জিহাদ ও জঙ্গীবাদ এক নয়

ইসলামের পাশাপাশি
সকল ধর্মই সন্ত্রাস, জঙ্গীবাদ এবং যাবতীয় নৈরাজ্যকে যেমন অনুমতি দেয়না, তেমনি
যারা করে তারাও ঐ ধর্মের পরিপূর্ণ সঠিক অনুসারী হিসেবে গণ্য হয়না। বিশেষ করে ইসলাম
সন্ত্রাস,
জঙ্গীবাদ, চরমপন্থা ও নৈরাজ্যের বিরুদ্ধে কঠোর। ঐ সবকে স্বমূলে
ধ্বংস করার জন্য ইসলামে জিহাদের প্রবর্তন। জিহাদ ও জঙ্গীবাদ এক নয়। জিহাদ ফরজ জঙ্গীবাদ
হারাম।
বর্তমান
কতিপয় উগ্রবাদী,
স্বার্থন্বেষী মহল কুরআন ও হাদীসে বর্ণিত জিহাদ সংশ্লিষ্ট মূল্যবান বাণীসমূহকে
অপব্যাখ্যা করে বা সংশ্লিষ্ট ঘটনার অংশবিশেষ বর্ণনা করে অতী আবেগী কিন্তু মূর্খ এমন
যুবসমাজকে পথভ্রষ্ঠ করে সস্তায় জান্নাত লাভের সার্টিফিকেট দিচ্ছে। নিজেও মরছে অন্যকেও
মারছে।
ক্ষতি
করছে ইসলাম,
দেশ ও জাতির। অথচ ইসলাম আত্মহত্যাকে যেমন হারাম করেছেন, তেমনিভাবে
যেকোন কিছুকে অন্যায়ভাবে হত্যা করাও হারাম করেছেন। পরিস্থিতি পর্যালোচনা
করে এটাই প্রতিয়মান হয় যে,
জঙ্গীদের মূল টার্গেট মুসলিম রাষ্ট্রসমূহ এবং ইসলাম। মুসলমানদের অর্থনীতি, সাংস্কৃতি,
ভ্রাতৃত্ব ও ঐক্য বিনষ্ট করার জন্যই মুসলিম দেশ সমূহকে তারা টার্গেটে
পরিণত করেছে। গুলশান হামলা তারই স্বাক্ষ্য বহন করে। ওখানে যারা নিহত
হয়েছেন,
তাদের অনেকে বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য এখানে এসেছিলেন। জঙ্গীদের মূলত
নিজস্ব কোন ধর্ম নেই। পত্র পত্রিকার নিউজ ও সামাজিক গনমাধ্যমের সাহায্যে
আমরা বারবার দিবালোকের ন্যায় দেখতে পাচ্ছি যে, আইএস, আলকায়েদা,
বোকো হারাম, তালেবান, জিএমবি,
আনসারুল্লাহ বাংলা টীম, হিজবুল্লাহ, হিযবুত তাওহীদসহ অন্যান্য জঙ্গীগোষ্ঠীতে মুসলমানের পাশাপাশি ইহুদী-খৃষ্টানসহ অন্যান্য ধর্মের অনুসারীও রয়েছে। ঐ সব জঙ্গীরা
বিভিন্ন নাম ধারণ করলেও মূলে একই সূত্রে গাঁথা। ঐ সব দলে সকল
ধর্মের অনুসারী থাকলেও তারা ঠিকাদারী নিয়েছে ইসলামকে হেয় ও কলঙ্কিত করতে এবং বিশ্বের
দরবারে ইসলামকে সন্ত্রাসী ধর্ম হিসেবে তুলে ধরতে। একজন মুসলমান
অন্য মুসলমানকে হত্যা তো দূরের কথা, গালি দেওয়া, নিন্দা করা, হেয় করা, দোষ অনুসন্ধান
করাও কবীরা গোনাহ- সহীহ মুসলিম ৪৬নং অধ্যায় দ্রষ্টব্য। অথচ মুসলমানদের
কেউ কেউ প্ররোচনায় ঐ সব দলে যোগ দিচ্ছে, বা যোগদানে প্ররোচিত করছে,
তারা মূলত খারেজী ও বাতিনী আকিদার আদর্শে লালিত এবং তথাকথিত পন্থায় দ্বীন
কায়েমে বিশ্বাসী। খারেজী ও বাতিনীরা কবীরা গোনাহের ফলে একজন মুসলমানের
সম্পদ ও রক্তকে হালাল মনে করে। তারাই কথিত কবীরা গোনাহের অভিযোগে হযরত আলী (রা)
কে হত্যা করেছিল। অথচ মু’মিন কর্তৃক কবীরা গোনাহ সংঘটিত
হতে পারে মর্মে কুরআন ও সহীহ হাদীসে অসংখ্যা বাণী রয়েছে। সূরা হুজরাতের
৯-১২ নং আয়াত স্টাডী তা দিবালোকের মত স্পষ্ট হওয়ার কথা। ঐ সব ধর্মব্যবসায়ীদের
কারণে শুধু ইসলামের ক্ষতি হচ্ছেনা বরং যারা কুরআন ও হাদীসের সঠিক দায়ী, তারাই
পদে পদে বাধার সম্মুখীন হচ্ছে। তাদের উদ্দেশ্য একটিই, মুসলমান
দেশসমূহ তচনচ করা। তাদের তাবেদারীতে মত্ত রাখা। বাংলাদেশের অর্থনীতির
উন্নয়ন ও অগ্রযাত্রার জন্য তাদের অনেকটা মাথা। তাদের রাক্ষুসে
চুক্ষ বাংলাদেশের দিকে। সরকারের পাশাপাশি দেশের সকল জনসাধারণকে সজাগ দৃষ্টি
রাখতে হবে।
অন্যথায়
জঙ্গীবাদ সমাজে মাথা চাড়া দিয়ে উঠবে।

Normal
0

false
false
false

EN-US
X-NONE
X-NONE

/* Style Definitions */
table.MsoNormalTable
{mso-style-name:"Table Normal";
mso-tstyle-rowband-size:0;
mso-tstyle-colband-size:0;
mso-style-noshow:yes;
mso-style-priority:99;
mso-style-qformat:yes;
mso-style-parent:"";
mso-padding-alt:0in 5.4pt 0in 5.4pt;
mso-para-margin-top:0in;
mso-para-margin-right:0in;
mso-para-margin-bottom:10.0pt;
mso-para-margin-left:0in;
line-height:115%;
mso-pagination:widow-orphan;
font-size:11.0pt;
font-family:"Calibri","sans-serif";
mso-ascii-font-family:Calibri;
mso-ascii-theme-font:minor-latin;
mso-hansi-font-family:Calibri;
mso-hansi-theme-font:minor-latin;
mso-bidi-font-family:Vrinda;
mso-bidi-theme-font:minor-bidi;}

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None