রেলক্রসিং দুর্ঘটনা এড়াতে ডিজিটাল সিগন্যাল

উন্নয়নে
সয়লাভ করেছে বাংলাদেশ। বর্তমানে উন্নয়নের ছোয়া লাগেনি এমন জায়গা খুজে পাওয়া
মুশকিল। এবার রেলক্রসিং দুর্ঘটনা এড়াতে ‘ডিজটাল ভয়েস অ্যালার্ট ফর
লেভেল ক্রসিং’ সেবা চালু হতে যাচ্ছে। এ সেবায় ‘সাবধান!
ট্রেন আসছে, সাবধান! ট্রেন আসছে। আর অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই
ট্রেন এই ক্রসিংটি অতিক্রম করবে…’ আপনারা সবাই নিরাপদ
দূরত্বে অবস্থান করুন। মনে রাখবেন সময়ের চেয়ে জীবনের মূল্য অনেক বেশি। সাবধান!
সাবধান! সাবধান!, জনস্বার্থে বাংলাদেশ রেলওয়ে।’ এভাবেই সতর্কবার্তা বাজতে থাকবে ট্রেন সিগন্যালে। রেলক্রসিং
দুর্ঘটনা এড়ানোর এই যুগপৎ ডিজিটাল সমাধানটির নাম বিডি-ভ্যাস বা ‘বাংলা
ডিজিটাল ভয়েস অ্যালার্ট সিস্টেম ফর লেভেল ক্রসিং’। এই সল্যুশনটি
পথিক অন্ধ কিংবা বধির হলেও তাকে সচকিত করবে আগে ভাগেই। ট্রেন লেভেল ক্রসিং হতে
নির্দিষ্ট দূরত্বে থাকা অবস্থায় এই সিস্টেমের জিপিএসসহ মোট তিনটি স্তরের সেন্সিং
সিস্টেম ট্রেনকে শনাক্ত করে থাকে। একই সঙ্গে লেভেল ক্রসিংয়ে পারাপাররত সব
যানবাহন,
জনসাধারণ, আশপাশে বসবাসরত জনসাধারণ এবং লেভেল
ক্রসিংয়ের কাছাকাছি রেললাইন ধরে হেঁটে চলা জনসাধারণকে সতর্ক ও সাবধান করতে লেভেল
ক্রসিংয়ের দুই পাশে স্থাপন করা হচ্ছে এলইডি ডিসপ্লে। সেখানে বাংলা অক্ষরে লাল
এলইডি বাতিতে স্ক্রল হবে ট্রেন আসার সতর্কবার্তা। একই সঙ্গে লাউডস্পিকারে
মানবকণ্ঠে উচ্চারিত হবে সাবধানবাণী। ট্রেন ক্রসিং অতিক্রম করার আগ পর্যন্ত
জ্বলা-নেভা করতে থাকবে ‘লাল ফ্ল্যাসিং লাইট’। পারাপাররত
অসতর্ক পথচারী,
যানবাহনচালক ও গেটম্যানদের লেভেল ক্রসিংয়ে আগত ট্রেন সম্পর্কে
পূর্বেই সচেতন ও সতর্ক করতে স্বয়ংক্রিয় তিনটি আলাদা আলাদা মাধ্যম রয়েছে। সতর্কতার
জন্য রয়েছে, এলইডি স্ক্রলিং ডিসপ্লে, লাউড
ভয়েস স্পিকার ও রেড ফ্ল্যাসিং লাইট। ট্রেন আসার আড়াই মিনিট আগ থেকেই এই তিনটি
মাধ্যমে সতর্কবার্তা প্রচার হতে থাকবে। এর ফলে কেউ
যদি বধির হয়,
তবে তিনি লাল আলোর আর্তি, প্রদর্শিত
সতর্কবার্তা থেকে বুঝতে পারবেন এখন আর ক্রসিং লেভেল পার হওয়া যাবে না। আবার চোখ
থাকতেও যারা অন্যমনস্ক হয়ে থাকেন তাদেরকে সাইরেন দিয়ে কিংবা সাবধানবাণী শুনিয়ে
সচকিত করতে সক্ষম এই ডিজিটাল সল্যুশনটি। সিস্টেমটি সবসময় সচল রাখতে নিরবচ্ছিন্ন
বৈদ্যুতিক চাহিদা মেটাতে এখানে ব্যবহৃত হচ্ছে পরিবেশবান্ধব সৌরবিদ্যুৎ। প্রয়োজনীয়
বিভিন্ন ডাটা-তথ্যগুলো আদান-প্রদানের জন্য দুই ধরনের হাই ফ্রিকোয়েন্সি ওয়্যারলেস
সিগন্যালিং সিস্টেম ব্যবহার করা হয়েছে। ট্রেনের সঠিক এবং নির্ভুল অবস্থান শনাক্ত
করতে এতে গ্গ্নোবাল পজিশনিং (জিপিএস) সিস্টেমে ৩২টি স্যাটেলাইট কার্যকর রয়েছে। এই
ডিজিটাল সেবা রেলক্রসিং দুর্ঘটনা এড়াতে ফলপ্রসূ হবে।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None