যুব সমাজ ধ্বংসে ভয়ংকর অস্ত্র নেশা

 

 

Related image

 

মাদকসহ মরণনেশা
ইয়াবার আগ্রাসনে দেশের যুব সমাজসহ বিশাল একটি অংশ নিঃশেষ হয়ে যাচ্ছে।  বর্তমানে
ইয়াবা মহামারি আকার ধারণ করেছে। বিজিবি, কোস্টগার্ডসহ
আইনশৃঙ্খলায় নিয়োজিত বিভিন্ন সংস্থার সদস্যরা ইয়াবাবিরোধী অভিযানে তৎপর। প্রতিনিয়ত
যে হারে ইয়াবার চালান আসছে এর কিছু পরিমাণ মাত্র ধরা পড়ছে। অবশিষ্ট চালান নানা গন্তব্যে
পৌঁছে যাচ্ছে একথা অস্বীকার করার কোন জো নেই। ফলে দেশের যুব সমাজসহ বড় একটি অংশ
ইয়াবা সেবন করছে এবং নতুনেরাও পর্যায়ক্রমে আগ্রহী হচ্ছে। এ আগ্রাসন রোধে নাফ নদীতে
জেলেদের মাছ ধরা বন্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে সুফল আসবে বলে মনে হয়। কেননা, নদী ও সাগর পথ
নিয়ে বাংলাদেশ ও মিয়ানমারের সীমানা বিভাজিত। এ দু’পথেই
প্রতিনিয়ত ইয়াবার চালান আসছে। বড় বড় চালান আসছে মিয়ানমারের মংডু ও সিটওয়ে বন্দর
হয়ে। এসব মাদকের অবৈধ চালান আসছে টেকনাফের স্থলবন্দর হয়ে। এ বন্দর দিয়ে মিয়ানমার
থেকে মৎস্যসহ বিভিন্ন ধরনের পণ্য যেমন আমদানি হয়ে থাকে, অনুরূপভাবে
বাংলাদেশ থেকেও বিভিন্ন ধরনের পণ্য মিয়ানমারে রফতানি হয়ে থাকে। ফলে বৈধ রুটে অবৈধ
পণ্যের মধ্যে ইয়াবার চালানও ঢুকছে প্রতিনিয়ত। কাঠের নৌকা, ট্রলার,
ইঞ্জিনচালিত বোটসহ বিভিন্ন ধরনের নৌযানে আমদানি পণ্য এসে থাকে। এর
অভ্যন্তরে ইয়াবার চালান লুক্কায়িত থাকে বিশেষভাবে। তন্মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মৎস্য
বোঝাই ড্রাম অন্যতম। মিয়ানমারের সিটওয়ে ও মংডু বন্দর দিয়ে কক্সবাজার ও টেকনাফের
চোরাচালানি চক্র এসব চালান নিয়ে আসে দেশের ওই স্থল বন্দরে। পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য
সরকারি পর্যায়ে সকল সংস্থার চোখ ফাঁকি দিয়ে এ চালান খালাস হয়ে চট্টগ্রাম এসে তা
বিভিন্ন স্থানে পৌঁছে যাচ্ছে। মিয়ানমার থেকে চিংড়িসহ মাছ আমদানির ড্রামযোগেও
ইয়াবা আসছে। বিশেষ করে সে দেশের সিটওয়ে ও মংডু হয়ে পরিপূর্ণ চিংড়ি ও মাথাকাটা
চিংড়ির চালানের সঙ্গে ইয়াবার চালান এসে থাকে। ড্রামের উপরিভাগে বরফযুক্ত চিংড়ি
থাকে। নিচে রাখা হয় প্যাকেটজাত ইয়াবা। মৎস্য কর্মকর্তারা আমদানিকৃত মাছের চালান
ফরমালিনমুক্ত বলে সার্টিফিকেট দিচ্ছে। কিন্তু ড্রামের নিচের অংশে ইয়াবার চালান
রয়েছে কি না তা ভালভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। কক্সবাজারের একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট মাথাকাটা চিংড়ির চাহিদা
রয়েছে বলে তা মিয়ানমার থেকে আমদানি করে থাকে। বর্তমানে মাথাকাটা চিংড়ি আমদানি
আপাতত বন্ধ রয়েছে। কিন্তু পূর্ণাঙ্গ চিংড়ি আসছে ব্যাপকহারে। ড্রামভর্তি চিংড়ির
চালানেই থাকছে ইয়াবা। এছাড়া বর্তমান সময়ে মিয়ানমারে উৎপাদিত বিভিন্ন ব্র্যান্ডের
বিয়ারও আসছে।  ইয়াবা চালানের সঙ্গে জড়িতদের
মধ্যে যারাই ধরা পড়েছে তারা মূলত ক্যারিয়ার। এসব ক্যারিয়ার জীবন- জীবিকা নির্বাহের
জন্য এ পথে পা বাড়িয়ে থাকে। কিন্তু অসাধু পথে বিত্তের পাহাড় গড়ে তোলার জন্য যেসব
গডফাদার এ অবৈধ ব্যবসার জন্য বিনিয়োগ করে থাকে এবং সিন্ডিকেট সদস্যরা এটিকে
বিস্তৃত করছে তারা কেউ ধরা পড়ছে না। ফলে ইয়াবার আগ্রাসনও থামছে না। সরকারি পর্যায়ে
মিয়ানমারের মংডু এলাকাজুড়ে যে ৩৭টি ইয়াবা উৎপাদন কারখানার কথা সে দেশের সরকারকে
জানানো হয়েছে তা নিয়ে কার্যকর কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি সে দেশের সরকার। কেননা, এরসঙ্গে জড়িয়ে আছে সে দেশের সেনা, সীমান্তরক্ষী ও
পুলিশের বাঘা বাঘা কর্মকর্তা। এদের বিনিয়োগেই গড়ে উঠেছে ওসব ইয়াবা উৎপাদন
ফ্যাক্টরি। মূলত ৩৭টি বলা হলেও ছোট ছোট আরও
৪টি কারখানা রয়েছে। এসব ফ্যাক্টরিতে উৎপাদিত ইয়াবা
মূলত বাংলাদেশেই চোরাইপথে চালান হয়ে আসছে। ইয়াবার ছোবল থেকে রক্ষায় কঠোর আইন ছাড়া
কোন বিকল্প নেই। প্রয়োজনে মৃত্যুদন্ড আইন করে হলেও এদেশের যুব সমাজসহ সংশ্লিষ্ট
সকলকে রক্ষার ক্ষেত্রে তৎপর হওয়া বাঞ্ছনীয়।

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)