শিক্ষার ধারা নির্বাচন ও জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তা অর্জন

পৃথিবী আমাদের জন্য এমন এক আবসস্থল; যেখানে শিক্ষা ব্যতীত এক পদও অগ্রসর হওয়া সম্ভব নয়। দোলনা থেকে নিয়ে কবর পর্যন্ত প্রতিনিয়ত আমাদেরকে শিখতে হয়, ইচ্ছায় এবং অনিচ্ছায়। সে দৃষ্টিকোণ থেকে যদি কোন গবেষক বলে বসেন যে, শিক্ষাই জীবন, তাহলে তিনি মোটেও ভুল বলবেন না। এ বিশ্বভুবন দু’টো মৌলিক দিক নিয়ে গঠিত, তাহলো- পক্ষ এবং বিপক্ষ। এক পক্ষে যদি ধরি আলো তাহলে অপর পক্ষে অন্ধকার, তেমনি ভালো-মন্দ, সুখ-দুঃখ, লাভ-ক্ষতি ইত্যাদি। ঠিক তেমনি শিক্ষার ক্ষেত্রেও রয়েছে সুশিক্ষা-কুশিক্ষা, ভালো শিক্ষা-মন্দ শিক্ষা, দুনিয়ামুখী শিক্ষা-আখেরাতমুখী শিক্ষা ইত্যাদি। কিন্তু যেভাবেই হোক, শিক্ষা ছাড়া জীবন পরিচালনা করা অসম্ভব এবং ধর্মীয় দৃষ্টভঙ্গিতে শিক্ষা ছাড়া দুনিয়ার পরবর্তী জীবনও বিপর্যস্ত।

মূলতঃ শিক্ষার ইতিহাস বহু পুরোনো হলেও মানবজাতির জন্য তাদের সৃষ্টির দিন থেকেই শুরু। আল্লাহ্ তা’আলা মানুষের আদি পিতা আদম ‘আলাইহিস্ সালামকে সৃষ্টি করার পর ফিরিশতাদের কাছে মানুষের বড়ত্ব তুলে ধরার জন্য কিছু আলাপ করেছিলেন। সেখানে তিনি মানুষ সৃষ্টির কথা জানালে ফিরিশতারা তাতে বিপর্যয়ের আশংকা করেন, জবাবে আল্লাহ্ তা’আলা কিছু জিনিসের নাম জিজ্ঞাসা করেন ফিরিশতাদেরকে, তারা তা বলতে অপরাগতা স্বীকার করে। তখন আল্লাহ্ তা’আলা আদম ‘আলাহিস্ সালামকে সমস্ত জিনিষের নাম শিক্ষা দেন। এ ঘটনাটি কুরআনের মাধ্যমে আমরা জানতে পারি। এর দ্বারা শিক্ষার আদি ইতিহাস আমাদের কাছে প্রকাশিত হয়।

তারপর পৃথিবীর মানুষ নানা উত্থান পতনের মাধ্যমে তাদের শিক্ষার কখনো উন্নতি করে, কখনো অবনতি করে, কখনো বা তা সমূলে ধ্বংস হয়ে যায় তাদের সাথে সাথে। এসব কিছু আমাদের কাছে পরিষ্কার হবে যদি আমরা প্রত্নতত্ত্ববিদগণের গবেষণাগুলোর দিকে নযর দিতে পারি। উদাহরণতঃ পৃথিবীর বিজ্ঞানীরা আজো খুঁজে বেড়াচ্ছে কি রাসায়নিক ব্যবহৃত হয়েছিল প্রাচীন মিশরের মমী সংরক্ষণে ইত্যাদি।
বর্তমান সময়টা শিক্ষার সর্বোচ্চ পর্যায়ে রয়েছে বলে মানুষের জ্ঞান এখনো মনে করে। তবুও আশংকা থেকে যায় বহু অজানা ইতিহাসের; যা আজো মানুষের অলক্ষ্যেই রয়ে গেছে, হয়ত অনাগত প্রজন্ম সেসবের সন্ধান লাভ করতে পারবে কখনো।

ইসলামী শিক্ষার ইতিহাসের সাধারণ ধারনায়ও শিক্ষার ইতিহাসই মূলতঃ ইসলামী শিক্ষার ইতিহাস। যেহেতু যুগে যুগে ইসলামকে বিকৃত করে ফেলেছে পথভ্রষ্ট মানুষেরা, তাই মহান স্রষ্টা তাদেরকে সুশিক্ষায় শিক্ষিত করে ইসলামের সঠিক অনুসারী হিসেবে তৈরী করার জন্য শিক্ষক স্বরূপ নবী-রাসূলগণকে পাঠিয়েছিলেন। তাদের মধ্যে সর্বশেষ শিক্ষক মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম পরিপূর্ণ ও চূড়ান্ত শিক্ষার উপকরণ ও সিলেবাস নিয়ে এসেছিলেন মানুষের নিকট। পৃথিবীর ধ্বংসপূর্ব পর্যন্ত এ শিক্ষাই কার্যকর থাকবে মানুষের সংশোধন, সংস্কার, প্রশিক্ষণ, ব্যবহার ও সাফল্য লাভের জন্য।

ইসলামের এ শিক্ষার শুরু হয়েছিল আজ থেকে প্রায় সাড়ে চৌদ্দশ’ বছর পূর্বেকার এক রাতে মক্কার হেরা গূহায়। সেখানে শিক্ষক ছিলেন স্বয়ং বিশ্বস্রষ্টা মহান আল্লাহ্ তা‘আলা, তিনি শিক্ষা দেয়ার মাধ্যম হিসেবে তাঁর ক্লাসের আলোচনা, আদেশ-নিষেধ, পরীক্ষা ইত্যাদি ছাত্রের নিকট পৌঁছে দেয়ার জন্য নিযুক্ত করেছেন ফিরিশতা জিবরাঈল ‘আলাইহিস্ সালামকে আর ছাত্র ছিলেন বিশ্বনবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম। এ শিক্ষার প্রথম শব্দ ছিল- “إقراء” বা ‘পড়’। তারপর আল্লাহ্ তাঁর এ ছাত্রকে নিযুক্তি দিয়েছেন সমগ্র মানব জাতির শিক্ষক হিসেবে। তারপর ধীরে ধীরে আল্লাহর শিক্ষাকে জিবরাঈলের মাধ্যমে মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়াসাল্লাম হয়ে, অজস্র ছাত্র-শিক্ষকের ধারা অতিক্রম করে আজো আমাদের নিকট অবিকৃত, সন্দেহাতীত আল কুরআন এবং বিশুদ্ধ সুন্নাহ্ বর্তমান। ইসলামী শিক্ষার ইতিহাস সীমাহীন, অবর্ণনীয়, প্রতিজন বিশুদ্ধ মুসলিমই ইসলামী শিক্ষার ইতিহাস।

শিক্ষার প্রকারায়ন প্রসঙ্গে এসে আমরা বিভিন্ন ভাবে শিক্ষার প্রকারায়ন করতে পারি। যেমন-

১) ব্যবহারিক শিক্ষা ও প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা
২) দুনিয়াওয়ী শিক্ষা ও দ্বীনী শিক্ষা
৩) সুশিক্ষা ও কুশিক্ষা ইত্যাদি।

সংক্ষেপে এগুলো সম্বন্ধে বলা যায়-
ব্যবহারিক শিক্ষা- যে শিক্ষা মানুষ অর্জন করে কথায়, কাজে, আচরণে ও কায়িক শ্রমের মাধ্যমে।

প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা- যে শিক্ষা মানুষ অর্জন করে কোন প্রতিষ্ঠানে যোগ দিয়ে, তথাকার সিলেবাস, নিয়মনীতি মেনে, আলোচনা-পর্যালোচনা শ্রবণ করে, অধ্যয়ন-অধ্যবসায়ের মাধ্যমে এবং অবশেষে পরীক্ষা দিয়ে যাচাইয়ের মাধ্যমে।

দুনিয়াওয়ী শিক্ষা- যে শিক্ষা মানুষ অর্জন করে শুধুমাত্র দুনিয়ার জ্ঞান ও বিষয়াদিকে ভালোভাবে জানার জন্য এবং সেসবকে কাজে লাগিয়ে দুনিয়াতে উত্তম জীবন যাপন করার জন্য।

দ্বীনী শিক্ষা- যে শিক্ষা মানুষ অর্জন করে তার দ্বীন-ধর্মকে জানার জন্য, স্রষ্টা-প্রতিপালকের পরিচয় লাভ করার জন্য, স্রষ্টার বিধিবিধান জানা ও মানার জন্য, আখেরাতের সাফল্য লাভ করার জন্য, সৃষ্টির অধিকার, দায়িত্ব, কর্তব্য, মর্যাদা ইত্যাদি জানার জন্য, সৃষ্টির সেরা জীবের মর্যাদা লাভ করার জন্য এবং সর্বোপরি উত্তম নৈতিকতা অর্জনের জন্য।

সুশিক্ষা- এক কথায় যে শিক্ষা অর্জনে মানুষ পরিবারের উত্তম সদস্য, সমাজের ভালো সভ্য, দেশের সুনাগরিক এবং এ বিশ্বের একজন ভালো মানুষ হতে পারে, তাকেই সুশিক্ষা বলতে পারি।

কুশিক্ষা- যে শিক্ষা মানুষকে তার মনুষ্যত্ব হারাতে সহায়তা করে, তার ভেতরকার পশুত্বকে জাগিয়ে তোলে, হিংস্রতার চূড়ান্ত রূপ প্রকাশিত করে, সর্বোপরি নূন্যতম নৈতিকতা হারিয়ে পশুর চেয়েও অধম অবস্থানে নিয়ে যায় যে শিক্ষা; তা-ই কুশিক্ষা।

শিক্ষার প্রকারভেদের নানাদিক তুলে ধরা হলেও মূলতঃ শিক্ষার দু’টো মাত্র দিক- জাগতিক ও মহাজাগতিক। এখানে জগত বলতে এই পৃথিবীসহ দৃশ্যমান ভূমণ্ডলকে বুঝে নিতে হবে। আর মহাজাগতিক বলতে মানুষের পূর্বের অজানা অবস্থা, পৃথিবী এবং এর পরবর্তী অনন্ত জীবন ও জগতকে বুঝতে হবে। সুতরাং সে হিসেবে এ উভয়বিদ শিক্ষার উৎসও দু’ধরনের-

জাগতিক শিক্ষার উৎস- জগতে দৃশ্যমান যাবতীয় বস্তুকেন্দ্রিক জ্ঞান যা মানুষ পঞ্চ ইন্দ্রিয়ের দ্বারা অর্জন করতে সক্ষম হয়।

মহাজাগতিক শিক্ষার উৎস- ঐশীবাণী ও ওহী কর্তৃক পরিচালিত মহাজীবন পদ্ধতি যা পরিপূর্ণ কথায়, কাজে ও সমর্থনে।

অথবা প্রধানতঃ দু’ভাগে বিভক্ত করা যায় শিক্ষার উৎসকে-
১) ঐশ্বরিক উৎস
অর্থাৎ, আল্লাহ্ প্রদত্ত উৎস। এ উৎসে দু’টি দিক রয়েছে, একটি প্রত্যক্ষভাবে আল্লাহর পক্ষ হতে, যার নাম আল কুরআন এবং আরেকটি রাসূল (সা)-এর মাধ্যমে পরোক্ষভাবে আল্লাহর পক্ষ হতে যার নাম সুন্নাহ্।

২) জাগতিক উৎস
অর্থাৎ, শুধুমাত্র জাগতিক বা সৃষ্টি কেন্দ্রিক যেসব উৎস পাওয়া যায় সেসবকে বুঝায়।

একথা সর্বজন স্বীকৃত যে, দুনিয়াওয়ী শিক্ষা মানুষকে শুধুমাত্র দুনিয়ায় টিকে থাকার জন্য তৈরী করে। দুনিয়াতে মানুষ ছাড়াও বহুবিধ প্রাণীকুলের বসবাস রয়েছে। তারাও পৃথিবীতে টিকে থাকার জন্য নিজ নিজ পদ্ধতিতে শিক্ষা অর্জন করে থাকে। সেক্ষেত্রে মানুষও যদি শুধুমাত্র পৃথিবী কেন্দ্রিক শিক্ষাই অর্জন করে, তাহলে মানুষও অন্যান্য প্রাণীর মত এক ধরনের প্রাণীই থেকে যাবে।

পক্ষান্তরে ইসলামী শিক্ষা মানু‍ষকে এ দীক্ষা দেয় যে, মানুষের কোন নিঃশেষ নেই; পৃথিবীর জীবন মানুষের অনন্ত জীবনের একটা মঞ্জিল মাত্র। অল্প কিছু দিনের ঠিকানা তথা কর্মক্ষেত্র তথা পরীক্ষাক্ষেত্র মাত্র। তাই ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থা মানুষের জীবন বলতে হিসাব করে পৃথিবীর পূর্বেকার বিস্মৃত জীবন থেকে শুরু করে পৃথিবী হয়ে আখেরাতের অনন্ত জীবন পর্যন্ত; যার কোন শেষ নেই। তাই আখেরাতের প্রত্যাশী প্রতিটি মানুষকে ইসলামী শিক্ষা অর্জন করতেই হবে; অন্যথা তার বিশ্বাসের সাথে তার শিক্ষার সংঘাত লেগে যাবে এবং পরিণতিতে সে বিপর্যয়ের সম্মুখীণ হবে পৃথিবীতে এবং পৃথিবী-পরবর্তী সময়েও।

এছাড়াও ইসলামী শিক্ষা মানুষের নৈতিকতাকে সমৃদ্ধ করে থাকে যা তাকে সম্মানিত করে, সফল করে এই পৃথিবীতেও। তার জীবনকে সাজিয়ে দেয়, প্রতিটি কাজকে সুশৃংখল করে তোলে, সবার অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে, আর এভাবেই তাকে সবার কাছে প্রিয় করে তোলে ইসলামী শিক্ষা।

সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এ ইসলামী শিক্ষাকে তিনটি পর্যায়ে ফেলা যায়-
১) শৈশব-কৈশরের শিক্ষা: ক. পিতামাতার কাছ থেকে শিক্ষা, খ. মক্তবের মাধ্যমে শিক্ষা, গ. প্রাথমিক শিক্ষা, ঘ. মাধ্যমিক শিক্ষা
২) যৌবনের শিক্ষা: ক. কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা, খ. উচ্চতর ব্যক্তিগত মাধ্যমে শিক্ষা, গ. সামাজিক প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা, ঘ. মসজিদের মাধ্যমে শিক্ষা
৩) পরিণত ও বার্ধক্যের শিক্ষা: ক. জ্ঞানার্জনের জন্য শিক্ষা, খ. নতুন পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য শিক্ষা

১) শৈশব-কৈশরের শিক্ষা
ক. পিতামাতার কাছ থেকে শিক্ষা- সন্তান গর্ভে আসার তিনমাস পর থেকেই পিতামাতার জন্য জরুরী হয়ে পড়ে সন্তানকে শিক্ষা দান করা। গর্ভকালে তাই পিতামাতাকে ভালো চিন্তা করা, ভালো ভালো কাজ করা, ভালো কথা বলা ইত্যাদির পরামর্শ দেয়া হয়। তারপর ভূমিষ্ঠ হওয়ার পর থেকে শুরু করে মক্তবে পাঠানোর পূর্ব পর্যন্ত ভাষা শিক্ষা দেয়া, উত্তম বুলি শেখানো, ছোট ছোট ইসলামী শব্দাবলী, দো’আ, সূরা, সম্বোধন, আদব-কায়দা, শিষ্টাচার, বড়দের সম্মান দেখানো, ছোট বা সমবয়সীদের আদর বা মিলেমিশে থাকার শিক্ষা ইত্যাদি শেখানো পিতামাতার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। আর এভাবেই সন্তান শৈশবে তার শিক্ষার প্রথম পাঠ অর্জন করে নিজ নিজ পিতামাতার নিকট হতে। তাই যে দম্পতি ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত, তাদের সন্তানগণও সে ধারায় গড়ে উঠে।

খ. মক্তবের মাধ্যমে শিক্ষা- দেশে দেশে মক্তবের সংজ্ঞাটা কিছুটা বিভিন্ন‍। যেমন আমাদের অঞ্চলে একসময় এবং এখনো কিছু কিছু আছে ভোর বেলায়, আবার আরব দেশগুলোতে বিকেল বেলায়ও মক্তবের শিক্ষা প্রচলিত আছে। এখানে শিশুরা কুরআন, তাজওয়ীদ, ইবাতাদের নিয়মকানুন, ইসলামের প্রাথমিক ধারনা, দো’আ ইত্যাদি শিখে থাকে। বলতে গেলে এটাই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার একটা মজবুত ভিত্তি হয়ে থাকে তার বাকী জীবন জুড়ে।

গ. প্রাথমিক শিক্ষা- আরবীতে বলে ‘ইবতেদা‘য়ী’। এতে শিশুরা জীবন ও জগৎ সম্পর্কে প্রাথমিক ধারনা লাভ করতে সক্ষম হয় এবং এখানে তার নিজের ভেতরকার যোগ্যতাকে ধীরে ধীরে চেনা শুরু করে। শিশুকে যদি তার পিতামাতা দ্বীনী শিক্ষার জন্য মাদ্রাসায় ভর্তি করায়, তাহলে সে দ্বীন শেখার সাথে সাথে দুনিয়াও শিখে নেয়ার সুযোগ পায়।

ঘ. মাধ্যমিক শিক্ষা- এ পর্যায়ে আরেক ধাপ এগিয়ে দ্বীন ও দুনিয়ার বিষয়গুলোর আরো গভীরে প্রবেশ করে শিক্ষার্থী। পৃথিবীকে নতুন করে জানতে শুরু করে এখানে এসে। শৈশবে মনে মনে আঁকা স্বপ্নের ছবিটি বাস্তবের ধাক্কা ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যায় এ মাধ্যমিকে এসে। আবার শৈশবের ছেলেমানুষী থেকে বেরিয়ে মাধ্যমিকে এসে জীবনের নতুন নতুন রঙ দেখতে পায় কিশোর। জীবনের ধারা নির্বাচনে মাধ্যমিক পর্যায় তাই একটা টার্নিং পয়েন্ট হয়ে থাকে।

২) যৌবনের শিক্ষা
ক. কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষা- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার উচ্চতম স্তর হলো এ পর্যায়। এখানে আর সার্বিকতা থাকে না; বরং শিক্ষার্থীরা নিজের জন্য যে বিষয় বেছে নিয়েছে, সে বিষয়েই তাকে জ্ঞান অর্জন ও গবেষণা করে যেতে হয় এ পর্যায়ে এসে। প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার সর্বশেষ স্তরও বলা যায় এ পর্যায়কে।

খ. উচ্চতর ব্যক্তিগত মাধ্যমে শিক্ষা- প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষাই সব নয়; তাই মানুষ ব্যক্তিগত উদ্যোগে অন্যান্য বইপুস্তক, আলোচনা-পর্যালোচনা, সেমিনার-সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা, শিক্ষা সফর ইত্যাদির মাধ্যমে শিক্ষা লাভ করে নিজের মানকে আরো উন্নত করার প‌্রয়াস পায়। ইসলামী শিক্ষায় এসবের অবারিত সুযোগ রয়েছে।

গ. সামাজিক প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা- এছাড়াও বিভিন্ন সামাজিক প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠতে দেখা যায়, যেগুলোকে নানাবিধ নামকরণ করে থাকে মানুষেরা। যেমন- পাঠাগার, ক্লাব, সমবায় সমিতির প্রশিক্ষণ বিভাগ, খানকা, গণশিক্ষা ইত্যাদি। এসব প্রতিষ্ঠান থেকে শিক্ষা নেয়ার ক্ষেত্রে শিক্ষার বিষয় ও পদ্ধতি জেনে নেয়া খুবই জরুরী। অন্যথা বিপথে পরিচালিত হওয়ার আশংকা থেকে যায়।

ঘ. মসজিদের মাধ্যমে শিক্ষা- ইসলামী জীবন ধারায় মসজিদের ভূমিকা অপরিসীম। মসজিদ শুধুমাত্র একটি ইবাদাতগৃহই নয়; বরং এ মসজিদ কখনো সামাজিক সম্মিলন কেন্দ্র, কখনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, কখনো বিচারালয় আবার কখনো সংসদের ভূমিকাও পালন করতে দেখা গেছে। তাই মসজিদে বসে কুরআন শিক্ষা করা, ইসলামের নানা দিক ও বিভাগ নিয়ে বৈঠক আকারে আলোচনা পর্যালোচনার মাধ্যমে ইসলামের গভীর জ্ঞান অর্জন করা সম্ভব। মক্কার মসজিদুল হারাম ও মদীনার মসজিদুন্ নববীতে আজো বিশাল হিফজ্ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মাধ্যমিক স্তর পর্যন্ত বিশেষ শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চালু আছে। শিশু-কিশোর থেকে পরিণত বয়সীরাও এখানে ছাত্র।

৩) পরিণত ও বার্ধক্যের শিক্ষা
ক. জ্ঞানার্জনের জন্য শিক্ষা- শুরুতেই বলা হয়েছে যে, দোলনা থেকে কবর পর্যন্ত মুসলমানদের শিক্ষা জীবন; বাণীটি ইসলামের হলেও এ বাণীর বিস্তৃতি সকল মানুষের মধ্যে প্রযোজ্য। তাই বয়স জ্ঞানার্জনের ক্ষেত্রে কোন ধর্তব্য বিষয়ই নয়।

খ. নতুন পৃথিবীর সাথে তাল মিলিয়ে চলার জন্য শিক্ষা- পৃথিবী প্রতিনিয়ত সম্মুখে এগিয়ে যাচ্ছে। কেউ কেউ একে এগিয়ে গিয়েছে না বলে ধ্বংসের দিকে এগুচ্ছে বলেও আখ্যা দিয়ে থাকেন। যাইহোক, নতুন নতুন আবিস্কারে পৃথিবী এখন প্রতিদিনই নতুন গতি পাচ্ছে। এর বাসিন্দা হিসেবে প্রতিজন মানুষকে তাই সাথে সাথে তাল মিলিয়ে এগিয়ে যেতে হয়, জানতে হয় কি এসেছে নতুন, কি তার ব্যবহারবিধি, কি তার উপকার, কি অপকার ইত্যাদি। অন্যথা চলমান পৃথিবীতে সে হয়ে পড়বে অচলমুদ্রা।

অতএব, প্রতিজন মানুষকে ফিরে আসা উচিত মহাজাগতিক বিশ্বাসের দিকে, যেখান থেকে সে লাভ করতে পারবে তার পৃথিবী-পূর্বেকার অবস্থান, পৃথিবীতে আগমনের উদ্দেশ্য ও করণীয় এবং পৃথিবী-পরবর্তী অনন্ত জীবনের সাফল্য-ব্যর্থতার জ্ঞান। আর এ জ্ঞান রয়েছে একমাত্র ইসলামী শিক্ষা ব্যবস্থায়। জীবনের যে পর্যায়েই উপনীত হোক না কেন, উচিত নিজেদেরকে ইসলামী শিক্ষার সাথে সম্পৃক্ত করা, সন্তানদেরকে ইসলামী শিক্ষায় শিক্ষিত করে সত্যিকারের মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যারা পৃথিবীতে বিচরণশীল প্রাণীর বাইরেও নিজেদের মর্যাদা সম্পর্কে উপলব্ধিসম্পন্ন হবে।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)

সালাম

আপনার সাথে আমিও একমত, আমাদের সবাইকেই ইসলামই শিক্ষার দিকে অগ্রসর হওয়া উচিৎ। আপনাকে ধন্যবাদ গুরুত্বপূর্ণ পোষ্টের জন্য

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 3.7 (3টি রেটিং)