বান্দার জীবনে হজ্জের প্রভাব

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম
বলেছেন- নিশ্চয় কা'বার তাওয়াফ করা, সাফা-মারওয়ার মাঝে দৌড়ানো, এবং পাথর নিক্ষেপ করা ইত্যাদি কার্যাবলীকে শুধুমাত্র আল্লাহর স্মরণ সমুন্নত করার
জন্যই পালন করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। আহমাদ।

১-হজ্জ পাপ এবং ভুল-ত্রুটি মার্জনা
করার কারণ। এক্ষেত্রে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের ভাষ্য হলো:

তুমি কি জান না যে, নিশ্চয় ইসলাম মানুষের ইসলাম গ্রহণের পূর্বে করা পাপ সমূহকে নি:শেষ
করে দেয়,
হিজরতও মানুষের হিজরতের পূর্বে করা গুনাহ সমূহকে নি:শেষ করে
দেয় এবং হজ্জ   ঐ সমস্ত পাপরাশীকে নিশ্চিন্হ
করে দেয় যা হজের পূর্বে করা হয়েছিল।

-মুসলিম।

২-হজ্জ হল আল্লাহর আদেশ পালন করা।
কেননা হজ্জ আদায়কারী ব্যক্তি তার পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হয়, প্রিয়জনকে ছেড়ে দূরে চলে যায় এবং নিজের সাধারণ পোশাকও পরিহার
করে। সর্বোপরি আল্লাহর আদেশ পালনার্থে তাঁর একত্ববাদের ঘোষণা করতে থাকে। যা তার উপর
অর্পিত নির্দেশাবলীর অন্যতম।

৩- হজ্জ হলো জান্নাতে প্রবেশ এবং আল্লাহর
সন্তুষ্টি অর্জনের অন্যতম কারণ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

মাকবুল হজের প্রতিদান একমাত্র জান্নাত।

-বুখারী ও মুসলিম।

৪-হজ্জ মানুষের মাঝে ন্যায় ও সমতা
প্রতিষ্ঠা করার ক্ষেত্রে একটি প্রকাশ্য অনুশীলন। যখন মানুষ আরাফাতের ময়দানে একত্রে
অবস্থান গ্রহণ করে, তখনই মূলত: এর বাস্তবায়ন
হয়ে থাকে। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষগুলোর মাঝে সেখানে কোন ভেদাভেদ থাকে
না। পার্থক্য থাকে শুধু তাকওয়া ও তাওহীদের প্রশ্নে।

৫-হজ্জের মধ্যে বিশ্ব মুসলিমের মাঝে
পারস্পরিক পরিচিতি ও সহযোগিতার সূত্রপাত হয়। হজ্জের মাধ্যমে বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠির মাঝে
মতবিনিময়েরও সুযোগ সৃষ্টি হয়। যা উম্মতের উন্নয়ন ও বিশ্ব নেতৃত্বের উপযোগীতা সৃষ্টি
করে।

৬-হজ্জ একত্ববাদ এবং ইখলাসের দিকে
আহ্বান করে। যার ফলে হজ্জকারী তার পূর্ণ জীবনটাই ইখলাস এবং তাওহীদের উপর অতিবাহিত করতে
পারে। হজ্জপালন শেষে হজ্জ পালনকারীর মন ও মস্তিষ্কে কেবল আল্লহর প্রতি বিশ্বাসই স্থির
হয়ে যায়। এরপর সে জীবনভর কেবল আল্লাহর একত্ববাদেই বিশ্বাস করে এবং আল্লাহর কাছেই দুআ
ও প্রার্থনা করে।

সচিত্র এবং ভিডিও সহ হজের নিয়মাবলী জানার জন্য: 

••►  bn.islamkingdom.com/s1/4883

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None