ইসলামে কৃষি ও খাদ্য উৎপাদনের গুরুত্ব

সমগ্র পৃথিবী জুড়ে মানবতার কল্যাণে শুধুমাত্র ইসলামই রোল মডেল। সব শৃঙ্খলা ও সৌন্দর্যের প্রতীক। সব বিষয়ের নিরাপত্তা বিধানে সুমহান আদর্শ। ক্ষুধা ও দারিদ্র্যমুক্ত বিশ্ব গঠনের মানদণ্ড। সুতরাং ইসলামেই রয়েছে বিশুদ্ধ, নির্ভেজাল উন্নত ও গুণগতমান সম্পন্ন যুগোপযোগী খাদ্য উৎপাদনে তথা কৃষি কাজের উৎসাহ ও দিক-নির্দেশনা। জাগো নিউজে তা তুলে ধরা হলো-

বিশ্ব খাদ্য দিবসের ইতিকথা
ক্ষুধামুক্তি বিশ্ব উপহার দিতে মানুষের মাঝে নিরাপদ ও সহজেই খাদ্য ও কৃষি উপকরণের অবাধ সরবরাহ ও ব্যবহারের লক্ষ্যে ১৯৭৯ সালে বিশ্ব খাদ্য ও কৃষি সংস্থার ২০তম সাধারণ সভায় বিজ্ঞানী ড. প্যল রোমানি ১৬ অক্টোবরকে বিশ্বব্যাপী খাদ্য দিবস পালনের প্রস্তাব করেন। যা ১৯৮১ সাল থেকে প্রতি বছর ‘বিশ্ব খাদ্য দিবস হিসেবে পালিত হয়ে আসছে।

ইসলামে কৃষিকাজ
‘গ্রামীণ দারিদ্র্য বিমোচন এবং সামাজিক সুরক্ষায় কৃষি’ এ প্রতিপাদ্য নির্ধারণের মাধ্যমে সারা বিশ্ব পালন করছে এবারের বিশ্ব খাদ্য দিবস। ইসলামে কৃষি সুরক্ষায় রয়েছে সুস্পষ্ট ও সুন্দর দিক নির্দেশনা। যা দারিদ্র্য বিমোচনে অত্যন্ত কার্যকরী। কৃষি উৎপাদনকে বিশ্বমানবের প্রতি মহান আল্লাহর বিরাট অনুগ্রহ বলে উল্লেখ করা হয়েছে। সূরা জুমআর ১০নং আয়াতে আল্লাহ বলেন, ‘অতঃপর যখন নামাজ শেষ হয়ে যায় তখন তোমরা জীবিকা অন্বেষণে (কাজ-কর্মের জন্য) পৃথিবীতে ছড়িয়ে পড়ো।’ কৃষি কাজ করা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের আদর্শও বটে। কোনো ভূমি যেন পরিত্যক্ত বা অনাবাদি না থাকে, সে জন্য রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা জমি আবাদ কর আর যে ব্যক্তি নিজে আবাদ করতে না পারে, সে যেন ভূমিটিকে অন্য ভাইকে দিয়ে দেয়, যাতে সে আবাদ করে ভোগ করতে পারে।’ কুরআনে এসেছে- ‘তিনি পৃথিবীকে স্থাপন করেছেন সৃষ্ট জীবের জন্য। এতে আছে ফলমূল আর রসযুক্ত খেজুর বৃক্ষ এবং খোসাবিশিষ্ট দানা ও সুগন্ধি গুল্ম।’ (সূরা আর-রহমান : আয়াত ১১-১২)

খাদ্য শস্য উৎপাদনে বীজ
খাদ্যশস্য উৎপাদনে বীজের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তিনিই বীজ দিয়েছেন, যা থেকে হয় ফুল-ফল, রবিশস্য। বীজ ব্যতিত কৃষি উৎপাদনের কথা ভাবাই যায় না। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা যে বীজ বপন কর, তা সম্পর্কে ভেবে দেখছ কী? তোমরা সেটা উৎপন্ন কর, নাকি আমি উৎপন্নকারী? আমি ইচ্ছে করলে সেটা খড়কুটোয় পরিণত করে দিতে পারি। তখন তোমরা অবাকও হয়ে যাবে।’ (সূরা ওয়াকিয়া : আয়াত ৬৩-৬৫)

কৃষি বিজ্ঞানের যাবতীয় শিক্ষায় সুশিক্ষিত হজরত আদম আলাইহিস সালাম পৃথিবীতে এসে প্রথম স্বহস্তে কৃষি কাজ করেই তিনি জীবিকা নির্বাহ করেছেন। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিজ হাতে খেজুর গাছ রোপণ করেছেন। অনেক সাহাবিকে তিনি কৃষি কাজে উৎসাহিত করেছেন। হজরত আয়েশা রাদিয়াল্লাহু আনহা থেকে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, ‘তোমরা জমিনের প্রচ্ছন্ন ভাণ্ডারে খাদ্য অম্বেষণ কর।’ কুরআন ও হাদিসের আলোচনা থেকেই বুঝা যায় যে, ইসলাম কৃষি কাজ ও কৃষককে গুরুত্ব প্রদান, খাদ্যশস্য উৎপাদনে অধিক গুরুত্ব দিয়েছে।

পরিশেষে…
কুরআন-হাদিস ও ইসলামের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, পৃথিবীর প্রথম মানব হজরত আদম আলাইহস সালাম থেকে শুরু করে যুগে যুগে এ নির্দেশনা মোতাবেক সব নবী-রাসুলগণ কৃষি কাজ, ব্যবসা-বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত ছিলেন। হজরত আদম, ইবরাহিম, লুত, শুআইব আলাইহিমুস সালামসহ সব নবী-রাসূলগণ এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহিস সালাম পশুচারণ, দুধবিক্রি, কৃষিকাজ ও ব্যবসা-বাণিজ্যের মাধ্যমে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। আল্লাহ আমাদের সবাইকে কৃষি কাজের ক্ষেত্রে ইসলামের দিকনিদের্শনা মেনে চলার তওফিক দান করুন। আমিন।

ছবি: 
আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)

Rate This

আপনার রেটিং: None গড় রেটিং: 5 (টি রেটিং)