আয়নালকে জীবন দিয়ে প্রমান করতে হল মানবতা মরেনি!

৩ বছরের শিশু আয়নাল কুর্দি । সিরিয়ার কোবানিতে
জন্ম নেয়া পবিত্র মুখটি জগতবাসীর রূঢ়তার বলি হল
কেন ? মায়ের বুকে খুনসুঁটি করে, বাবার কাঁধে
চড়ে, খেলনার আওয়াজ শুনে বেড়ে ওঠাই তার
অধিকার ছিল । কিন্তু কিভাবে হেসে খেলে
বেড়ে উঠবে ? ওর সবচেয়ে দূর্ভাগ্য ওর
জন্ম সিরিয়ায়, শিশুটির দূর্ভাগ্য ওর জন্ম যুদ্ধে
আক্রান্ত দেশে । যে দেশে মানুষ মানুষকে
হত্যা করে পাশবিক সুখে উল্লাস করে ।
পৃথিবীতে ভূমিষ্ঠ হয়েই ওকে শুনতে
হয়েছে কামানের শব্দ । বাবা আব্দুল্লাহর সুখের
আশ্রয় ছিল যেই ছো্ট্ট সোনামনি সেই
আয়নালকে শেষ রক্ষা করতে পারেনি বাবা । নিথর
দেহটি সমুদ্র উপকূলে ভেসে উঠে শুধু
আব্দুল্লাকে বাকশুণ্য করেনি বরং বিশ্বের সকল
মানুষকে মূহুর্তকালের জন্য হলেও থমকে
দিয়েছে । পকেট থেকে রুমাল/টিস্যু বের
করে চোখ মুছতে বাধ্য করেছে । তবে
দূর্ভাগ্য আয়নালের । জীবন দিয়ে প্রমান করতে
হল, যে মানবতা এখনো মরেনি । আয়ানালের
মৃত্যু হলেও ক্ষণে ক্ষনে মরছে ওর বাবা ।
স্ত্রী রেহান, প্রিয় বড় ছেলে গালিপ(৫) ও
ছোট ছেলে আয়নাল কুর্দিকে হারিয়ে
আব্দুল্লাহ মৃত্যু কামনায় ব্যস্ত ।
আয়নাল কুর্দির জন্মের পূর্ব থেকেই সিরিয়ায়
বাশার বিরোধী অবস্থা চলমান । বাশার সমর্থক ও
বিরোধীপক্ষের সংঘর্ষে গোটা সিরিয়ায় যুদ্ধ
ভয়াবহ পরিসরে চলছে । প্রতিনিয়ত সেখানে
শতাধিক মানুষ নিহত হচ্ছে । নতুন শক্তি আইএসের
অত্যাচার, পশ্চিমা বিমান হামলা, ন্যাটোর সম্মিলিত
হামলায় সেখানে সাধারণ মানুষের জীবনের
নিরাপত্তা যেন সোনার হরিণ । স্ত্রী ও
সন্তানদের নিরাপত্তার জন্য আব্দুল্লাহ মাতৃভূমি
ছেড়ে নৌকাযোগে গ্রিসে পাড়ি জমাচ্ছিল কিন্তু
নিয়তির পরিহাস । নতুন স্বপ্ন নিয়ে তুরস্কের
উপকূল থেকে কয়েক ফুটের একটি ডিঙ্গিতে
নতুন ঠিকানার খোঁজে পাড়ি জমিয়েছিল । ১৯ জন
সঙ্গীর সাথে গাদাগাদি করে যেতে যেতে
স্ত্রী-সন্তানদের মুখের দিকে তাকিয়ে হয়ত
নতুন নতুন স্বপ্নের ছকি আঁকছিলেন আবদুল্লাহ ।
কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস । গ্রিসের নিকটবর্তী
কোস আইল্যান্ডের কাছে তীব্র ঢেউয়ের
তোড়ে উল্টে যায় ছো্ট নৌকাটি । মূহুর্তেই
আব্দুল্লাহ হাত ফসকে ছুটে যায় গালিপ ও আয়নাল
কুর্দি । স্ত্রী-পুত্রদের হারিয়ে কোনমতে
যমদূতের কবল থেকে প্রাণে রক্ষা
পেয়েছে অসহায় পিতা আব্দুল্লাহ । কিন্তু
স্ত্রী-সন্তাদের রক্ষা করতে না পারায় ক্ষনে
ক্ষনে সে মৃত্যু আলিঙ্গন করার কামনা করছে ।
আমার অবুঝ দুই সন্তান ও স্ত্রী মারা গেছে-এই
ভয়ঙ্কর কষ্টের বাক্যটি ছাড়া আর কোন বাক্যই
তার মুখ ফুটে বের হচ্ছে না । সকালে স্ত্রী-
সন্তানের লাশ ভেসে উঠেছে তুরস্কের
উপকূলে । থকথকে বালুর ওপর মুখ থুবরে পড়ে
থাকা আয়নালের নিথর দেহ দেখে কাঁদেনি এমন
দূর্ভাগা বোধহয় বিশ্বে খুব কম আছে ।
পুতুলের মত শিশু আয়মান আল কুর্দির মৃত্যু
ইউরোপিয়ানদের অভিশাপ দিতেই থাকবে ।
কেননা এ মৃত্যু দায় তারা কোনভাবেই এড়াতে
পারে না । অভিবাসীদের নিয়ে তারা যে নষ্ট
খেলায় মেতেছিল সেটা মানবতার
বিপরীতধর্মী আচরণ । মানুষের মানবিকতার
বিপর্যয়ের স্থির চিত্র ফুটে উঠেছে আয়নাল
কুর্দির মৃতদেহের চিত্রে । শুধু কি ইউরোপ ?
মুসলিম বিশ্বের অন্যতম অভিভাবক সৌদি আরবের
পশ্চিমামূখী অবস্থান পশ্চিমাদের মধ্যপ্রাচ্যে
আগ্রাসী হতে আরও প্রেরণা দিয়েছে । সুতরাং
আয়নাল কুর্দির নিথর দেহ কাউকে অভিশাপ মুক্ত
থাকতে দেবে না । এটা বিপর্যয়ের মাধ্যম হয়ে
আবার আঘাত করবে নতুন করে । সে আঘাত
মানুষের বিবেকবোধকে নতুন করে জাগাবে
না ? যারা শুধু মানবতার দোহাই দিয়ে চলে সেই
তারাই যে মানবতার সবচেয়ে বড় শত্রু তা আবারও
প্রমাণ হল । তাদের মানবতার দোহাই শুধু বুলি মাত্র ।
ধিক্কার জানাই ওদের যান্ত্রিক আচরণের প্রতি

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None