ইসলামে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস

 

 

Image result for জঙ্গি
 

জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাস
বর্তমানে একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বিশ্বব্যাপী
বর্তমানে জঙ্গিবাদের আগ্রাসন চলছে। বৈশ্বায়নের এ যুগে জঙ্গিবাদের ভাইরাসে বাংলাদেশও
আক্রান্ত হয়ে পড়েছে। এক শ্রেণির ভ্রান্ত
ও পথভ্রষ্ট মুসলমান ইসলামের নাম ব্যবহার করে এ অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছে।
ফলে
যুগ যুগ ধরে শান্তির ধর্ম হিসেবে পরিচিত ইসলাম এবং ইসলামের অনুসারী মুসলমানরা আজ কলঙ্কিত।
বিশ্ব
নন্দিত মুসলমান জাতি আজ নিন্দিত। এ কারণেই ইসলামী
সংস্কৃতি লালনকারী পাঞ্জাবী, টুপি পরিধানকারী দাড়িওয়ালারা বর্তমানে অস্বস্তিতে
দিনানিপাত করছে। ইসলাম শান্তির
ধর্ম। এ ধর্মে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই।
যারা
ইসলামের নাম ব্যবহার করে,
ইসলামী লেবাস ধারণ করে জঙ্গিবাদের নামে মানুষ হত্যা করে তারা ইসলামের
শত্রু, এরা পথভ্রষ্ট এবং নিজেরাই বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের শিকার।
সমাজ
ও রাষ্ট্রের কল্যাণ নিশ্চিত করতে এদেরকে চিহ্নিত করে ছাত্র, শিক্ষক,
অভিভাবক সকলকে মিলে ঐক্যবদ্ধভাবে ভাবে প্রতিরোধ করতে হবে।
সকলকে
উপলব্ধি করতে হবে জঙ্গিবাদের আগ্রাসন এখন চিহ্নিত জনগোষ্ঠির প্রবল মনোবৈকল্য
প্রসূত সামাজিক ব্যাধি ও দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের সম্মিলিত রুপ। কেবল আইন প্রয়োগের মাধ্যমে
সন্ত্রাস ও জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ কিংবা এর মূলোৎপাটন করা সম্ভব নয়।
এক্ষেত্রে
আলেম-উলামা, পীর-মাশায়েখ ও শিক্ষকবৃন্দ,
তাদের বক্তব্য, ওয়াজ নসিহতের মাধ্যমে শান্তির ধর্ম
ইসলামের প্রকৃত শিক্ষা তুলে ধরে জনসচেতনতা সৃষ্টিতে ভূমিকা রাখতে পারেন।
জঙ্গিরা
অপরকে হত্যাকারী এবং আত্মহত্যাকারী। আত্মঘাতী বোমা
বিস্ফোরণ ঘটিয়ে মানুষকে মারছে এবং নিজেও মরছে।
মানবতা
কিংবা ধর্ম – উভয় মানদন্ডেই এ দুটি মহা অপরাধ।
আল
কুরআনে ঘোষিত হয়েছে শরিয়তে নির্ধারিত কারণ ব্যতিরেকে কোন মানুষকে হত্যা করা মহাপাপ।
কাউকে
অন্যায়ভাবে হত্যা করাকে আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সমগ্র মানবজাতিকে হত্যা করার শামিল বলে
উল্লেখ করেছেন। আল্লাহ রাব্বুল আলামীন সূরাতুল মায়িদার ৩২ নম্বর
আয়াতে বলেন-“এ কারণেই আমি বানী ইসরাইলের নিকট ঘোষণা করেছি যে, যে
ব্যক্তি হত্যাকারী বা অনর্থ বিপর্যয় সৃষ্টিকারী ব্যতীত অপর কোন ব্যক্তিকে হত্যা করল
সে যেন সকল মানুষকেই হত্যা করল”। অনুরূপভাবে আল্লাহ
রাব্বুল আলামীন সূরাতুন নেসার ৯৩ নম্বর আয়াতে বলেন-“যে ব্যক্তি অপর কোন মুমিনকে
ইচ্ছাকৃতভাবে হত্যা করবে তার স্থান হবে জাহান্নাম এবং তথায় সে চিরস্থায়ী হবে”।
অপরকে
হত্যা করা,
অপরের মাল অন্যায়ভাবে ভোগ করা এবং অপরের ইজ্জত নষ্ট করা হারাম। (সাহীহুল বুখারী, কিতাবুল হাজ্জ, হাদীছ নম্বর-৯০৮)।
আত্মহত্যা
তো দূরের কথা,
পার্থিব বিপদ-আপদে নিপতিত হয়ে মৃত্যু কামনা করাও
ইসলামে বৈধ নয়। যারা ঐ সমস্ত
হত্যাকান্ড বা আত্মঘাতি সন্ত্রাসী কার্যক্রমের সাথে জড়িত তারা পথভ্রষ্ট, ভ্রান্ত
ও বিপদগামী। তারা ইসলাম ও মুসলমানদের শত্রু, তথা বিশ্বমানবতার
শত্রু। এদেরকে দমন করার জন্য সকলকেই আপন আপন স্থান থেকে
ভূমিকা রাখতে হবে। এ দায়িত্ব এককভাবে সরকার বা আইন-শৃংখলা
রক্ষাকারী বাহিনীর উপর ছেড়ে দিলে হবে না।
এটি
দেশের ষোল কোটি মানুষের সমস্যা। কাজেই দেশের সকল
নাগরিককেই এগিয়ে আসতে হবে। এ বিষয়ে বিতর্কের
কোন অবকাশ নেই যে – ইসলামে জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসের কোন স্থান নেই।

 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None