বাংলাদেশ বিশ্বে উন্নয়নের রোল মডেল

নতুন প্রজন্ম যেন মুক্তি সংগ্রাম ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস ভুলে
না যায় সেজন্য সবাইকে উদ্যোগী হতে হবে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম যেন জানতে পারে, কত বড় ত্যাগের বিনিময়ে এই স্বাধীনতা অর্জিত
হয়েছে। সেই স্মৃতিচিহ্নগুলো তারা দেখবে, উপলব্ধি করবে,
অন্তরে ধারণ করবে, সেভাবে তাদের চরিত্র গঠন
করবে। দেশপ্রেমে উদ্বুদ্ধ হবে। দেশপ্রেমিক ও ভাল নৈতিক চরিত্রের অধিকারী হিসেবে
গড়ে ওঠার জন্যই ভবিষ্যত প্রজন্মকে দেশের ইতিহাস জানা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। দেশপ্রেমে
উদ্বুদ্ধ হওয়ার জন্যই তাদের ইতিহাস জানতে হবে। বঙ্গবন্ধু হত্যাকান্ডকে
প্রাথমিকভাবে কেউ কেউ কেবল ‘একটি পরিবারের ওপর আঘাত’ বলে ভেবে থাকতে পারেন। কিন্তু দিনের পর দিন যখন গেছে, তখন অনেকেই উপলব্ধি করেছেন, এটা কোন পরিবারের ওপর
আঘাত ছিল না, ক্ষমতা দখলের জন্য ছিল না। এটা ছিল একটা
চেতনাকে ধ্বংস করা, মুক্তিযুদ্ধের বিজয়কে নস্যাত করা। আরও
বেশি করে সকলের কাছে প্রমাণিত হলো, যখন ৩ নবেম্বর কেন্দ্রীয়
কারাগারে জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হলো। বঙ্গবন্ধুকে হত্যার পর দেশের
পুরো চেতনাকেই ধ্বংস করার প্রক্রিয়া শুরু হয়। বাংলাদেশে পঁচাত্তরের পর এমন একটা
সময় এসেছিল- তখন যারা মুক্তিযোদ্ধা, তারা মুক্তিযোদ্ধা বা
মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সন্তান এটা বলতে ভয় পেত। এটুকু বলতে আতঙ্কগ্রস্ত হতো,
দ্বিধাগ্রস্ত হতো। আর যারা সম্পূর্ণ দালালিটা করতে পেরেছে তাদের কথা
আলাদা। বর্তমান সরকার অন্তত এটুকু দাবি করতে পারে ২১ বছর পর সরকার গঠন করে সরকারের
গৃহীত পদক্ষেপে মুক্তিযোদ্ধারা গর্ব ভরে বলতে পারেন ‘আমি
মুক্তিযোদ্ধা।’ একটা সময় জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ ছিল এবং
জয় বাংলা স্লোগান দিতে গিয়ে বহু নেতাকর্মীকে জীবন দিতে হয়েছে। তাদের গুলি করে
হত্যা করা হয়েছিল। সমাজে তারা নানাভাবে অত্যাচারিত-নিগৃহীত হয়েছে। এমনকি জাতির পিতার
ছবি প্রচার হতো না টেলিভিশনে। অনেকের ছবির মধ্যে যদি জাতির পিতার ছবিও থাকত,
তাহলে সেই ছবিকে কৌশলে ঢেকে প্রচার করা হতো, এমনকি
আঙুল দিয়ে ঢেকে রাখতেও দেখা গেছে। কিন্তু সত্য কোনদিন চাপা থাকে না। সত্যের শক্তি
অনেক বেশি। আজকে সেটাই প্রমাণিত হয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের সেই চেতনা ফিরে এসেছে।
বিশ্বের অন্যান্য দেশের ক্ষেত্রেও যারা সে দেশের স্বাধীনতার জন্য ত্যাগ স্বীকার
করেছিল তারা যখন ক্ষমতায় এসেছে তখনই সেসব দেশের উন্নতি হয়েছে। আর এটা কখনই উড়ে এসে
জুড়ে বসাদের দিয়ে হয় না, কারণ তারা নিজেদের আখের গোছাতেই সব
সময় ব্যস্ত থাকে। একসময় বিদেশে গেলে তারা বাংলাদেশ শুনলেই বলত ঝড়, দুর্যোগের, ভিক্ষা
চাওয়া জাতি। কিন্তু আজকে আর সে কথা তারা বলে না। আজকে বিদেশীরাই বলে বাংলাদেশ একটা
উন্নয়নের রোল মডেল। এটাতো এমনি এমনি হয়নি। সুপরিকল্পিতভাবে নেয়া বর্তমান সরকারের
পদক্ষেপসমূহের জন্যই এটা সম্ভব হয়েছে। আর জাতির পিতার নেতৃত্বে যেহেতু মুক্তিযুদ্ধ
করে দেশকে স্বাধীন হয়েছে তাই এই দল রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসলেই দেশের উন্নতি হয়।
জাতির পিতা সেজন্যই বলেছিলেন যে- ‘বাঙালীকে কেউ দাবায়ে রাখতে
পারবা না।’ তাই কেউ আমাদের দাবায়ে রাখতে পারে নাই, পারবেও না। বিশ্বে আমরা মর্যাদাপূর্ণ দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করবই।

 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None