মনে করেন যে, বিজ্ঞান দিয়ে কুরআনকে ব্যাখ্যা করা যাবে না। হাঁ, একথা যুক্তিসঙ্গত যে, বিজ্ঞান দিয়ে কুরআনের ব্যাখ্যা চলে না। কারণ, বিজ্ঞান এক কথায় বিশ্বাসী নয়; যেখানে কুরআন সাড়ে চৌদ্দশ' বছর পূর্বে যা বলেছে আজো এবং কেয়ামত পর্যন্ত তাতেই বহাল থাকবে ইনশাআল্লাহ্। বিজ্ঞান কখনোই এক থিওরীতে অটল থাকতে পারেনি। উন্নতির সাথে সাথে কিছুদিন পরপর ধারণাকে পাল্টাতে বাধ্য হয়েছে।

তবে বিজ্ঞানের উন্নতির ফলে মহাবিশ্বের নতুন নতুন যাকিছু মানুষ পরীক্ষিতভাবে জানতে পেরেছে। সেসব কি কুরআনে আল্লাহ্ কোথাও বলেছেন আমাদেরকে? সে অনুসন্ধানে ইসলামের কোন বাধা আছে বলে আমার জানা নাই। বরং সে অনুসন্ধান শিক্ষিত সমাজকে, বিজ্ঞান প্রেমী তথা বিজ্ঞানীদেরকে কুরআনের আরো কাছে টেনে আনতে সহায়ক হবে বলে আমি মনে করি। ইসলামিক টিভি "Light Upon Light" অনুষ্ঠানের মাধ্যমে তেমনি একটি অসাধারণ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। আমি সত্যিই মুগ্ধ। তাই এ অনুষ্ঠানের সবগুলো পর্ব আমার ব্লগের এ পোষ্টে জমা রাখার তাগিদ অনুভব করছি নিজের মধ্যে। আশা করছি আপনাদেরকেও সাথে পাবো- ভিডিও গুলো দেখাতে, বন্ধুদের মাঝে শেয়ার করাতে এবং মতামত জানানোতে।

light upon light>>>>>نور على نور >>>>> আলোর উপর আলো:
Promo:

প্রথম পর্ব: "নূর থেকেই সৃষ্টি"

দ্বিতীয় পর্ব: "মহাবিশ্বের সৃষ্টি ও বিভিন্ন দাবী"

তৃতীয় পর্ব: "বিগব্যাঙ্গ মহা-বিস্ফোরণ"

আপাততঃ এক'টিই খুঁজে পেলাম ইউটিউবে। বাকীগুলো পেলে এ পোষ্টেই সন্নিবেশিত করার ইচ্ছে রাখছি। সুমন নামরে এক ইউজার ইউটিউবে আপলোড করছেন, তাকে অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি এবং তার এ কার্যক্রম নিয়মিত রাখার অনুরোধ করছি।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 4 (টি রেটিং)