চাই সুশীল সমাজের জনসম্পৃক্ততা

সুশীল সমাজ হচ্ছে সরকারের বাইরে যে
শক্তি থাকে, যেখানে মানুষ থাকে, জনগণ থাকে এবং কিছুটা হলেও যারা দলীয় রাজনীতির
সঙ্গে সরাসরি জড়িত থাকেন না, তারাই সুশীল সমাজ বলে পরিচিত। রাজনৈতিকভাবে সুশীল
সমাজ যে খুব বেশি ভূমিকা রাখতে পারে সেটা ঠিক নয়। তবে তারা রাজনীতিতে কিছুটা হলেও
প্রভাব ফেলতে পারে। বর্তমানে আমাদের দেশের সরকারের যে বিশাল পরিসর রয়েছে, সেখানে
সুশীল সমাজের ভূমিকা রাখার জায়গাটা  সীমিত
হলেও, তাদের অবদান কম নয়। সুশীল সমাজের অনেকেই এখন কোনো না কোনোভাবে একটি দলের
পক্ষাবলম্বন করে থাকেন। সুশীল সমাজ যে এখন স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারছে, তা
দৃশ্যমান নয়। সুশীল সমাজকে স্বাধীনভাবে কাজ করতে দেখা যায় না বললেই চলে। দেশের
সুশীল সমাজ আগের তুলনায় অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছে। তার বদলে যারা টকশো করেন, তাদের
অবস্থান শক্তিশালী। টকশো এখন একটি প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে পৌঁছেছে। দেশের রাজনীতির
বাইরে থাকা মানুষের বক্তব্য যদি রাজনৈতিক কেন্দ্রিকও হয়, তবে তা টকশোর মাধ্যমেই
আসছে। এখনকার যে সুশীল সমাজ, এ সুশীল সমাজ গণমাধ্যম কেন্দ্রিকই বেশি। তা এখন
অনেকটাই গণমাধ্যমের স্বাধীনতার উপর নির্ভরশীল। বামপন্থি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যারা
জড়িত তারা এখন আগের মতো শক্তিশালী নয়। তাদের কিছু সমস্যাও রয়েছে। তার মধ্যে
জনসম্পৃক্ততা এখন কমে গেছে। সাধারণ মানুষকে তাদের কর্মকান্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে
পারছে না বললেই চলে। কারণ, সাধারণ মানুষ শুধু রুটি-রুজি নিয়ে এতবেশি চিন্তা-ভাবনা
করে, যার ফলে পরিবেশ ও তার দীর্ঘকালীন যে ক্ষতির কারণ নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করার সময়ই
পায় না। দেশকে এগিয়ে নিতে তাই এখন প্রয়োজন সুশীল সমাজের জনসম্পৃক্ততা বাড়ানো।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None