মূত্রনালীর সংক্রমণ: লক্ষণ ও চিকিৎসা !

মূত্রনালী সংক্রমণ একটি অতি সাধারণ জীবাণুবাহিত রোগ। এই রোগ মহিলাদের মাঝে বেশি দেখা যায় (৫০%)। এই রোগের আক্রমণ ২০ বছর বয়সীদের মধ্যে ৩% দেখা যায়, প্রতি ১০ বছর বয়সীদের (decade) মাঝে ১% হারে সংক্রমণের সম্ভাবনা বৃদ্ধি পায়। অর্থাৎ বয়স বৃদ্ধির সাথে এই রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। পুরুষদের মাঝে এই রোগের প্রবণতা কম। তবে ৬০ বছরের বয়স্ক পুরুষ, প্রোস্টেট গ্রন্থির বৃদ্ধির ফলে, মূত্রনালীতে বাধাগ্রস্ত হলে- মূত্রনালী সংক্রমণ হতে পারে। এমনকি মূত্রনালী সংক্রমণের ফলে কিছু কিছু ক্ষেত্রে কিডনির কার্যক্ষমতা নষ্ট হয়ে যেতে পারে।

মূত্রনালী সংক্রমণের কারণ : কিছু কিছু জীবাণু এই সংক্রমণের জন্য দায়ী। সেগুলো হল-
ক) E. Coli - অধিকাংশ ক্ষেত্রে দায়ী (৭৫%)।
খ) অন্যান্য জীবাণুর মধ্যে Pseudomonous, Proteus, Streptococei, Staphylococcus epidermedis.
গ) হাসপাতালে সংক্রমণের অধিকাংশ কারণই হয় Streptococci এর মাধ্যমে।
ঘ) মূত্রনালীতে ক্যাথেটার ব্যবহার।

যাদের রোগ হওয়ার সম্ভাবনা বেশি

পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের মধ্যে মূত্র সংক্রমণের প্রকোপ বেশি। কারণসমূহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হল- মূত্রনালীর আকার ছোট, সহবাসের সময় মূত্রনালীতে আঘাত, পায়ুপথ ও মূত্রনালীর কাছাকাছি অবস্থান। এ ছাড়া পুরুষদের ক্ষেত্রে প্রোস্টেটগ্রন্থি নিঃসৃত এক ধরনের তরল পদার্থ (Prostatic fluid) ব্যাকটেরিয়াকে বিনষ্ট করে- যা মহিলাদের ক্ষেত্রে নেই।

উপসর্গ/লক্ষণ
(ক) প্রস্রাব ঘন ঘন হওয়া
(খ) প্রস্রাবের সময় মূত্রনালীতে জ্বালাপোড়া
(গ) পেটের নিচের অংশে ব্যথা অনুভূত হওয়া;
(ঘ) প্রস্রাবে দুর্গন্ধ ও ঘোলাটে হওয়া;
(ঙ) এমনকি প্রস্রাবের সাথে রক্ত পর্যন্ত যেতে পারে;
(চ) জ্বর হওয়া (সাধারণত কেঁপে কেঁপে জ্বর আসে);
(ছ) প্রস্রাব করার পর আবার প্রস্রাব হবে এমন ভাবের উদ্রেক হওয়া।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা

মূত্রতন্ত্রে জবিাণুর সংক্রমণ হয়েছে কি না, কিংবা সংক্রমণের পরবর্তী জটিলতা নির্ণয়ের জন্য ল্যাবরেটরি পরীক্ষা করার প্রয়োজন। উল্লেখযোগ্য পরীক্ষা-নিরীক্ষা হল-
ক) মূত্রের নমুনা সংগ্রহকরণ ও অণুবীক্ষণযন্ত্রে পরীক্ষাকরণ (Urine for R/E);
খ) মূত্রের কালচার (culture) ও সেনটিটিভিটি (Sensitivit) টেস্ট;
গ) প্লাজমা ইউরিয়া ও ক্রিয়েটিনিন এর পরিমাণ নির্ণয়;
ঘ) ব্লাড কালচার;
ঙ) পেটের আল্ট্রাসনোগ্রাফি ও প্লেইন এক্স-রে করা কিডনি ও মূত্র সংবহনতন্ত্রের (KUB Region);
চ) ইন্ট্রাভেনাস ইউরোগ্রাফি (IVU);
ছ) মিসচুরেটিং সিসটো ইউরেথ্রোগ্রাফি (MCU);
জ) সিসটোস্কপি (cystoscop)- যদি প্রস্রাবের সাথে রক্তক্ষরণের ইতিহাস থাকে।

চিকিৎসা

যেহেতু এই রোগ পুরুষদের চেয়ে মহিলাদের বেশি এবং বার বার হয়, তাই চিকিৎসার চেয়ে প্রতিরোধের গুরুত্ব অধিক। এ জন্য যা করণীয় তা হল-
ক. ১ প্রতিদিন কমপক্ষে ২ লিটার পানি গ্রহণ।
ক. ২ নিয়মিত প্রস্রাব করা (দিনের বেলায় ৩ ঘণ্টা পর পর এবং রাতে শোবার আগে প্রস্রাব করা)
ক. ৩ স্বামী সহবাসের পূর্বে ও পরে প্রস্রাব করা।
ক. ৪ ডাবল মিসচুরেশন অর্থাৎ রাতে বিছানায় শোবার পর উঠে প্রস্রাব করা ও ১০-১৫ মিনিট পর পুনরায় প্রস্রাব করে ঘুমানো।
খ) নিম্নোক্ত ওষুধগুলো মূত্র সংক্রমণের চিকিৎসার জন্য দেওয়া যেতে পারে।
ট্রাইমেথোপ্রিম (Trimethoprim) দৈনিক ৩০০ মি. গ্রাম ৫-৭ দিন। কোঅ্যামোক্সিক্লাভ (co-amoxiclav) ২৫০ মি. গ্রাম দিনে ৩ বার ৫-৭ দিন।
সিপ্রোফ্লক্সাসিন (ciprofloxacin) ২৫০-৫০০ মি. গ্রাম দিনে ২ বার ৭ দিন।
সংগ্রহ- thereport24.com এর ডাক্তার বাড়ি  পেজ থেকে।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None