প্রয়োজন সদিচ্ছা ও সাহস

 


পদ্মায় সেতু হবে, এ ছিল অসম্ভব, অকল্পনীয়। এই সেদিনও বিভিন্ন রাজনৈতিক
দল এই সম্ভাবনা
এক ফুঁয়ে উড়িয়ে দিয়েছিল। অথচ সেই সেতুটি সগর্বে দৃশ্যমান।
এটি সরকারের সদিচ্ছা ও সাহসের ফসল। তেমনি ২০২১ সালে ঘরে ঘরে বিদ্যুত দেয়াও সম্ভব, দরকার দৃঢ় মনোবল ও সুষম পরিকল্পনা।
শেখ হাসিনা পারেন, এটি বিশ্ব অবাক হয়ে দেখছে,
কারন তিনি জনগনের মনের ভাষা বুঝেন। ২০০৯
সালে শেখ হাসিনা দ্বিতীয় বার সরকারে এলে বড় চ্যালেঞ্জ
ছিল বিদ্যুত খাত। এই সমস্যা এক দিনে সমাধান যোগ্য নয়। বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মান সময়সাপেক্ষ, মানুষের অত ধৈর্য্য ছিলনা। সরকার বাধ্য হয়েই ব্যয়বহুল
কুইক রেন্টালে গিয়েছিল, যদিও সমালোচনা হচ্ছে, কিন্তু বিকল্প ছিল না। সেদিন শেখ হাসিনা বলেছিলেন, "দ্রুত বিদ্যুতের ব্যবস্থা করুন, আমি সই করে দিচ্ছি, জেল হলে আমার হবে।"
এটিই হলো জাতীয়তাবাদী
নেতার কথা। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা,
বিদ্যুত খাত সংশ্লিষ্ট
ব্যক্তিবর্গ, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা
যথেষ্ট আন্তরিকতা ও গুরুত্বের সাথে দেখছেন বিদ্যুত খাতকে। দেশে প্রায় একশ বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মিত হয়েছে, উৎপাদন সক্ষমতা হয়েছে পনের হাজার মেগাওয়াট। দেশের বহু এলাকায় লোডসেডিং
প্রায় নাই বললেই চলে। সরকারের লক্ষ ২০২১ সালে মাধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছা, এজন্য বিদ্যুত খাতের উন্নয়ন সরকারের ফার্স্ট প্রায়োরিটি। মধ্যম আয়ের দেশে পৌঁছুতে হলে প্রান্তিক
মানুষের জীবনমান উন্নয়ন করতে হবে। শিল্প-কারখান স্থাপন করতে হবে। বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে হবে। এই সবগুলো বাস্তবায়নের
মূল চালিকাশক্তি বিদ্যুত।
এজন্য সরকার পারমানবিক
বিদ্যুত কেন্দ্র থেকে শুরু করে তেল, কয়লা সব রকম বিদ্যুত কেন্দ্র নির্মানে বদ্ধপরিকর।
স্বাস্থ্য, শিক্ষা, রপ্তানিমুখী শিল্প সর্বত্রই বিদ্যুত একটি অপরিহার্য অনুষঙ্গ। সে লক্ষ পুরনে বাস্তবতার
নিরিখেই এগিয়ে যাচ্ছে সরকার। সাত কোটি মানুষের অর্ধেকের তিনবেলার খাবার সংস্থান ছিলনা, কাজের সুযোগ ছিলন, গায়ে জামা ছিলনা, পায়ে জুতা ছিলনা, আর বিদ্যুত তো সোনার হরিণ,
অলীক কল্পনা। অথচ বর্তমানে ১৬ কোটি মানুষের খাদ্যের যোগান হয়েছে,
কোটি তরুনের কর্মসংস্থান
হয়েছে, ৩২ বিলিয়ন ডলার রিজার্ভ রয়েছে। এই অর্জনগুলো যদি সম্ভব হয় তবে ২০২১ সালের মধ্যেই প্রতিটি ঘরকে বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত করাও সম্ভব, চাই সদিচ্ছা ও সাহস নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার দৃপ্ত শপথ।

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None