এই সুখ কি আর কোথাও আছে ?

আসসালাম ওয়া আলাইকুম । কেমন আছেন আপনারা? আমি ইন্টারনেটে অনেক ঘুরাঘুরি করি , অনেক social নেটওয়ার্কে আমার সময় খরচ করি। তার মানে এটা ভাববেন না যে আমার আর খেয়ে দেয়ে কোনও কাজ কর্ম নেই।  Smiling কিন্তু ব্লগে এটা আমার প্রথম লেখা। হিন্দি তে একটা কথা আছে যে "সামাঝদারকে লিয়ে ইশারাই কাফি "। আমার লেখাটা কতটুকু গোছানো হল , কত সুন্দর হল সেটা নির্ভর করে অনেক টা এর উপর ও যে আপনি কতটুকু স্মাঝদার । তবে আমার উদ্দেশ্য যখন কিছু গোছানো লেখার সুন্দর তারিফ পাওয়া নয় বরং আমি যা বলতে চাই তা অন্যকে বলতে পারা। আমি এতো কষ্ট করে লিখতে পারব আর আপনি কষ্ট করে বুঝে নিতে চেষ্টা করবেন না?

মানুষ কে আল্লাহ্‌র দিকে ডাকার মত সুখ আর দ্বিতীয়টিতে নেই । বিশ্বাস করেন আর কিছুতেই নেই।!!! একবার আমার সৌভাগ্য হয়েছিলো ৩ দিনের জন্য তাবলীগে মানুষকে আল্লাহ্‌র দিকে ডাকার । আপনারা জানেন প্রবাসের জীবনে সকাল থেকে সন্দ্যা পর্যন্ত ডিউটি করে মাস গেলে কিছু টাকা পাওয়া যায় । যেখানে অনুপস্তিতির দরুন কঠোর জবাব্দিহি করতে হয়। তবুও কয়েকজন সংগ্রামী মুসলিম ভাইয়ের কথায় আমি তাদের সঙ্গী হলাম । মনকে বুঝালাম আল্লাহ্‌র রাস্তা বলে কথা! , বাধা তো আসবেই । কিন্তু আমি তখনও জানতাম না কি হবে সেখানে? আমাকে কি করতে হবে? প্রধান মারকাজের আমির আমাদের দলের জন্য নির্ধারিত করে দিলেন দূরের একটি মসজিদ । আমার সাথের এক চেনা জানা বন্ধু নুর নবীকে সাথে নিলাম। তার সাথে আমার ঘনিস্টতা  হয় সেখানে যাবার পর। আসলে ৮-১০ জনের ওই দলে আমি আর নুরনবি ছিলাম সবচেয়ে কম বয়সী । আমাদের আমির ছিলেন আমাদেরই কোম্পানির একজন বুজুর্গ ।  মানুষটা অতিমাত্রায় ভদ্র আর বিনয়ী । তিনি ছিলেন আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে আগত একজন পশতু ভাষী পাঠান । তৃতীয় দিন যেদিন পূর্ণ হবে , সেদিন আসর নামাজের কিছু পর , মাগ্রিবের নামজের সময় কিছুটা ঘনিয়ে এসেছে । দিনটা ছিল জুম্মাবার । আমির সাহেব আমাকে আর আমার বন্ধু নুরনবিকে ডেকে বললেন , " মানুষকে আল্লাহ্‌র দিকে ডাকার চেয়ে এই পৃথিবীর বুকে আর কোনও উত্তম কাজ নেই ।  আর সেই কাজ করার তৌফিক আল্লাহ তোমাদেরও দিয়েছেন। তোমরা কতটুকু সফল হলে তাতে কিছু যায় আসে না, কতটুকু করার চেষ্টা করলে সেটাই বিষয়বস্তু । তোমাদের সাথে নিয়ে যাও একজন রাহবার । "

প্রথম বার যখন আমি একজনকে বললাম , ভাই আপনি কি খুবই ব্যস্ত ? লোকটি জবাবে বললেন , " না বলুন। আমি বললাম , " আপনি কি মনে করেন না যে পৃথিবীতে আমাকে আপনাকে সৃষ্টি করা হয়েছে একমাত্র আল্লাহ্‌র ইবাদত করার জন্য? আপনি কি মনে করেন না যে আপনার যেকোনো কাজের চেয়ে মূল্যবান কাজ হল আযানের ওয়াক্তে মসজিদে আসা , নামায পড়া? তবে কেন নিজেকে নিজে এমন ধোঁকায় ফেলে রেখেছেন? আল্লাহ্‌র দিকে আসুন। ইসলামকে শক্ত করে ধরুন । আপনার দুনিয়া এবং আখিরাতের দায়িত্ব আল্লাহ্‌র ।

আমি যে কেমন করে এই কথা গুলো লোকটিকে বলেছিলাম তা আমি নিজেও জানি না । বিশ্বাস করুন ,  সেই লোকটিও আমাদের সাথে সাথে আসলো । ঠিক তখন সেই মুহূর্তের মনের অবস্থা কাউকে প্রকাশ করে বোঝাতে পারব না !!!!!! আমার মনে হচ্ছিলো আমি হাওয়ায় ভাসছি, নিজেকে এতটা হালকা লাগছিল । মনের ভেতর একটা এমন আওয়াজ হচ্ছিলো যে আমার মত সুখি মানুষ এই পৃথিবীতে একটাও নেই । আসলে আল্লাহ্‌র কাজ আল্লাহই করেন মানুষ কে দিয়ে । এভাবে আমরা আরও অনেক ক্যাম্পে বাংলাদেশী ইন্ডিয়ান আর পাকিস্তানি ভাইদের রুমে রুমে ইসলামের দাওয়াত দিলাম । অনেকে আসলো । সবাই অনেক সম্মান করলেন । আল্লহর কাজ আসলেই সম্মানের । পরদিন সকালে আমরা চলে যাবো । বিশ্বাস করুন , আমার কান্না আসছিলো , আমার যেতে এক বিন্দু মন সায় দিচ্ছিল না । তবু যেতে তো হবেই । আসলাম একটা বুকভরা সুখ নিয়ে । আমি আল্লাহ্‌র কাছে বারবার এই দুয়াই করি আল্লাহ আমাকে তোমার রাস্তায় নিয়ে যাও । পৃথিবীর কোনও কিছু মানুষকে এমন সুখ দিতে পারে না , যে সুখ আছে আল্লাহ্‌র পথে। 

 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None