পৃথিবীর দিনগুলো: মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে বাংলাদেশীরা বিপন্নের পথে

প্রায় এক বছর পর এ পর্বে কলম ধরলাম। মাঝখানে জীবন থেকে হারিয়ে গেছে সুদীর্ঘ একটি বছর। অনেক পেয়েছি, হারিয়েছিও বহু কিছু। তারপরও সান্ত্বনা এই যে, পৃথিবীর দিনগুলো এখনো চলমান। এখনো এই আত্মা তার ধারক দেহটি নিয়ে ঘোরাফেরা করছে মহাজগতের পৃথিবী নামক গ্রহের অলিগলিতে। আকাশের রঙে পরিবর্তন আসেনি তেমন, মাটির আদ্রতাও ঠিক আগের মতই আছে, বাসাতের গন্ধে আজন্ম পাওয়া সেই স্বাদ আজো পুরোনোর মতই। শুধু বদলে গেছে মানুষ, মানুষের আচরণ এবং মানুষের চরিত্র।

পৃথিবীর মানচিত্রে বাংলাদেশ খুব ছোট একটি জায়গা, কিন্তু অধিবাসীদের আধিক্যের কারণে বাংলাদেশ একটি আলোচিত জায়গাও বটে। সারা পৃথিবী জুড়ে অভিবাসন অথবা কর্মসূত্রে বাংলাদেশীরা ছড়িয়ে ছিটিয়ে। সুনাম যেমন রয়েছে, তেমনি রয়েছে নানা বিষয়ের দুর্নামও। বহিঃর্বিশ্বের দেশগুলোর মধ্যে যেসব দেশে অভিবাসন পদ্ধতিতে স্থায়ী হয়েছে, সেগুলোতে মোটামুটি সুনাম অক্ষত থাকলেও স্বল্পমেয়াদী কর্মভিসায় থাকা দেশগুলোতে বাংলাদেশীদের পরিস্থিতি খুবই খারাপ। দেশের বৈদেশিক মুদ্রা আগমনের পথে "বন্দর"-খ্যাত দেশ সউদী আরব। বিগত এক দশক জুড়ে সেখান থেকে অব্যাহত ভাবে খারাপ খবরই পাওয়া যাচ্ছে। যেন চিকিৎসাহীন এক ক্ষয়রোগে আক্রান্ত হয়ে গেছে। যার কোন প্রতিকার নেই।

সউদি নাগরিকদের কাছে কর্মঠ, নিরিহ, সৎ আর নির্ভর করার মত বিদেশী শ্রমিক হিসেবে পরিচিত বাংলাদেশীরা হঠাৎ করেই এক নম্বর অপরাধী হয়ে উঠলো। আড়ালে ক্রিয়াশীল ছিল 'এন্টিরেট' নামক একটি ওয়েবসাইট। তারা সউদি আরবের যেখানেই কোন না কোনভাবে কোন বাংলাদেশী আইনশৃংখলা বাহিনীর হাতে ধরা পড়তো, সেটাকেই বিভিন্ন সামাজিক মাধ্যমে তুলে দিত। এভাবে অল্প কিছুদিনের মধ্যে বহু বছরের বিশ্বস্ত বাংলাদেশী কর্মচারীরা হয়ে উঠে পূণ্যভূমির এক নম্বর সন্ত্রাসী। কিছু কিছু অতি উৎসাহী সউদি নাগরিক এ মিশনের উদ্যোক্তাদের সাথে সমান তালের নৃত্যে অংশ নেয়। তখন সউদির বিভিন্ন এলাকা থেকে খবর আসতো যে, বাংলাদেশীরা সউদি কর্তৃক মানসিক ও শারিরিকভাবে নির্যাতিত হচ্ছে।

পরিস্থিতি যাইহোক, সউদি সরকার খুব ভালো উদ্যোগ নিয়েছিলেন তখন। রিয়াদের কিং সউদ ইউনিভার্সিটির একজন প্রফেসরকে এ বিষয়টি গবেষণা করার দায়িত্ব দেন। শেষ পর্যন্ত কয়েক মাসের গবেষণার ফলাফলে দেখা যায় সউদি আরবে সংঘটিত অপরাধ ও অপরাধের তালিকায় প্রবাসীদের মধ্যে বাংলাদেশীদের অবস্থান দাঁড়ায় চতুর্থে। পাশাপাশি এও জানা যায় যে, আমাদের প্রতিবেশী দেশ ভারত তাদের গোয়েন্দা ও কূটনৈতিক শক্তিকে কাজে লাগিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের  শ্রমবাজার থেকে বাংলাদেশীদের বিতাড়িত করার নীল নকশা বাস্তবায়নের একটা অংশ ছিল সেটা।

তারপর থেকে আজো কোন পরিবর্তন আর আসেনি মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারের রাজধানী সউদি আরবে বাংলাদেশী শ্রমিকদের ভাগ্যে। যারা তখন থেকে ছিল, পারিবারিক প্রয়োজনে, ব্যবসার খাতিরে প্রবাসীরা টিকে ছিল এতদিন নানা কৌশলে। সাম্প্রতিক সউদীকরণ প্রক্রিয়ায় প্রবাসীদের সে প্রচেষ্টাও অন্ধকারে হারিয়ে যেতে বসেছে। এ ব্যাপারে আমাদের সরকারের ভূমিকা নিয়ে অন্য কোন দিন লিখবো হয়ত। আজকের জন্য এতটুকু থাক।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

নানা রকম পলিসির ফাঁদে পরে নীরিহ মানুষগুলোর আর হয়রানির শেষ নেই।

 

আল্লাহ  পরিস্থিত অনুকুল করে দিন।

জি, ঠিক বলেছেন। তবুও সান্ত্বনা পেতাম যদি আমাদের সুবিধা অসুবিধা দেখার জন্য বাংলাদেশ সরকার যাদেরকে এখানে বসিয়ে রেখেছে তারা কোন ভালো উদ্যোগ নিতে পারতো। আমার মনে হচ্ছে তারা রীতিমত ভয় পাচ্ছে।

গতকাল এক সাংবাদিক বন্ধু জানালেন যে, এম্বেসীর কোন কর্মকর্তা তাকে বলেছেন যে, আমরা তো শুধু পাসপোর্টের জন্য আছি, অন্য কোন বিষয়ে আমাদের দায়দায়িত্ব নাই। শুনে যারপরনাই আশ্চর্য হলাম।

-

আমার প্রিয় একটি ওয়েবসাইট: www.islam.net.bd

সহমত!! ইনশাল্লাহ!! আল্লাহ সব ঠিক করে দেবেন শিঘ্রই।

-

▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬
                         স্বপ্নের বাঁধন                      
▬▬▬▬▬▬▬▬ஜ۩۞۩ஜ▬▬▬▬▬▬▬▬

ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য।

-

আমার প্রিয় একটি ওয়েবসাইট: www.islam.net.bd

ভারতীয়রা দক্ষিণ এশিয়া তো বটেই, আজকাল মধ্যপ্রাচ্যেও তাদের সাম্রাজ্যবাদী নাক গলাতে শুরু করেছে।

-

আড্ডার দাওয়াত রইল।

> > > প্রতি শুক্রবার আড্ডা নতুন বিষয়ে আড্ডা শুরু হবে।

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)