আমরা পেরেছি আর পারবও

বিগত কিছুদিন জঙ্গীদের নারকীর কিছু হত্যাকান্ডের পর
বর্তমান সরকারের জঙ্গিবাদবিরোধী অবস্থান মানুষের
মনে স্বস্তি এনেছে। দেশব্যাপী সন্ত্রাস
ও জঙ্গিবাদবিরোধী অভিযানে
শীর্ষ জঙ্গিনেতারা নিহত
হওয়ায় তাদের পৃথিবী
ছোট হয়ে এসেছে। উপরন্তু সরকারের
আহ্বানে সাড়া দিয়ে
বেশ কিছু জঙ্গিসদস্য
আত্মসমর্পণ করেছে।
কেবল আইনি প্রক্রিয়া
নয়,
ধর্মীয় উগ্রবাদিতা নির্মূলে
সামাজিক প্রতিরোধের নানান
কর্মসূচি গ্রহণের ফলে
শেখ হাসিনা সরকারের
ওপর জনগণের আস্থা
বেড়েছে। জঙ্গিবাদ
ইস্যুতে সরকারের গৃহীত
সাম্প্রতিক নেয়া কঠোর
পদক্ষেপে বিদেশিরাও বেশ
খুশি।বাংলাদেশ
আজ উন্নয়নের রোল
মডেল হিসেবে সমগ্র
বিশ্বে স্বীকৃত। প্রকৃতপক্ষে
বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের
বহুমুখী পদক্ষেপের পরিপ্রেক্ষিতে
জঙ্গি এবং সন্ত্রাসবাদ
নির্মূল হয়েছে এবং
বাংলাদেশের আপামর মানুষ
এখন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে
সোচ্চার বলে মত
দিয়েছেন বিশ্বনেতৃবৃন্দ।
কারণ পৃথিবীর অন্যান্য
দেশের তুলনায় আবহমান
বাংলা সবসময়ই শান্তিপূর্ণ
পরিবেশ বজায় রাখতে
বদ্ধপরিকর ছিল। শেখ হাসিনা নেতৃত্বাধীন
সরকার ২০০৯ সালের
৬ জানুয়ারি ক্ষমতায়
আসীন হয়ে গত
সাড়ে ৭ বছরে
একটি অসাম্প্রদায়িক রাষ্ট্র
ও সমাজ কাঠামোর
দিকে অগ্রসর হয়েছে। এ সময়
সরকার ধর্মীয় উগ্রবাদ
এবং বামপন্থি সর্বহারাদের
বিরুদ্ধে সোচ্চার থেকেছে। কিন্তু ২০১০
সালে আন্তর্জাতিক ট্রাইব্যুনালে
একাত্তরের যুদ্ধাপরাধীদের বিচার
কাজ শুরু হলে
জামায়াতে ইসলামী ও
ছাত্রশিবির দেশে অরাজকতা
ও নাশকতা সৃষ্টির
চেষ্টা করে।
অন্যদিকে ২০১৩ সালে
হেফাজতে ইসলামের আবির্ভাব
ঘটলে তাদের সঙ্গে
যুক্ত হয় নিষিদ্ধ
ঘোষিত কিছু জঙ্গি
সংগঠন। এদের
সকলের মুখ্য উদ্দেশ্য
হয়ে দাঁড়ায় যুদ্ধাপরাধীদের বাঁচানো।
ফলে গত মহাজোট
সরকারের আমলে রাজনৈতিক
পরিস্থিতি শান্ত থাকলেও,
তাদের কারণে খানিকটা
উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। ২০১২ সাল
পর্যন্ত সরকারকে ১৮টির
মতো সন্ত্রাসী কর্মকান্ড
মোকাবিলা করতে হয়েছে। এর মধ্যে
পূর্ব বাংলার কমিউনিস্ট
পার্টির নেতাকর্মীদের সঙ্গে
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বন্দুকযুদ্ধে
মারা পড়েছে ৪৬
জন। ৩৫টির
মতো ইসলামি দলের
নাশকতা ব্যর্থ করেছে
পুলিশ-র‍্যাবের যৌথ
অভিযান। গ্রেপ্তার
করা হয়েছে ১
হাজার ৬১৬ জঙ্গিকে
যারা হুজি, ইসলামী
ছাত্রশিবির, জেএমবি, হিযবুত
তাহরির ও হিযবুত
তাওহিদের সদস্য।
যুদ্ধাপরাধী জামায়াতে ইসলামী
নেতাদের মুক্ত করার
জন্য দেশব্যাপী যে
নাশকতার সৃষ্টি করা
হয় সে পরিস্থিতিতে
আরও বেশ কিছু
শিবিরকর্মীকে গ্রেপ্তার করতে
বাধ্য হয় পুলিশ। এ  পর্যন্ত ৭৭টি
নাশকতার ঘটনায় ১
হাজার ২৪৪ জন
ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করা
হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর ওপর হামলা
ও ভাঙচুরের অভিযোগে
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন
জেলা থেকে পুলিশ
ছাত্র শিবিরের ১০৭
ক্যাডারকে গ্রেপ্তার করে। নাশকতা ও
সহিংসতা গণতন্ত্রকামী মানুষকে
আকৃষ্ট করে না। বরং যারা
নাশকতা ও সহিংসতা
করবে বা এর
পৃষ্ঠপোষকতা দেবে, তাদের
প্রতি ক্রমাগত ঘৃণাই
প্রকাশ করবে জনগণ। আর জঙ্গিমুক্ত
স্বস্তিকর বাংলাদেশই জনগণের
প্রত্যাশিত সুখী ও
সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
এটা সত্য যে,
বর্তমান সরকার মানবাধিকার
প্রতিষ্ঠায় বেশি সচেষ্ট। আইনের শাসন
কার্যকর করার জন্য
নিবেদিত প্রাণ শাসক
আমাদের দরকার।
ইতোমধ্যে এ দেশের
সকল নাগরিকের সাংবিধানিক
অধিকার এবং জীবনের
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার
জন্য সন্ত্রাস সম্পর্কে
জিরো টলারেন্স নীতিতে
বিশ্বাসী হিসেবে দেশে-বিদেশে
অভিনন্দিত হয়েছেন শেখ
হাসিনা।


 

ধর্ম
হোক সকল 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None