আলো আঁধারের মাঝে পথশিশুদের অন্ধকার জীবনের অন্য দিক মরণ নেশা ড্যান্ডি

 

 

 

যে বয়সে বই হাতে নিয়ে স্কুলে যাওয়ার কথা সে বয়সে জীবিকার সন্ধানে
বস্তা হাতে নিয়ে কুড়িয়ে বেড়াচ্ছে ভাঙারি হিসেবে পরিচিত ফেলে দেয়া বস্তু। এসব
বিক্রি করে চলে তাদের জীবন সংসার। ওদেরও স্বপ্ন আছে, আছে ইচ্ছা ও সাধ। তবে কঠিন বাস্তবতা ওদের করেছে
বিপথগামী। ওরা বেশিরভাগই পিতামাতা ও অভিভাবকহীন। পরিবেশ ও সমাজের অনেকেই ওদের দেখে
ভিন্নচোখে। লাল লাল চোখ, অগোছালো চুল। ছেড়া গেঞ্জি ও ময়লাযুক্ত প্যান্ট পরে বসে আছে রেল লাইনের
বস্তির পাশে। কখনো দলবদ্ধ হয়ে আবার কখনো একাকি। আলো আঁধারের মাঝে পথশিশুদের
অন্ধকার জীবনের অন্য দিক হচ্ছে মরণ নেশা ড্যান্ডি। পথশিশুরা গাঁজা, সিরিঞ্জ, ঘুমের ঔষুধ, পলিথিনের মধ্যে গামবেল্ডিং দিয়ে এবং পেট্রল শুকে নিয়মিত নেশা করে। রাজধানীর
কারওয়ান বাজার, কমলাপুর রেলস্টেশন, সোহরাওয়ার্দী উদ্যান, হাইকোর্ট, বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়াম চত্ত্বর, চানখারপুল, সদরঘাটের লঞ্চ টার্মিনাল, গাবতলী, সায়েদাবাদসহ বিভিন্ন স্থানে দেখা যায় এসব নেশাগ্রস্ত পথশিশুদের। যে
সকল পথ শিশু নেসায় আসক্ত তাদের বয়স ১০ থেকে ১৫ বছরের মধ্যে। এসকল শিশু সারাদিন
কাগজ কুড়িয়ে যাত্রীদের বোঝা বহন করে যে টাকা আয় করে তারও একটা বড় অংশ ব্যয় করে
মাদকের পেছনে। আর মাঝে মাঝে মাদকাসক্ত এসব শিশু নেশার টাকা জোগাড় করতে অনেক সময়
অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আজকের এই পথশিশুরাই একদিন বড় বড় অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়বে।
কারণ নেশার টাকা জোগাড় করতে তারা সবকিছুই করতে পারে। এমনকি মানুষ হত্যাও। এদের
দ্বারা সমাজ নিরাপদ নয়। সমাজকে নিরাপদ করতে হলে এই শিশুদেরকে খারাপ নেশার কবল থেকে
ফিরিয়ে আনতে হবে। পরিস্থিতির স্বীকার এ সকল পথভ্রষ্ট শিশুদের ফিরিয়ে আনতে সরকারের
পাশাপাশি বিভিন্ন বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা বা এনজিওকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে
হবে।


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None