পৃথিবীর দিনগুলো: ১৭ এপ্রিল ২০১২

গতকাল থেকে একটা প্রশ্ন মনের মাঝে খোঁচাখুঁচি করে যাচ্ছে- "ভালবাসাবাসিতে শতকরা কত ভাগ অভিনয়?"। এ কথা সত্য যে, পৃথিবীতে শতভাগ সম্ভব নয়; এটা সে জন্য যথার্থ জায়গাও নয়। তবু একটা ভাগাভাগি হওয়া দরকার। অনেক ভেবেচিন্তে কিছু সাধারণ হিসেব মেলাতে চেষ্টা করলাম। তা এরূপ- সম্পর্কের হিসেবে ভালবাসা বিভক্ত। একেকটি সম্পর্কের জন্য একেক রকম উপাদান, পর্যায় ও পরিণতি দৃশ্যমান। পরিমাপের ক্ষেত্রেও বিভিন্ন পর্যায়ের, কোথাও দশ ভাগ ভালবাসা তো নব্বই ভাগ অভিনয়, কোথাও আধা আধা, কোথাও আরেকটু বেশী। জীবনের বাস্তবতায় মানুষ নিজের মনকে অন্যের কাছে পুরোপুরি তুলে ধরতে পারে না তা যত প্রিয়জনই হোক না কেন। এ হিসেবে পৃথিবীতে প্রতিটি মানুষ একা।

অনেককেই দেখা যায় নিজেকে নিরাপদ রাখতে প্রয়োজনের অতিরিক্ত তথ্য প্রিয়জনকেও সরবরাহ করে না। তাদের ক্ষেত্রে যদিও মনের ক্ষেত্রে কিছুটা দূরত্ব থেকে যায় তথাপি সম্পর্কের ক্ষেত্রে নিরাপদ জীবন যাপন করে। ব্যতিক্রম ঘটে এমন কিছু মানুষের জীবনে যারা তাদের ভালবাসাকে শতাংশের পরিমাণে বৃদ্ধি করতে চায়, চায় নিজেদের মাঝে পরিচ্ছ্ন্ন থাকতে। এমনটি দাম্পত্য জীবনের ভালবাসার ক্ষেত্রে। কিন্তু সীমাহীন দুর্বলতা ধারনকারী মানুষের পক্ষে সে ধকল সামলানো কি এতই সহজ? তাই উভয় পক্ষের শক্ত অবস্থানেও মাঝে মাঝে ফাটল ধরে। কেউ কেউ সে কারণেই বলে থাকে যে, নিজের কথা নিজের মাঝেই রাখ; যতদূর সম্ভব। কারণ পৃথিবীতে মানুষ হিসেবে যে আমরা খুবই একা।

ভালবাসার কত রূপ যে পৃথিবী জুড়ে রয়েছে তার কোন ইয়াত্তা নেই। কিছু কিছু কান্না কারো কারো জন্য হয় অনেক প্রশান্তির। যেমন মসজিদে যাও‍য়ার পথে আজ দেখলাম এক সুদানী দম্পতিকে- বাবা বড় ছেলেকে নিয়ে পুরুষদের জন্য নির্ধারিত স্থানের দিকে যাচ্ছে আর মা ছোট ছেলেটিকে নিয়ে মহিলাদের সালাতের স্থানের দিকে আলাদা হয়ে যাচ্ছে। ছোট ছেলেটির সে কি কান্না আর তা দেখে বাবার মুখে এমন এক প্রশান্তির হাসি যা দেখেই অনুভব করা যায়, বর্ণনা করা যায় না। এ কান্না ভালবাসার, এ হাসিও ভালবাসার; ছেলেটি হয়ত বাবার বিচ্ছেদে কষ্টের কান্না করছে আর বাবা তার প্রতি ছেলেটির ভালবাসার প্রকাশ দেখে প্রশান্তির হাসি হাসছেন। কত রূপ ভালবাসার...।

দেশের পরিস্থিতিতে এখন জটিল রাজনীতি চলছে। এ খেলায় কার জিত হবে আর কার হবে হার, সে হিসেব যেন মানুষের কাছে গৌণ হয়ে উঠছে। বরং মূখ্য বিষয় যেন চলমান এ শোষণ থেকে মুক্তি পাওয়া। দু'হাজার এক সালে এর চে‍য়েও ভয়াবহ পরিস্থিতি অবলোকন করেছিলাম। কিন্তু দেশের মানুষ খুব দূরের জিনিষ দেখে না, ভাবেও না, সামনে যা দেখে সে হিসেবেই লাভ-ক্ষতি গোনে।

বিশ্ব পরিস্থিতিতে সিরিয়ার সমঝোতার বিষয়টি ধোঁয়াটে লাগছে আমার কাছে। সময় যাক, সময়ের কথা বলার অপেক্ষা করছি।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)