এবারের ঈদ-আনন্দে আমার সঙ্গী হবেন?

মুসলমানদের সামাজিক জীবনে সবচেয়ে বড় আনন্দ ঈদ-আনন্দ। আমাদের মাঝে পবিত্র ঈদুল ফিতর সমাগত। আর মাত্র ক'দিন বাকী। মনে মনে কি চলছে তা না হয় রেখেই দিলাম, ঘরে ঘরে যে ধুম লেগেছে সে কথা না বলে উপায় নেই। কর্তা ব্যক্তিরা পেরেশান-কার জন্য কি কিনতে কত লাগবে-সে হিসেব কষাতে। গৃহিনীরা ব্যস্ত এবারের ঈদের নিজের জন্য কি কি নিশ্চিত করা যাবে এবং খাবারের কি কি আইটেম তৈরী করা যায়; সেসব নিয়ে। শিশু-কিশোর-কিশোরী, যুবক-যুবতীদের দু'টো মাত্র দাবী- নুতন পোষাক চাই এবং চড়া সালামী চাই। ধুমধামের মাঝে সত্যিকার ঈদের অনুভূতি কোথায় আছে সেটা বোধ হয় পরেই বিবেচনার বিষয়।

এসবের পরেও থেকে যায় কথা। বাঁশী যেন ধীরে ধীরে সুর তোলে মনের বাগানে। এবারের ঈদে প্রিয়জনদের কাকে কাছে পাচ্ছি আর কে বহুদূর...!

বাসে জায়গা নেই, ট্রেন উপছে পড়ছে, লঞ্চ-স্টীমার ডুবুডুবু করছে।
কেন?
ঈদটা তো যেখানে আছি সেখানে সেরে নিলেই পারি।
না।
কারণ, ঈদ মুসলমানদের একটি সামাজিক অনুষ্ঠান। একে সামাজিক ভাবেই পালন করতে হয়। তাই অপরিচিত সমাজে এর আনন্দ যেন বিয়ে বাড়ীতে অনাহুত মেহমানের মত। ডানে বাঁয়ে সবাই অচেনা। তাই ঈদের আনন্দের সবটুকু যেন লুকিয়ে আছে প্রিয়জনদের কাছে, পরিচিত সমাজে। যারা শহরে কিংবা বিদেশে একাকী জীবন যাপন করছেন, তারা তো বাড়ীর পথ ধরেছেনই; বরং যারা সপরিবারে থাকেন, তারাও ঈদের এই আনন্দে সেই চিরপরিচিত সমাজে, পথঘাটে, ঈদগাহে, প্রিয়জনদের ভীড়ে হারিয়ে যেতে ছুটে যান গাঁয়ের বাড়ীতে।

আবার আমার অনেক অভাগার হয়ত সে সুযোগ আর হয়ে উঠে না। একাকীই নিজের মনে মনে, নিজের হাত বাড়ানো চারপাশ, আর কিছু পরিচিত মুখ দেখে, আপনমনেই কাটাতে হয় ঈদের মত আনন্দঘন একটি দিন।

ঈদের এ মহানন্দেও পেটের ক্ষুধা নিবারণের জন্য দু'হাত পেতে থাকতে দেখা যায় অনেক মানুষকে, অনেক মানব শিশু-কিশোরকে। আমরা কি পারি না, নিজ নিজ অবস্থান থেকে, নিজ নিজ আনন্দের ঝুলি থেকে একটু আনন্দ বের করে মেখে দিতে তাদের সে মলিন মুখে মুখে?

আসুন- সংকল্প করি। এবারের ঈদে অন্তত একজন অভাবীর মুখে, অন্তত একটি অনাথ কিংবা পথশিশুর মুখে হাসি ফোটাবো...!

আর আসুন- এ ব্লগে আমরা যারা বন্ধু, তারা কে কোথায় কাদের সাথে, কিভাবে ঈদ উদযাপন করার পরিকল্পনা করেছি, ঈদের দিনটি কিভাবে কাটাবো বলে ভেবেছি কিংবা ঈদ-পরবর্তী ছুটির দিনগুলো কিভাবে কাটাবো; সেসব কথা পরস্পরের মাঝে ভাগাভাগি করি।

গুরুত্বপূর্ণ নয়; তবে আপনার ঈদ-পরিকল্পনা থেকে হয়ত আমরা কেউ আমাদের স্বল্প আনন্দের ঘটি পূর্ণ করে নিতে পারবো, হয়ত উত্তম কিছু শিখতে পারবো, হয়ত কিছু ভুল শুধরে নিতে পারবো, হয়ত ভবিষ্যতের জন্য কিছু মহৎ পরিকল্পনাও নিতে পারবো...।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)

sl

 

ইনশাআল্লাহ ঈদের  দিনে  কমপক্ষে  একটি  এতিম শিশুকে  নতুন কাপড় দেব  ও  ভাল নাস্তা  খাওয়াবো ।

মাশাআল্লাহ্! আপনার উদ্যোগ আল্লাহ্ কবূল করুন। এবং আমাদেরকেও তাওফীক দিন।

ধন্যবাদ।

ঈদ তো চলে গেল॥ আশা করেছিলাম এ পোস্টে সবাই কিছুটা ঈদ-আড্ডায় মেতে উঠবে।...

-

আমার প্রিয় একটি ওয়েবসাইট: www.islam.net.bd

আমি থাকি সউদি আরবের মদীনায়। এবারের ঈদের সালাত ইনশাআল্লাহ্ মসজিদুন্ নববীতেই আদায় করার ইচ্ছা রাখি। সালাতের পর সাধারণতঃ ঘুমাই, তারপর বিকেলের দিকে বন্ধু বান্ধবের সাথে দেখা সাক্ষাৎ করবো। তবে বিকেলে আরেকটি প্রোগ্রামও আছে, মদীনার উত্তরে খেজুর বাগানগুলো পেরিয়ে পর্বতমালার দিকে চলে গেছে একটি রাস্তা। তার শেষ মাথায় স্থানীয়রা বেড়াতে যায়। তাঁবু, পানিসহ নানাবিধ প্রয়োজনীয় জিনিস বিক্রি ও ভাড়া দেয়ার কিছু দোকানও রয়েছে সেখানে। সেখান থেকেই একটু দূরে রাস্তার কিছু অংশে (!) চিহ্ন সম্বলিত সাইনবোর্ড লাগিয়েছে ট্রাফিক। এ জায়গাটি একটু উঁচুনিচু। মজার ব্যাপার হলো গাড়ী যদি স্টার্ট বন্ধ থাকা অবস্থায় নিচের দিকে ব্রেক ফ্রী অবস্থায় দাঁড়ানো থাকে, তাহলে আস্তে আস্তে উপরের দিকে চলতে শুরু করে।

নানাজনে নানা ব্যাখ্যা দাঁড় করায়। অনেক আজগুবী গল্পও প্রচলিত আছে এ নিয়ে। আমি আগেও গিয়েছি এবং পরীক্ষা করেছি গাড়ীর ব্যাপারটি। বন্ধুরা দেখতে চায়, তাই এবারো ঈদের দিন বিকেলে যেতে পারি। এইতো প্রবাসের ঈদ....।

-

"নির্মাণ ম্যাগাজিন" ©www.nirmanmagazine.com

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (2টি রেটিং)