পর্যটনের অপার সম্ভাবনা শেরপুরের নেওয়াবাড়ি টিলা

 

 

http://www.bdmorning.com/wp-content/uploads/2017/03/page-76.jpg

 

ভারতের মেঘালয় রাজ্যঘেষা শেরপুরের শ্রীবরদীর
সীমান্তবর্তী গারো পাহাড়ে প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের অপরুপ লীলাভূমি নেওয়াবাড়ি টিলা, এখানে প্রকৃতি তার সৌন্দর্যের ঝাঁপি খুলে দিয়েছে উজাড় করে। ফলে নেওয়াবাড়ি
টিলায় রয়েছে পর্যটনের অপার সম্ভাবনা। জনশ্রুতি আছে এখানে অনেক আগেই একটি বাড়ি ছিল।
এ বাড়ির নাম ছিল নেওয়াবাড়ি। সেই থেকেই এ টিলার নামকরণ হয় নেওয়াবাড়ির টিলা। তবে এখন
আর বাড়ি নেই। আছে প্রাকৃতিকভাবে গড়ে ওঠা প্রচুর পরিমাণে বিভিন্ন প্রজাতির লতা ও
বৃক্ষ। স্থানীয় ভাষায় বলা হয় ‘নেওয়া’। এ
কারণেই টিলাটি নেওয়াবাড়ি টিলা হিসেবে পরিচিতি। ময়মনসিংহ বন বিভাগের বালিজুড়ি
রেঞ্জের আওতায় এ টিলা। এখানকার অনেক বছরের পুরনো গাছগুলো ভূমিদস্যুরা কেটে ন্যাড়া
করে দিয়েছিল। পরে আশির দশকে নতুন করে বনায়ন করা শুরু করা হয়। এ টিলার
চারদিকে স্থানীয় বাঙালিদের পাশপাশি গারো, কোচ, হাজং,
বানাই গোত্রের লোকজন বসবাস করেন। এদের সকলের মধ্যে রয়েছে
ভ্রাতৃত্বের সম্পর্ক ও সহমর্মিতা। টিলার দক্ষিণ পাশে আছে একটি ছোট পাহাড়ি ঝরনা।
কোথাও গহীন জঙ্গল। আবার কোথাও কোথাও দেখা যাবে পাহাড়ের চূড়া। আরো দেখা যাবে
ওপারের সীমানায় সূর্যোদয় ও সূর্যাস্ত। পায়ে হেঁটে চারদিকে ঘুরে বেড়ানোর জন্য আছে
মনোরম পাহাড়ি পরিবেশ। পাহাড়ের বিরাট এলাকা জুড়ে আছে আকাশমনি, বেলজিয়াম, ইউক্যালিপটাস, রাবার
গাছ, ওষুধী গাছ ও কড়ই ছাড়াও নানা জাতের লতাগুল্ম আর বাহারি
গাছ গাছালি; যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে। বিশেষ করে এ টিলার
পাহাড়ে উঠে এলে দূরের আকাশকেও কাছে মনে হয়। সবুজ ও হালকা নীলের নৈসর্গিক এই দৃশ্য
চোখে না দেখলে বিশ্বাস করা যায় না। প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি নেওয়াবড়ি টিলায়
পর্যটনকেন্দ্র করা গেলে স্থানীয়রা উপকৃত হতেন এবং এই পাহাড়ি জনপদে পর্যটন শিল্প
গড়ে উঠলে পিছিয়ে পড়া নৃতাত্ত্বিক জনগোষ্ঠি অধ্যুষিত অঞ্চলের উন্নয়নের পাশাপাশি
অনেক লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে।  


 

আপনার রেটিং: None

Rate This

আপনার রেটিং: None